একটি নাটকীয় গল্প

4.7
(39)

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো প্রায় একটা বাজতে চলেছে । এতো রাতে ছেলেটার ফোন পেয়ে একটু অবাক হল নওরিন। অফিসের কোন ইমার্জেন্সি? মনে মনে ভাবলো সে । তারপর ফোনটা রিসিভ করলো।
-হ্যালো!
-নওরিন ।
-বল । এতো রাতে ?
-তোমার সামনে বিপদ । একদল লোক আসছে তোমাকে তুলে নিয়ে যেতে !
-মানে?
-মানে বুঝিয়ে বলার সময় নেই । তুমি এখন বাসা থেকে বের হও। টাকা পয়সা যা আছে নিয়ে নাও আর পাসপোর্ট নিয়ে এসো । প্লিজ দেরি কর না । আমি ঠিক তোমার বাসার পাশের গলিতে এসেছি । দেরি কর না।
-কিন্তু মানে কি? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না । আর আমি ফোন দিচ্ছি থানাতে !
-থানাতে ফোন দিয়ে লাভ নেই । কেউ আসবে না । যে তোমাকে তুলে নিয়ে যেতে আসছে সে প্রচুর ক্ষমতার অধিকারী । আর তুমি জানো এদেশে ক্ষমতা থাকলে কি হয় । প্লিজ আমার কথাটা একটু শোন । আমাকে তো অনেক দিন ধরে চেন । আমার কথাটা শোনো প্লিজ !

নওরিন কি করবে বুঝতে পারলো না । রিয়াদকে সে আসলেই অনেক দিন ধরে চেনে । সেই ইনিভার্সিটি থেকে । যদিও খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা ওদের ছিল না । তবে রিয়াদ পড়াশুনাতে বেশ ভাল ছিল । এই জন্য ক্লাসের সবাই ওকে চিনতো । তবে মানুষ হিসাবে বেশ চুপচাপ থাকতো বলে কারো সাথেই খুব একটা ভাব হয় নি । পড়াশুনা শেষ করে নওরিন ওর বর্তমান অফিসে যোগ দেয় । এর বছর খানেক পর একদিন রিয়াদ একই অফিসে জয়েন করে । রিয়াদকে ওখানে জয়েন করতে দেখে নওরিন একটু অবাক হয়েছিলো । শুনেছিলো রিয়াদ নাকি ব্যাটে কাজ করতো । ওখান থেকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে এসে ওদের অফিসে জয়েন কেন করলো কে জানে । অফিসে এসেও দেখতো রিয়াদ কেবল নিজের মনে কাজ করে যাচ্ছে । কারো সাথে খুব একটা মিশতো না, আড্ডা দিতো না । কাজ ছাড়া ওদের আর কোন কথাও হত না ।

নওরিন কি করবে বুঝতে পারলো না । রিয়াদ এখনও ফোনে ওপাশেই রয়েছে । নওরিন বলল, আচ্ছা আমি নামছি । আমাকে কয়েক মিনিট সময় দাও ।
রিয়াদ বলল, দেরি করবে না । একদম না । ওরা রাস্তায় রয়েছে । জলদি ।

ফোন রেখে নওরিন ট্রাভেল ব্যাগে কয়েকটা দরকারি জিনিস পত্র নিয়ে নিল । কোথায় যাবে সেটা সে জানে না । টাকা পয়সা যা ছিল সব নিলো । পাসপোর্টটাও নিয়ে নিল । রিয়াদ ওকে আলাদা ভাবে পাসপোর্ট নিতে কেন বলল কে জানে । ওকে কি দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে?
নওরিনের এই দেশে আসলে কেউ থাকে না । এটা ওর বাবা দেশ হলেও ওর মা একজন সুইডিশ । জন্মসুত্রে নওরিন সুইডেনের নাগরিক । ছোট বেলাতে সেখানে বড় হলেও, স্কুলে থাকতে থাকতে সে এখানে চলে আসে বাবার সাথে । ওর বাবা আর মা আলাদা থাকে । নওরিনের আরও একটা ভাই আছে ওখানে। তারপর এক সময়ে ওর বাবা হঠাৎ ক্যান্সারে মারা যায় । চাকরিতে ঢোকার কয়েকদিনের মাঝে । তারপর থেকেই নওরিনের মা ওকে বারবার বলছে ওখানে চলে যেতে । তবে নওরিনের কেন জানি এই দেশে যেতে মন চায় নি । বাবার কবরটা এখানেই । মাস অন্তত একবার সেখানে গিয়ে ঘুরে আসে সে । একটা শান্তি শান্তি লাগে ।

আজকে পুরো ফ্ল্যাটে সে একা । মোট তিনজন মেয়ে এই ফ্লাটটা ভাড়া করে থাকে । বাকি দুজন আজকে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে । গতকালকে সকালে অফিস থেকে আসার সময় খেয়াল করেছে নিচের ফ্লোর এবং উপরের ফ্লোরের ভাড়াটিয়া ব্যাগ নিয়ে বাইরে যাচ্ছে সম্ভবত ট্যুরে । এর উপরের দুই ফ্লোর আসলে দুইটা অফিস । সন্ধ্যার পরে যা বন্ধ থাকে । হিসাব মত পুরো বিল্ডিং নওরিন এখন একা । সাথে সাথেই রিয়াদের কথাটা কেন জানি সত্য মনে হল । কেউ প্লান করেই ওকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে । এবং তাদের ক্ষমতা প্রচুর ।

ব্যাগ কাধে দরজা দিয়ে বের হল । লিফটের কাছে গিয়ে একটু অবাক হল সে । এই বিল্ডিংয়ের লিফট বারোটার ভেতরে বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু এখনও এটা চালু আছে । একটু সন্দেহ হল ও । লিফটে উঠলো না । এমন কি সিড়ি দিয়েও গেল না । ডান দিকে ছোট একটা ইমারজেন্সী সিড়ি আছে । সেটা দিয়ে নামতে শুরু করলো আস্তে আস্তে । তখন কানে আওয়াজ পেল । কয়েকজন নিচে এসেছে বুঝা যাচ্ছে । নওরিনের বুকের ভেতরে কেমন যে ভয় ভয় করতে লাগলো । ওকে কেন কেউ কিডন্যাপ করতে চাইবে । এটা সত্য যে সে বিদেশী । তবে এটাও সত্য যে বড়লোক বলতে যা বুঝায় তা ওরা মোটেও না সেখানেও সাধারন জীবন যাপন করে । তাহলে?

সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে একবার উকি দিলো চারপাশে । অনুভব করলো কেউ নেই । যারা এসেছিলো সবাই উপরে চলে গেছে । সম্ভবত ওরা কেউ ভাবে নি যে নওরিন এভাবে পালিয়ে যেতে পারে । খুব দ্রুত গেট দিয়ে বের হয়ে এল । বাড়ির সামনে দাড়িয়ে থাকা মাইক্রোটা দেখতে পেল । মাইক্রোর ড্রাইভার এক মনে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তাই ওকে দেখতে পাই নি । পা টিপে টিপে সে পার হয়ে গেল । পাশের গলিতে যেতে দেখতে পেল রিয়াদকে । একটা বাইকের পাশে পায়চারি করছে । ওকে দেখতে পেয়েই এগিয়ে এল । বলল, চলচল । একটুও দেরি করা যাবে না ।
-ওরা কারা ।
-এসব পরে হবে । আগে চল ।

বাইক স্টার্ট দিতেই আলো জ্বলে উঠলো । তখনই উপর থেকে আওয়াজ শুনতে পেল ।
-ওস্তাদ মাইয়া পালাইতাছে ….
এই থাম ।
এই থাম কইলাম !

কিন্তু ততক্ষনে রিয়াদের বাইক চলতে শুরু করেছে । রিয়াদ ওকে কেবল বলল, শক্ত করে ধরে থাকো ।

নওরিনকে বলতে হল না । ও এমনিতেও রিয়াদকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে । নওরিন দেখতে পেল রিয়াদ কতটা দ্রুত বাইক চালাচ্ছে । শান্ত স্বভাবের এই ছেলে যে এই ভাবে বাইক চালাতে পারে সেটা ওর ধারনার বাইরে ছিল ।

একটা সময় ও আবিস্কার করলো ওদের বাইক এয়ারপোর্টের সামনে চলে এসেছে ।
বাইক থেকে নামতেই ওরাএয়ারপোর্টের দিকে রওয়ানা দিল । গেট পর্যন্ত এসে রিয়াদ ওকে কয়েকটা কাগজ পত্র এগিয়ে দিল । তারপর বলল, এখানে তোমার টিকেট কাটা আছে । প্রথমে সোজা যাবে দিল্লিতে । সেখানে গিয়ে নিজের দেশের যাওয়া ব্যবস্থা আশা করি তুমি করে ফেলবে ।
-কিন্তু আমাকে কেন কেউ ধরে নিতে চায় ?
-আমাদের ক্লাসে একজন ক্ষমতাসীন মানুষের ছেলে পড়তো । সে তোমাকে পছন্দ করতো । এটা তার পরিবার জানতে পেরে তোমাকে ধরে নিয়ে জোর করে তার সাথে বিয়ে দিতে চায়। বুঝেছো ? এই দেশের যেখানেই তুমি থাকো না কেন তোমাকে ঠিকই ধরে নিয়ে যাবে ।
-কে?

কে সেটার জবাব দিল না রিয়াদ । কেবল বলল, তুমি আপাতত চলে যাও । তোমার বাকি জিনিস পত্র আমি পাঠিয়ে দেওয়ার ববস্থা করবো । কেমন ।
নওরিন কি বলবে বুঝতে পারলো না । যাওয়ার আগে কেবল ধন্যবাদ দিল অনেক বার । কাঁটের গেট দিয়ে ঢুকে পড়লো ভেতরে ।

দুই

রিয়াদ সব কিছু ঠিক করেই রেখেছিলো । টিকিও কেটে দিয়েছে । ছেলেটা ওর এতো কিছু কিভাবে জানে কে জানে ? তারপর মনে হল হয়তো অফিস থেকে জোগার করেছে । প্লেনের আর কিছু সময় পরেই ছাড়বে । ও কখনও ভাবে নি এই দেশ থেকে এভাবে ওকে পালিয়ে যেতে ! বারবার মনে করার চেষ্টা করলো ওদের ক্লাসে কোন ছেলেটা এমন থাকতে পারে !

এক সময় হঠাৎ অনুভব করলো ওয়েটিং রুমে একটু আগে অনেকেই বসে ছিল। এখন একজনও নেই । পুরো ফাঁকা । বুকের ভেতরে একটু ধক করে উঠলো । হাতের ঘড়ির দিকে তাকালো । এখনও কিছু সময়ে বাকি রয়েছে । এনাউন্সমেন্ট হয় নি এখনও । তাহলে গেল কোথায় সবাই ?
তখনই লোকটাকে দেখতে পেল সে । ওয়েটিং রুমের দরজা দিয়ে ঢুকছে । সাথে সাথেই চিনতে পারলো তাকে । আজমল চৌধুরী । দেশের একজন প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী । হাসি মুখে ওর দিকে এগিয়ে এল । তাকে দেখেই নওরিনের গলা শুকিয়ে গেছে । রিয়াদ যে ক্ষমতাধর মানুষটার কথা বলেছে সে যে ইনি সেটা নওরিনের বুঝতে বাকি রইলো না । পালানো সম্ভবত আর হল না । নওরিন ভীত চোখে তাকিয়ে রইলো আজমল চৌধুরীর দিকে । তবে আজমল চৌধুরী হাসলেন । এবং কাছে এসে নরম কন্ঠে বলল, মা তুমি ভয় পেও না । আর আমার বড় ছেলের কাজ কর্মে আমি তোমার কাছে লজ্জিত ! বস প্লিজ ।

নওরিন বসলো বটে । তবে ভয় গেল না । আজমল চৌধুরী বলল, আমি জানি তুমি পালিয়ে যাচ্ছো। কেন যাচ্ছো সেটাও জানি । আমি এসবের কিছুই জানতাম না । জানলে হয়তো অন্য ভাবে তোমার সাথে পরিচয় হত । আসলে আমার বড় ছেলের মাথা একটু গরম । এই বুদ্ধি নিয়ে সে কিভাবে যে রাজনীতিতে নেমেছে সেটা আমি আজও ঠিক বুঝি না । ছোট ভাই এক মেয়েকে পছন্দ করে, বলতে পারে নি সে মেয়েকে ধরে নিয়ে এসে বিয়ে দিয়ে দাও । কী বুদ্ধি আমার !
নওরিন কি বলবে বুঝতে পারছে না । তবে তার ভয় একটু একটু কমছে ।
আজমল চৌধুরী আবার বলা শুরু করলো, আমি আবারও তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । তোমার অবশ্যই পালিয়ে যাওয়ার দরকার নেই । এবং আমি নিজে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে এরপর এমন কিছু আর হবে না । তুমি যদি চলে যেতে চাও তারপরেও আমি তোমাকে বাঁধা দিবো না । কিন্তু নিজের ছেলের জন্য একটা চেষ্টা আমি করতে চাই । বুঝোই বাবা হয়েছি ।

নওরিন তখনও চুপ করে তাকিয়েই আছে । আজমল চৌধুরী বলল, তুমি কি চেনো আমার ছোট ছেলে কে?
নওরিন মাথা নাড়ালো ।
-সে তোমার অফিসেই চাকরি করে ।
কথাটা শোনার সাথে সাথে চোখ বড় বড় করে তাকালো আজমল চৌধুরীর দিকে। মুখ দিয়ে বের হয়ে এল, কে?
-যে তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে ।
-রিয়াদ !
-হ্যা রিয়াদ !

নওরিন এতোটাই অবাক হল যে কিছু বলতেই পারলো না । ভাবছো রিয়াদ কেন তোমাকে নিয়ে আসবে ! আসলে ও এমন কি! নিজের বাবার ক্ষমতা দিয়ে সে কোন দিন কিছু করতে চায় নি । এই ইউণিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে, নিজের চেষ্টায়, ব্যাটে চাকরি পেয়েছিলো সেটাও নিজের চেষ্টায় । জীবনে কেবল একটা সুপারিস তার জন্য আমি করেছি । সেটা হচ্ছে তোমার অফিসে ঢোকার জন্য সে আমার সাহায্য চেয়েছিলো । দেখো মা আমার ছোট ছেলেটা একটু লাজুক । মেয়েদের সাথে কথা বার্তা বলতে পারে না । এই জন্য সম্ভবত তোমাকে নিজের মনের কথা বলতে পারে নি । বাবা হয়ে কেবল তোমাকে একটা অনুরোধ করবো, একবার কি আমার ছেলেটাকে একটু সুযোগ দেওয়া যায়?
নওরিন আসলে এসব বিশ্বাসই করতে পারছে না । আজমল সাহেব আবার বললেন, আমি বলছি না যে তাকেই বিয়ে কর । একবার একটু মেশো তার সাথে । তারপর যদি মনে হয় যে এই ছেলের সাথে বাকি জীবন কাটানো সম্ভব তাহলেই আমি তোমার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করবো । আর যদি মনে হয় যে না তোমার মন মত হচ্ছে দেন আই প্রমিজ ইউ যে তোমাকে কেউ কোন প্রকার ডিস্টার্ব করবে না । আর আমার বড় ছেলে যে কাজটা করেছে তার জন্য সে তোমাকে সরি বলবে । এটা আমি নিশ্চিত করবো ।

নওরিন আসলে এমনটা আশা করে নি । এতো বড় আর ক্ষমতাধর মানুষ হয়েও আজমল চৌধুরী ওর সাথে কি মোলায়েল স্বরে কথা বলছে । রিয়াদ চাইলেই ওকে তুলে নিয়ে বিয়ে করতে পার। এখনও পারে । এছাড়া এতোদিন ধরে ছেলেটাকে দেখে আসছে কোন দিন ওর মনে হয় নি যে ওর বাবা আজমল চৌধুরী হতে পারে ।
আজমল চৌধুরী বললেন, এরপরেও যদি তুমি চলে যেতে চাও আমি তোমাকে বাঁধা দেব না । কেবল অনুরোধ করলাম ।

তিন
রিয়াদের মন একটু খারাপ । আজকে সে অফিসে যায় নি । বারবার মনে হচ্ছে কাজটা কি সে ঠিক করলো?
এতোদিন নওরিনকে চোখের সামনে সে দেখতে পেত । এখন তো তাও দেখতে পাবে না আর ! ভাইয়াটা এমন কাজটা না করলেই কি হত না । কী দরকার ছিল ! যেমন চলছিলো তেমনই চলতো সব !
এতো সময়ে নিশ্চিত ভাবেই নওরিন চলে গেছে অনেক দুরে । যখন গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকছিলো, বারবার মনে হচ্ছিলো চিৎকার করে ওকে বলে নিজের মনের কথা ।

এমন সময় ওর মেসেঞ্জারে একটা কল আসলো । ফোন হাতে নিয়েই বুকের ভেতরে মোচড় দিয়ে উঠলো । নওরিন ফোন করেছে । মেয়েতা নিশ্চিত ভাবে দিল্লীতে পৌছে গেছে ।
-হ্যালো ।
-কী জনাব মন খারাপ?
-মানে?
-মানে বললাম মন খারাপ?
-না মানে …..
-শুনো আমি তোমার বাসায় নিচে । নেমে এসো তো !

রিয়াদের মন হল যেন ও ভুল শুনছে । বলল, কী বললে ? বাসার নিচে নামে?
-বাসার নিচে মানে বাসার নিচে । জলদি বেরিয়ে আসো তো !

রিয়াদ যখন নিচে নেমে এল তখনও ওর ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না । কী থেকে কি হল সেটা কোন ভাবেই ওর মাথায় ঢুকছে না । নওরিনকে না এয়ারপোর্টে রেখে আসলো তাহলে ও বাসার সামনে এল কিভাবে?
নওরিন ওদের বাসার সামনের ফুটপাথেই বসে ছিল । আজকে নওরিনকে অন্য রকম লাগছে । বয়স যেন একটু কমে গেছে । জিন্স আর একটা শার্ট পরেছে । চোখে কালো একটা সানগ্লাস আর ঠোঁটে গাঢ় করে লিপস্টিক দিয়েছে ।
ওকে বের হতে দেখেই বলল, কই বাইক কোথায়?
রিয়াদ বলল রিক্সায় যাই?
-হ্যা চল !

রিক্সাতে যখন পাশাপাশি বসে ওরা যাচ্ছিলো তখনই রিয়াদের ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না । কত গুলো প্রশ্ন মাথায় খেলা করছে কিন্তু কিছুই জিজ্ঞেস করছে না । ওর কেবল সব কিছু স্বপ্ন সপ্ন মনে হচ্ছে । নওরিন বলল, আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি?
-কর!
-তুমি চাইলেই আমাকে জোর করে বিয়ে করতে পারতে । কেউ কিছু করতে পারতো না । এমন কি আমিও না । তাহলে কেন করলেনা ?
রিয়াদ একটু চুপ করে রইলো । তারপর বলল, আমার কাছে আসলে মনে হয়েছে যে ঐ কাজটা করলে তোমার কাছে অন্য কোন অপশন থাকতো না । এক সময়ে হয়তো তুমি আমার ঘর ঠিকই করতে কিন্তু আমার মনে সারা জীবন এই কাটা বিধেই থাকতো যে তোমার কোন অপসন ছিল না বিধায় তুমি আমার সাথে আছো ! এটা আমাকে শান্তি দিতো না । আমি কেবল চেয়েছিলাম যে তুমি নিজ ইচ্ছেতে আসো !
রিয়াদ একটু চুপ থেকে আবারও বলল, আমার ভাইয়া ভাবীকে এক প্রকার জোর করেই বিয়ে করেছে । ভাবী এখন সুখে আছে কিন্তু আমার এখনও কেন জানি মনে হয় এই সুখের মাঝেও একটা দুঃখ তার লুকিয়ে আছে । তার সামনে কোন পথ খোলা ছিল না !
নওরিন বলল, ইস সবাই যদি তোমার মত ভাবতো !
রিয়াদ হাসলো !

নওরিন বলল, দেখো আমমি বলছি না আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি কিংবা তোমাকেই বিয়ে করবো । ঠিক আছে তবে …. তুমি আমাকে অবাক করেছো, ইম্প্রেসও করেছো । আমরা কিছুদিন মিশি, গল্প করি সময় কাটাই । এরপর যদি আমাদের মনে হয় যে এক সাথে জীবন কাটানো সম্ভব তাহলে সামনে এগোনে যাবে ! ওকে?
রিয়াদ বলল, ওকে !

রিক্সাটা এগিয়েই চলেছে । কোন নির্দিষ্ট দিকে যাচ্ছে না । রিক্সাতে ওঠার সময় নওরিন ঘন্টা হিসাবে রিক্সা ঠিক করেছিলো । ওদের দুজনের রিক্সাও কী কোন নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাবে? যেতে পারে । সেটা অন্য কোন গল্প । এই গল্প এখানেই শেষ ।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.7 / 5. Vote count: 39

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *