উত্তরাধিকার (শেষ পর্ব)

4.4
(21)

প্রথম পর্ব

পাঁচ

সময় মত আমি ঠিকই টের পেলাম । আরিয়ানার চুমু খাওয়ার সংবাদ আস্তে ধীরে পুরো অফিস জেনে গেল । সবাই বুঝে গেল আমার সাথে কোম্পানীর মালিকের নাতি জোর প্রেম চলছে । এবং এই সংবাদ আরিয়ানার বাবা এবং দাদার কাছেও পৌছে গেল । যথারীতি আমার ডাক পড়লো । তবে এবার ওদের বাসায় । আক শুক্রবার দুপুর বেলা আমি হাজির হলাম আরিয়ানাদের বনানীর বাসায় । বিশাল তিন তলা বাড়ি । গেটের কাছ থেকেই আরিয়ানা আমাকে নিয়ে গেগল ভেতরে । ওকে দেখে মোটেই চিন্তিত মনে হচ্ছে না । বরং মনে হচ্ছে আমাকে ওদের বাসায় নিয়ে যেতে পেরে সে খুব খুশি । আমাকে প্রথমে ওর মায়ের কাছে নিয়ে গেল । আরিয়ানার মাকে দেখলাম একেবারে পুরোদস্তুর হাউজওয়াইফ । আরিয়ানা আমাকে সরাসরি রান্না ঘরেই নিয়ে গেল । আমার সাথে খুব স্বাভাবিক ভাবে কথা বলল । আমার সাথে এমন আচরন যেন আমাকে তারা কতদিন ধরেই না চেনে । আমি যেন তাদের অনেক কাছের মানুষ ।
আরিয়ানার দাদীর আচরনে আমি সব চেয়ে বেশি অবাক হয়ে গেলাম । তিনি আমাকে দেখে খানিকটা তাড়াহুড়া করে এগিয়ে এলেন । তারপর আমাকে খানিকটা অস্বস্তির ভেতরে ফেলে দিয়েই আমাকে জড়িয়ে ধরলেন । আমি সত্যিই কিছু বুঝতে পারছিলাম না । আসলে কি হচ্ছে আর কেন হচ্ছে ! একটা সময়ে আমি লক্ষ্য করলাম তিনি কাঁদছেন । আমি সত্যিই অবাক না হয়ে পারলাম না । আসলে কি হচ্ছে এখানে ?
একটা সময়ে আরিয়ানা আমাদের কাছে এল । আমার থেকে ওর দাদীকে আলাদা করে বিছানাতে শুইয়ে দিল । আমার দিকে তাকিয়ে আরিয়ানার দাদী বলল, তুই কিন্তু আর যাবি না । আমাকে ছেড়ে আর যাবি না, বুঝছি?
আরিয়ানা ওর দাদীকে শান্ত করতে করতে বলল, হ্যা দীদা অপু আর যাবে না । এখন থেকে এখানেই থাকবে ।
একটু পরে আমাকে নিয়ে আরিয়ানা ঘর থেকে বের হল । তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, দিদা মাঝে মধ্য এমন করে । তুমি কিছু মনে কর না কেমন !
আমার মনে করার কিছু ছিল না । সত্যি বলতে কি প্রথমে একটু অস্বস্তি লাগছিলো ঠিকই তবে একটা সময়ে কেন জানি আরিয়াানর দিদাকে খুব আপন মনে হল । থাকে না এমন একটা ব্যাপার যে আপন মানুষ গুলো কাছে আসলে ভেতর থেকেই একটা অনুভূতি আসে ঠিক সেই রকম । আমার ভাল লাগছিলো !

আরিয়ানা আমাকে সব কিছু ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলো । এক সময়ে আরিয়ানার দাদার সাথে দেখা হল । তখন কেন জানি কোন কারণ ছাড়াই মনে হল এই মানুষটাকে আমি অনেক আগে থেকেই চিনি । কেমন যেন পরিচিত ঠেকলো আমার কাছে তর চেহারাটা। এমনটা কেন মনে হল সেটা আমার নিজের জানা নেই । আমি কোন ব্যাখ্যা খুজে পেলাম না । অফিসে আমি জয়েন করার পরে আফসার আহমেদ চৌধুরী একদিনও অফিস যান নি। তিনি বাসা থাকতেন । এখান থেকেই কাজ কর্ম করতেন । তবে এখন অফিস সামলায় আরিয়ানা আর তার বাবা । আফসার আহমেদের সাথে আমার এই প্রথম দেখা ।

আমার দিকে কিছু সময় তিনি এক ভাবে তাকিয়ে রইলেন । তারপর আমারকে তীব্র ভাবে অবাক করে দিয়ে বললেন, তুমি কি ভেবেছো তোমাকে আমি চিনতে পারি নি!

আমি কি বলবো ঠিক বুঝতেই পারলাম না । খানিকটা অবাক হয়েই তাকিয়ে রইলাম । আমাকে সে চিনতে পেরেছে বলতে কি বুঝিয়েছে সেটা ঠিক বুঝতে পারলাম না । যদি তার কোম্পানীর একজন হিসাবে চিনতে পেরে থাকে তাহলে আলাদা কথা । কিন্তু আমার কেন জানি মনে হল সে অন্য কিছু বুঝাচ্ছে !
আফসার আহমেদ আবার বলল, আযু ভেবেছে কি ! ও তলে তলে এতো কিছু করবে আর আমি বুঝবো না ?

আযু সম্ভবত আরিয়ানার বাবাকে বুঝিয়েছে । আমি আনিয়ানার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে মুখ কালো করে তাকিয়ে রয়েছে তার দাদুর দিকে । ওর দাদু ওর দিকে তাকিয়ে বলল, তুই জানিস এই ছেলে কে !
আরিয়ানা আমার দিকে তাকালো । তারপর তার দাদুর দিকে তাকিয়ে বলল
-জানি দাদু !
-তার পরেও একে বাসায় নিয়ে এসেছিস ?

আরিয়ানা কিছু না বলে আমার দিকে তাকালো । আমি আসলেই এবার চমকে গেছি । কি হচ্ছে এখানে !
আরিয়ানা বলল, দাদু ভাই আমি অপুকে পছন্দ করি ।
-তুই জানিস আমার মতের বাইরে গেলে কি হবে !
-জানি খুব ভাল ভাবেই ।

এমন সময় এমডি স্যার মানে আরিয়ানার বাবা ঘরে ঢুকলো । তাকে ঢেকে আফসার আহমেদ বলল, তোর মেয়ে কি বলছে শুনেছিস ? এসবের পেছনে তাহলে তুই আছিস ?
-বাবা ! আরিয়ার মতের উপরে আমার কিছু বলার নেই । ওকে যাকে বিয়ে করতে চায় করতে পারে । এখানে আমি বাবা হিসাবে ওকে বাধা দিবো না । আর কাউকে বাঁধা দিতে দিবোও না ।
-বাহ ! খুব বড় হয়ে গেছিস মনে হচ্ছে তুই ।
-বড় হই নি । কেবল যে কাজটা ৩০ বছর আগে করা দরকার ছিল সেটা করছি । আর অপুর ব্যাপারে বলতে গেলে মনে হয় ও আর ফাজু ভাই যথেষ্ঠ কষ্ট করেছে । অন্তত অপু এটা ডিজার্ভ করে না ।

আমি সত্যিই মাথা মন্ডু কিছুই বুঝতে পারছি না কি হচ্ছে এখানে । সত্যিই সব কিছু আমার মাথার উপর দিয়েই যাচ্ছে । আমি কেবল অবাক হয়ে সবার কথা শুনছি । ফাজু ভাই বলতে কি আমার বাবাকে বুঝিয়েছে সে ! আমার বাবার নাম ফাজহার আহমেদ ।
আফসার আহমেদ এবার খানিকটা চিৎকার করে বললেন, এই ছেলে এখনই আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাবে । আমি আর একটা কথা শুনতে চাই না ।

আমি দরজার দিকে পা বাড়াতে যাবো এমন সময়ে আরিয়ানা আমার হাত ধরলো । তারপর বলল, চল আমিও যাচ্ছি তোমার সাথে ।
-না না । তোমাকে যেতে হবে না ।
আরিয়ানা বলল, যা বলছি শোন । চল আমিও যাচ্ছি ।
তারপর সে ওর বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, অপুর ফ্ল্যাটটা বেশ বড় বুঝেছো । চারটা বেড রুম রয়েছে । তুমি আম্মুকে নিয়ে চলে এস বিকেলের দিকে । আমি গেলাম !

আমি আসলেই কিছু বুঝতে পারছিলাম না । আমার মাথায় ঢুকছে না কিছু । আরিয়ানা যখন দরজার কাছে গিয়েছে তখন পেছন থেকে আফসার আহমেদের চিৎকার শুনতে পেলাম । আরিয়ানা তোকে কিন্তু আমি কিচ্ছু দেব না ।
আরিয়ানা থামলো । তারপর ঘুরে দাড়ালো ওর দাদুর দিকে । বলল, তুমি কি ভেবেছো যে ঢাকা পয়সা ভয়ে সবাই তোমার আশে থাকবে! তোমার বড় ছেলে থেকেছে ? থাকে নি ! আমার আন্তত আর যাই হোক তোমার টাকার দরকার নেই । হ্যা তোমাকে দরকার আছে । আমার দাদুকে দরকার । মানুষকে নিয়ন্ত্রন করার তোমার যে স্বভাব সেটা বদলাও । ইগোকে একপাশে রেখে নিজের নাতি আর নাতনির কাছে এসো ! যদি না আসো এই বুড়ো বয়সে একা থাকতে হবে ।

আরিয়ানা আমাকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বের হয়ে এল । গাড়ি নিলো না ও । উবার ডেকে আমার ফ্ল্যাটে ফিরে এলাম । আমি এতোটা সময়ে একটা কথাও বলি নি । বাসায় এসে ওর দিকে তাকিয়ে বলল, বলবা কি হল এতো সময়ে !
-এখনও বুঝো নি ?
-আসলে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না । আমার বাবাকে কি তোমার বাবা দাদুরা চেনে ?
-আরে গাধা, তোমার বাবা সম্পর্কে আমার বড় চাচা । আপন বড় চাচা !

কথাটা হজম করতে আমার কিছুটা সময় লাগলো । আরিয়ানা বলল, ভাগ্যই বল আর যাই বল প্রথম যেদিন তোমার এখানে এলাম সেদিন তোমার বেড রুমের পাশের ঘরে ঢুকেছিলাম আমি । সেখানে তোমার বাবা মায়ের ছবি দেখি । সেখানেই চিনতে পারি তোমাকে !
-আমি আসলে কিছু বুঝতে পারছি না ।
-বুঝবে কিভাবে গাধা ! তোমার মনে এই প্রশ্ন আসে নি যে কেন তোমার কোন আত্মীয় স্বজন নেই ? কেউ নেই ?

এই কারণটা আমি জানি কিছুটা । আমার বাবা আর মা পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলো । দুই পরিবারের কেউ ই মেনে নেয় নি বিয়েটা । কারণটা সম্ভবত ছিল যে আমার মা অন্য ধর্মের ছিল । বাইরে পড়তে গিয়ে বাবা মাকে পছন্দ করে এবং সেখানেই বিয়ে করে । অনেক দিন সেখানেই ছিল । বাবার মৃত্যুও কিছুদিন আগে বাবা দেশে এসেছিলেন আমাদের নিয়ে । আমাদের থাকার জন্য এই বিশাল ফ্ল্যাটটা কিনেছিলেন । তারপর একদিন এখানেই মারা গেলেন । মা আর আমি ছিলাম এখানে । একদিন মাও চলে গেল। রয়ে গেলাম আমি একা ।
আরিয়ানা বলল, আফসার আহমেদ চৌধুধী তোমার দাদা । আপন দাদু । দাদু যেমন তোমার বাবাকে বিয়ের কারণে মেনে নেয় নি তোমার বাবাও দ্বিতীয়বার তার কাছে যান নি । একই রক্ত তো ! ইগো ভর্তি ! বাবা লুকিয়ে ঝুকিয়ে তোমার বাবার সাথে যোগাযোগ রাখতে চেয়েছিলো তবে আমার বাবা একটু ভিতু টাইপের । দাদুকে খুব ভয় পেত । আর তখন তো যোগাযোগের এতো ভাল মাধ্যম ছিল না । এক সময়ে যোগাযোগ একদম বন্ধ হয়ে গেল । আমরা জানতামই না তোমরা কোথায় আছো দেশে এসেছো সেটাও না । তারপর ঐদিন তাদের ছবি দেখলাম । বাবার কাছে একটা লুকানো ফটো এলবাম ছিল । সেটা আমাকে দেখিয়েছিলো । দেওয়ালে টাঙ্গানো ছবির একটা ছবি তুলে নিয়ে বাবাকে দেখাতেই চিনতে পারলো সে । তারপর খোজ খবর নিয়ে আরও নিশ্চিত হল ।

আরিয়ানা চুপ করলো । আমি হঠাৎ করেই আরিয়ানা কে জড়িয়ে ধরলাম । আগের থেকেও কেন জানি ওকে বড্ড বেশি আপন মনে হল আমার !

বিকেলের ভেতরে সত্যি সত্যিই আরিয়ানার বাবা আর মা চলে এল । এবং সব চেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে ঠিক তার ঘন্টা খানেক পরে দাদী এসে হাজির হল । আমাকে জড়িয়ে ধরে আরও কিছু সময় ধরে কান্নাকাটি করলো সে ।

এমন আনন্দ আমি আর আগে কোন দিন অনুভব করেছি কিনা কে জানে ! বাবা আর মা যদি এখন এখানে থাকতেন তাহলে বুঝি আনন্দের বন্যা বয়ে যেত । তবে দাদুর জন্য মন খারাপ লাগলো । এতো ইগোস্টিক কেন হতে হবে তার !

দুটো দিন কিভাবে পার হয়ে গেল কে জানে । এই দুই দিন আমরা কেউ ই অফিসে যাই নি । না আমি না আরিয়ানা আর না ওর বাবা। সবাই সব কিছু ছেড়ে চলে এসেছে । ঠিক হল সামনের শুক্রবারই আমাদের বিয়ে হবে । আরিয়ানাকে যখন ভালোবেসেছিলাম আমি তখন জানতাম না যে সম্পর্কে সে আমার কাজিন হয় । এখন জানার পরেও কিছু যায় আসে না । আপাতত ঠিক হল যে বিয়ের হবে ঘরোয়া ভাবে । পরে আনুষ্ঠান করা হবে ।

আসলে এটা আরিয়ানার ইচ্ছে ছিল । আমার কেন জানি মনে হল এই বিয়ে করতে চাওয়ার ভেতরেও আরিয়ানার কোন প্লান রয়েছে । বিয়ের দিন সেই ব্যাপারটা আমি ভাল করে টের পেলাম । বিয়ের দিন সকালে আরিয়ানাকে বললাম, আচ্ছা একটা কথা বল দেখি, তুমি বিয়ের জন্য একটু তাড়াহুড়া করছো না । মানে একবারেই অনুষ্ঠান হোক না কেন !
আরিয়ানা মুচকি হেসে বলল, কারণ তো আছেই ।
-কি কারণ শুনি ?
আরিায়না একটু কাছে এসে বলল, দাদু আজকেই এসে হাজির হবে দেখবা ।
-মানে?
-মানে হচ্ছে আফসার আহমেদ চৌধুরীর নাতি নাতনির বিয়ে এমন সাধারন ভাবে তো হতে পারে না । সে ঠিক ঠিক হাজির হয়ে যাবে । তার কাছে খবর চলে গেছে । আমিই পাঠিয়েছি ।
আমি একটু অবাক হয়ে আরিয়ানার দিকে তাকিয়ে রইলাম ।

সন্ধ্যার সময়ে আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা । আরিয়ানার কথা যে ঠিক সেটা সন্ধ্যার সময়ই টের পেলাম। ঠিক সন্ধ্যার সময়ই আফসার আহমেদ এসে হাজির । আমিই দরজা খুললাম । আমার দিকে চোখ গরম করে তাকালেন । তারপর আমাকে খানিকটা সরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লেন ।

সবাই তখন ড্রয়িং রুমেই বসে ছিল । বিয়ে নিয়েই কথা বার্তা হচ্ছিলো । সেই সময়েই সে হাজির । সবাই চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইলো । ঘরে ঢুকেই সে সবার দিকে তাকিয়ে বলল, এই বিয়ে হবে না ।
আমরা কেউ কিছু বলতে যাবো তার আগেই দাদী চিৎকার করে বলে উঠলো, আফসার মিয়া, তোমারে জিগায় নাই । তুমি বিয়া আটকানোর কেউ না ।
এবার দাদু চিৎকার করে বলল, চুপ । আমি বিয়া আটকানোর কেউ না মানে ! আমার নাতি আর নাতনীর বিয়া !

আমরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে রইলাম । দাদু আবার বলল, বিয়া হবে না মানে আজকে হবে না । আমার নাতি আর নাতনির বিয়া এমন ভাবে হতে পারে না । আমাকে এক সপ্তাহ সময় দাও । বিয়ের আয়োজন করতে দাও ।

আমি ভেবেছিলাম দাদু বুঝি চলে যাবে তবে তিনি গেলেন না । ঘরের ভেতরের দিকে চলে গেলেন । আরিয়ানা আমাকে চোখের ইশারা করলো দাদুর পেছনে যেতে । আমি দ্রুত দাদুর পেছনে হাটা দিলাম ।
পেছন থেকেই বললাম, ডানের দিকের ঘরটা বাবা মায়ের ।
দেখলাম দাদু সেই ঘরেরই ঢুকলেন । আমিও পেছন পেছন ঢুকলাম । এই ঘরের জিনিস পত্র সব আগের মতই রয়েছে । বাবা মারা যাওয়ার পরে মা সব কিছু তেমনই রেখে দিয়েছিলেন । আমিও মায়ের মৃত্যুর পরে একই ভাবে সব রেখে দিয়েছি । দাদু ঘরটা ঘুরে দেখতে লাগলো । এক সময় বলল, আমি না বাবা হয়ে রাগ করেছিলাম, ছেলে হয়ে ও কি একটু আসতে পারতো না !
আমি বললাম, আপনারই তো ছেলে ! আপনার মতই রাগ !
দাদু এবার আমার দিকে ফিরলেন, তুই তোর বাবার মত হোস না, আমার মতও না । বুড় বয়সে একা কাছের মানুষ গুলো ছেড়ে গেলে বড় অসহায় লাগে রে ! আমাদের উপরে রাগ করে থাকিস না ! কেমন !
এই প্রথম দাদুর কন্ঠে আমি অন্য কিছু দেখতে পেলাম । মনে হল এখন দাদুকে জড়িয়ে ধরা উচিৎ । আমি তাই করলাম !

পরিশিষ্টঃ
এক সপ্তাহ নয়, এগারো দিন পরে আমাদের বিয়ে হল । আমি অন্তত কোন দিন ভাবি নি যে আমার বিয়ে এতো আয়োজন করে হবে । কত মানুষ যে এসেছিলো সেটার কোন ঠিকানা নেই । কোন কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করা হয় নি । গাজিপুরে একটা বিশাল রিসোর্ট ভাড়া করা হয়েছে । মানুষ এসেছেও খুব । এতো চেহারার মাঝে একটা চেহারা আমার ঠিকই চোখে পড়লো । সেটা হচ্ছে আনিকার চেহারা । বেচারী জানতে পেরেছে যে আমি আফসার আহমেদের নাতি । আমাকে ছেড়ে যে সে ভুল করেছে সেটা তার চোখের দিকে তাকালেই টের পাচ্ছিলাম ।
অবশ্য আমাকে যদি ও না ছাড়তো তাহলে হয়তো কোন দিন আমি এখানে আসতেই পারতাম না । না ও ছেড়ে যেত, না আমি ঐদিন ক্লাবে যেতাম না আরিয়ানার সাথে দেখা হত । সেই রাত না আসলে হয়তো এখনকার কিছুই ঘটতো না ।
আরিয়ানাকে এই কথা বলতেই আরিয়ানা বলল, বাহ এক্সের জন্য এতো প্রেম !
-আরে বাবা প্রেম কই দেখলে ! জাস্ট বললাম আর কি !
-রাখো তোমার বলাবলি ! ঐ মেয়ের দিকে আর কোন দিন তাকিয়েছো তো খবর আছে তোমার !
-আরে বাবা কি যে বল । তুমি থাকতে অন্য দিকে তাকানোর উপায় আছে আমার !
আরিয়ানা হাসলো । তারপর বলল, অবশ্য তোমার কথায় যুক্তি আছে ! যাও ওকে প্রোমোশন দিয়ে দিবো একটা !

আমাদের গল্প এখানেই শেষ অথবা এখান থেকে আমাদের নতুন গল্প শুরু…..

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.4 / 5. Vote count: 21

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

One thought on “উত্তরাধিকার (শেষ পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *