অদ্ভুত ভালবাসার গল্প ১.১

oputanvir
4.3
(81)

সায়ান চুপ করে আরিয়ানার কথা শুনে যাচ্ছিলো । সামনে কফির কাপ রাখা । সেখান থেকে অল্প অল্প চুমুক দিচ্ছিলো আর আরিয়ানার দিকে তাকিয়ে ছিল । ওর মাথায় অবশ্য তখন অন্য চিন্তা । নতুন টেন্ডারের কাজটা তখনও শেষ হয় নি । ওটা শেষ করতে হবে । ও নিজেই টিম লিড করছে । কাজ চলছিলো পুরো দমে তখনই আরিয়ানা ওর অফিসে এসে হাজির । মেয়েটাকে সে এড়িয়ে যেতে পারে নি । এড়িয়ে গেলে সেটা ওর বাবার কানে ঠিকই চলে যেত আর তখন সে রাগারাগি করতো খুব । এটা সায়ান চায় নি ।
আরিয়ানা এক মনে কথা বলেই যাচ্ছিলো এমন সময় দরজায় টোকা পড়লো । একটু পরেই রাজিবের মুখ দেখা গেল ।
-স্যার, আপনার সাথে একজন দেখা করতে এসেছে !
সায়ান যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো । রাজিবকে বলল, তাকে এখানে নিয়ে এসো !
-স্যার এখানে ?
রাজীবনের মুখে ইতস্তর ভাব দেখেই সায়ানের মনে হল ব্যাপারটা হয়তো অন্য কিছু । এমন কেউ এসেছে যাকে হয়তো এখানে আনা মোটেও ঠিক হবে না । চোখের ইশারায় অনেক কিছু বলে দিল রাজিব । সায়ান সাথে সাথে সাথে বলল, আরিয়ানা একটু বস আমি একটু কাজ সেরে আসি।
আরিয়ানা কফিতে শেষ চুমুক দিতে দিতে বলল, আরে না না । তোমার কোথাও যেতে হবে না । আমি বরং যাই । তোমার কাজের সময়ে এসে তোমাজে জ্বালাচ্ছিলো । বিয়ে আগেই যদি এতো জ্বালাই তখন দেখা যাবে আমাদের বিয়েই হবে না । তুমি কাজ কর । আমি উঠি ।

এই বলে আরিয়ানা উঠে পড়লো । দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল । তার ঠিক কয়েক মিনিট পরেই সে ঘরে ঢুকলো ।
নীতু !
এই মেয়েটা এখানে কেন আবার !
ওর দিকে তাকিয়ে হাসলো একটু । তারপর সোজাসুজি এসে বসলো একটু আগে আরিয়ানা সেখানে বসে ছিল । ওর দিকে তাকিয়ে বলল, ওটা কে? আপার ফিয়ন্সে !
সায়ান সেই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বলল, কেন এসেছো ?
নীতু হাসলো । তারপর বলল, যে কারনে আপনার কাছে আসি । আমার টাকার দরকার ।
-দেখো, এভাবে আমি তোমাকে টাকা দিবো না আর ।
-আপনি অবশ্যই টাকা দিবেন । কেন একটা বাচ্চা মেয়েকে রেপ করার সময়ে মনে ছিল না ?
-নীতু ভুলে যেও না আমি জোর করি নি । ইউ এপ্রোচ মি ।
-আই ওয়াজ ফিফটিন ! আপনার থেকে ১০ বছর ছোট ছিলাম ।

কিছু বলতে গিয়েও বলল না সায়ান । বলল, কত টাকা লাগবে ?
-এই হাজার দশেক !
মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিল । তারপর বলল, এটাই কিন্তু ।
নীতু হাসলো । তারপর বলল, সে দেখা যাবে । টাটা !

নীতুর চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছু সময় ।

নীতুর সাথে ওর পরিচয় হয়েছিলো যখন ও সবে মাত্র দেশে এসেছে । একজন বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিচয় । মেয়েটা তখন সবে মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিবে । শাড়ি পরে এসেছিলো সেদিন । দেখে কোন ভাবেই মনে হবে না যে মেয়েটা এতো ছোট । কথাবার্তা বলে সায়ানের বেশ ভাল লেগেছিলো । পরে যখন জানতে পারে যে এতো ছোট তখন সরে এসেছিলো। কিন্তু নীতু কোন ভাবেই সরে এল না । ওর দিকে আরও ঝুকে বসলো । এক সময় খানিকটা ব্লাকমেইল করেই নীতু ওকে বাধ্য করলো ওর সাথে সেক্স করতে । তারপর থেকে নিয়মিত ভাবে নীতু ওর কাছে আসতো । একটা ব্যাপার সায়ান তখনই বুঝতে পেরেছিলো নীতু ব্যক্তি জীবনে বেশ একা । পারিবারি ব্যাপার সে কোন দিনই জানতে চায় নি তবুও বুঝতে পারতো ।

তবে এক সময়ে সায়ানের মনে হল যে এসব বন্ধ হওয়া উচিৎ । একবার কঠিন ভাবেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিল । তারপর থেকেই নীতু আর সেক্সের জন্য চাপ দিতো না । তবে মাঝে মাঝে এসে টাকা নিয়ে যেত । খানিকটা ব্লাকমেইল করেই । বলতো ওর কাছে নাকি সেই প্রথম দিনের সেক্সের ভিডিও আছে । সেটা পুলিশকে দেখাবে । নয়তো অনলাইনে ছেড়ে দিবে ।

নীতু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে । এই কয় বছরে নীতু ওর কাছে এসেছে অনেক বার । সায়ানকে বাধ্য করেছে ওর ইচ্ছে মত চলতে । সায়ানও করেছে । কেন করেছে সেটা সায়ান নিজেও জানে না । নীতুর ফ্যামিলি স্টাটাস বেশ বড় না । সায়ান চাইলে খুব সহজেই নীতুকে একেবারে গায়েব করে দিতে পারে । সেই ক্ষমতা ওর আছে । কিন্তু দিনের পর দিন সায়ান নীতুর এই অত্যাচার সহ্য করেছে । কেন করেছে সেটা সায়ান নিজেও জানে না । তবে আগে যেমন ঘন ঘন আসতো, এইবার অনেক দিন পরে এল নীতু । হয়তো নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিল ।

সপ্তাহ খানেক পরে আবারও নীতুর ফোন এসে হাজির । সায়ান তখনও অফিসে । আজকে আরিয়ানার সাথে দেখা করার একটা প্লান আছে । যদিও প্লানটা ওর না । ওর বাবার । সায়ানকে বাধ্য হয়ে রাজি হতে হয়েছে । ফোন রিসিভ করতেই নীতু বলল, হোটেলে একটা রুম বুক করেন করেন তো !
-কেন?
-কেন বুঝেন না ?
-নীতু তোমাকে আমি আগেই বলেছি যে আমি এসব করবো না আর !
-কেন এখন বিয়ে হচ্ছে তাই ? এখনও তো বিয়ে হয় নি । বিয়ের পর আর করতে হবে না ।
-বলেছি তো, না।

সায়ানের মনে হল নীতু এখন আবারও ওকে সেই ভয় দেখাবে । ছবি ভিডিও ভয় । তবে এবার সায়ান ঠিক করেই রেখেছে যে ওকে বলবে যে পুলিশের কাছে যেতেে। কিন্তু ওকে খানিকটা অবাক করে দিয়ে নীতু বলল, ওকে আপনাকে আসতে হবে না । তবে আমি একটু পরে ঐ চন্দ্রিমা উদ্দ্যানে গিয়ে দাড়াবো । তারপর যে প্রথম আসবে তার সাথে চলে যাবো । এরপর আমার সাথে যা হবে তারজন্য আপনি দায়ী থাকবে !

সায়ানের একবার মনে হল যে বলে তোমার যা ইচ্ছে কর কিন্তু কেন জানি সে বলতে পারলো না । নরম সুরে বলল, তুমি এমন কেন করছো ?
-আপনি কি বুক করবেন ?
-হোটেল থাকুক । ফার্ম হাউজ চলে চলবে ?
-আপনার বাবা জেনে যাবে না ?
-না । জানবে না । চলবে ?
-হ্যা চলবে ।
-আচ্ছা । আমি তোমাকে পিক করে নিবো কোথা থেকে ?
-আমার বাসার সামনের রেল গেট ছাড়িয়ে একটা অন্ধকার গলি আছে । আমি ওখানে দাড়িয়ে থাকবো । ওখান থেকে পারবেন ?
-হ্যা পারবো ।
-তাহলে দশটার দিকে চলে আসবেন । আর শুনুন ।
-বল।
-আসার সময়ে দড়ি কিনে আনবেন আর মেডিক্যাল টেপ কিনবেন ।
-এসব কেন ?
-আনতে বলছি আনবেন । এতো কথা কেন বলেন ।
-আচ্ছা !

দুই
গাড়িতে উঠে নীতু প্রথমেই জানতে চাইলো দড়ি কিনেছেন ?
-হ্যা। সব কিছু কিনেছি ।
-গুড বয় ! আপনি এতো সুইট কেন বলেন তো !
সায়ান কোন জবাব দিলো না । ফার্ম হাউজে পৌছাতে পৌছাতেই প্রায় বারোটা বেজে গেল । সায়ান করে বলে দিয়েছিলো যে ফার্ম হাউজে যেন আজকে কেউ না থাকে । দারিয়ান গেট খুলে দিল । তারপর সায়ান গাড়ি নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল ।

ফ্রেশ হয়ে নিয়ে নীতু কোন প্রকার লাজ লজ্জার ধার না দিয়ে গিয়ে সরাসরি নগ্ন হয়েই সায়ানের সামনে এসে দাড়ালো । সায়ান কিছু সময় কেবল ফ্রিজ হয়ে দাড়িয়ে রইলো কেবল । নীতুর অবশ্য মজাই লাগছিলো । সে সায়ানের সামনে গিয়ে নিজের মোবাইল বের করে একটা ভিডিও চালু করে দেখালো । সায়ান খানিকটা বিস্ময় নিয়ে সেটা দেখলো তারপর চোখ সরিয়ে নিল । বলল, এসব কি ?
-এসবই এখন আমরা করবো ।
-না মোটেও না ।
-মোটেও হ্যা । এটাই করতে হবে । বুঝেছেন । কোন কথা না । নয়তো আমি এখনই কিন্তু আপনার ফিয়ন্সে কে ফোন দিব।
সায়ান বুঝলো যে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই । নীতুর কথা মতই কাজ করতে হবে । ব্যাগ থেকে কেনা দড়িটা সে বের করলো ।

ঘন্টা দুয়েক মত চলল ওদের খেলা । তারপর দুজনেই খানিকটা ক্লান্ত হয়ে গেছে । সায়ানের শরীরের উপরে নীতু শুয়ে দম নিতু লাগলো । নীতুর হাত তখনও পেছনমোড়া করে বাঁধাই রয়েছে । সায়ান নীতুকে আরও একটু কাছে টেনে নিল । নীতুর পুরো শরীরটা সায়ানের শরীরের উপরে রয়েছে । হাত বাঁধা থাকার কারণে একটু নড়বড় অবস্থায় রয়েছে । সায়ান যদি না ধরে থাকে তাহলে হয়তো গড়িয়ে পড়ে যেতে পারে ।

একটু শান্ত হলে নীতু সায়ানের বুকে মাথা রেখেই বলল, আপনি আমাকে এভাবে কেন সহ্য করেন বলেন তো ?
-সহ্য ?
-হ্যা । এই যে এতো জ্বালাই আপনাকে, ব্লাক মেইল করে টাকা নিই । ভয় দেখাই তবুও ঠিকই আমার জন্য কেয়ার করেন । কেন ?
-জানি না ।
-আজকে যদি আমি চন্দ্রিমাতে গিয়ে দাড়াতাম আপনার কিছুই হত না । তবুও আপনি এলেন । কেন এলেন ?
-জানি না । সত্যিই জানি না ।
-তারপর দেখুন আজকে এভাবে আপনার সাথে আছি । নিজেকে পুরোপুরি আপনার নিয়ন্ত্রনে নিয়ে এনে দিয়েছি । আপনি চাইলে এখনও আমাকে মেরে ফেলতে পারেন । আমি সামান্য প্রতিরোধও করতে পারবো না । তারপরও আপনি কিছু করছেন না । আপনি চাইলে আমার থেকে আজই চিরো মুক্তি পেতে পারেন । আমাকে মেরে ফেলে ফার্ম হাউজে পেছনে মাটি চাপা দিলে কেউ কোন দিন জানবে না ।

একভাবে কথা গুলো বলে নীতু থামলো । সায়ান একটু ভাবলো নীতু কথা । সত্যি আজকে নীতু আজকে নিজেকে এমন ভাবে ওর সামনে এমন ভাবে এসে হাজির করেছে যে ওকে যদি মেরে ফেলা হয় তাহলে কেউ কোন দিন জানবে না । সায়ান বলল, এই কারণে আজকে অন্য একটা নম্বর নিয়ে ফোন দিয়েছো ?
নীতু হাসলো । বলল, হ্যা । ওটা নতুন কিনেছি আজই । একটা চায়না ফোনে ভরে কল দিয়েছি যাতে ট্রেস না করা যায় । নিজের ফোন নিয়েও আসি নি সাথে ।
-তারপর এমন যায়গা থেকে উঠেছো যাতে কেউ তোমাকে না দেখে । পুরো রাস্তায় তুমি নিজের মুখে ঢেকে রেখেছিলে যাতে কোথায় তোমার চেহারা ধরা না পরে । তাই না ? তার মানে আজকে যদি আমি তোমাকে এখানে মেরে তাহলে তুমি এমন ব্যবস্থা করেছিলে যাতে আমার পর্যন্ত পুলিশ কোন দিন না পৌছাতে পারে !
-হুম ! আজকে আপনার সব টাকাও নিয়ে এসেছি ।
-টাকা মানে ?
-মানে এতোদিন আপনার কাছ থেকে যত টাকা নিয়েছি সব । একটা টাকাও আমি কোন খরচ করি নি ।
-তাহলে নিয়েছো কেন?
-জানি না । হয়তো আপনার কাছে যাওয়া উছিলা খুজতে !

সায়ান এবার নীতুকে আরও একটু কাছে উপরে টেনে নিল । তারপর ওর ঠোঁটে গভীর করে চুমু খেল । আবারও দুজন দুজনের ভেতরে হারিয়ে গেল কিছু সময় ।

তিন
-আমি তোমাকে সত্যিই বুঝতে পারি না ।
-আমি নিজেও বুঝতে পারি না নিজেকে । তবে আপনাকে বুঝতে পারি । আপনি আমাকে ভালবাসেন আমি জানি । জানেন আপনার মত করে এতো কেয়ার কেউ কোন দিন আমাকে করে নি । আমার ফ্যামিলিতে আমি অনেকটাই অবাঞ্চিত । ছোট বেলা থেকেই দেখতাম অন্য সবার থেকে বাবা কেন জানি আমাকে সব সময় দুরে দুরে রাখতো । মায়ের কাছেও একটা কেমন ঝামেলা মনে হত নিজেকে । পরে বড় হয়ে টের পেয়েছি কারণ । আমার বাবার বিশ্বাসে যে আমি তার সন্তান না । তার এমনটা ভাবার কারণ আছে । অন্য সব ভাইবোনদের মত হয় নি । ওদের থেকে অনেক সুন্দর দেখতে আমি । হয়তো সত্যি হয়তো সত্যি না । তারপরেও পরিবারের সবার থেকে আমাকে আলাদা করে রাখা হয় । মাঝে মাঝে ওরা যে কী কুৎসীত ভাষায় আমাকে ওরা কথা শোনায় ! ইদানীং এই ব্যাপারটা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে । কতবার যে সুইসাইড করতে গেছি । কিন্তু তখনই আপনার কথা মনে হয়েছে । আপনি আমাকে যেভাবে আদর করেছেন সেভাবে কেউ করে নি ।

নীতু একটু থামলো । তারপর আবার বলল, আমি সব সময় চাইতাম যে আপনি যেন আমাকে ঘৃণা করেন যাতে আপনার কাছ থেকে দুরে সরে যেতে পারি । কিন্তু আপনি সেটা করেন নি । প্রতিবারই আমার আবদার শুনেছেন । আপনি ঠিকই জানেন যে আমার কাছে কোন ছবি কিগবা ভিডিও নেই । থাকলেও আমি কোন দিন সেগুলো বাইরে নিয়ে আসবো না । তবুও আপনি আমার আবদার শুনতে । এমন ভাবে কেউ কোন দিন আমার কো কথা শুনে নি । কোন দিন না । তবুও নিজেকে খানিকটা বুঝ দিয়েছিলাম । বুঝিয়ে ফেলেছিলাম যে আপনার কাছ থেকে দুরে থাকাই ভাল । কিন্তু যখন জানতে পারলাম যে আপনার বিয়ে হচ্ছে সত্যি বলতে মনের ভেতরে কি যে ঝড় উঠলো । মনে আমার সব কিছু যেন হারিয়ে যাচ্ছে । আমি আবারও একা হয়ে যাচ্ছি ।

সায়ান এবার উঠে বসলো । নীতুকে নিজের কোলের উপরে নিয়ে বসলো । দেখতে পেল নীতুর চোখ দিয়ে বিন্দু বিন্দু অশ্রু গড়িয়ে পড়লো । ঠোঁট কাঁপছে মৃদু ভাবে । সায়ান আস্তে আস্তে সেই ঠোঁট স্পর্শ করলো হাত দিয়ে । তারপর আস্তে গাল গলা আর উন্মুক বুকের দিকে এক ভাবে তাকিয়ে রইলো কেবল । কী এক তীব্র আকর্ষন যে সায়ান অনুভব করলো সেটা সে নিজেই জানে না ।

তারপরই সে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল । খাটের পাশে রাখা মোবাইলটা বের করে ডায়াল করলো । ফোনটা রিসিভ হল সাথে সাথেই ।
-জমির মিয়া ।
-জ্বে স্যার ।
-তোমার গ্রামে কাজী আছে ?
-কাজী ! বিয়ার কাজী ?
-হ্যা আছে আসে পাশে ?
-জ্বে স্যার আছে ।
-এখনই তাকে নিয়ে এসে ফার্ম হাউজে । সাথে বিয়ে পড়ানোর জন্য যা যা লাগে সব কিছু । সাক্ষি নিয়ে আসবে ঠিক আছে ।
-কার বিয়া স্যার ।
-সেটা তোমার চিন্তা না করলেো চলবে । আনতে বলেছি আনো ।

নীতু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো কিছু সময় । তারপর বলল, সায়ান না প্লিজ, আপনার বাবা খুব রাগ করবে । খুব ।
-তোমার সেটা চিন্তা করতে হবে না ।
-আমি বিয়ে রাজি হব না ।
-তাই ?

তাই বলে সায়ান এমন ভাবে হাসলো যে নীতু বুঝে গেল যে সায়ান জানে যে ও ঠিকই রাজি হবে । নীতু আরও কিছু বলতে গেল কিন্তু তার আগেই সায়ান ওর ঠোঁটে আবারও একটা গভীর করে চুমু খেল । তারপর বলল, আমি আছি তোমার পাশে । কোন চিন্তা কর না । কেমন !

নীতুর তখনও বিশ্বাস হচ্ছিলো না যখন সে কবুল বলল । তারপর কাবিন নামায় সই করলো । মনে হল যেন একটা স্বপ্নের ভেতরে আছে । এখনই স্বপ্নটা ভেঙ্গে যাবে । বিয়ের সব কাজ কর্ম শেষ করতে করতে প্রায় পাঁচটা বেজে গেল । সবাই চলে যাওয়ার পরে সায়ান বলল, বাসর তো আগেই হয়েছে । আরেকবার হবে নাকি ?
সায়ান এই প্রথম নীতুকে লজ্জা পেতে দেখলো । বলল, আপনি খুব বদ ।
-আমি বদ ? আচ্ছা ? দাড়াও তোমাকে মজা আজকে দেখাবো …।

কালকে থেকে এই প্লটটা মাথার ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছিলো । কেন খাচ্ছিলো কে জানে । আজকে লিখে ফেললাম ।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.3 / 5. Vote count: 81

No votes so far! Be the first to rate this post.

About অপু তানভীর

আমি অতি ভাল একজন ছেলে।

View all posts by অপু তানভীর →

One Comment on “অদ্ভুত ভালবাসার গল্প ১.১”

  1. আগে আপনার পেইজ থেকে গল্প পড়তাম

    আজ অনেকদিন পর আবার আপনার পোষ্ট পেয়েই গল্প পড়তে চলে এলাম

Comments are closed.