4.8
(32)

বারবার ফোনের দিকে চোখ চলে যাচ্ছে রিমির । ফোনটা হাতে চেপে ধরে রয়েছে । ব্যাগের ভেতরে ফোন থাকলে, কেউ রিং দিলে বোঝা যায় না । বাসা থেকে যখন ফোন আসে তখন যদি রিমি সময় মত না ধরে তাহলে রিমির মায়ের প্রেসার উঠে যায় । রিমির মায়ের এখনও ধারণা যে মেয়েরা বাইরে বের হলেই বুঝি তাদের কোন ক্ষতি হয়ে গেল । তাই সময়ে সময়ে তার ফোন করে খোজ নেওয়া তার চাই ই ।

আজকে তিন ঘ্ন্টা হয়ে গেছে ফোনটা একবারও বাজে নি । রিমি খুব ভাল করে জানে ওর মা আরও আধা ঘন্টা পর থেকে ফোন দেওয়া শুরু করবে । মায়ের হিসাব মত রিমি এখনও পরীক্ষার হলে পরীক্ষা দিচ্ছে । এই সময়ে ফোন দিয়েও লাভ নেই । কিন্তু যখন আধা ঘন্টা পরে ফোন দিয়ে ওকে ফোনে পাবে না তখন ওর মায়ের মনের অবস্থা কেমন হবে?
কথাটা ভাবতেই রিমির চোখে পানি চলে এল । বারবার মায়ের অস্থির চেহারাটা মনে হতে লাগলো ।
কাজটা কি সে ঠিক করছে?
এভাবে সবাইকে ছেড়ে, পরিচিত সব মানুষকে ছেড়ে এমন একজনের কাছে চলে যাচ্ছে যাকে সে একটাবারের জন্য সরাসরি দেখেও নি । সেই মানুষটার কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা কি ঠিক হচ্ছে ?

রিমি ডান পাশের জানালার দিকে তাকালো । বাসটা দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে । হানিফের ভলবো বাস । ঠান্ঠা লাগছে একটু । এসির জোরটা যেন একটু বেশিই মনে হচ্ছে ! অবশ্য ও এক কাপড়ে চলে এসেছে । সাথে কলেজে যাওয়ার ব্যাগে খুব সামান্য টুকিটাকি কিছু জিনিস । কোন কাপড় সাথে আনে নি সে । হাতে জমানো যা টাকা ছিল কেবল সেটা নিয়ে এসেছে । আর কিছু না ।

আচ্ছা যদি এমন হয় যে ঢাকাতে গিয়ে দেখলো শিহাব বাসস্ট্যান্ডে দাড়িয়ে নেই, তখন ? বাসে ওঠার আগে ওকে একটা ফোন দিয়েছিলো । বলেছিলো যে ফোন বন্ধ থাকবে । নয়তো বাসার লোকজন ফোন করতে থাকবে । শিহাব অবশ্য বলেছিলো যে অন্য কোন সীম ব্যবহার করতে । কিন্তু সমস্যা হচ্ছে রিমির কাছে অন্য কোন সীম নেই । যে দুইটা সীম রয়েছে সেগুলোর সবই বাসায় জানে । কোন দিন আলাদা গোপন সীম ব্যবহার করার কথা মনেই আসে নি, দরকারও পড়ে নি কোনদিন । নিজের পরিবারের কাছে কোন দিন কোন কিছু লুকায় নি সে । তাই হয়তো রিমির বাবা শিহাবের ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরেছিলো খুব ভাল ভাবেই ।

রক্ষনশীল বাবার কাছে এই ব্যাপারটা কোন ভাবেই ঠিক গ্রহন যোগ্য হয় নি । মেয়ে অন্য কোন ছেলের সাথে প্রেম করবে সেটা সে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেন নি । তাই তো তাড়াহুড়া করেই বিয়েটা ঠিক হয়েছিলো । রিমির আসলে না করার কোন উপায় ছিল না । ছেলে ইঞ্জিনিয়ার তাও আবার বিসিএস ক্যাডার । গুণে মানে সব দিক দিয়ে ভাল ।

প্রথম যেদিন হবু বরের সাথে রিমি দেখা করতে গেল, সেদিনই মনে হয়েছিলো যে সর্বনাশ একটা হয়ে গেছে । ছেলের কথা বার্তা আর তাকানোর ধরণ দেখেই রিমির মনে হয়েছিলো রিমিকে তার পছন্দ হয়েছে । বাসায় গিয়ে হ্যা বলে দিবেই । সত্যিই হল তাই । বাসায় ফিরে যেতে না যেতেই লক্ষ্য করলো যে বাসার সবার মুখ হাসিহাসি । বিশেষ করে ওর মা যেন আনন্দে ঝলমল করছেন । প্রতিটি বাঙালি মায়েরাই বুঝি এমন । মেয়ের ভাল একটা বিয়ে ঠিক হলে তাদের আসলে আর কিছু চাওয়ার থাকে না ।

রিমি কী করবে কিছুই বুঝতে পারছিলো না । কয়েকবার ভেবেছিলো যে বাবাকে শিহাবের কথা বলবে কি না । কিন্তু ওর বাবাকে সে খুব ভাল করেই চেনে । আর শিহাবের একটা অতীত রয়েছে । সেটা জানার পরে রিমির বাবা কোন দিনই মেনে নিবে না, এটা রিমি খুব ভাল করেই জানে । রিমিই যখন প্রথম জানতে পারে ওর নিজের কাছেই কষ্ট হচ্ছিলো ব্যাপারটা মানতে । একবার ভেবেছিলো যে সব কিছু শেষ করে দিবে । এমন কিছুই হয় নি তখনও । কিন্তু দুদিন কথা না বলার পর বুঝতে পারলো ওর পক্ষে ঐ মানুষটার সাথে কথা না বলে থাকাটা কোন ভাবেই সম্ভব না । কিভাবে যে মানুষটার প্রেমে এভাবে পড়লো সেটা রিমি নিজেও জানে না ।

মনে হয় এই তো সেদিন ব্লগে তার লেখা একটা কবিতা পরলো । কথা গুলো এতো মনে এসে বিঁধলো । মন্তব্য তারপর প্রতিমন্তব্য থেকে পরিচয় । ফেসবুক থেকে ফোনে কথা শুরু । তারপর যেন জীবনের সাথে শিহাব নামটা একেবারে জড়িয়ে গেল । কিছুতেই নামটাকে, নামের মানুষটাকে সে এড়িয়ে যেতে পারলো না । কিন্তু আবার শিহাবের সেই অতীতটাকেও মেনে নিতে পারছিলো না যেন । সব মিলিয়ে নিজেকে একটা মেশামাল অবস্থায় খুজে পেল সে । পরিবর্তনটা আর কারো চোখে না পড়লেও রিমির বাবার চোখে পড়েছিলো ঠিকই । তার বুঝতে কষ্ট হয় নি মেয়ের কী হয়েছে । দেরি না করে মেয়ের বিয়ে ঠিক করলেন ।

রিমির যে পড়াশুনা ব্যাপারটা কত পছন্দ সেটাও রিমির বাবা খুব ভাল করে জানতেন । তিনি জানতেন যে যত যাই হোক তার মেয়ে কখনও পড়াশুনা পরীক্ষা বাদ দিবে না । রিমির বিয়েটা তাই ঠিক হল একদম পরীক্ষার মাঝে । শেষ দুইটা পরীক্ষার আগে একটা সাত দিনের ছুটি ছিল সেটার মাঝেই ছোট করে বিয়ে ঠিক হল । রিমি তো অন্য দিক দিয়ে আপত্তি করতে পারে নি, কেবল বলেছিলো যে পরীক্ষা শেষ হোক তারপর বিয়ে । কিন্তু সেটা ঢোপে টেকে নি । ছোট করে বিয়ের অনুষ্ঠান । টুপ করে হয়ে যাবে, এই ছিল যুক্তি ।

কিন্তু রিমির বাবা হয়তো কখনও বিশ্বাসই করতে পারেন নি তার মেয়ে পরীক্ষা না দিয়েই চলে যাবে । শিহাব ওকে জোর করে নি । কেবল যখন বিয়ের কথা শুনলো, শিহাবের কন্ঠটা কেমন যেন হয়ে গিয়েছিলো । গলার স্বরটা রিমির কানে এমন ভাবে বাঁজতে শুরু করলো সে তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল যে শিহাবের কাছেই যাবে সে । সব কিছু ফেলে তাকেই বেঁছে নেবে !
যদি সিদ্ধান্ত ভুল হয়, হোক, তবুও !

বাসটা যখন সাভার বাসস্ট্যান্ডে এসে থামলো তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেলে হয়ে গেছে । অচেনা জায়গায় পা দিয়ে রিমি এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো । এর আগে কয়েকবার ঢাকা আসা হয়েছে । তবে প্রতিবারই সাথে হয় বাবা নয়তো অন্য কেউ ছিল । ওকে কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হয় নি । কিছু সময় সে চুপচাপ তাকিয়ে রইলো সামনের দিকে । আসলে এখন সে কী করবে সেটা তার মাথায় আসছে না । আসার কথাও না ।

আজকে একা একা সে এতো বড় একটা কাজ করে ফেলেছে সেটা যেন এখনও তার ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না । আজ থেকে সব কিছু বদলে যাবে । সব কিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে । তার জীবন আর কোন ভাবেই আগের মত থাকবে না । সব কিছু বদলে যাবে । কিন্তু যেমনটা ও ভেবে এসেছে পরিবর্তনটা কি তেমন হবে নাকি অন্য রকম হবে? রিমি জানে না ।

ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করলো । এখনও বন্ধ হয়েই রয়েছে । রিমি জানে ফোনটা চালু করার সাথে সাথেই কল আসা শুরু করবে । এতো সময়ে ওর বাসায় একটা হুলস্থুল অবস্থা পড়ে গিয়েছে । রিমি যে আজকে পরীক্ষা দিতে যায় নি সেটা নিয়ে ওর বন্ধুদের কেউ না কেউ ঠিকই বাসায় যাবে । আর তখনই শুরু হবে খোজ । এই জন্য রিমি কাউকে এই চলে আসার ব্যাপারটা বলে নি । এমন কি সব থেকে কাছের বান্ধবী শিলাকেও না ।

ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই অনুভব করলো একটা মানুষ ওর সামনে এসে দাড়িয়েছে । রিমির পা দুটো কেমন যেন অবশ হয়ে এল । তার দিকে না তাকিয়েই বুঝতে পারছে মানুষটা কে !
নিজের অনুভূতির কাছে নিজেই কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেল । এর আগে শিহাবের সাথে ওর সরাসরি দেখা হয় নি কোনদিন । ভিডিও কলে কয়েকবার কথা বলেছে ওরা । বেশির ভাগ সময়েই ওরা ফোনেই কথা বলতো কিন্তু রিমির কাছে শিহাবের শরীরের গন্ধটা কেমন যেন পরিচিত মনে হল । মনে হল যেন কতদিন ধরে এই মানুষটাকে সে চেনে । চোখ তুলে যখন তাকালো তখন শিহাবের চোখের দিকে তাকিয়েই আবারও যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেল । এই চোখের মাঝেই সে হারিয়েছে । এখনও সেই অনুভূতিটা কী তীব্র আর তরতাজা !

শিহাব বলল, আসতে কষ্ট হয় নি কোন ?
রিমি মুখ খুলল বটে তবে কোন কথা যেন বের হল না । কেবল মাথা ঝাকালো । কি বলতে চাইলো সেটা সে নিজেই জানে না, আর শিহাব কি বুঝলো সেটাও সে জানে না । শিহাব ওর কাধের ব্যাগটা নিতে চাইলো, রিমি দিলো না । বড় কোন ব্যাগ নেই ওর সাথে । কেবল ছোট একটা কলেজ যাওয়ার ব্যাগ । সেটা সে কাধেই নিতে পারবে ।

শিহাব বলল, আমার বাসা কাছেই । আগে ওখানে চল । একটু ফ্রেশ হয়ে সন্ধ্যার দিকে কাজী অফিসে যাবো ।

কাজী অফিস কথাটা শুনতেই বুকের ভেতরে কেমন যে একটা অনুভূতির সৃষ্টি হল ।
বিয়ে !
ওর আজকে বিয়ে !

রিমি কি কোন দিন ভেবেছিলো এভাবে একা একা বিয়ে বাবা মাকে ছেড়ে বিয়ে করবে ! এমন করে কি কেউ কোন ভাবে ? কিন্তু মানুষ ভাবে এক আর তার সাথে হয় আরেক । রিমির সাথেও হচ্ছে অন্য রকম ! এমনটা সে কোন দিন ভাবে নি । সে চেয়েছিলো জীবনের এই সব থেকে চমৎকার সময়টাতে তার পরিবারের মানুষ গুলো থাকবে । সবার সাথে এই আনন্দ গুলো ভাগ করে নিবে সে । কিন্তু এখানে এই অচেনা পরিবেসে সে চলে এসেছে !

-রিমি?
-হুম !
-এখনও দেরি হয়ে যায় নি কিন্তু !

কথাটা বলতে গিয়ে শিহাবের কন্ঠটা যে কেঁপে উঠলো সেটা রিমি খুব ভাল করেই খেয়াল করলো । রিমির যে পরিবারকে ছেড়ে আসতে কষ্ট হচ্ছে এটা শিহাব খুব ভাল করেই উপলব্ধি করতে পারছে । যতই রিমির নিজের সিদ্ধান্ত হোক শিহাব খুব ভাল করেই জানে এই সিদ্ধান্তের সাথে সে আগাগোড়া ভাল ভাবে জড়িয়ে রয়েছে । বলা যায় যে সেই হচ্ছে মূল কারণ । রিমির এই কষ্টের মূল কারণ শিহাব নিজেই । সেই থেকেই কথাটা বলা । নিজের অপরাধবোধ থেকে মুক্তির একটা বৃথা চেষ্টা আর কি !

রিমি মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল, তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি না বুঝেছো ! এতো সহজে আমি তোমার পিছু ছাড়ছি না ।
শিহাব হাসলো । তারপরই রিমির হাত ধরে হাটতে শুরু করলো । শিহাবের হাত ধরার সাথে সাথেই রিমির পুরো শরীরটা যেন কেঁপে উঠলো । একেবারে আস্তো একটা ছুড়ি এসে যেন বিধলো ওর বুকে । তখনই ওর মন থেকে অন্য সব কিছু হারিয়ে গেল মুহুর্তেই । শিহাব হাটতে হাটতে কী যেন বলতে শুরু করলো । তবে রিমির সেই দিকে খেয়াল নেই মোটেই । সে কেবল অনুভব করছে শিহাবের স্পর্শ ! একটা মানুষ অন্য আরেকটা মানুষকে কী পরিমান অনূভব করলে সামান্য এই স্পর্শে এমন অনুভূতি হতে পারে ! রিমির মনে হল যে চারিপাশে আসলে কিছু নেই । এই গাড়ির কোলাহল, চিৎকার কিছুই যেন রিমির কানে যাচ্ছে না । কেবল রিমি নিজে রয়েছে আর রয়েছে শিহাব । দুজন হেটে যাচ্ছে অনন্ত কোন গন্তব্যের দিকে ।

একটু সামনে গিয়েই শিহাব রিক্সা নিল । রিক্সাতে ওঠার সময়ে রিমির হাত ছাড়তে হল । যখন রিক্সা চলতে শুরু করলো তখন রিমি এগিয়ে গিয়ে শিহাবের হাতটা ধরলো । হাত ধরতে একটু লজ্জাবোধ করছিলো বটে । শিহাব কত সহজ ভাবে একটু আগে ওর হাত ধরেছিলো । রিমিও যদি পারতো । শিহাব বলল, ঘর একটু অগোছালো আছে বুঝলে ! তুমি বিরক্ত হও না কেমন !

রিমি তখনও কেন জানি শিহাবের কথা শুনছে না । ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে । ওর চোখ দুটো কী গভীর ! কি যেন একটা বিষাদ রয়েছে সেখানে। হঠাৎ রিমি বলল, শিহাব,
কথা থামিয়ে শিহাব বলল, বল…
একটু সময় চুপ করে রইলো । তারপর ধরা হাতের দিকে ইঙ্গিত করে বলল, এই যে তোমার হাতরা ধরেছি, সব কিছু ছিন্ন করে । বুঝছো?

রিমির কন্ঠের গাম্ভীর্যের কারণে শিহাব যেন একটু ভড়কে গেল । একভাবে তাকিয়ে রইলো রিমির দিকে । রিমি আবার বলল, নতুন জীবনে পা দিতে চলেছি আমরা দুজন । তোমার এই হাত আমি আমার বাকি জীবন টুকু ধরে রাখতে চাই সব কিছু বিনিময়ে হলেও । তুমি এমন কোন কাজ করো না যাতে আমাকে এই হাত ছেড়ে দিতে হয় ! মনে থাকবে?
-হুম ।
এই বলে শিহাব অন্য হাত টা দিয়ে রিমির ধরে থাকার হাতের উপরে রাখলো । তারপর আলতো করে মুখটা হাতের উপর ছোঁয়ালো । বলল, আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ আমি কোন দিন তোমাকে দিবো না !

রিক্সার একটা চাকা ঠিক এই সময়ে গর্তে পড়লো । একটু যেন কেঁপে উঠলো রিমি । তবে তখনই লক্ষ্য করলো শিহাব শক্ত ভাবে ওর হাতটা ধরে রয়েছে । ওকে কোন ভাবেই পড়ে যেতে দিবে না !

এই গল্পে আসলে এখানে শেষ না । বলা চলে রিমি আর শিহাবের গল্প শুরু হল এখান থেকে । আরও কয়েকটা পর্ব লিখবো পরে ।

আজকে ১৯শে মার্চ, গল্পের রিমির জন্মদিন । যদি বাস্তবে তার নাম রিমি না । নামে মিল না থাকলেও রিমি আর শিহাব সত্যিই বাস্তবে রয়েছে যাদের জীবন থেকেই এই গল্পের উৎপত্তি । শুভ জন্মদিন আফাকে ! কামনা করি আমার গল্পের মত তাদের জীবন ভালোবাসায় পরিপূর্ন থাকুক আজীবন !

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.8 / 5. Vote count: 32

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *