নুশরা অথবা একটি মিথ্যে ভালোবাসার গল্প

4.8
(38)

-আপনার বন্ধুটি কোথায়?

আমার প্রশ্ন শুনে মেয়েটি একটু চমকে গেল । তারপর আমার দিকে চোখ তুলে তাকালো । এক মনে মেয়েটি অন্য কিছু ভাবছিলো । হাতে জ্বলন্ত সিগারেট আর পাশে চায়ের কাপ ! চায়ের কাপ থেকে অর্ধেকটা চা খাওয়া হয়েছে । বাকিটা সম্ভবত আর খাওয়া হবে না । ঠান্ডা হয়ে গেছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে ।

মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, আমাকে কিছু বলছেন?
আমি মেয়েটির পাশে বসতে বসতে অস্থায়ী চাওয়ালার দিকে তাকিয়ে বললাম, আমাকে একটা দুধ চা দিন তো মামা । আর ম্যাডামের জন্য আরেকটা রং চা !
মেয়েটা এবার আমার দিকে ভাল করে তাকালো । নিজের চায়ের কাপের দিকে তাকিয়ে আবারও চোখ ফিরিয়ে নিল । একটা সমূহ সম্ভবনা আছে যে মেয়েটি আমার চায়ের অফার ফিরিয়ে দিবে এবং এখান থেকে উঠে যাবে । তবে অন্য একটা সম্ভবনাও আছে যে মেয়েটা কিছু সময় আমার সাথে বসে গল্প করবে ।

মেয়েটি বলল, কি যেন বললেন আমাকে?
আমি একটু হাসলাম । মনে হল যে মেয়েটি আমার সাথে কথা বলতে আগ্রহী । বললাম, আপনার বন্ধুটি কোথায়?
মেয়েটি আমার দিকে আবারও কিছু সময় তাকিয়ে রইলো । এরই ভেতরে চা চলে এসেছে । নিজের সিগারেটে লম্বা একটা টান দিয়ে মেয়েটি চায়ের কাপে চুমুক দিল । তারপর বলল, রাফাতের কথা বলছেন কি?
আমিও চায়ের কাপে একটা চুমুক দিলাম । চিনি একটু বেশি হয়েছে । বললাম, আসলে তার নাম জানি না । আমি প্রতিদিনই যখন হাটতে আসি এখানে দেখতাম যে আপনি আর আপনার ঐ বন্ধু এখানে বসে বসে গল্প করতেন । চা খেতেন আর সিগারেট ভাগাভাগি করে খেতেন ।
-খেয়াল করেছেন দেখছি ।
আমি একটু হাসলাম । তারপর বলল, আসলে আমার কাজই হচ্ছে খেয়াল করা । পেশায় পুলিশ কিনা । তাই সব কিছু নজরে চলে আসে !
-আপনি পুলিশ ?
-জি ! এসিস্ট্যান্ট কমিশনার । মোহাম্মাদপুর থানা ।
মেয়েটা একটু হাসলো । তারপর বলল, বাহ বিসিএস ক্যাডার !
আমিও হেসে ফেললাম । মেয়েটি এবার নিজের সিগারেট আমার দিকে বাড়িয়ে দিল । বলল, নিন । সিগারেট নিন ।

এটা আমি আশা করি নি । অবশ্য যারা সিগারেট খায় তারা যে কারো সাথেই সিগারেট ভাগাভাগি করে নিতে পারে । এটা কেন জানি মনে হল একটু অস্বাভাবিক । তারপরই আমার মনে হল মেয়েটির সাথে এমন কিছু হয়েছে যা মেয়েটিকে খানিকটা বিপর্যস্ত করে দিয়েছে । আচ্ছা এমন কি হতে পারে যে রাফাত নামেই ঐ ছেলেটি মেয়েটিকে ছেড়ে চলে গেছে ! এই কারণেই মেয়েটা বিপর্যস্ত হয়ে আছে !
আমি বললাম, আমি আসলে সিগারেট খাই না ।
-কি! পুলিশ হয়ে সিগারেট খান না !
-কেন? পুলিশ হলেই সিগারেট খেতে হবে?
-না মানে সেটা মিন করি নি । আসলে পুলিশের কাজটা খুব বেশি স্ট্রেশফুল । অনেক চাপ । এই জন্য প্রায় সবাই দেখি সিগারেট খেতে !
এইবার আমার বলার সুযোগ এল । বললাম, আপনিও কি কোন কারণে স্ট্রেস নিয়ে আছেন ? রাফাত সাহেবের সাথে কিছু হয়েছে কি? দেখুন জানি অনধিকার চর্চা হচ্ছে কিন্তু প্রতিদিন আপনাদের কে দেখতে এক সাথে । আমার কাছে বেশ চমৎকার লাগতো ! হাসিখুশি সুখী সুখী ভাব । এই জন্য জিজ্ঞেস করলাম । উত্তর না দিতে চাইলে ইটস টোটালি ফাইন !

মেয়েটা কিছু সময় চুপ করে রইলো । তারপর বলল, সে নেই ।
-নেই মানে ? মারা গেছে অর…?
-না মরে নি । মরলে তো একটা কথা থাকতো ! সে আসলে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে । ক্যান ইউ বিলিভ ! ওর জন্য কত কিছু ছাড় দিলাম । আর শ্লার বা$%#@, যেই সুযোগ পেল, প্রথমেই আমাকে ছেড়ে দিলো ! এমন কি একবার মুখেও বলল না । কেবল একটা মেসেজ দিয়ে জানালো যে সে আর ফিরবে না । চলে যাচ্ছে ! আমি যেন ওকে ভুলে যাই । এই জন্যই শ্লার ছোটলোকদের সাথে প্রেম করতে নেই ।

আমি যদিও পুলিশের লাইনে রয়েছে কিছু দিন, আমাদের কিছু লেভি কনস্টাবল আছে যারা আসামীদের সাথে শক্ত আচরন করেন তবে সেটা পরিস্থিতির কারণে। কিন্তু এই মেয়ের মুখে এমন ভাবে গালী শুনে আমি একটু থ বনে গেলাম । আমি বললাম, কোথায় গেছে? আপনি চাইলে প্রতারণার মামলা করতে পারেন কিন্তু !
মেয়েটা হেসে ফেলল । বলল, সেটা আমি করতাম না ভাবছেন । শ্লার জীবন হেল করে দিতাম । আমাকে চেনে ও ! কিন্তু শ্লা দেশেই নেই । দেশ ছেড়ে পালিয়েছে !
-ওফ !
-জানেন আমি আগে থেকেই জানতাম যে ওর বাইরে যাওয়ার শখ । বাইরে থেকে একটা ডিগ্রি নিবে । আমারও একটা ইচ্ছে ছিল যে এক সাথে বাইরে যাবো মাস্টার্সটা শেষ হলে । আমার কিছু সেভিংসও ছিল ।
-আপনি নিশ্চিত সে বিদেশ গিয়েছে? কোন দেশে গিয়েছে? আপনি যদি চান তবে আমি কোজ খবর নিতে পারি । নিবো !
-নাহ দরকার নেই । যাহান্নামে যাক !
-আচ্ছা । ঠিক আছে ।
-আসলে এখানে আসাটা একটা অভ্যাসে পরিনত হয়েছিলো । তাই প্রতিদিন আসি । অভ্যাসটা বাদ দিতে হবে !
এই বলে মেয়েটা উঠে দাড়ালো । পকেট থেকে একটা একশ টাকার নোট বের করে চা ওয়ালার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, মামা পুলিশ সাহেবের চায়ের দাম সহ রাখেন ।
-আরে না না । আমি দিচ্ছি !
-দরকার নেই । আপনি অন্য দিন দিয়েন । আজকে আমার পক্ষ থেকে চা খান !
এই বলে মেয়েটা চলে গেল । দেখলাম দুরের একটা লাল রংয়ের গাড়িতে গিয়ে বসলো । নিজেই ড্রাইভ করে চলে গেল । আমি নম্বর প্লেটের দিকে তাকিয়ে রইলাম । মুখস্ত হয়ে গেল নম্বর টা ।

দুদিনের ভেতরেই সব তথ্য বের করে ফেললাম । মেয়েটির নাম নুশরা মেহজাবিন । থাকে ধানমন্ডিতে । বাবা আজগর আলী । একজন আমলা । বেশ ক্ষমতাবান মানুষ । টাকা পয়সার অভাব নেই । মেয়েটি যে ছেলেটির সাথে ঘুরে বেড়াতো তার নাম রাফাত আহমেদ । একই বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়তো তবে ছেলেটা ওর থেকে দুই বছরের সিনিয়র । ছেলেটার হঠাৎ করে একদম গায়েব হয়ে গেছে । নুশরার ভাষ্যমতে বিদেশ চলে গেছে কিন্তু এভাবে কেউ হঠাৎ করে চলে যায় । আর সব চেয়ে বড় কথা বিদেশ যদি যাই ই তবে যোগাযোগ কেন বন্ধ করতে হবে? মানে নুশরার মত মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছেদ করার কোন কারণ তো আমি দেখছি না । কেন জানি একটা ব্যাপার খটকা লেগেই থাকলো ।

নুশরার সাথে আর পার্কে দেখা হল না । আমি প্রতিদিন সন্ধ্যায় হাটতে যেতাম ঠিকই তবে মেয়েটাকে আর দেখতাম না । নুশরার ঠিকানা এবং ফোন নম্বর আমার কাছেই রয়েছে কিন্তু ফোন করাটা কেমন যেন হয়ে যাবে । মোটেই ভাল দেখাবে না ! মনে হল নুশরা পর্ব ওখানেই শেষ । তবে শেষ হল না ! ঠিক এক মাস পরে নুশরা আমার অফিসে এসে হাজির । আমি প্রথমে ওকে ঠিক চিনতে পারি নি । পার্কে ওকে জিন্স আর টিশার্টে দেখতাম । আজকে ও সেলোয়ার কামিজ পরেছে । চুল গুলো সামনে এনে রাখা ।
-কেমন আছেন পুলিশ সাহেব ?
-ভাল । আপনি ! এখানে?
-একটু সাহায্যের জন্য এসেছি । করবেন?
-অবশ্যই । বলুন কি করতে পারি । দাড়ান তার আগে চায়ের অর্ডার দেই । অন্য কিছু খাবেন সাথে ? সিগারেট চলবে?
-আপনি না খান না?
-আমি খাই না কিন্তু খাওয়াতে তো পারি?
-তাহলে একটা লাইট ! আশা করি এখানে খেলে সমস্যা হবে না ।
-কোন সমস্যা নেই ।

চার সিগারেট পর্ব শেষ করে নুশরা বলল, আসলে আমার কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছে । মানে আমার সাথে সে সম্পর্ক ছেদ করেছে বুঝলাম । কিন্তু গত পরশু ওর মা আমাকে ফোন দিয়েছিলো । রাফাত নাকি তাদের সাথেও যোগাযোগ করে নি । পরিবারের সাথে কেন যোগাযোগ করবে না বলুন !
-তাই নাকি?
-ওর সব যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ । ফোন ফেসবুক হোয়াটস এপ সব !
-আমাকে কি করতে বলুন?
-আপনি আমাকে ওর খোজ এনে দিতে পারেন কি? মানে কোন ফ্লাইটে সে দেশ ছেড়েছে? কোন দেশে গিয়েছে ! সম্ভব হলে একটা ছবি ! তাহলেই হবে !
-আচ্ছা । আমি চেষ্টা করবো । আপনি ওর কিছু তথ্য আমাকে দিন । মানে কবে গিয়েছে ও ? আপনার কাছে কবে এসেছে মেসেজ ! আর ওর পুরো নাম ঠিকানা পাসপোর্ট নাম্বার কি জানা আছে আপনার?
-পাসপোর্টের নম্বর তো নেই তবে ওর একটা ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি আমার কাছে ।
-গ্রেইট । এতেই চলবে । আমি দেখি কোথায় কি পাওয়া যায় । পেলে আপনাকে জানাবো !

দুই
আজগর আলী সাহেব আমার দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে রইলেন কিছু সময় । তারপর বললেন, কী বলতে চান আপনি?
-আগেই বলেছি আপনার মেয়ে এসেছিলো আমার কাছে সাহায্যের জন্য । রাফাত কোথায় গেছে কবে গেছে এই সব আর কি!
-তো ? আমাকে কেন বলছেন?
-বলছি কারণ, রাফাতের ফোন বন্ধ হওয়ার আগে ও যে কয়টা নম্বরের সাথে কথা বলেছে সেগুলোর ভেতরে আপনার একটা । এবং ওর সেলফোনের সর্ব শেষ লোকেশন এমন একটা স্থানে গিয়েছে থেমেছে যেটা আপনার ফার্ম হাউজ ।
আজগর আলীর চোখ সরু হয়ে এল । আমার দিকে তাকিয়ে বলল, কী বলতে চান আপনি?
আমি হাসলাম । নুশরার সাথে কথা বলার পরপরই আমি খোজ খবর নেওয়া শুরু করি । যেদিন রাফাত নুশরাকে মেসেজ পাঠিয়েছিলো সেদিনের সব বড় বড় ফ্লাইটের লিস্ট খোজ করি । এবং পরদিনের একটা লন্ডনগামী ফ্লাইটে সত্যিই রাফাত আহমেদের নাম দেখতে পাই । তার মানে রাফাত ইংল্যান্ড গিয়েছে ।
এই পর্যন্ত খোজ নিলে সব ঠিকই ছিল । ভাবলাম যে এটাই নুশরাকে জানিয়ে দিই । কিন্তু ঝামেলা বাঁধলো অন্য একটা কাজ করতে গিয়ে । বন্ধু তুহিন কাজ করে সাইবার সেলে । ওকে বললাম সেলফোনটা লোকেশন ট্রাক করতে । তখনই সন্দেহটা হল । নুশরাকে যখন মেসেজ পাঠিয়েছে সেই সময়ে সেলফোনটার লোকেশন দেখাচ্ছে মুন্সিগঞ্জ। এরপরই সেলফোনটা বন্ধ হয়ে যায় । আর চালুই হয় নি ।এমন কি ঐ ফোনে অন্য কোন সিমও চালু হয় নি । সিম বদলাবে বুঝলাম কিন্তু একদিনের জন্য ফোনই বদলে ফেলবে ? শেষ লোকেশন খোজ করতেই বের হয়ে গেল জায়গাটা আসলে নুশরার বাবার । অন্য দিকে শেষে দুটো নম্বরে কথা হয়েছে রাফাতের । যার একটা আজগর আলীর নম্বর !

আমি বললাম, কী হয়েছে আমি আপনাকে বলি । আপনি কোন দিন রাফাতকে পছন্দ করতেন না । কিন্তু মেয়ের কাছে আপনি অসহায়। তাই ঠিক করলেন রাফাতকে এমন ভাবে গায়েব করে দিবেন যাতে সন্দেহটা আপনার উপর না যায় । মানে যদি রাফাত মারাই না যায় তাহলে তো কোন ঝামেলা হবে না । তো আপনি কী করলে? ওকে নিজের কাছে ডাক দিলেন । তারপর ওকে মেরে ফেললেন কিংবা গায়েব করে দিলেন তারপর ওর সেলফোন থেকে নিজের মেয়েকে মেসেজ পাঠালানে যে সে চলে যাচ্ছে, তাে ডাম্প করে ! চমৎকার বুদ্ধি !
-আপনার মাথা হয়ে গেছে । আপনি এসব কিছুই প্রমান করতে পারবেন না ।
-হয়তো একটু কষ্ট হবে । হয়তো আপনি ছুটেও যাবেন । কোন সমস্যা নেই । কিন্তু আমি যা পেয়েছি তা যদি নুশরার কাছে চলে যায় তাহলে নিশ্চিত আপনার মেয়ে আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে । প্রমান করতে হবে না ! নুশরা তো ভাল করে জানে যে আপনি রাফাতকে পছন্দ করতেন না । ওর দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে কোন সমস্যা হবে না ! ওকে আমি তাহলে আসি । দেখা যাক আর কী কী খুজে বের করা যায় ! তারপর নুশরার কাছে যাবো !

আমি উঠে পড়লাম । দরজার কাছে গিয়েছি এমন সময়ে পেছন থেকে আজগর আলীর আওয়াজ শুনতে পেলাম ।
-কী চাই আমার? কত টাকা চান ?
আমি ঘুরলাম । তারপর বললাম, ঘুষ দিচ্ছেন?
-ভনিতা না করে বলুন কত চাই?
আমি একটু এগিয়ে গেলাম । তারপর বললাম, আমার টাকার দরকার নেই । আমার অন্য চাই।
-কী?
-আমার আপনার মেয়েকে চাই।
-হোয়াট ?
-আমি নুশরাকে বিয়ে করতে চাই ।
আজগর আলী আমার দিকে একভাবে তাকিয়ে রইলো । আমি আবার বললাম, দেখুন আপনি আমাকে সাহায্য করেন বা না করেন আমি নুশরার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবোই । এমন সম্ভবনা প্রবল যে নুশরা আমাকে অপছন্দ করবে না । যখন আপনার আসল চেহারা আমি ওর সামনে তুলে ধরবো নিশ্চিত ভাবেই সে ভেঙ্গে পড়বে । তখন তাকে শান্তনা দেওয়া সাহারা দেওয়ার জন্য আমি তো থাকবোই । আমার উপরে একটা ভরশা সৃষ্টি হবে । তারপর হতেই হবে সে রাজিও হয়ে যাবে । কিন্তু আপনাকে সে ঘৃণা করবে । এবং আমি নিশ্চিত করবো যাতে সে তা করে । অন্য দিকে আপনি যদি আমাকে সাহায্য করেন আপনার এই সত্য সামনে আসবে না । সিম্পল ! আর আপনার মেয়ের জামাই হিসাবে আমি নিশ্চয়ই খুব একটা অযোগ্য নই । তাই না?

আজগর আলী আরও কিছু সময়ে চুপ করে রইলো । তারপর বলল, কী চাই তোমার শুনি?
-তুমি !
আমি হেসে ফেললাম । তুমি অবশ্য ঠিকই আছে । নিজের হবু জামাইকে আপনি বলাটা কেমন শোনায় ! আমি বললাম, রাফাতের সেলফোনটা আছে তো আপনার কাছে ? আছে না?
-হ্যা আছে ।
-গ্রেইট ! ওটা আমাকে দিন । বাকিটা আমি সামলাবো !

পরিশিষ্টঃ

নুশরার সাথে আমার বিয়ে হল আরও চার মাস পরে । নুশরারর সাথে আস্তে আস্তে সম্পর্ক ভাল করে তুলেছি । এই ব্যাপারে আজগর আলী আমাকে সাহায্য করে বেশ । আজগর আলী বেশ চালু ব্যক্তি । রাফাত আহমেদের নামে অন্যএকজনকে সে নিজেই প্লেনে করে লন্ডন পাঠিয়েছিলো । সেই ফ্লাইটের কপি আমি বের করলাম । এরপর সেখানে রাফাতের ছবিটা এডিট করে বসিয়ে দিলাম । সুখ সুক্ষ কাজ । তবে নুশরা ধরতে পারলো না । ওর তখন সেই অবস্থা ছিলও না । রাফাতের সেলফোন দিয়ে ওর ফেসবুকে প্রবেশ করলাম । কয়েকটা চেকইন দিলাম নির্দিষ্ট লোকেশন সেট করে । গত বছর আমি নিজে গিয়েছিলাম লন্ডনে । সেখান থেকে তোলা কয়েকটা ছবি আপলোড দিলাম ওর প্রোফাইল থেকে । ব্যাস হয়ে গেল কাজ ।

নুশরা এসব সবই দেখলো । রাফাতকে ও দুটো মেসেজ পাঠিয়েছিলো । রাফাতের ফোনটা আমার কাছে থাকার কারণে সেই মেসেজ আমি দেখতে পেলাম । এমন খারাপ গালী যে মেয়েটা দিতে পারে আমি ভাবতেই পারি নি । কদিন পরে আবারও আইডি রাফাতের আইডি বন্ধ করে দিলাম চিরোতরে । এরপর ফোনটা ভেঙ্গে ফেললাম । আর কোন প্রমান রাখা যাবে না ।

বিয়ের কদিন পর থেকেই অনুভব করতে শুরু করলাম নুশরা আমার প্রতি আস্তে আস্তে কেয়ার নেওয়া শুরু করেছে । আমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে । আমাদের প্রেম জমে উঠলো । ও বিয়ের আগে আমাকে প্রতিজ্ঞা করিয়েছিলো যে আমাকে বিয়ে করতে পারে যদি আমি কোন ঘুষ না খাই । আমি সেই প্রতিজ্ঞাটা করেছিলাম ।
জীবনে আমি কেবল একটা ঘুষই খেয়েছিলাম সেটা নুশরার বাবার কাছ থেকে । মাঝে মাঝে এই অপরাধবোধ জেগে উঠতো অবশ্য । তবে নিজের মনকে এই বলে শান্তনা দিতাম যে ঐ অপরাধতো আমি করি নি । আমি কেবল নিজের পছন্দের মানুষটাকে পাওয়ার জন্য কিছু সত্য লুকিয়েছি । আমি যদি সত্য বলতাম তাহলেও আমি নুশরাকে বিয়ে করতে পারতাম হয়তো । কেবল নুশরা ওর বাবাকে ঘৃণা করতো !

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.8 / 5. Vote count: 38

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *