4.4
(32)

সাদিয়া নওরিনের পালস চেক করলো । নওরিন কেমন যেন করছে । রিয়াদ নওরিনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভয়ে ভয়ে । সাদিয়া এবার ফিরলো রিয়াদের দিকে । তীব্র চোখে রিয়াদের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বলল, তোমার কাছ থেকে এটা আমি আশা করিনি রিয়াদ।
রিয়াদ মাথা নিচু করে রইলো । সাদিয়া আবার বলল, তোমার বয়স কত শুনি? আর এই মেয়েরই বা বয়স কত? এই বয়সে ওর দেহ কি যৌন মিলনের জন্য ম্যাচুউর হয়েছে? আশ্চর্য হয়ে গেলাম আমি । তোমার মা বাবা তোমাকে বিশ্বাস করে বাসায় একা রেখে গেছে আর তুমি এই কাজ করছো?
রিয়াদ মাথা নিচু করেই রইলো । চোখ তুলে সাদিয়া আপুর দিকে তাকাতে পারছে না । কোন মতে বলল, ও ঠিক যাবে তো আপু?
-আমার ক্ষতটা আরও ভাল করে দেখতে হবে । এখানে না হলে হাসপাতালে নিতে হবে । তুমি তার আগে এই ইঞ্জেকশন টা নিয়ে এসো !

সাদিয়া কাগজে খসখস করে কিছু একটা লিখে দিলো । রিয়াদ আর কিছু না বলে দৌড়ে বের হয়ে গেল কাগজটা নিয়ে । সাদিয়ার আপুর সামনে থাকতে লজ্জা লাগছে । সে সব কিছু জেনে গেছে । কি ভাবছে ওর আর নওরিনের নামে । আপাতত যা ভাবছে ভাবুক । নওরিনের যেন কিছু না হয় । ওর কিছু হলে সে নিজেকে কোন দিন ক্ষমা করতে পারবে না । সব দোষ ওর নিজের । ভাগ্য ভাল যে সাদিয়া আপু আজকে বাসায় ছিল । যদি হাসপাতালে ডিউটিতে যেত তাহলে রিয়াদ কি করতো !

রিয়াদ যখন ফিরে তখন নওরিন চোখ মেলে তাকিয়েছে । ওকে আগের থেকে ভাল দেখাচ্ছে । রিয়াদের হাত থেকে ইঞ্জেকশনটা নিয়ে সাদিয়া নওরিনের হাতে পুশ করলো । তারপর রিয়াদের দিকে তাকিয়ে বলল, আপাতত ওকে হাসপাতালে নেওয়া লাগবে না । তবে বিশ্রামের দরকার । ইঞ্জেকশনটা দেওয়াতে ও ধীরে ধীরে ভাল হয়ে উঠবে, শরীরে শক্তি পাবে ।
-থ্যাঙ্কিউ আপু !
-আমাকে ধন্যবাদ দিতে হবে না । তোমার আম্মুর সাথে আমি এই ব্যাপারে কথা বলল ।
-আপনি যেটা ভাল বুঝেন ।
-ওর খেয়াল রাখো । অন্তত দুই ঘন্টা যেন ও শুয়ে থাকে । একটু নড়াচড়া যেন না করে । ঠিক আছে !
-জি !

সাদিয়া আপু চলে গেল । রিয়াদ নওরিনের পাশে গিয়ে বসলো । নওরিন ওর দিকে দুর্বল চোখে তাকিয়ে একটু হাসলো । বলল, খুব চিন্তায় ফেলে দিলাম কি?
-না না । মোটেই না । আই এম সরি নওরিন । ভেরি সরি । আমি আসলে বুঝতেই পারি নি এমন হবে । তোমাকে কীভাবে ফোর্স করছিলাম । আমার কারণেই এসব হল ।
নওরিন রিয়াদের চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলো সেখানে পানি চিকচিক করছে । ছেলেটা যেন এখনই কেঁদে ফেলবে । একটু ওঠার চেষ্টা করলো সে । সাথে সাথেই রিয়াদ এগিয়ে এসে ওকে ধরলো । বলল, শুয়ে থাকো । একটুও নড় না ।

নওরিন উঠলো না । তবে রিয়াদের হাত ধরলো । হাতটা এবার ওর মুখের কাছে নিয়ে ঠোঁটের উপরে ঘষলো । একটু আগে কী এক উদ্দোম খেলায় মেতে উঠেছিলো ওরা দুজন । রিয়াদের সাথে ওর সম্পর্ক প্রায় ছয় মাসের । ওদের ক্লাসেই পড়ে । প্রথমে চেনা জানা তারপর এক সময় প্রেম । প্রেম ভালই চলছিলো ওদের । এরপর ওরা অনুভব করলো কেবল প্রেম বাদ দিয়েও তাদের যেন আরও কিছু চাই । নিষিদ্ধ কিছু । রিয়াদের পক্ষ থেকেই প্রথম প্রস্তাবটা আসে । নওরিন একটু নিম রাজি ছিল । একবার ইচ্ছে করছিলো আরেকবার ভয়ও পাচ্ছিলো তবে মনের ভেতরে যে উত্তেজত ছিল সেটা সে অস্বীকার করতে পারবে না কোন ভাবেই । তার উপরে ওপ কয়েকজন বান্ধবী তাদের বয়ফ্রেন্ডদের সাথে ইতিমধ্যে এই কাজ করে ফেলেছে । নওরিন নিজে সেই সব ছবি দেখেছে ।
সময় সুযোগ মত আজকে এসেছে রিয়াদের বাসায় । ওর বাবা মা দুজনেই অফিসে এই সময়ে । বাসা একদম ফাঁকা । প্রথমে চুমু তারপর শরীর থেকে পোশাক খোলা এরপর যখন দুজনই তীব্র ভাবে উত্তেজিত হয়ে আদিম খেলা শুরু করলো নওরিন অনুভব করলো তীব্র একটা বয়াথা অনুভব করছে । সেই সাথে তরন জাতীয় কিছু যেন ওর দেহের ভেতর থেকে বের হয়ে এল । ওর চিৎকারেই এমন কিছু ছিল যে রিয়াদ থেমে গেল । তাকিয়ে থেকে রক্তা বের হচ্ছে । ঠিক এই সময়েই নওরিনের মাথা ঘুরে ওঠে । ওর ঠিকঠাক কিছুই মনে নেই ।
যখন নওরিনের জ্ঞান ফিরলো দেখলো একটা আপু ওকে পরীক্ষা করছে । একটু পরে ওকে একটা ইঞ্জেকশন দিল । এখন একটু সুস্থ বোধ করছে । ব্লিডিংও বন্ধ হয়েছে ।

রিয়াদ বলল, তুমি শুয়ে থাকো আমি তোমার জন্য খাওয়ার কিছু নিয়ে আসি । নওরিন চুপচাপ শুয়ে রইলো । সে শুনেছে মেয়েদের প্রথমবারে নাকি একটু ব্যাথা লাগে । তবে সেটা যে এমন হবে নওরিন কল্পনাও করতে পারে নি । অন্য দিকে ছেলেরা নাকি এই সময়ে এতোই উত্তেজিত হয়ে পড়ে তখন তাদের কোন ভাবেই থামানোর উপায় নেই । রিয়াদ না থামতো ?
কথাটা ভাবতেই একটা শিরশিরে অনুভূতি বয়ে গেল ওর পুরো শরীর জুরে । সত্যিই যদি রিয়াদ না থামতো তাহলে ওর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যেত । কিন্তু ও থেমেছে । কেবল থামেই নি নিজের কথা না ভেবে একজন ডাক্তারও ডেকে এনেছে । নওরিন নিশ্চিত ভাবেই জানে এই খবর রিয়াদের বাবা মায়ের কাছে পৌছে যাবে । তখন কি হবে কে জানে!
নওরিন দেখলো রিয়াদ একটা বাতিতে করে গরম দুধ করে নিয়ে এসেছে । সেটা বিছানার পাশের রেখে নিজেই যত্ন করে ওকে খাইয়ে দিতে লাগলো । রিয়াদ যে এতো কেয়ারিং হবে নওরিন ভাবতে পারে নি । একটু রাফনেস ছিল ওর ভেতরে । নওরিনের উপরে কর্তৃত্ব ফলিয়ে চলেছে সম্পর্কের শুরু থেকেই । নওরিন এটা মেনেও নিয়েছে । কিন্তু এখন রিয়াদকে দেখে ওর একেবারে অচেনা লাগছে । সেই সাথে ভালোও লাগছে ।

রিয়াদের বাসায় সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকলো । ওর শরীরের অবস্থা বেশ ভাল হয়ে গেল এর ভেতরেই । মাঝে একটা ওয়াশ রুমে যেতে হয়েছিলো । রিয়াদ ওকে হাটতে দেয় নি । কোলে করে নিয়ে গেছে । বলেছে যেন দরজা বন্ধ না করে । সন্ধ্যার সময় নিজে ওকে বাসায় পৌছে দিল । আর কতবার যে ওর কাছে ক্ষমা চাইলো সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না ।

পরের দুইদিন ক্যাম্পাসে রিয়াদের সাথে আবার দেখা হল নওরিনে। নওরিন যদিও আসতে চেয়েছিলো পরদিনই তবে রিয়াদ কোন ভাবেই রাজি হয় নি । ক্লাস শেষ করে দুজনে আবারও এক সাথে হল । রিয়াদ এই দুই দিনে ওর শীরের খবর কতবার যে নিয়েছে সেটা নওরিন গুনে শেষ করতে পারে নি । ছেলেটা এমন অপরাধবোধে ভুগছে সেটা বলার মত না ।
নওরিন হঠাৎ বলল, সাদিয়া আপুর কি খবর? তোমার বাসায় কি বলে দিয়েছে?
-এখনও বলে নি । তবে বলবে?
-তাহলে?
-তাহলে আর কি? একটা ভুল হয়ে গিয়েছে ! কাজটা করা আমাদের ঠিক হয় নি ।
নওরিন কিছু সময় চুপ করে থেকে বলল, তুমি তো আর একা করো নি কাজটা, তাই না? আমিও ছিলাম । আমারও শাস্তি হওয়া দরকার ।
-উহু ! আমি এগিয়েছি । দোষটা আমারই । যা হয় আমার হবে । আমি তোমার নাম সামনে আনবোই না।

নওরিন রিয়াদের দিকে তাকিয়ে বলল, আরেকটা কাজ করা যায় ।
-কি কাজ?
-চল সাদিয়া আপুর কাছে যাই।
-গিয়ে?
-আগে চল তো । দেখা যাক কি করা যায় !

রিক্সায় উঠলো ওরা । ওদের ক্যাম্পাস থেকে সাদিয়া আপু যে হাসপাতালে চাকরি করে সেটা একটু দুরে। যেতে আধা ঘন্টার মত সময় লাগে । নওরিন রিক্সার ভেতরেই রিয়াককে বেশ কয়েকটা চুমু খেল । হুড তোলা ছিল ।
রিয়াদ কৌতুহলী চোখে নওরিনের দিকে তাকালো । নওরিন বলল, এটা ঐদিন আমার টেক কেয়ার করার জন্য ।
-দায়ীও তো আমিই ছিলাম।
-হয়েছে বাবা । নিজেকে দোষ দেওয়া বন্ধ কর তো !

সাদিয়া আপুকে পাওয়া গেলে চেম্বারে । রিয়াদকে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে নওরিন একন্তে কিছু কথা বলতে চাইলো সাদিয়া আপুর সাথে ।
সাদিয়াই প্রথম প্রশ্ন টা করলো, তোমার শরীর ভাল এখন?
-জি আপু ।
-কোন অসুবিধা ?
-পরদিন সকাল থেকেই সব ঠীক হয়ে গেছে ।
-আমি মোটেই বুঝি না তোমরা এই অপরিপক্ক বয়সে এমন কাজ করার সাহস কিভাবে পাও !
-আপু আমাদের দুজনের ভুল হয়েছে । বিশ্বাস করুন এমন কাজ আর কখনও করবো না । কখনও না । আপনি প্লিজ রিয়াদের বাবা মাকে কিছু বলবেন না । দেখুন আমি জানি আমরা ভুল করেছি । একটা সুযোগ অন্তত আমাদের দিন । রিয়াদ যে কী পরিমান অনুতপ্ত সেটা আমার থেকে ভাল আর কেউ উপলব্ধি করতে পারছে না । এই কাজটা আমরা ঠিক করি । আর কোন দিন করবো না ।

কথা গুলো এক ভাবে বলে নওরিন কিছু সময়ে চুপ করে রইলো । সাদিয়া এক ভাবে নওরিনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে । বুঝার চেষ্টা করছে নওরিন কি নিজ থেকে এই কথা গুলো বলছে নাকি রিয়াদ ওকে দিয়ে বলাচ্ছে । নওরিন আবার বলল, আপু একটা কথা কি শেয়ার করতে পারি আপনার সাথে ?
-বল ।
-ঐদিনের ঘটনা । আপনি নিশ্চয়ই জানে এই ইন্টারকোর্সের ছেলেরা কী পরিমান উত্তেজিত থাকে ।
-হ্যা ।
-মেয়েরা বাঁধা দিতে চাইলেও আমি শুনেছি খানিকটা জোর জবরদস্তি করে । করে না?
-হ্যা । করে । এই জন্যই তো দুর্ঘটনা ঘটে ।
-ঐদিন আমরা এমন পর্যায়েই ছিলাম । আমি যখন ব্যাথায় চিৎকারে উঠলাম তখন রিয়াদ চাইলেই নাও থামতে পারতো। আমার মনে হয়েছিলো বুঝি থামবে না কিন্তু ও থেমে গিয়েছিলো । যখনই আমি চিৎকার করি তখন। এই জন্য আমার কিছু হয় নি । অল্পের উপর দিয়ে গিয়েছে । আপনি যখন চলে গেলেন পুরোটা সময় ও আমার যেভাবে টেক কেয়ার করেছে আমার চোখে ভেসে রয়েছে । আমি ওকে কিছুতেই হারাতে চাই না । কিছুতেই না।

শেষ লাইনটা বলার সময় নওরিনের কলা কেমন যে কেঁপে উঠলো । সাদিয়া সেটা লক্ষ্য করলো ঠিকঠাক । বলল ওকে ডেকে নিয়ে আসো !
একটু পরে রিয়াদও ঘরে ঢুকলো । সাদিয়া ওদের দুজনকে উদ্দেশ্য করে বলল, তোমরা একটা অন্যায় করেছ। স্বীকার করছো?
দুজনেই এক সাথে বলল, জি আপু । শরীর পরিপক্ক হওয়ার আগে এসব কাজ করা মোটেও ভাল না নিরাপদ না । বুঝতে পেরেছো কি?
-জি আপু । আর এরকম হবে না ।
-ওকে আমি এক শর্তে আমি সব কিছু ভুলে যাবো । সেটা হচ্ছে যদি কথা দাও এরকম কাজ আর করবে না কোন দিন ।
নওরিন বলল, বিয়ের পরেও না ।

কথাটা এমন ভাবে বলল যে সাদিয়া হেসে ফেলল । তারপর বলল, যদি ধর সামনের মাসে তোমাদের বিয়ে হয়ে গেল তখনও না । ওকে ?
রিয়াদ বলল, জি আমি কথা দিচ্ছি ! এরকম টা আর কোন দিন হবে না ।
-ওকে যাও । এই ব্যাপারটা আমার আর তোমাদের ভেতরেই থাকবে । কিন্তু যদি ….
রিয়াদ বলল, আপু কথা দিয়েছি আর হবে না । আমি ঐদিন ওর এমন অবস্থা দেখে কেমন যে ফিল করছিলাম আপনাকে বলে বোঝাতে পারবো না । আমার কারণে ওর যদি কোন ক্ষতি হয়ে যায় আমি তাহলে নিজেকে কিছুতেই ক্ষমা করতে পারবো না ।

নওরিন তো অবশ্যই সাদিয়াও বুঝতে পারলো যে রিয়াদের কন্ঠটা অন্য রকম শোনাচ্ছে । একটা তীব্র আবেগ ওরা দুজনেই অনুভব করতে পারলো ।

The end

এই গল্প গুলো কখনই এমন হয় না । অল্প বয়সের প্রেমে এতো আবেগ থাকে যে কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক কিছুই মাথায় আসে না । এই জন্য এই ব্যাপার গুলো নিয়ে আলোচনা করা দরকার । সচেতন করা দরকার ।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.4 / 5. Vote count: 32

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

3 thoughts on “এই সব মিথ্যা গল্প

  1. সত্যিই এই গল্পের মতো হয় না বাস্তবে। আপনার মতো করে ছেলেরা ভাবে না।ভাবতেই পারে নাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *