নরম রৌদ্দুর

oputanvir
4.8
(57)

নরম রোদ তৃষার মুখের উপরে এসে পড়ছে । বিছানা থেকে একটু সরে শুলে রোদটা আর মুখে লাগবে না । তৃষার ইচ্ছে করলো না । সকাল হয়েছে অনেক আগেই । হাত মুখে ধুয়ে এক কাপ কফি খেয়েছে কেবল । নাস্তা করে নি এখনও । তৃষার মা একবার বলে গেছে নাস্তার কথা তবে তৃষার এখন কিছুই খেতে ইচ্ছে করছে না । ইদানীং কেন জানি খাওয়া দাওয়ার উপর থেকে রুচি চলে গেছে । অবশ্য কোন কালেই তৃষা খুব বেশি খাওয়া দাওয়া করত না । তবে অপারেশনের পর থেকে সেটা আরও কমে গেছে আশংঙ্কা জনক ভাবে । এখন তৃষা কেন জানি কোন কিছুই ভাল লাগে না । সব সময় মনে হয় কি যেন নেই ওর জীবনে ! কিছুর একটা অভাব সে সব সময় অনুভব করে !

তৃষা জীবনে কখনই কারো প্রয়োজন মনে করে নি । সব অন্য মানুষ তার কাছে এসেছে তার আশে পাশে ঘুরে বেরিয়েছে । অন্যদের তাকে দরকার হয়েছে সব সময় । এই অনুভূতিটা ওর কাছে একেবারে নতুন । এটা সে কিছুতেই মন থেকে মুছে ফেলতে পারছে না । 

রোদের তেজটা বাড়ছে । এবার একটু সরে শুতে হবে । তৃষা অনুভব করল ওর মা এসে দাড়িয়েছে ! নাস্তার কথা একবার সে আগেই বলে গেছে । দাঁড়িয়ে যেহেতু আছে তার মানে অন্য কিছু বলার আছে । তৃষা বইটা এক পাশে সরিয়ে রাখল । তারপর তারপর উঠে বসল । যদিও এখন আর শরীরের ব্যাথা অনুভব করে তারপরেও ডাক্তার ওকে আরও মাছ দুয়েক খুব সাবধানে চলাচল করতে বলেছেন । শরীরের নড়া চড়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেছেন। তৃষা সেই উপদেশই মেনে চলছে । উঠে বসে সে মায়ের দিকে তাকাল । তারপর বলল, কিছু বলবে মা?

তৃষার অবশ্য বলে দিতে হল না । তা মায়ের মুখের ভাব দেখেই সে বুঝতে পেরেছে যে সে কিছু বলতে চায় ! এমন এরই সাথে এটাও বুঝতে পারছে যে সেই কিছু বলাটা তৃষার মোটেও পছন্দ হবে না !  তৃষা আবারও  বলল, কিছু বলতে চাও মা?

ওরা আজকে আসতে চাচ্ছে?

-কারা ?

-রেহানরা !

নামটা শুনেই তৃষার মেজাজটা চট করেই খারাপ হয়ে গেল । সেটা ওর চেহারা দেখেই ওর মা ঠিক ঠিক বুঝতে পারল। তাড়াতাড়ি করে বলল, রাগ করিস না । তোমার বাবার বন্ধু তো । আমাদের আগের সব অনুষ্ঠানেও ওরা এসেছে ।

-তো কী করবো আমি ? নাচব ?

-না মানে তোকে বলে রাখলাম যে আজকে আসবে ওরা ! ওদের সাথে খারাপ ব্যবহার করিস না ! কেমন?

-আমি ওদের সাথে কোন ব্যবহার করতে চাই না । ওদের ধারে কাছে আমি যাবো না । আর বাবা কে বলে দিও যে সে যেন আমাকে তাদের সাথে কথা না বলতে পাঠায় ! মনে থাকবে?

রেহানা কবির খনিকটা অসহায় ভাবে মেয়ের দিকে তাকালেন । তিনি তৃষাকে পুরো কথা বলেন নি । আজকে কেবল রেহানরা বাসায় আসতেই নয়, তৃষার সাথে এঙ্গেইজমেন্টের কাজটাই সেরে ফেলতে চাচ্ছে । হ্যা এটা সত্যি যে যখন তৃষার শরীর খুব খারাপ হয়েছিল তখন রেহানই তৃষার সাথে এঙ্গেইজমেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে অন্য মেয়েদের দেখা শুরু করেছিল । আসলে এই ব্যাপারে ওদের দোষ দেওয়া যায় না । তৃষা যে আবার বেঁচে ফিরে আসবে সেটা কেউ ভাবে নি । এমন কি রেহানা কবির নিজেও সেটা ভাবেন নি । উপরওয়ালা যেন নিজে হাতে ওকে বাঁচিয়েছেন । 

রেহানা কবির বললেন, আজকে ওরাও আসবে?

-কারা ?

 রেহানা কবির কিছু বললেন না । কারণ তৃষা বুঝে গিয়েছে আজকে কারা আসবে !

তৃষা মনে অদ্ভুত রকমের একতা অনুভূতি এসে জড় হল । ওর আজকে বেঁচে থাকার কথা ছিল না । একদিন হঠাৎ করেই সে ক্যাম্পাসে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় । হাসপাতালে নিয়ে গেলে জানা যায় হার্টে সমস্যা দেখা দিয়েছে । ওর হৃদপিণ্ড ঠিক মত রক্ত প্রবাহ করতে পাওরছে না । এক সময়ে সেটা ঠিক মত কাজ করা বন্ধ করে দিল । দীর্ঘদিন ওকে হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে থাকতে হয়েছিল। তবে সব থেকে বেশি কষ্ট পেয়েছিল যখন সে শুনতে পেল যে রেহান বিয়ের জন্য নতুন মেয়ে দেখতে শুরু করেছে । ওর সাথে যে রেহানের বিয়ে হবে না সেটা তৃষা জানত বেশ ভাল করেই । ও যে বেশিদিন বাঁচবে না সেটাও সে মেনে নিয়েছিল । কেবল চেয়েছিল ওর মরার পরেই যেন রেহান নতুন মেয়েদের দেখত । এটা করলে কি খুব বেশি ক্ষতি হত !  

হাসপাতালের বেডে শুয়ে যখন মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে তখনই খবরটা শুনতে পেল সে । এই হাসপালেই একজন ভর্তি হয়েছে । বাচ্চা জন্ম দিতে মেয়েটার ভেতরে খুব বেশি কমপ্লিকেশন দেখা দিয়েছে । মারা যাবে খুব জলদি । এবং সেই মেয়েটা কোন ভাবে তৃষার কথা জেনেছিল আগেই । সে নিজের হার্টটা তৃষাকে দিয়ে যেতে চায় !

তীব্র এক বিস্ময় জেগেছিল তৃষার মনে । কোণ ভাবেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না । যদিও অপারেশনটা খুবই জটিল । সফল হওয়ার সম্ভবনা কম ছিল । তবুও কিছু না থাকার চেয়েও কিছু থাকা ভাল । 

তৃষা খুব করে চেয়েছিল যে মেয়েটার সাথে দেখা করতে কিন্তু সম্ভব হয় নি । অপারেশনের পরে যখন তৃষার জ্ঞান তখন প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গিয়েছে । তৃষার শরীর তখন খুব দুর্বল । তারপর ঠিক হতে, হাটা চলা শুরু করতে করতে আরও মাস চারেক কেটে গেল । এই পুরো সময়ে তৃষা নিজের বাসাতেই ছিল । অনুভব করছিল আস্তে আস্তে সে আবার ভাল হয়ে উঠছে । আবারও আগের মত অনুভব করতে পারছে । 

তৃষার বারবার সেই পরিবারটির সাথে দেখা করতে চেয়েছিল । যার হৃদয় এখন তৃষার ভেতরে তার নামটা ও জানে । জয়া । জয়ার স্বামীর নাকি মোটেই ইচ্ছে ছিল না এই হার্ট ট্রান্সপ্লান্টে । সে তার প্রিয়তমা স্ত্রীর শরীর কাটাকুটির বিরুদ্ধে ছিল । তবে জয়ার ইচ্ছের কাছে পরে সে পরাজিত হয়েছে । এতোদিন তৃষা তাই ভয়ে সেই মানুষটার সামনে যেতে চায় নি । আজকে তাদের বাসায় দাওয়াত দেওয়া হয়েছে । তারা আসবে !

সন্ধ্যার সময় একে একে অতিথি আসা শুরু হল । তৃষার সব বন্ধু বান্ধব আত্মীয়রা । তৃষার সুস্থ হওয়ার পার্টি । সন্ধ্যার কিছু পরেই রেহান এবং তার পরিবার এল  তৃষার বাবা আহসান কবির তাদের রিসিভ করল । রেহানের বাবা আর তৃষার বাবা দীর্ঘ দিনের বন্ধু । তাদের এক সাথে ব্যবসা রয়েছে কয়েকটা । সেই হিসাবেই রেহানের সাথে তৃষার বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেম । এক সময়ে যে ওদের বিয়ে হবে সেটাও ঠিক ছিল কিন্তু মাঝ থেকে ওর অসুখটা সব ওলট পালট করে দিল । প্রথম প্রথম রেহান নিয়মিত ওকে ফোন করতো । সপ্তাহে একবার দেখা করতে আসত । তবে দিন যতই যেতে লাগল ততই সেটা কমতে লাগল । এক সময়ে সেটা বন্ধই হয়ে গেল ।

তৃষা ওর কয়েকজন বন্ধু বান্ধবদের গল্প করছিল । রেহানকে দেখেও না দেখার ভান করল । তবে রেহান এগিয়ে এল নিজ থেকেই । রেহানকে ওর সব বন্ধুরাই চেনে । তৃষার কাছে আসতেই তৃষা সেই স্থান ছেড়ে চলে গেল । রেহান কয়েকবার ডাক দিল । তবে তৃষা সেটা একেবারেই শুনল না । একেবারে সরাসরি রেহানকে এড়িয়ে চলল । ব্যাপারটা তৃষার বাবার চোখ এড়ালো না । তিনি এগিয়ে এসে তৃষাকে বললেন, কী করছ তুমি?

-কেন ? কী করব?

-রেহানের সাথে এই রকম আচরণ কর না । 

-বাবা দয়া করে এমন কিছু বলবে না যাতে আমার মুড খারাপ হয় । আমি রেহানের সাথে আর কোন প্রকার সম্পর্ক রাখতে চাই না  । তোমার ব্যবসার পার্টনার তুমি রাখো তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক ! আমাকে টানবে না খবর বলে দিলাম !

তৃষার বাবা আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল তখনই তৃষার মনে অদ্ভুত একটা অনুভূতি হল । সেই অচেনা একটা অনুভূতি এসে ওর মনের ভেতরে ঢাক্কা দিল । তৃষা দেখল দরজা দিয়ে একজন মাঝ বয়সী মহিলা একটা ছোট বাচ্চা কোলে নিয়ে প্রবেশ করলেন । তার পেছনেই এক যুবক । তৃষা দেখল ওর বাবা সেদিকে এগিয়ে গেল । ওর মাঝেও তাদের দিকে যেতে দেখল তৃষা । 

তৃষাকে মোটেই বলে দিতে হল না এরা কারা ! এই মানুষটা হচ্ছে জয়ার স্বামী । মাঝ বয়সী মহিলা হয় জয়ার মা নয়তো জয়ার শাশুড়ি আর তার কোলে বাচ্চাটা জয়ার সন্তান !

তৃষার মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি হল । বিশেষ করে বাচ্চার দিকে তাকিয়ে । তৃষা আপনা আপনি তাদের দিকে পা বাড়াল । ওদের সামনে গিয়েই দাড়ালো । ওর বাবা মা তখন তাদের সাথে কথা বলছে । তবে তৃষার চোখ বাচ্চাটার দিকে । বাচ্চাটা ওর দিকেই তাকিয়ে আছে যেন ! 

তৃষর দিকে তাকিয়ে মাঝ বয়সী মহিলাটি হাসলেন । তারপর বলল, তোমাকে দেখে খুব ভাল লাগছে! 

তৃষা হাসল । তারপর বলল, আমি বাবুটাকে একটু নেব ?

তৃষা হাত বাড়াতেই শান্ত ভাবে বাবুটা ওর দিকে এগিয়ে এল । তৃষা বাচ্চাটাকে কোলে নিতেই ওর মনে তীব্র একটা অনুভূতি জাগ্রত হল । এই অনুভূতির নাম তৃষার জানা নেই । বুকের জড়িয়ে ধরে তৃষার কেবল মনে হল এতো দিন যে বিষণ্ণতা অনুভব করছিল সেটা যেন এক নিমিষেই চলে গেছে । 

-কী নাম ওর?

-ওর নাম তাইশা !

-বাহ দারুন নাম তো ! তাইশা মাননি আমাকে চেনো তুমি ?

তাইশা অপলক চোখেই তাকিয়ে রইলো তৃষার দিকে । ওর চোখে কী এক পরিচিত দৃষ্টি !

তৃষার কাছে যেন আর কোন কিছুই জরুরী মনে হল না । এই পার্টি লোকজন সব কিছু তার কাছে একেবারে মূল্যহীন মনে হল । মনে হল যে এই ছোট্ট বাবুকে ছাড়া আর কোণ কিছু জরুরী না । পুরোটা সময় সে তাইশাকে কোলে নিয়েই থাকল । আর তাইশাও যেন একেবারে শান্ত হয়ে ওর মায়ের কোলে চুপ করে বসে রইল । 

তৃষার সবার থেকে আলাদা হয়ে একটু বারান্দায় গিয়ে দাড়াল । তখন তাইশার বাবাকে আসতে দেখল । তৃষার পাশে এসে দাড়াল । তারপর বলল, ও আপনাকে খুব পছন্দ করেছে দেখা যাচ্ছে !

-হ্যা । 

কী যেন ভাবল জয়া স্বামী । তারপর বলল, আমি আসলে চাই নি যে জয়ার দেহ কাটা ছেড়া হোক ! প্রিয় মানুষটার দেহ এমন করে টাকা হোক কে চায় বলুন !

-আমি হলেও হয়তো এমনই চাইতাম !

-কিন্তু জয়ার মনটা খুব বেশি মায়ায় ভরপুর ছিল । ও সব সময় মানুষের উপকার করতে চাইতো । একবার কী হয়েছিল জানে আমাদের বাসার সামনে একটা বেড়াল গাড়িতে চাপা পড়েছিল । পা ভেঙ্গে গিয়েছিল । বৃষ্টির ভেতরে সেই বেড়ালকে নিয়ে দৌড়ে গিয়ে গিয়েছিল ক্লিনিকে । 

কিছু সময় থামল । তারপর সে আবার বলল, আমার একটা রাগ ছিল তবে আপনাকে দেখে সেই রাগটা একেবারে চলে গেছে । জয়ার হৃদয়টা আপনার কাছে । আপনার মাঝে ও বেঁচে আছে ! এটা আমি আপনাকে দেখে অনুভব করতে পারছি । আর তাইশা যেন বুঝতে পারছে যে ও মায়ের হৃদপিণ্ড রয়েছে ওর খুব কাছাকাছি ! ওকে এমন আনন্দিত আমি এর আগে কখনই দেখি নি । আমি মাঝে মাঝে ওকে নিয়ে আসব আপনার কাছে ! কেমন !

তৃষা আরও একটু শক্ত করে তাইশাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল । যেন ওকে মাঝে মাঝে নয় সব সময় নিজের কাছে রাখতে চায় সে ! 

আরও ঘন্টা খানেক থাকার পরে খাওয়া দাওয়া হল । এরপর যাওয়ার পালা । তবে যাওয়ার সময়ে বাঁধল বিপত্তি। তাইশা কিছুতেই তৃষাকে ছেড়ে যাবে না । ওর বাবা কোলে নিতেই কান্না জুড়ে দিল । এমন ভাবে যে তৃষার বুকের ভেতরতা কেমন যেন করে উঠল । দরজা দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পর্যন্ত সে সেদিকেই তাকিয়ে রইল । বুকের ভেতরটার‍্য এক তীব্র কষ্টের অনুভূতি হচ্ছে যেন ! 

এদিকে তৃষার বাবা ওকে এক প্রকার জোর করেই নিয়ে গেল স্টেজের সামনে । রেহানরা আজকেই তৃষাকে আংটি পড়াতে চায় । তৃষার সেদিকে বিন্দু মাত্র খেয়াল নেই । সে তাকিয়ে আছে দরজার দিকে । তাইশার কান্নার আওয়াজ যেন এখনও তার কানে বাজছে । 

যখন রেহান আংটি পরাতে যাবে তখনই এক ঝটকায় তৃষা সেটা ফেলে দিল । তারপর এক প্রকার দৌড়েই গেল দরজার দিকে । ওরা এখনও সম্ভবত বের হয়ে যায় নি ! তার আগেও ওদের ধরতে হবে ।

দুই 

অপু খানিকটা অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায় । পাশে মায়ের কাছে তাইশা । সে চিৎকার করে কান্না করছে । কিছুতেই তাকে থামানো যাচ্ছে না । মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, এখানে দাঁড়াও । আমি গাড়ি নিয়ে আসছি । ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা কর একটু । 

অপু যখন গাড়ি নিয়ে এল তখন অবাক হয়ে দেখল তৃষা ওর মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে । তৃষার কোলে তাইশা । গাড়ির দরজা খুলে তৃষা খুব স্বাভাবিক ভাবেই ভেতরে ঢুকল । 

-ও একটু ঘুমিয়ে গেলে আমি আপনাকে নামিয়ে দিয়ে যাব !

তৃষা বলল, সেটা নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না । ওকে ছাড়া আজকে আমার ঘুম আসবে না রাতে ! আপনাদের বাসায় রুম আছে না? গেস্ট রুম !

অপু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো তৃষার দিকে । মেয়েটা যে এমন আচরণ করবে সেটা সে ভাবেও নি । 

তৃষা নিজেও নিজের এই আচরণ দেখে একটু অবাক হচ্ছে । তবে এসব তৃষার কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তৃষার মনে হচ্ছে এর পর থেকে এই পরিবারটি যেটাকে সে আগে কখন চিনতো না সেই পরিবারটিকে ছেড়ে থাকা ওর পক্ষে সম্ভব না  বিশেষ করে তাইশাকে ছেড়ে ও কোন ভাবেই আর দূরে থাকতে পারবে না ।   

এটা হচ্ছে হার্টট্রান্সপ্লান্ট থিমের দ্বিতীয় গল্প । আরও একটা লিখতে হচ্ছে একই থিমে তবে সেটা পরে হয়তো লিখব।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.8 / 5. Vote count: 57

No votes so far! Be the first to rate this post.

About অপু তানভীর

আমি অতি ভাল একজন ছেলে।

View all posts by অপু তানভীর →