4.8
(33)

তৃষার দিকে তাকিয়ে সোহানা বলল, তোর জামাইএতো চুপচাপ! মাই গড! এতো শান্ত জামাই নিয়ে তুই টিকে আসিছ কিভাবে শুনি?
তৃষা ওর বন্ধুর কথা শুনে হাসলো । ওর চোখ চলে গেছে অপুর দিকে । সোহানাদের বাড়ির পেছনটা বেশ বড়, আর ফাঁকা । সেখানেই মুল পার্টিটা হচ্ছে । বেশ কিছু পরিচিত মানুষ জন এসেছে । পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা সাক্ষাত হচ্ছে। এছাড়া সোহানার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তো আছেই । অপুকে সে দেখতে পেল এক কোনে চুপচাপ বসে আছে খাবারের প্লেট নিয়ে । বুফের আয়োজন করা হয়েছে । নিজেরা নিজেদের মত নিয়ে নিচ্ছে খাবার । তারপর পুরো লন জুড়ে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে খেতে খেতে গল্প করছে । অপু বসে আছে একা । মানুষ জনের ভীড় ওর ভালো লাগে না । এখানে খুব একটা মানুষকে সে চিনেও না ।

সোহানার দিকে আবার চোখ ফিরিয়ে নিয়ে তৃষা বলল, অপু আর চুপচাপ !
-নয়তো কী?
-শোন ও অন্য মানুষের সামনে চুপচাপ ! মানুষজন ঠিক পছন্দ না ওর । মেশে কম । এই জন্য ওর যত কথা সব আমার সাথে । মাঝে মাঝে ও এতো বেশি কথা বলে যে আমাকে কানে বালিশ চাপা দিতে হয় । ধকম দিয়ে বলতে হয়, চুপ করতো ! এতো কথা বলতে পারো !
-যাহ ! গুল মারছিস ?
-তোর মনে হচ্ছে আমি গুল মারি !

সোহানা আর কথা বাড়ালো না । সে খুব ভাল করেই জানে তার এই বন্ধুটি মোটেও গুল মারার দলে পড়ে না । তৃষার দিকে চোখ যেতে সে থেমে গেল । তৃষা একভাবে সামনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে । একটু আগেও অপু একটা বসে ছিল এখন সেখানে একটা মেয়ে এসে দাড়িয়েছে !
-ঐ মেয়েটা কে রে?
সোহানা অপুর দিকে তাকালো । তারপরই বলল, এই ডাইনিটা আবার !
-মানে?
-আরে শফিকের কেমন বোন হয় ! এমন ছোক ছোক স্বভাব ! পুরুষ মানুষ দেখলেই হল । গায়ে পড়ে এমন ভাবে আলাপ শুরু করে ! আমি ডুই চোক্ষে দেখতে পারি না । কেবল শফিকের জন্য কিছু বলতে পারি না !

তৃষার সাথে মেয়েটার একটু আগেই দেখা হয়েছে । অপু তখন সাথেই ছিল । অপুর এই রকম পার্টি মোটেই ভাল লাগে না সে জানে । খুব একটা পার্টিতে তাই সে অপুকে নিয়ে আসে না । কিন্তু আজকে নিয়ে এসেছে । সোহানা অনেক দিনের বন্ধু ওর । সোহানার বিয়েতে তৃষা আসতে পারে নি । তখন ও দেশের বাইরে ছিল জরুরী কাজে । তাই প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে আর মিস করে নি । অপুকেও নিয়ে এসেছে তাই ।

একটু পার্টিতে থেকেই অপু হাফিয়ে উঠেছিলো । চোখের ইশারাতে বারবার বলছিলো চলে যেতে । শেষে না পেরে লন ছেড়ে ওকে ঘরের ভেতরে নিয়ে গেল । ওর দিকে ভেতরে নিয়ে গেল। অপুর দিকে তাকিয়ে বলল, তুই কি বাচ্চা ? এমন কেন করছো শুনি?
-আমার ভালো লাগছে না ।
অপুর যে ভাল লাগছে না সেটা তৃষা ওর চেহারা দেখেই বুঝতে পারছে । এদিকে বন্ধুকেও সময় দিতে হবে । নয়তো সে মন খারাপ করবে । অপুকে এখন সামলানোর একটা চমৎকার বুদ্ধি আছে । তৃষা ঘরের ভেতরে একবার তাকিয়ে দেখলো । এদিকে কেউ নেই । তৃষা অপুর ঠোঁটে একটা গাঢ় চুমু খেল । এই অস্ত্রটা সব সময় কাজে দেয় । যে কোন ব্যাপারেই অপুকে একটা চুমু খেলেও সে চুপ । এটা দিয়ে ওকে শান্ত করা যায় ! অপু তৃষার আরও একটু কাছে চলে এল । তারপর বলল, আর একটা !
-জি না জনাব ! যে কেউ চলে আসবে !
-আসুক ! আমার বউ ! আমি চুমু খাবো কার কি !
তৃষা অপুর গালে আরেকটা চুমু খেল । তারপর বলল, বাচ্চামী করো লক্ষী সোনা আমার । আরও কিছু সময় থাকতে হবে ।
-আচ্ছা । দুই ঘন্টা । এর বেশি না কিন্তু ।
-এসব কি সময় ধরে হয় ! আচ্ছা বাবা আমি দেখছি যত দ্রুত বের হওয়া যায় !
অপুকে আরও একটা চুমু খেতে যাবে তখনই বারান্দার দিকে চোখ গেল । দেখতে পেল মেয়েটাকে । ওদের দিকে তাকিয়ে আছে । তৃষার চোখ পড়তেই সরে গেল । এতো সময় মেয়েটা বারান্দাতেই ছিল । তৃষা যদিও কিছু বলল না । অপুকে নিয়ে বের হয়ে এল ঘর থেকে ।

তৃষা তীক্ষ চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে । অপু নিজ মনে খেয়ে যাচ্ছিলো মেয়েটা এসে হাজির হল । তারপর নিজ থেকেই কথা বলতে শুরু করলো । অপুর চেহারার দিকে খেয়াল করতেই বুঝতে পারলো যে অপু খানিকটা বিরক্ত হচ্ছে । অপুর প্রতিটা প্রতিক্রিয়া তৃষা ভাল করে চেনে । এক সময়ে অপু আসন থেকে উঠে গেল। মেয়েটাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য । প্লেট টা টেবিলে রেখে তৃষার দিকে তাকালো । অপুর চেহারাটা কেমন বিরক্তিতে ভরে উঠেছে । মেয়েটা নিশ্চত ভাবে কিছু বলেছে । ওর দিকে ইশারা করে বলল, সে ঘরের ভেতরে যাচ্ছে ।

তৃষার মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল । অপুকে মেয়েটা কি এমন বলল যে অপু একদম উঠে গেল জায়গা থেকে । অন্য কোন দিকে মন দিতে পারলো না । কিন্তু যখন মেয়েটাকেও দেখতে পেল ঘরের দিকে হাটা দিচ্ছে তখন খানিকটা বিরক্ত না হয়ে পারলো না । কী মনে করে উঠে দাড়ালো সেও । তারপর হাটতে শুরু করলো মেয়েটার পেছন পেছন ।

ঘরের ভেতরে ঢুকতে দেখলো মেয়েটাকে তৃষা দরজার কাছে গিয়ে দাড়ালো । অপুর চড়া গলা শুনতে পেল সাথে সাথেই !
কী ব্যাপার ! আপনি এখানে কেন !
আহ রেগে যাচ্ছেন ! আমি কী এমন বললাম?
আপনি যাই বলেন না কেন আপনি যা বলেছেন সেটা শুনতে আমি আগ্রহী না । প্লিজ বের হয়ে যান ।
যদি না যাই, চিৎকারে বলি যে আপনি আমার সাথে জবরদস্তি করছেন ! আপনার বউ তখন বিশ্বাস করবে আপনাকে !
করবে ! আপনি যাবেন না আমি যাচ্ছি !
যাবেন না । আমি কিন্তু সত্যিই চিৎকার করবো !

রাগে তৃষার শরীর কেঁপে উঠলো । দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো পড়লো সে । দেখতে পেল অপু বারান্দার দরজার কাছে দাড়িয়ে । মেয়েটা দাড়িয়ে রয়েছে একটু দুরে । মেয়েটা ওকে দেখে খানিকটা চমকে গেল । অপু ওর দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে । তৃষা সোজা মেয়েটার সামনে গিয়ে হাজির হল । তারপর সোজাসুজি চুল ধরে একটা ঝাকি দিল !
মেয়েটা এতোই অবাক হয়েছে যে মুখ দিয়ে শব্দ বের হল না ।
তৃষা তীব্র কন্ঠে বলল, এতো বড় সাহস তোর ! আমার অপুর দিকে নজর দিস ! তুই আমাকে চিনিস ?
এই বলে এক চড় বসিয়ে দিল গালে । মেয়েটা খানিকটা ঘুড়ে গিয়ে পড়লো বিছানাতে । তৃষা আরও কিছু করতে যেত তবে অপু সামনে চলে এল । বলল, আরে কর কি?
-ছাড়ো আমাকে !
-আরে বাবা শান্তি শান্তি ।
-এই মেয়েকে আমি পুলিশে দেব । ও আমাকে চেনে !

অপু ওকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করলো বেশ কিছু সময় । তটক্ষণে মেয়েটা উঠে পালিয়ে গেছে । সে আসলে ভাবতেই পারে নি এমন কিছু হবে । আধা ঘন্টা পরে তৃষাকে নিয়ে বের হয়ে এল অপু । পুরো লনে খুজে দেখলো মেয়েটা নেই । সোহানা এগিয়ে এল ওদের দিকে । বলল, ঘরের ভেতরে কি করছিলি এতো সময়?
অপু একটু হেসে বলল, তোমার বান্ধবী যে কী করছিলো সেটা যদি দেখতে !
তৃষা কড়া কন্ঠে বলল, এই চুপ । সেই বদমাইশটা কই ?
সোহানা বলল, কে?
-ঐ ডাইনি টা !
-ও । কি জানি দেখলাম দ্রুত চলে যেতে । কি রকম পালিয়ে গেল যেন !
-ওকে আমার সামনে পড়তে মানা করবি এরপর থেকে । আমার সামনে যদি আসলে তাহলে ওর কপালে খারাবি আছে !

সোহানা কিছুই বুঝতে পারছিলো না । অপুর দিকে তাকিয়ে দেখলো যে অপু হাসি চাপার চেষ্টা করছে । আর তৃষা অগ্নিশর্মা হয়ে রয়েছে । কি হল এই সময়ের ভেতরে !

সোহানা যখন পুরো ঘটনা শুনলো হাসিতে ফেটে পড়ল । ওর আগেই বোঝা দরকার ছিল । তৃষা যা রাগি, এমন কাজ যে করতেই পারে সেটা আগেই বোঝা দরকার ছিল । ঐ মেয়েকে বরং সাবধান করা দরকার ছিল !

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.8 / 5. Vote count: 33

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

2 thoughts on “তৃষার কাণ্ড

  1. vaiya ami apner golpo golor akjon regular pathok. Apnar some where in blog ar sobgolo golopo pora hoyeche .. Apner kichu golopo password protected . Segolo kivabe pora jabe , seta ki bola jabe ?
    Thanks…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *