0
(0)

মুভিটার নাম দ্য সৌল ।
তাইওয়ানের মুভি । চাইনিজ কোরিয়ান মুভি দেখার সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে আমি কোন ভাবেই এখানে চরিত্রগুলোর নাম মন রাখতে পারি না । বারবার উল্টেপাল্টে যায় । তাই সেদিনে না যাই । মুভির কাহিনী বলি । মুভিটাতে একই সাথে খানিকটা ভৌতিক আবহ দেওয়া হয়েছে । সেই সাথে দেওয়া হয়েছে খানিকটা সায়েন্স ফিকশন আবহ ।

মুভির কাহিনী শুরু হয় এক বিখ্যাত কোম্পানীর সিইওয়ের খুনের মাধ্যমে । পুলিশ এসওএস কল পেয়ে তার বাড়ি গিয়ে হাজির হয় । এবং সেখানে দেখতে পায় সিইও সাহেবের মাথা একটা লোহার জাতীয় অস্ত্র দিয়ে থেতলে ফেলা হয়েছে । সেই অস্ত্রটা ধরে তার পাশে তার ২য় স্ত্রী পরে আছে অজ্ঞান হয়ে । পুলিশ তাকে নিয়ে যায় স্টেশনে । সেখানে তার স্টেটমেন্ট অনুযায়ী জানা যায় যে সেদিন রাতে আসলে তার ঘুম আসছিলো না । সে কিছু সময়ে বারান্দায় ঘুরাঘুরি করে নিজের রুমের দিকে যাওয়ার সময়ে দেখে তার স্বামীর ঘর থেকে আওয়াজ ভেসে আসছে । সে তার অসুস্থ স্বামীর ঘরের সামনে যেতেই খেয়াল সেখানে অদ্ভুত কিছু চিহ্ন আকা রয়েছে দরজাতে । ভেতর থেকে বিদ্ঘুটে কিছু গন্ধ আসছে । দরজা খুলে ভেতরে ঢুকেই দেখে যে তার স্বামীর আগের পক্ষের ছেলে কোন অদ্ভুত রিচ্যুয়াল করছে তার অসুস্থ স্বামীকে ঘিরে । এক সময়ে স্বামী পুলিশে ফোন করে এবং সেই সময়ে ছেলে ক্ষেপে গিয়ে হাতের সেই লোহার অস্ত্র দিয়ে নিজের বাবাকে আঘাত করতে করতে মেরে ফেলে । পরে কাজের লোকের কাছ থেকে স্টেটমেন্ট নিয়ে জানা যায় যে স্ত্রী যা বলছে সেটা এই বক্তব্যকে সমর্থন করে ।

কেস ইনভেস্টিগেট করার জন্য যে প্রোসিকিউটর নিয়গ দেওয়া হয় সেই মূলত প্রধান চরিত্র । তার বউ হচ্ছে পুলিশ অফিসার । দুজন মিলে কেস স্টাডি চলে । সেই ছেলেকে পাকড়াও করা হয় এবং ছেলে কনফেস করে যে তার বাবাকে সেই মেরেছে । এছাড়া কেস চলাকানীন সময়ে জানা যায় যে তার প্রথম স্ত্রী ডিপ্রেশনের কারণে সুইসাইড করেছিলো বছর খানেক আগে । এবং তার ছেলে তার বাবাকে এর জন্য দায়ী মনে করে । মোটিভ পরিস্কার । এছাড়া তার প্রথম স্ত্রী মরার আগে নানান রিচ্যুয়াল করতো যাতে তার আত্মা এই পৃথিবীতে আটকে থাকে । এভাবে একজনের দেহে অন্য জনের দেহে আত্মা প্রতিস্থাপিত করা যায় । যখন ছেলেটা নিজের দোষ কনফেস করে তখন হঠাৎ ২য় স্ত্রী এমন আচরন করে যেন সেই হচ্ছে তার আসল মা । আমাদের দেশে যেমন জ্বীনে ধরার ব্যাপারটা আছে সেই রকম । সে তার ছেলেকে বলে যে তার বাবাকে মেরে সে একদম সঠিক কাজ করেছে । তারপর অজ্ঞান হয়ে যায় ।

গল্পের এই পর্যন্ত মনে হবে যে এটা একটা ভুতের গল্পই । কিন্তু এরপর থেকে কাহিনী অন্য দিকে মোড় নেয় । আত্মা ঠিকই একজনের দেহ থেকে অন্য জনের দেহে প্রতিস্থাপন করা হয় তবে সেটা রিচু্য়্যালের মাধ্যমে নয়, প্রযুক্তির মাধ্যমে । এবার শুরু হয় সায়েন্স ফিকশন । কিভাবে মরলো এবং তার থেকেও বড় প্রশ্ন কেন মরতে হল তাকে সেটা পরিস্কার হয়ে ওঠে শেষের দিকে । এবং একেবার শেষটা আমার বেশ চমৎকার লেগেছে । আমি যা ভেবে শুরু করেছিলাম বলা যায় কাহিনী একেবারেই অন্য দিকে গিয়েছে ।

মুভি দেখতে পারেন । দুই ঘন্টার কাছাকাছি সময়ের মুভি তবে বাড়তি অপ্রয়োজনীয় কিছু নেই । সময় ভাল কাটবে আশা করি । নেটফ্লিক্স কিংবা টরেন্ট থেকে নামিয়ে দেখতে পারেন ।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *