অপু তানভীর

মাই ডিয়ার হোম মিনিস্টার (পর্ব ০৯)

5
(3)

রাতের বেলা কয়েকবার ফোন দিতে গিয়েও ফোন দিতে পারলাম না । বারবার কেবল মনে হচ্ছিলো যে আমার কারনেই নিকিতার এতো বড় সমস্যা হয়ে গেল । আমার কারনেই ওর ক্যারিয়ারে একটা বড় দাগ হয়তো লেগে গেল । আমি যদি আমার ইচ্ছের কথাটা না বলতাম তাহলে হয়তো কোন দিন এই ব্যাপারটা হত না ।

রাত বারোটার দিকে নিকিতা নিজেই ফোন দিল আমাকে । আমি কি বলবো খুজে পেলাম না । নিকিতা বলল

-মন খারাপ মনে হচ্ছে ?

-আই এম সরি !

-সেকি কেন ? সরি কেন ?

-আমার কারনে তোমার এতো বড় ক্ষতি হয়ে গেল !

-কিসের ক্ষতি !! শুনো এই সব ব্যাপার নিয়ে তোমার চিন্তা করার কোন কারন দেখি না আমি । এইসব নিয়ে ভাববেও না মোটেও । মনে থাকবে !

-কিন্তু …..

-কোন কিন্তু না । আমি সামলাবো ! তোমার কেবল কাজ হবে আমার বয়ফ্রেন্ড হওয়া আর আমাকে নিজের গার্লফ্রেন্ড মনে করা !

-বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ডের জন্য আমরা খানিকটা বেশি বড় হয়ে গেছি না ! এর থেকে হাসব্যন্ড ওয়াইফ বেশি ভাল শোনায় !

ওপাশ থেকে বেশ কিছু সময় কোন কথা শোনা গেল না । আমি বললাম

-কি হল ?

নিকিতা খুব নরম গলায় বলল

-না কিছু না । আমি বাবাকে বলব । যদিও আমি যতদুর জানি বাবা এই ব্যাপারটা জেনে গেছে এরই ভেতরে ।

-তো এখন কি করবো ? তোমার বাবা কাছে প্রস্তাব পাঠাবো ?

-না না না ! এখন না । আমি বলবো কি করতে হবে আর কখন করতে হবে । আর তুমি এখন ঘুম দাও । অন্য কিছু এখন ভাবতে হবে না । বুঝতে পেরেছো ! আমি এদিকটা সমলাবো !

যদিও ও আমাকে চিন্তা করতে মানা করলো তবুও আমি চিন্তা করা থেকে নিজেকে দুরে রাখতে পারলাম না । আমাদের এই ব্যাপারটা জেনে যাওয়ার ফলে ওর ক্যারিয়ারে কি হবে এই চিন্তাটা মাথা থেকে দুর করতে পারলাাম না । নিশ্চয়ই ওর বিরোধী পক্ষ এটা নিয়ে অনেক ঝামেলা করবে ।

ঝামেলা অবশ্য তারা করতেও চাইলো কিন্তু নিকিতা যে ব্যাপারটা এই ভাবে সামাল দেবে আমি ভাবতেই পারি নি । দুদিন পরে ওর এক সংবাদ সম্মেলনে হঠাৎ এক সাংবাদিক এই প্রশ্ন করে ফেলল । ম্যাডাম আপনার সাথে ঐ ছেলেটি আসলে কে ?

আমি তখন ওর এই অনুষ্ঠানটা টিভিতে দেখছিলাম । প্রশ্নটা শুনে মুহুর্তের ভেতরে নিকিতার চেহারার রং বদলে গেল । নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলো কিছু সময় ধরে । তারপর বলল

-এখানে আপনাদের ডাকা হয়েছে আমাকে আমার কাজের ব্যাপারে প্রশ্ন করার জন্য । আমাদের দেশে সামনের কয়েক দিনে একটা হামলা হওয়ার কথা আশংকার করা হচ্ছে, ইনটেলিজেসন্স থেকে তাই জানানো হয়েছে । আমি আপনাদেরকে এই ব্যাপারে সাবধান করতে ডেকেছি । আর আপনি বলছেন আমার সাথের ঐ ছেলেটি কে ? আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি সে এই হামলার সাথে যুক্ত নয় । কিংবা সে হুমকিও নয় দেশের জন্য ! বুঝতে পেরেছেন কি ?

-কিন্তু ম্যাডাম আমাদের কি জানার অধিকার নেই ?

নিকিতা এবার সত্যিই সত্যিই রেগে গেল । খানিকটা রাগত কন্ঠেই বলল, আমি এই দেশের একটা গুরুত্বপূর্ন পদে আছি । আপনারা আমার কাজের ব্যাপারে প্রশ্ন করুন । আমি যদি কোন ভুল করি সেটা আমাকে মনে করিয়ে দিন । কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হওয়ার সাথে সাথেও আমি একজন মানুষ । আমার একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে । সবার যেমন আছে । এখন আমি ঐ ছেলের সাথে যদি বৃষ্টিতে ভিজেও থাকি সেটা কি অন্যায় কিংবা খারাপ কাজ হয়েছে ? আমি কোন আইন ভেঙ্গে কাজটা করেছি ? এমন কোন আইন কি আমাদের দেশে আছে যে যেখানে লেখা আছে প্রশাসনের মানুষদের কোন ব্যক্তিগত জীবন থাকতে পারবে না ? আছে কি ?

কেউ কোন কথা বলল না । নিকিতা বলল,

-যদি আপনাদের এই ইচ্ছে থাকে তাহলে এই বার আপনাদের জনপ্রতিনিধিদের বলুন । আমরা একটা আইন বানাই যেখানে এমপি মন্ত্রীরা কেউ বিয়ে করতে পারবে না কাউকে পছন্দ করতে পারবে না। ঠিক আছে বানাবো এমন আইন ? তাই কি চান ? বলুন তাই কি চান ?

সেই সাংবাদিক মিন মিন করে বলল

-জি না !

-তাললে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা বন্ধ করুন ! আমার ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগতই রাখতে দিন । যে ছবিটা ফেসবুকে ছাড়া হয়েছে সেটা যে তুলেছে তাকে আমি খুজতেছি । অন্যের ছবি লুকিয়ে তোলা অন্যায় এবং সেটা পাব্লিক্যারি প্রকাশ করাও অন্যায় । ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন আপনারা !

দৈনিক দ্বিতীয় আলোর একজন সিনিয়ির সাংবাদিক উঠে দাড়ালো । ম্যাডাম রাগ করবেন না । আসলে আমাদের মাঝে সাংবাদিকতার জ্ঞানে অবাব আছে এটা আমরা সবাই জানি । আসলে সিস্টেমটাই এমন হয়ে গেছে ।

-হ্যা সব দোষ এখন সিস্টেমের ! এটা বলেই সবাই খালাশ পেয়ে যায় । কেউ এগিয়ে এসে সেটা ঠিক করার কথা চিন্তা করে না ।

-কিন্তু আপনি করছেন । এই জন্য দেশের সব মানুষ আপনাকে খুব বেশি পরিমান পছন্দ করে । আপনার ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহী ! আমরা আসলে আপনার দিকেই চেয়ে আছি । আপনি যখন চাইবেন তখনই বলবেন । এটাই আমাদের কাম্য ! তবে দেশের মানুষ এখন সত্যিই আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে । যদি আপনার কোন রকম আপত্তি না থাকে তাহলে বলতে পারেন তার ব্যাপারে ।

নিকিতা খানিকটা হাসলো । তারপর বলল

-রমুন সাহেব আপনি খুবই বুদ্ধিমান । দেশের উপর হামলার সংবাদ থেকেও যখন মানুষ আমার বৃষ্টিতে ভেজার গল্প শুনতেই বেশি আগ্রহী তখন বলি —– হ্যা সেদিন একজনের সাথে আমি বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম । গাড়িতে করে যাচ্ছিলাম এক সাথে বৃষ্টি নামলো কি মনে হল নেমে পরলাম । তাকে আমার পছন্দ । তারও তাই । খুব জলদিই সম্ভবত পারিবারিক ভাবে কিছু হবে । চেষ্টা করবো এটা পরিবারের ভেতরেই রাখতে । আর কিছু জানতে চান ?

-যদি তার পরিচয় টা জানাতেন !

-দেখুন আমি পাব্লিক ফিগার । সে না । সে শান্তিপ্রিয় মানুষ । তাকে সেই রকম ভাবেই থাকতে দিন । আমি তার পরিচয় দিতে চাই না কারন সেটা দেওয়ার সাথে সাথে আপনারা গিয়ে হাজির হবে তার কাছে । এটা আমি পছন্দ করবো না । আরেকটা কথা যদি তবুও আপনাদের মাঝে কেউ তার পরিচয় জেনেও ফেলেন এবং তাকে গিয়ে বিরক্ত করেন তাহলে আমি ব্যাপারটা পছন্দ করবো না !

শেষের লাইনটা যে নিকিতা সবাইকে হুমকি দিল সেটা বুঝতে কষ্ট হল না । ব্যাপারটা এই ভাবে মিটে যাবে ভাবি নি । নিকিতার এই ভাবে বলাতে অন্য কারো কিছু বলারই রইলো না । যদিও বিরোধী পক্ষের কেউ বলার চেষ্টা করলো যে এই ভাবে একজন মন্ত্রী প্রকাশ্যে বৃষ্টিতে ভিজতে পারেন না কিন্তু সেসব কথা হালে পানি পেলো না ।

এরফলে আরেকটা কাজ হল । আগে থেকে ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে নিকিতা তুমুল জনপ্রিয় ছিল । এই ঘটনার ফলে সেটা আরও বৃদ্ধি পেয়ে গেল । একে তো নিকিতা ছিল সব থেকে ইয়াং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তারপর তার কাজ কর্ম একদম পরিস্কার । সে কাউকেই ছাড় দিয়ে কাজ করে না । নিকিতার ক্ষমতায় আসার পরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ইমেজ অনেক ঊন্নতি হয়েছে । আর এখন তারা তাদের পছন্দের মন্ত্রী প্রেমও করে এবং সেটা বলতে দ্বিধাও বোধ করে না !

কিন্তু কদিন পরে ও যা করলো সেটা আমি কোন দিন কল্পনা করি নি । নিকিতা যে এমন কিছু করতে পারে সেটা আসলেই আমার ধানার বাইরে ছিল । কেবল আমার কেন অন্য কারো মনেই এমন কথা আসে নি । নিকিতার মত পদে থাকা কেউ যে এমন একটা কাজ করতে পারে সেটা এই দেশের ইতিহাসে এই প্রথম ।

পরের পর্ব

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 3

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

One thought on “মাই ডিয়ার হোম মিনিস্টার (পর্ব ০৯)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *