অফিসে পা দিতেই আবিদের মনে হল যে সুখের দিন শেষ। কাল রাত পর্যন্তও সে ছিল একেবারে অন্য এক জগতে আর আজকে আবারও এসে হাজির হয়েছে ইট কাঠের জগতে। রবিবারটা ছুটি থাকলে আবিদ সাধারণত ঢাকাতে থাকে না। যেকোন ট্যুর ইভেন্টের সাথে যুক্ত হয়ে চলে যায়। সেটা দেশের যে কোন প্রান্তেই হতে পারে। গতকালকেও আবিদ বান্দরবানে ছিল। একেবারে নেটওয়ার্কের বাইরে। তিনটা দিন যেন একেবারে চোখের পলকে পার হয়ে গেছে। আজকে ভোরেই ঢাকায় পা রেখেছে। বাসায় পৌছে একটা গোসল দিয়েছে। তারপর সকালের নাস্তা করে অফিসে এসে হাজির। শরীরটা একটা যে ক্লান্ত লাগছে না সেটা বলবে না তবে মনের দিক দিয়ে একেবারে ফ্রেশ। আজকের অফিস শেষ করে সোজা একটা ঘুম দিলেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।
অফিসে নিজের ডেস্কে বসতেই পিয়ন এসে হাজির। ওর কাছে এসে বলল, স্যার আপনাকে জসিম স্যারে ডাকতেছে।
আবিদ ঘড়ির দিকে তাকাল। সবে মাত্র দশটা। জসিম মিয়া এখনই তাকে কেন ডাকছে?
আবিদ কিছু ভাবল না যদিও। এখন তার মন ভাল। অন্য কোনো কিছুতে মন দেওয়ার ইচ্ছে নেই। সে ব্যাগটা এক পাশে রেখে জসিম স্যারের কেবিনের দিকে গেল।
কেবিনে টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পেল জসিম হায়দায় ওর দিকে একটু অগ্নি চোখে তাকিয়ে রয়েছে। আবিদ একটু বোঝার চেষ্টা করল যে কী হয়েছে। বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করার পরে এমন কিছু কী হয়েছে? অফিস শেষ করার আগ পর্যন্তও এমন কিছু হয় নি। তাহলে?
আবিদ কেবিনে ঢুকতেই জসিম হায়দার বল, মিস্টার আবিদ আপনার ফোন বন্ধ কেন?
আবিদ নিজের মোবাইল বের করল। সকাল পর্যন্ত সেটা বন্ধই ছিল। যদিও আবিদের একটা পাওয়ারব্যাংক আগে তবে তিন দিনের ট্যুরে গেলে সেই পাওয়ারব্যাংকে পুরো সাপোর্ট দেয় না। একেবারে শেষ সময়ে এসে ফোন এবং পাওয়ারব্যাংকের চার্জ শেষ হয়ে যায়। তবে ঢাকাতে এসেই সে আবার ফোনে চার্জ দিয়েছে। এখনও চার্জ আছে। অফিসে ঢোকার আগে সে নিজের অফিসের সিমটাও অন করেছে।
আবিদ বলল, কই স্যার ফোন তো বন্ধ না। চালু রয়েছে।
জসিম হায়দার বলল, গত পরশু থেকে আমি আপনাকে ফোনে পাচ্ছি না কেন?
আবিদ একটু বিরক্ত হল। পরশু ছিল শুক্রবার। এই ছুটির দিনে হায়দার কেন তাকে ফোন দিবে। আবিদ বলল, শুক্রবারে আমাকে ফোন দিবেন?
এই কথা শুনে জসিম হায়দারের চোখটা যেন জ্বলে উঠল। সে বলল, মানে?
-মানে স্যার অফিস আওয়ার পরে আপনি কেন ফোন দিবেন?
এই প্রশ্নের জবাবের কোন কোনো যুতসই উত্তর সে খুজে পেল না। এটা যেন তাকে আরো বেশি রাগিয়ে তুলল। সে বলল, আপনি জানেন আপনার কারণে কোম্পানি রকস্টোন কোম্পানির সামনে প্রেজেন্টেশন দিতে পারে নি। আপনার কোন কোন খোজ পাওয়া যায় নি।
আবিদ যেন ব্যাপারটা বুঝতে পারল না। তার কারণে কিভাবে কোম্পানি প্রেজেন্টেশন দিতে পারে নি সেটা সে বুঝতে পারল না। সে কোম্পানির একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তবে কোনো কোম্পানির সাথে যখন ডিল হয় তখন প্রেজেন্টেশনের পুরো ব্যাপারটা আবিদ নিজেই সামলায়। তার প্রেজেন্টেশন দক্ষতা এবং ক্লাইন্টদের সাথে কমিউনিকেশনের দক্ষতা অনেক ভাল।
আবিদ বলল, স্যার আপনি তো বৃহস্পতিবারে আমাকে কিছুই বলেন নি। আমি কিভাবে জানব যে রকস্টোন কোম্পানির জন্য আমাদের নতুন সফটওয়্যারের ব্যাপারে কাজ করতে হবে। আপনি আমার উপরে দোষ কেন দিচ্ছেন?
জসিম হায়দার, তোর উপরে দোষ দিব না তো কার উপরে দিব? প্রোপোজাল বানানোর দায়িত্ব কার?
আবিদ বলল, স্যার প্লিজ ভদ্র ভাষায় কথা বলুন!
এই কথা শুনে জসিম হায়দার যেন আরও রেগে গেল। চিৎকার করে বলল, ভদ্রতা তোর গো%র ভেতর দিয়ে ভরব, শুয়েরের বাচ্চা। তোর কারণে এখন আমাকে ম্যানেজারের কাছে জবাব দিতে হবে।
আবিদ আবারও শান্ত কন্ঠে বলল, স্যার ভদ্র ভাষায় কথা বলুন।
এবার যেন জসিম হায়দায় আরও রেগে গেল। সে এগিয়ে এসে আবিদের গালে একটা চড় মারতে গেল। তবে আবিদের বডি রিফ্লেক্স বেশ ভাল। সে চট করেই জায়গা বদল করল। এবং এর ফলে জসিম হায়দায় চড়টা মিস করল। এতে সে রেগে গেল আরও। আবারও আবিদকে মারতে গেল।
আবিদ আবারও সরে গিয়ে বলল, স্যার ভাল হবে না বলছি। ভদ্রতা বজায় রাখুন। গায়ে হাত দিবেন না।
তিনবারের বা যখন জসিম হায়দায় আবিদকে মারতে গেল তখন আবিদ একটু সরে গেল বটে তবে পুরোটুকু না। তাই আঘাতটা তার শরীরে লাগল। কিন্তু তখনু জসিম হায়দায় বুঝতে পারে নি যে আবিদ এই কাজটা ইচ্ছে করে করেছে। চাইলেই সে সরে যেতে পারত তাহলে আবারও আঘাতটা তার শরীর ফসকে যেত। এইবার সেটা করল না।
জসিম হায়দায় যখন আবারও আবিদকে মারার জন্য হাত বাড়িয়েছে তখনই আবিদের চোখের দিকে তার চোখ গেল আর তখনই সে বুঝতে পারল যে কিছু একটা পরিবর্তন হয়েছে। হাতটা আবিদের শরীরের কাছে আসতে ডান হাত দিয়ে আবিদ সেটা ঠেকাল এবং সাথে সাথে জসিম হায়দারের নাকের উপরে আবিদের বাম হাতের একটা ঘুসি এসে পড়ল।
জসিম হায়দার প্রথম কিছু মুহুর্ত বুঝতেই পারল না যে কী হয়েছে! এমন কিছু যে তার সাথে হতে পারে এটা তার মাথাতেও ছিল না। এর আগেও সে তার অধীনস্ত কর্মীদের চড় থাপ্পড় মেরেছে। রেগে গেলে তার নিজের উপরে নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কিন্তু কোন দিন কোন কর্মী সেটার প্রতিবার করে নি। চুপচাপ সয়ে গেল। কিন্তু এটা কী হল?
ব্যাথা অনুভব করল আরও কিছু সময় পড়ে। কিন্তু তখনও আরও কিছু বাকি ছিল। আবিদ বাম হাতের ঘুসি মেরেই ডান হাত দিয়ে জসিম হায়দারের থুতনি বরাবর আরেকটা ঘুসি চালাল। এবার তীব্র একটা আর্তনাদ বের হয়ে এল আপনা আপনি। মাথার ভেতরে কেমন যেন ঝিমঝিম করতে লাগল জসিম হায়দারের। মাথাটা টলে উঠল। কিন্তু সে বুঝতে পারল সে আবিদ এখানেই থামবে না। আরও একটা ঘুসি তার প্রাপ্য। আরেকটা ঘুসি এসে লাগল জসিম হায়দারের পেটে। কোত করে একটা আওয়াজ বের হল মুখ দিতে তারপর সে একেবারে উল্টেই মেঝেতে পড়ে গেল। তখনই জসিম হায়দারের মনের ভেতরে আরেকটা ভয় এসে জড় হল। আবিদ যদি এখানেই না থামে। তাকে যদি আরও মাইর দেয় তখন?
তবে তার অবস্থা তখনও আর আগের মত নেই। জ্ঞান হারানোর আগে সে দেখতে পেল দরজা খুলে অফিসের আরও কয়েকজন এসে আবিদকে ঠেকিয়েছে। আবিদ খানিকটা গলা চড়িয়ে বলল, শুয়োরের বাচ্চার সাহস কত বড় গায়ে হাত তোলে। আজকে তোর গায়ে তোলার শখ মিটিয়ে দিচ্ছি। তারপর জসিম হায়দারের আর কিছু মনে রইলো না।
দুই
অফিসের মিটিং রুমে আবিদ বসে আছে চুপচাপ। সময়টা এখন বিকেল। আজকে অফিসে যা হয়ে গেছে তাতে আবিদ এটা জানে যে তার সম্ভবত এখানে আর চাকরি করা হবে না। তবে সেটা নিয়ে আবিদের বিন্দু মাত্র আফসোস নেই। আফসোস কেবল একটাই যে জসিম হায়দারকে আরও কয়েকটা ঘুসি সে মারতে পারল আরো কিছুটা শান্তি পাওয়া যেত। এই বেটাকে নিয়ে অফিসে অভিযোগের শেষ নেই। প্রতিবারই সে পার পেয়ে যায় কারণ তার দুলাভাই হচ্ছে এই কোম্পানির ম্যানেজার। দুলাভাইয়ের জোরেই সে এই চাকরি পেয়েছে। নয়তো এই অপারেশন ইনচার্জ হওয়ার কোনো যোগ্যতাই নেই এই ব্যাটার।
একটু আগে স্বয়ং ম্যানেজারের কাছ থেকে ফোন এসেছে। এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা হবে। আবিদ যেন মিটিং রুমে আসে।
আবিদ তাই করেছে। অপেক্ষা করছে কখন ম্যানেজার মাহমুদ রশিদ মিটিং রুমে এসে ঢোকে। আবিদ উঠে দাঁড়াল।
আরও মিনিট পাঁচেক পরে রশিদ সাহেব ভেতরে ঢুকলেন। তার পেছন পেছন ঢুকল জসিম হায়দায়। তার নাকে একটা ব্যান্ডেজ দেখা যাচ্ছে। সে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে রশিদ সাহেবকে বলল, দুলাভাই, আপনি এই গুন্ডাটার সাথে কী কথা বলবেন। পুলিশ ডাকেন। একে আমি পুলিশে দিব।
রশিদ সাহেব জসিমের দিকে তাকিয়ে বলল, চুপ থাকো। আগে আমি পুরো ব্যাপারটা বুঝে নিই। তারপর ব্যবস্থা।
-আমি তো সব বললাম আপনাকে!
-সেটা তোমার দিককার গল্প। আবিদের গল্পটা শুনি।
জসিম হায়দায় একটু অসন্তুষ্ট চোখে তাকাল তার দুলাভাইয়ের দিকে। তারপর তাকাল আবিদের দিকে। আবিদ অবশ্য শান্ত ভাবে তাকিয়ে আছে। ঘরে ঢুকতে চেয়ারে বসতে বসতে রশিদ সাহেব আবিদের দিকে তাকিয়ে বলল, বস।
তারপর নিজেও বসল। আবিদের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমাকে আমি তো শান্ত ছেলে হিসাবেই জানতাম। জসিমকে কেন মারলে শুনি?
আবিস বলল, আপনার শালা আপনাকে কী বলেছে? আমি কেন তাকে ঘুসি মেরেছি।
রশিদ সাহেব শান্ত চোখে আবিদের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বলল, তুমি কাজের সময় নাকি ফোন বন্ধ রেখেছো? তোমার কারণে কোম্পানির একটা ডিল হয় নি। এটা বলাতেই নাকি রেগে গিয়ে মেরেছো?
আবিদ একটু হাসল। তারপর বলল, আপনি আমাকে বলেন শুক্রবারে আমি কেন অফিসের ফোন ধরব বলেন? আমার রেকর্ড চেক করে দেখুন তো আমি এই দুই বছরে কোন দিন অফিসে লেট করে এসেছি কিনা কিংবা ছুটির সময়ে আগে বের হয়ে গিয়েছি কিনা! তাহলে আমি ছুটির দিনে অফিসের ফোন কেন খোলা রাখব বলেন?
-ইমার্জেন্সি আসতে পারে না?
-সেট পারে তবে সেটা আমি কিভাবে জানব বলেন? আমাকে যদি বৃহস্পতিবারে জানাতে হত যে নতুন প্রোজেক্ট নিয়েই কাজ করতে হবে, তবে ছুটিতে ঢাকার বাইরে যেতাম না। সিম্পল। আমি বৃহস্পতিবার ঢাকা ছেড়েছি রাত এগারোটার দিকে। সেই সময়ের ভেতরে আমার কাছে কোন ফোন আসে নি। এমন কি আমি ফোনের নেটওয়ার্কের বাইরে গিয়েছি শুক্রবার এগারটা বারোটার দিকে। তখনও কোন ফোন আসে নি। তাহলে আমার দোষটা এখানে কোথায় বলেন? তারপর উনি কী করলে আমাকে গালাগাল করা শুরু করলেন এরপর আমাকে মারতে এলেন। তিন বার। একবার দুইবার না তিনবার। আমাকে গায়ে হাত তুললেন! এটা কি মগের মুল্লুক যে কারো হাত দিতে পারেন! উনি মারামারি করতে এসে মাইর খেয়েছেন! এস সিম্পল এজ দ্যাট!
আবিদ একবারে কথাগুলো বলে চুপ করল। রশিদ সাহেব একবার নিজের শ্যালকের দিকবার একবার আবিদের দিকে তাকালেন। আবিদ আবারও বলল, আপনি কি জানেন, রকস্টোন কোম্পানি কবে আমাদের সাথে মিটিংয়ের কথা বলেছিল? আমি কোম্পানিতে ফোন দিয়েছিলাম। ওরা জানাল যে ওদের অফিস থেকে জসিম হায়দারের সাথে বুধবার যোগাযোগ করা হয়েছে। ফোন করা হয়েছে, মেইল পাঠানো হয়েছে। মিটিংয়ের ডেট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেট জসিম হায়দায় সেটা আমাদের কাউকে জানান নি। উনি নিজে বলতে ভুলে গিয়েছি সময় মত এখন সেই দোষ দিচ্ছেন আমার উপরে।
এবার দেখা গেল রশিদ সাহেব তার শ্যালকের দিকে তাকালেন অগ্নি চোখে। তারপর আবিদের দিকে তাকিয়ে বলল, আচ্ছা পুরো ব্যাপারটা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু অফিসে এই সব ঘটতে পারে না। তুমি এখন হায়দারকে সরি বল। ঝামেলা এখানেই শেষ কর।
-সরি স্যার। আমি এমন কোন অন্যায় করি নি যে আমাকে সরি বলতে হবে। আপনি যদি আপনার শ্যালকের অন্যায় কাজ জন্য আমাকে সরি বলাতে চান, সেটা হবে না। আমাকে ফায়ার করতে পারেন। কোন সমস্যা নেই। আমি নিজের যোগ্যতায় এই চাকরি পেয়েছি অন্য কোম্পানিতেও চাকরি পেয়ে যাব। তবে আমার চাকরি যদি যায় তবে আপনার এই অযোগ্য শালার চাকরিও থাকবে না। সিসিটিভির পুরো ফুটেজ আমার কাছে রয়েছে। সেটা আমি কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের কাছে পাঠাব। এরপর আরও কয়েকজনের সাথে আমি কথা বলে তাদের জবানবন্দী ভিডিও করে যাদের সাথে এর আগে আপনার শালা এমন আচরণ করেছে। সব যাবে ম্যানেজমেন্টের কাছে, প্লাস পুরোটা শোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড হবে।
রশিদ সাহেব আবিদের দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি কি আমাকে হুমকি দিচ্ছো?
-মোটেই না স্যার। আমি আপনাকে হুমকি কেন দিব? আমার চাকরি না থাকলে অন্য কারো চাকরিও থাকবে না। মান সম্মানও না।
তিন
জসিম হায়দার নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। কিন্তু কিছু করতেও পারছে না। সামনে বসা মানুষটাকে সে সহ্য করতে পারছে না। এর কারণেই অফিসে তার মান সম্মান একেবারে ধুলোয় মিশে গেছে। সে ভেবেছিল তার দুলাভাইয়ের জোরে সে এই আবিদকে একটা শিক্ষা দিয়ে ছাড়বে কিন্তু তার দুলাভাই আবিদকে তো কিছু বলেই নি উল্টো তাকেই বকাবকি করেছে। রাতে বাসায় ফিরে তার বোন ফোন দিয়েছিল। দুলাভাই নাকি তার বোনের সাথেও বেশ রাগারাগি করেছে। বোনের কারণে তার দুলাভাই এই কোম্পানিতে তার চাকরির ব্যবস্থা করেছিল।
আবিদ তার দিকে বিদ্রুপের হাসি দিয়ে বলল, আমি জানতাম আপনি চাকরি ছাড়বেন না। সেই যোগ্যতা বা গাটস আপনার নেই। এখান থেকে চাকরি ছাড়বে আর কোথাও চাকরি পাবেন?
জসিম হায়দার কোন কথা বলে চুপ করে রইল। আবিদ বলল, এবার থেকে অন্যের সাথে খারাপ ব্যবহার করার আগে কয়েকবার ভাববেন। আজকে চলি। আজকে একটু আগে আগে অফিস থেকে বের হবে। দুলাভাইয়ের কাছে নালিশ দিয়েন!
তারপর হাসতে হাসতে বের হয়ে গেল কেবিন থেকে। আবিদ যখন কেবিন থেকে বের হল তখন সে খেয়াল করে দেখল যে অফিসের সবগুলো চোখ তার দিকে। আবিদ একটু হাসল। তারপর নিজের ডেস্কে গিয়ে বসল। তবে আবিদ ভাল করেই জানে যে এই কোম্পানিতে তার বেশি দিন চাকরি করা হবে না। বসদের সাথে সম্পর্ক খারাপ করে বেশি দিন টেকা যায় না। তাকে নতুন চাকরি খুজতে হবে।

