4.4
(20)

সাবিহাকে বাসায় আসতে দেখে প্রিয়ন্তি একটু খুশিই হল । সকাল থেকেই শান্তর সাথে যোগাযোগ কথা বলতে চাচ্ছিলো কিন্তু শান্তর নাকি আজকে সারা দিন অনলাইন ক্লাস রয়েছে । আজকে গল্প হবে না । একটু মন খারাপ লাগছিলো প্রিয়ন্তির । কাল রাতে বেশ পড়াশুনা করেছে । তাই আজকে সারাদিন ঠিক করেছে পড়বে না । আর সামনে পরীক্ষার চাপও নেই খুব একটা । আজকে সারা দিন কী করে কাটাবে তাই ভাবছিলো । সাবিহা চলে আসাতে বেশ ভালই হল । গল্প করা যাবে কিছু সময় !
সাবিদা ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট বের করে দিল । তারপর বলল, দেখ ছবি গুলো !

কয়েকদিন আগে একটা ব্রাইডাল শ্যুট হয়েছে সাবিহার । সেই ছবি গুলোই আজকে প্রিন্ট করে সাবিহাকে দিয়েছে ওদের মিডিয়া হাউজের রিপন ভাই । প্রিয়ন্তি হাতের বইটা এক পাশে সরিয়ে রেখে খামটা তুলে নিল । তারপর এক মনে ছবি গুলো দেখতে লাগলো । মুখে একটা হাসি ফুটে উঠেছে । ছবি দেখতে দেখতেই বলল, তোকে তো দারুন লাগছে যে সাবিহা ।
সাবিহা একটু খুশি হল বটে । তবে বলল, ঢং করিস না তো । তোকে বউয়ের সাজে সব থেকে বেশি ভাল লাগে ।

প্রিয়ন্তি সাবিহার দিকে তাকিয়ে বলল, রিপন ভাই কি রাগ করেছে?
-একটু তো অসন্তুষ্ট হয়েই । আচ্ছা সত্যি করে বল দেখ তুই কেন স্যুট টা করলি না ? মিথ্যা বলবি না । সত্যিই করে বল।

প্রিয়ন্তির চোখ জোড়া কিছু সময়ের জন্য একটু চঞ্চল হল । তারপর আবার স্থির হয়ে গেল । চোখ সরিয়ে সে আবারও ছবি গুলোর দিকে তাকালো । সাবিহা আবারও ওকে চেপে ধরলো বলতেই হবে ।

সাবিহা আর প্রিয়ন্তি অনেক দিনের বন্ধু । ওরা একই সাথে বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ে । দুজনেরই মিডিয়াতে কাজ করার টুকটাক শখ রয়েছে । তবে প্রোফেশন হিসাবে নেওয়ার কথা ওরা কেউ এখনও ভাবে নি । কেবল শখের বসে স্টিল মডেলিং করে থাকে । রিপন মিডিয়া হাউজের সাথে বেশ কয়েকটা কাজও করেছে । সেই হাউজের একটা ব্রাইডাল শ্যুটে রিপন আহমেদের প্রথম পছন্দ ছিল প্রিয়ন্তি । ওকে দিয়েই লিড ছবি গুলো তোলার কথা ছিল । এর আগে একটা ব্রাইডাল শ্যুটে প্রিয়ন্তি অংশ নিয়েছে । সেটা খুবই প্রশংসাও পেয়েছে । আবারও যখন আরেকটা শ্যুটের জন্য ওকে ডাকা হল, প্রিয়ন্তি খানিকটা বেঁকে বসলো । ও শ্যুট করবে না । কেন করবে না সেটার কোন ব্যাখ্যা নেই । কেবল বলল যে করবো না ।

সাাবিহা বলল, বলবি না? না বললে আমি চললাম ।
এই বলে সাবিহা বিছানা ছেড়ে উঠে পড়তে যাবে প্রিয়ন্তি ওকে আটকালো । তারপর বলল, শুনলে হাসবি । কিন্তু আমি ….
-বল শুনি?
-শান্ত !
-শান্ত তোকে মানা করেছে ?
-না মানা করে নি । তুই জানিস ও এমন ছেলেই না । আমার কিছুতেই ও কখনও মানা করে না ।
-তাহলে?

কিছু সময় চুপ করে রইলো প্রিয়ন্তি । তারপর বলল, ঐ ব্রাইডাল শ্যুটের কথা মনে আছে তো তোর ?
-হ্যা ।
-শান্ত আমার সাথেই ছিল । শ্যুর শেষ করে যখন ওর সাথে ফিরে যাচ্ছিলাম তখন আমি নিজেই খেয়াল করলাম যে ও কেমন চুপ করে আছে । কয়েকবার জিজ্ঞেস করলাম, কিছু বলল না । এক সময় জোর করতেই স্বীকার করলো ।

আবারও কিছু সময় চুপ করে রইলো প্রিয়ন্তি । প্রিয়ন্তি বলা শুরু করলো, আমরা রাস্তার পাশের ফুটপাথের বসে ছিলাম । শান্ত হঠাৎ বলল, ঐ শ্যুটে তোমার সাথে যে ছেলেট ছিল বর হিসাবে, তোমরা দুজন পাশাপাশি দাড়িয়ে কিংবা বসে ছবি তুলছিলে, তুম বউ সেজেছো, তোমার পাশে বর হিসাবে অন্য কেউ এই দৃশ্যটা আমার চোখে এতো তীব্র ভাবে লাগলো !

এক ফোটা জল প্রিয়ন্তির চোখ গড়িয়ে পড়লো । প্রিয়ন্তি বলল, জানিস সাবিহা, এই লাইণ টুকু বলতে শান্তর গলা ধরে এসেছিলো । কী যে তীব্র একটা কষ্ট সেই কন্ঠে ছিল ! আমার পুরো শরীরটা কেঁপে উঠলো মুহুর্তেই । আমার আর কিছু মনে রইলো না , আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম ঐখানেই ।
সাবিহা কিছু না বলে তাকিয়ে রইলো প্রিয়ন্তির দিকে । বলল, তুই লাকি রে, এমন একজন কে পেয়ে !
প্রিয়ন্তি হাসলো। বলল, সত্যিই বলেছিস । আমি নিজেকে লাকি মনে করি যে শান্ত আমার জীবনে এসেছে ।

সাবিহা আর বেশি সময় বসলো না । প্রিয়ন্তি ওকে থাকতে বলল কিন্তু কাজ আছে বলে বের হয়ে এল প্রিয়ন্তির বাসা থেকে । আসার আগে প্রিয়ন্তির দিকে তাকিয়ে একটু হাসলো । এই হাসির অর্থ অবশ্য প্রিয়ন্তি ঠিক বুঝলো না । রাস্তায় নেমেই ফোন বের করলো ডায়াল করলো একটা নির্দিষ্ট নম্বরে । ওপাশ থেকে ফোনটা রিসিভ হল জলদিই । সাবিহা বলল, হ্যালো জান ?
-হ্যালো জানু ! তুমি কই ?
-তোমার বুদ্ধিটা দারুন কাজে দিয়েছে !
ওপাশ থেকে হাসির আওয়াজ পাওয়া গেল । বলল, বলেছিলাম !
-প্রিয়ন্তিটা এতো বোকা কিভাবে হল কে জানে ! সামান্য ফটোস্যুটে কারো কষ্ট লাগে ! তুমি যা অভিনয় করেছো না! আমার মতে তোমার অভিনয়ে আসা উচিৎ !
-যাক আপাতত সমস্যা তো সমাধান হয়েছে !
-হ্যা । তা হয়েছে । রিপন ভাইটা প্রিয়ন্তি বলতে এমন অজ্ঞান ছিল । ওকে রেখে কোন দিন আমাকে মেন লিড দিতো না । এখন প্রিয়ন্তি নিজ থেকেই আর শ্যুট করবে না ।
ওপাশ থেকে হাসির আওয়াজ পাওয়া গেল ।
সাবিহা বলল, শুনো আজকে তোমার জন্য স্পেশাল ট্রিট আছে । বাসায় আছো না ?
-হুম বাসায় ।
-থাকো । আসছি !

সাবিহা ফোনটা রেখে উবার ডাক দিল । মনের ভেতরটা আজকে বেশ ফুরফুরে লাগছে । এতোদিনে একটা যুতসই কাজ করতে পেরেছে । জীবনে সব সময় প্রিয়ন্তি ওর থেকে এগিয়ে থেকেছে তবে আর না । ওর থেকে মডেলিংয়ে ও এগিয়ে যাবে। চেহারা যতই সুন্দর হোক না কেন যদি সে শ্যুটিংই না করে তাহলে নাম কামাবে কিভাবে ? সেই দিক দিয়ে সাবিহা এগিয়ে যাবে । আর বয়ফ্রেন্ডকে তো কবেই হাত করে নিয়েছে । প্রিয়ন্তির সব কিছু এখন ওর নিজের হবে !

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.4 / 5. Vote count: 20

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *