4.8
(33)

-গাড়ি থামান ।

রাত তিনটা পার হয়ে গেছে । চারদিক বেশ শান্ত হয়ে গেছে । আর যমুনা সেতুর উপরের পরিবেশটা আরও বেশি শান্ত । প্রায় পাঁচ কিলোমিটা রাস্তাটা জহির শেখের বেশ পছন্দ । যদিও একটা গতিসীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে, তবে এই রাতের বেলা সেটা না মানলেও চলে । জহির শেখ যখন বাসটার গতি আরও বাড়াতে যাবে তখনই লক্ষ্য করলো একজন সিট ছেড়ে ইঞ্জিন কাভারের পাশে এসে দাড়িয়েছে । তারপর তার দিকে তাকিয়ে বলল, গাড়ি থামান !

জহির শেখ সেদিনে না তাকিয়েই বলল, এখানে গাড়ি থামানো যাবে না । সেতুর উপর গাড়ি থামলে জরিমানা !

কন্ঠটা আবার বলল, গাড়ি থামান বলছি ।

এবার কথাটা একটু ধকমের সুরে শোনালো । জহির শেখ এবার কন্ঠের মালিকের দিকে তাকালো । পুরো বাসের আলো বন্ধ । প্রায় সবাই ঘুমিয়ে । এমন কি হেলপার বেটাও ঘুমিয়ে পড়েছে । অবশ্য এই সময়ে তার জেগে থাকার কোন কারন নেই । জহির শেখ দেখলো ছেলেটার বয়স অল্প । বিশ বাইশের বেশি না । তার বড় ছেলের বয়সীই হবে । জহির শেখ এবার একটু বিরক্ত হল। সে যথা সম্ভব বিরক্ত নিয়েই বলল, দেখেন কোন ভাবেই সেতুর উপর গাড়ি থামানো যাবে না । আপনে নামতে চান আমি নামায়ে দিবো তবে সেতু পার হই তারপর । এর আগে না !

জহির শেখ আবারও নিজের কাজে মন দিলেন ! এমন পাগল মানুষ দু একটা দেখা যায় । বিশেষ করে অনেক মানুষ আছে যারা এই সেতুর উপর নামতে চায় । কিন্তু প্রশাসনের কঠিন নিষেধ আছে । কোন ভাবেই সেতুর উপর গাড়ি থামানো যাবে না । তার ড্রইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যেতে পারে ! সে কোন ভাবেই গাড়ি থামাবে না ।

কিন্তু তখনই জহির শেখ অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন গাড়ির গতি কমে আসছে । তিনি এক্সেলেরেটরে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করলেন কিন্তু কোন কাজ হল না । আপনা আপনি গিয়ার বদলে গেল আর তিনি তখনই অনুভব করলেন ব্রেকটা আপনা আপনি দেবে যাচ্ছে । গাড়ির গতি কমে আসছে । জহির শেখ অসহারের মত কিছু সময় এটা ওটা নাড়াচাড়ার চেষ্টা করলেন কিন্তু কোন লাভ হল না । বাসটা আস্তে আস্তে থেমে গেল একেবারে ।

তার পাশে দাড়িয়ে থাকা ছেলেটা এবার আস্তে আস্তে গেটের দিকে হাটতে শুরু করলো । জহির শেখ অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো যে গাড়ির দরজাটা আপনা আপনি খুলে গেল । ছেলেটা দরজা দিয়ে বাইরে নেমে দাড়ালো । তারপর ফিরে তাকালো জহির শেখের দিকে ! সেতুর উপরে জ্বলতে থাকা ল্যাম্পোস্টের আলে সে স্পষ্ট দেখতে পেল ছেলেটার চোখ । সেই চোখ কোন স্বাভাবিক মানুষের হতে পারে না । জহির শেখের দিকে তাকিয়ে ছেলেটা বলল, বাস নিয়ে চলে যান এখান থেকে ।

জহির শেখ যেন একেবারে জমে গেছে । সে লক্ষ্য করলো তার হাত কাঁপছে । ছেলেটাকে বাসের সামনে দিয়ে সেতুর উল্টো দিকে যেতে দেখলেন তিনি । খুব দ্রুতই এখান থেকে চলে যাওয়া দরকার তার । কিছু একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার ঘটেছে এখানে কিংবা ঘটতে চলেছে । সে গাড়ির গিয়ার বদলাতে যাবে তখনই একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার লক্ষ্য করলো সে । সেতুর পাশের রেল লাইনে একটা ট্রেন দাড়িয়ে আছে ।

ট্রেনটাকে চেনার চেষ্টা করলেন তিনি । মাঝে মাঝেই সেতুর পর হতে গিয়ে ট্রেন পার হতে দেখেন । কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন দিন ট্রেন এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখেননি । আজকে তাহলে ট্রেনটা দাড়িয়ে আছে কেন ? কোন কি ঝামেলা হয়েছে ?

এই কথাটা ভাবতেই জহির শেখ দেখতে পেলেন যে ট্রেনটা নড়ে উঠলো । সেই সাথে মটমট করে কিছু ফাঁটার আওয়াজ শুনতে পেলেন ! চোখ বড় বড় করে সেদিকেই তাকিয়ে রইলেন কেবল । ট্রেনটা কি তাহলে এক্সিডেন্ট করতে যাচ্ছে । আরেকবার নড়ে উঠলো ট্রেনটা । তারপর একটু জোড়েই নড়ে উঠলো । এপাশ থেকেও তিনি মানুষ জনের চিৎকারের আওায়জ শুনতে পেলেন । ট্রেনের ভেতরের যাত্রীদের চিৎকারের আওয়াজ । জহির শেখ দেখলেন ট্রেনটা আস্তে আস্তে পেছন দিকে সরে যাচ্ছে । একেবারে শেষ মাথার দিকে তাকিয়ে দেখলেন একেবারে শেষ বগিটা ভয়ানক ভাবে উপরের দিকে উঠে গেছে ।

কি ঘটেছে সেটা জহির শেখের বলে দিতে হল না । সম্ভবত ট্রেনের ঐ বগিটা নিচের লাইনটা ভেঙ্গে গেছে । এবং বগিটা নিচে পড়ে যাচ্ছে । সেই সাথে টেনে নিয়ে যাচ্ছে বাকি সব বগি গুলোকে । ভয়ংকর এক দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে । কিন্তু একটা বগি বাকি সব বগিকে কিভাবে টেনে নিয়ে যাচ্ছে? এতো ভারি বগি কিভাবে হল ?

ট্রেনটা একটু একটু করে পেছনে সরে যাচ্ছে । জহির শেখ দম বন্ধ করে তাকিয়ে রইলো সে । ঠিক সেই সময়ে সে আরেকটা অবাক করা ব্যাপার দেখতে পেল । সেই ছেলে দ্রুত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে ট্রেনটার দিকে । সেতুর রেলিংয়ের সামনে সে পা দিয়ে দাড়ালো । তারপর নিজের দুই হাত তুলে অনেক কিছু একটা ধরার মত করে বাড়িয়ে দিল ।

জড়ির শেখ কেবল বোকার মত তাকিয়ে রইলো সেদিকে । যেন ছেলেটা অদৃশ্য কোন শক্তি দিয়ে ট্রেনের পতনটা ঠেকানোর চেষ্টা করছে । এবং জহির শেখ অবাক হয়ে দেখলো ট্রেনটা থেমেও গেল ! তবে ছেলেটা যেন একটু একটু কাঁপছে । মনে হচ্ছে সে কোন অদৃশ্য দড়ি দিয়ে ট্রেনটাকে বেঁধে রেখেছে । টানার চেষ্টা করছে ।

জহির শেখের চোখের পলক পড়ছে না । সে বিশ্বাস করতে পারছে না সে কি দেখছে ! তবে এই ছেলেটাই যে ট্রেনটা আটকে রেখেছে সেই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই । কিন্তু কিভাবে হচ্ছে এসব ?

দুই

ট্রেন ম্যানেজার লতিফুর রহমান কাঁপছেন ভয়ে। ট্রেনটা আরেকবার কেঁপে উঠলো। তার বুকের ভেতরে কেঁপে উঠলো আরেকবার। জীবনে কোনদিন ভাবেন নি এমন কিছু ঘটতে পারে তার সাথে। আর কদিন পরেই তার চাকরির সময় শেষ হবে। এমন শেষ সময়ে এসে এমন বিপদে পড়তে হবে সেটা সে ভাবতে পারে নি।

শুরু থেকেই তার এই মালপত্র যাত্রীবাহী ট্রেনে আনার ইচ্ছে ছিল না। তার কথা ছিল মাল বহনের জন্য তো মালবাহি ট্রেন আছে। যাত্রী ট্রেনে কেন? কিন্তু উপরের নির্দেশ কোন ভাবেই অমান্য করার উপায় নেই।

তাও সাধারন কোন মাল হলে কথা ছিল। এই জিনিসটা যে কি সেটা সে নিজেও পরিস্কার ভাবে জানে না। মাটি খুড়ে জিনিসটা পাওয়া গেছে। বেনাপল থেকে দুরে মাটির নিচ থেকে বেশ কিছু পরিমান খনিজ আকারে ছিল এটা। কিন্তু জিনিসটা যে কি সেটা কেউ এখনও বলতেই পারছে না। জিনিস টা যাই হোক সেটা প্রচুর ভারী। এতো ভারী কোন বস্তু হতে পারে সেটা ধারনার বাইরে ছিল। প্রথম ঠিক করা হয়েছিল যে মিলিটারি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু পদার্থটা ট্রাকে তোলার কয়েক মিনিটের ভেতরেই টায়ার ফেটে যাচ্ছিলো। কয়েকটা টায়ার ফেটে গিয়েছিল। একমাত্র ট্রেন ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। তবে সরকারের ধারনা যে এই পদার্থটা খুবই দামী কিছু। শুরু থেকেই সব কিছু গোপনে করা হচ্ছিলো। আগামী সপ্তাহের আগে এই লাইনে কোন মালবাহী ট্রেন নেই। তাই নতুন করে মালামাল বহনের জন্য এখন ট্রেন নিয়ে আসতে গেলে ব্যাপারটা অনেকের চোখে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিদেশি চরের। আর আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত খনিজ গুলো ফেলে রাখতেও ভরশা হচ্ছিলো না কারো না, কারণ বর্ডারের এতো কাছে। যদি বিএসএফ রাতের আধারে কিছু করে ফেলে, যদি খবর পেয়ে যায় তখন!

রিস্ক নিয়ে লাভ কি!

তার যাত্রী ট্রেনের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বগিটা। এবং সাথে একটা আলাদা ইঞ্জিন। এই ট্রেন এখন দুটো ইঞ্জিন টানছে। তবুও লতিফুর রহমান টের পাচ্ছেন যে ট্রেন তার পূর্ন গতিতে যেতে পারছে না। পদার্থটা যে অস্বাভাবিক ভারী সেটা বুঝতে কষ্ট হল না। এই পৃথিবীর কোন পদার্থ এতো হতে পারে সেটা সেটা তার ধারণার বাইরে ছিল।

ট্রেন যখন হার্ডিঞ্জব্রিজে উঠলো, লতিফুর রহমানের মনে একটা ভয় ছিল যে হয়তো কিছু একটা ঘটবে। তবে তেমন কিছু হয় নি। তার ধারনা সত্যি হল যমুনা সেতুতে উঠে। ঠিক মাঝ বরাবর এসেই বিকট শব্দ শুনতে পেলেন তিনি। সাথে সাথেই ট্রেনটা নড়ে উঠলো। পেছনের বগিটা লাইন থেকে সরে গেছে। বগির ভার লাইম নিতে পারে নি।

ট্রেনটা আরেকবার নড়ে উঠলো। তার ফার্স্ট এসিস্ট্যান্ট রাকিব দৌড়ে এল।

-স্যার।

লতিফুর রহমান কিছু বললেন না। সে জানে কি হয়েছে।

রাকিব আবার বলল, স্যার সর্বনাশ হয়ে গেছে। ব্রিজে ফাটল ধরেছে। বগিটার ভার সহ্য করতে পারছে না। কথাটা সত্য করতেই যেন ট্রেন টা এবার ভয়ানক ভাবে দুলে উঠলো। সেই সাথে বিকট শব্দে কিছু ভেঙ্গে পড়ার শব্দ। তারপর পরপরই ট্রেনটা আস্তে আস্তে পেছন দিকে সরতে শুরু করলো। লতিফুর রহমানের বুঝতে কষ্ট হল না কি হতে চলেছে। সে বুঝতে পারলো যে ট্রেনটার পেছনের বগিটা ব্রিজ ভেঙ্গে নিচে পড়ে যাচ্ছে। সেই সাথে আস্তে আস্তে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অন্য সব বগি গুলোকে। সম্ভবত এই দেশের ইতিহাসে এর থেকে বড় ট্রেন দুর্ঘটনা আর ঘটবে না। কত লোক মারা যাবে সেটা সে ভাবতেও পারছে না ।

সেতুর উপরে উঠলে ট্রেনের সকল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় । সেই হিসাবে সব কয়টা দরজা এখন বন্ধ । এই সব দরজা যাত্রীরা কেউ খুলতে পারবে না । কেউ বের হতে পারবে না । প্রাণহানী সংখ্যাটা ভাবতেই তিনি অস্থির হয়ে উঠলেন !

লতিফুর রহমান কাঁপা কাঁপা পায়ে দরজার কাছে হেটে গেলেন । সাথে সাথে ট্রেনটা আরও একটু পেছনে যেতে শুরু করলো ।

তিনি বাইরে তাকালেন ! দেখতে পেলেন একটা ছেলে ঠিক ট্রেনের পাশে সেতুর উপর দাড়িয়ে আছে । তীব্র চোখে তাকিয়ে আছে সেদিকে । ট্রেনটা আস্তে আস্তে পেছনে চলে যাচ্ছে । তখনই ছেলেটা একটা অদ্ভুত কাজ করল । নিজের হাত দুটি সামনে বাড়িয়ে দিয়ে সে কিছু একটা ধরার চেষ্টা করলো । যেন কিছু একটা চেপে ধরেছে সে, টানছে । লতিফুর রহমান ঠিক বুঝতে পারলেন না ছেলেটা কি ধরতে চাইছে কিন্তু সেটার ফল হল অন্য রকম । ট্রেনটা পেছনে যাওয়া থেমে গেল ।

লতিফুর রহমান তীব্র বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইলেন ছেলেটার দিকে । সেতুর আলোতে তিনি দেখতে পাচ্ছেন যে ছেলেটার পেশী ফুলে উঠেছে । তিনি এটা বিশ্বাস করতে চাইলেন না কিন্তু তার সামনে সত্যটা পরিস্কার ফুটে উঠেছে। ট্রেনটা পেছনে যাওয়া বন্ধ করেছে । এবং এটার পেছনে এই ছেলেটা দায়ী ! ছেলেটা কিভাবে আটকে রাখছে সেটা লতিফুর রহমান জানেন না ।

এই সুযোগ ! এখনও ট্রেনের সবাইকে বাঁচানো সম্ভব !

তখনই ছেলেটা লতিফুর রহমানের দিকে ফিরে তাকালো । চোখের সাথে চোখ পড়তেই লতিফুর রহমান কেঁপে উঠলো ।

এই চোখ কি কোন মানুষের হতে পারে !

ছেলেটা মুখ দিয়ে কোন কথা বলল না কিন্তু লতিফুর রহমান বুঝতে পারলেন যে ছেলেটা তাকে কি বলছে ?

ট্রেনের ঐ বগিটাকে খুলে দিতে হবে ! এটাই এক মাত্র উপায় ! হ্যা এটাই করতে হবে ! লতিফুর রহমান মাথা ঝাকালেন । তিনি বুঝতে পেরেছেন ! বগিটা মুল ট্রেন থেকে খুলে দিতে হবে !

তিনি দৌড় দিলেন ট্রেনের ভেতর দিয়ে । তাকে পৌছাতেই হবে ….

তিন

রাফা খুব ভাল করেই বুঝতে পারছে যে ওর শক্তির তুলনাতে ট্রেনটা বেশি ভারী । এতো ভারী জিনিস ওর পক্ষে বেশি সময় ধরে রাখা সম্ভব না । তীব্র মানসিক শক্তি ব্যয় করতে হচ্ছে ওকে ।

যে কোন জিনিস দুর থেকে ধরে রাখার অকল্পনীয় ক্ষমতা ওর ছোট বেলা থেকেই ছিল । কেবল সেই জিনিসটার দিকে তাকিয়ে থাকলেই সেই জিনিসটাকে নিয়ন্ত্রন নড়াচড়া করতে পারতে । আরও ভাল করে নিয়ন্ত্রন করার জন্য নিজের হাত দুটো ব্যবহার করতে হয় । ছোট থেকেই তার ভেতরে এই অদ্ভুত শক্তি বিদ্যমান । এই ট্রেনের বগিটা তার শক্তির তুলনাতে অনেক বেশি ভারী । সেটাকে সে ধরে রাখতে পারছে না । বারবার নিয়ন্ত্রন ছুটে যাচ্ছে যেন !

হলও তাই । তার নিয়ন্ত্রন ছুটে গেল । ট্রেনটা আবার নড়ে উঠলো । দ্রুত পেছনে চলে সরে যেতে শুরু করলো সেটা । রাফা আবারও আগের থেকে আরও বেশি শক্তি দিয়ে সেটাকে ধরে ফেলল বটে কিন্তু বুঝতে পারছিলো সেটা বেশি সময় নিয়ন্ত্রন করতে পারবে না । এরই মধ্যে যদি বগিটা খুলে না দেওয়া হয় তাহলে হয়তো ট্রেনটা বাঁচানো যাবে না । ট্রেনটা যদি পড়ে যায় তাহলে এর ভেতরে থাকা রাফার সেই পরিচিত মানুষটাও নিচে পড়ে যাবে ।

না ! এটা সে কোন ভাবেই হতে দিতে পারে না । এটা সে হতে দিবে না !

ঠিক এমন সময় রাফার কানের কাছে কেউ বলে উঠলো ” তুমি পারবে না ! এতো শক্তি তোমার নেই”

কন্ঠেস্বরটা শুনে তার পুরো শরীরটা যেন কেঁপে উঠলো । সে জানে কন্ঠটা কার ! সে খুব ভাল করেই জানে ! কন্ঠটা তার কানের কাছে নয়, তার মাথার ভেতরে রয়েছে । তার ভেতরে বন্দী রয়েছে ।

কন্ঠটা আবারও বলে উঠলো, লেট মি হেল্প ইউ

রাফা বলে উঠলো, চাই না তোমার হেল্প !

কন্ঠটা যেন এবার হেসে উঠলো । বলল, সত্যিই চাও না ? আরেকবার ভেবে দেখো নিকিতা কিন্তু ভেতরেই আছে । আর তোমার জানা উচিৎ সে একা নয় । সাত মাস হয়েছে কনসিভ করেছে সে !

রাফা কথাটা চিন্তা করতে চাইলো না । নিকিতা যে সাত মাস কনসিভ করেছে সেই খবর রাফা জানে । নিকিতার সামনে যে যায় না আজ প্রায় সাত বছর । ওর বয়স টা আস্তে বাড়ে কিন্তু অন্য মানুষের বয়স বাড়ে স্বাভাবিক ভাবেই । ওকে দেখতে এখনও ইউনিভার্সিটি পড়া ছেলের মত মনে হলেও নিকিতা এখন পূর্ন নারীত্ব পেয়েছে । বিয়ে হয়েছে তিন বছর আগে । আর কদিন পরেই মা হবে সে । এই ট্রেনে করেই সে ঢাকা ফিরছে । ট্রেনের একটা এটি বাথ পুরো ভাড়া করা হয়েছে ওর আর ওর স্বামীর জন্য ।

কন্ঠটা আবারও বলে উঠলো, ভেবে দেখো ! আমি স্বাহায্য করতে পারি !

-চাই না তোমার সাহায্য!

-তুমি চাও । আমি জানি । ইউ আর মাই সান ! তোমার মনের খবর আমি জানবো না ?

রাফা জানে যে সে কি চায় । যে কোন কিছুর বিনিময়ে নিকিতা সে বাঁচাতে চায় । এই জন্যই সে আজকে এখানে এসেছে । আজকে যদি ট্রেনে নিকিতা না থাকতো তাহলে রাফা হয়তো এখানে আসতোও না ।

অবশেষে হার মানলো যে । বলল, কি চাই তোমার !

-কি চাই সেটা তো জানাই আছে । মুক্তি !

-আমাকে কিভাবে সাহায্য করবে ?

-খুব সোজা ! আমাকে মুক্তি দিলেই চারজন ডিমন এসে হাজির হবে এখানে । তোমাকে ঘিরে ধরবে । এনজেলিক রোপ তো চিনো । সেই এনজেলিক রোপ দিয়ে তারা ট্রেনটাকে জড়িয়ে ধরবে । তুমি যে পরিমান শক্তি প্রয়োগ করবে সেটার আরও ১৬ গুণ বাড়িয়ে দিবে তারা ! আর এই এনজেলিক রোপ ছিড়ে যাবে না কোন ভাবেই । এটা তুমি জানো !

রাফা এটা খুব ভাল করেই জানে । এনজেলিক রোপ কোন ভাবেই ছিড়ে যায় না । সব অতিপ্রাকৃত জন্তুকে বেঁধে রাখার জন্য এই এনজেলিক রোপ ব্যবহার করা হয় ।

ভেতর থেকে আবারও কন্ঠটা শোনা গেল ! সো উই হ্যাভ এ ডিল ?

রাফা জোরে একটা দম নিল । তারপর বলল, ডিল !

সাথে সাথেই ঘটনাটা ঘটলো । রাফার মনে হল কেউ যেন ওর ভেতর থেকে বের হয়ে গেল । যদিও তাকে সে দেখতে পেল না । তবে অনুভব করতে পারলো খুব ভাল ভাবেই । রাফা অনুভব করলো এবার ওর কানের কাছে এসে সেইন কন্ঠস্বরটা বলছে, গুড বাই মাই সান । আমার প্লান ঠিকই কাজে দিয়েছে !

-প্লান?

-অফকোর্স ! তোমার কি মনে হয় না এই পৃথিবীতে এমন কোন পদার্থ থাকার কথা না । ট্রেনে যে এলিমেন্ট টা রয়েছে সেটা নরক । যা এই এই পৃথিবী বহন করতে পারে না ।

রাফা মনের ভেতরে একটা আক্রোস অনুভব করলো । সব কিছু পরিস্কার বুঝতে পারলো সে । এই দুর্ঘটনাটা ইচ্ছে করে ঘটানো হচ্ছে কেবল রাফাকে এমন একটা পরিস্থির ভেতরে ফেলানোর জন্য যেখানে রাফাকে নিকিতার জীবন বাঁচানোর জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হয় । নিকিতাকে সরাসরি ক্ষতি করার পথ রাফা অনেক আগেই বন্ধ করে রেখেছে । তাই এই ভাবে কাজটা করেছে ওরা ।

কন্ঠটা আবারও বলল, তবে তুমি জানো আমি আমার দেওয়া কথা সব সময় রাখি ।

তখনই পুরো সেতুর আলো বন্ধ হয়ে গেল । রাফা দেখতে পেল আকাশ থেকে চারটা আলো থপ করে নেমে এল নিচে ! তাদের সবার দেহ আলো দিয়ে তৈরি । লম্বায় ওর থেকে আরও হাত খানেক লম্বা ! ওর দেরি করলো না আর ! চারজনই রাফাকে ঘিরে দাড়ালো । চারজনের শরীর থেকে চারটা আলোর রশ্মি বের হয়ে দেওয়া সৃষ্টি করলো । রেস্লিং খেলার যেমন চার দিকে দড়ি দিয়ে আটকানো থাকে ঠিক সেই রকম ! চার মাথায় চারজন দাড়িয়ে । রাফা দেখতে পেল এবার চারজনের হাতে সেই আলো দিয়ে তৈরি দড়ি ! এঞ্জেলিক রোপ।

সেটা তারা ছুড়ে মারলো ট্রেনের দিকে । দড়ি গুলো সাপের মত পেঁচিয়ে ধরলো ট্রেনটাকে !

এরপর রাফার কাছে এল দড়ির একটা দিক । এই দড়ি কোন ভাবেই হাত ছাড়া করা যাবে না । রাফা আলোর দড়িটা ধরলো । এর আগেও যে এমন দড়ি ধরেছে । তখনই ট্রেনটা যেন আরও একটু নড়ে উঠলো । রাফা একটু ঢিল দিয়েছিলো । ট্রেনটা ওর কল্পনার থেকেও বেশি ভারী !

আবারও টানতে শুরু করলো ।

রাস্তার ওপাশ থেকে বাস ড্রাইভার অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ছেলেটা আর তাকে ঘিরে থাকা চারটা আলোর মুর্তির দিকে । নিজের চোখকে সে বিশ্বাস করতে পারছে না । ছেলেটা স্বাধারন কেউ না । হয়তো জ্বীন । তবে একটা ব্যাপার সে বুঝতে পারছে যে ছেলেটা ট্রেনটাকে বাঁচাতে চাইছে । আলোর মত দড়ি ধরে সে ট্রেনটাকে আটকে রেখেছে । এরই ভেতরে যদি ট্রেন থেকে যদি সবাই নামতে পারে !

চার

জাহিদ খুব ব্যস্ত হয়ে নিকিকে কেবিনের বাইরে আনার চেষ্টা করছে । নিকিতা জাহিদের দিকে তাকিয়ে বলল, জাহিদ, তুমি নেমে যাও । আমার পক্ষে এভাবে নামা সম্ভব না।

-তোমার মাথা ঠিক আছে? তোমাকে ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না। কোথাও যাবে না।

-আছে । যাও প্লিজ !

-তোমাকে ছেড়ে আমি যাবো না । যদি তুমি না নামতে পারো আমিও নামবো না ।

-পাগলামো কর না । তুমি নিজেকে বাঁচাও ।

-না আমি যাবো না । তোমাকে ছেড়ে যাবো না । আমাদের বাবুকে ছড়ে যাবো না ।

নিকিতা কি বলবে বুঝতে পারলো না। চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে এল । আনন্দে । এই মানুষটা ওকে কি পরিমান ভালবাসে সেটা ওর চোখই বলে দিচ্ছে । ট্রেনটা সম্ভবত নদীতে পড়তে যাচ্ছে । একবার পরে যেতে নিয়েছিল কিন্তু কিছুতে একটা আটকে আছে । এখন সবাই ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করছে কিন্তু এতে করে ঝামেলা বেঁধে গেছে । কার আগে কে নামবে সেই প্রতিযোগিতা চলছে । আসলে যখন মরনের ব্যাপার আসে তখন কেউ কাউকে চিনে না । সবাই নিজের প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত । অথচ এই মানুষটা ওকে ছাড়া নামবে পরিস্কার জানিয়ে দিল । নিকিতার এখন কি করা উচিৎ? নামার চেষ্টা করা উচিৎ? সামনের মানুষটা আর নিজের ভেতরে যে নতুন প্রাণটা আছে সেটার জন্য হলেও নিচে নামার চেষ্টা কি করা উচিৎ? নিকিতা খানিকটা অসহায় বোধ করছে । কি করবে ও ?

তখনই ওর চোখ গেল বাইরে । জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকাতেই চোখটা খানিকটা বড় বড় হয়ে গেল ।

রাফা !

কতদিন পরে ছেলেটাকে দেখলো সে ! সাত বছর !

এই সাত বছরে রাফার চেহারা একদমই বদলায় নি। যেন এই সাত বছরে ছেলেটার বয়স একদম বাড়ে নি ।

রাফাকে ঘিরে চারটা আলোর মানুষ দাড়িয়ে রয়েছে । আর তাদের কাছ থেকে আলোর কিছু একটা বের হয়ে এসেছে ট্রেনটার দিকে । নিকিতার তখনই মনে হল আর ভয় নেই । রাফা চলে এসেছে । নিকিতার মনে হল যে আর কোন ভয় নেই । রাফা থাকতে ওর কিছু হবে না । রাফা হতে দিবে না । নিকিতা জাহিদের দিকে তাকিয়ে বলল, চল কেবিনে! দেখো আমাদের কিছু হবে না । দেখো কিছু হবে না

জাহিদ খানিকটা অবাল হয়ে গেল । একটু আগে নিকিতা বেশ ভয় পেয়েছিল । এখন কেমন শান্ত হয়ে গেছে । কি হল এতো জলদি । জাহিদের জানালা দিয়ে বাইরে তাকানোর ইচ্ছে ছিল কিন্তু সেটা আর হল না । নিকিতা তার হাত ধরে রেখেছে । কেবিনের দিকে হাটছে সে । জাহিদ আর কিছু না ভেবে নিজেও কেবিনের দিকে হাটা দিল !

পাঁচ

রাফা নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে এঞ্জেলিক রোপটা ধরে আছে । আগের থেকে আরও শক্ত করে সে ট্রেনটা ধরে রাখতে পারছে । কিন্তু ওর মনে হচ্ছে যে এই শক্তিও যথেষ্ঠ না । ওর নিজের শক্তি যত খানি সে প্রয়োগ করতে পারছে সেই শক্তিটা আরও ষোল গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এই চার জন ডিমনের কারণে । ও যত সময় এই রোপটা ধরে রাখবে এরা ওকে শক্তি দিতেই থাকবে কিন্তু কত সময় সে ধরে থাকবে! এর ভেতরে কী পেছনের ঐ বগীটা ছুটিয়ে দিতে পারবে ট্রেনের ম্যানেজার । একটু আগে রাফার দিকে তাকিয়েছিল লোকটা । রাফার চোখের ভাষা সে বুঝতে পেরেছে । এতো দেরি কেন হচ্ছে ! রাফা কে আর কত সময় ধরে রাখতে হবে কে জানে !

জহির শেখ এক পলকে তাকিয়ে রয়েছে ছেলেটার দিকে । ছেলেটার ঐ আলোর দড়ি ধরে রাখতে কষ্ট হচ্ছে সেটা জহির শেখ পরিস্কার বুঝতে পারছে । ছেলেটা সাধারন কেউ না । হয়তো জ্বীন ! কিন্তু বড় কথা হচ্ছে ছেলেটা ট্রেনটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে । এতো গুলো মানুষকে রক্ষা করতে চাইছে ।

জহির শেখ আস্তে আস্তে এগিয়ে গেল ছেলেটার দিকে । তার বুকের ভেতরে একটু একটু ভয় করছে । সে কি করতে যচ্ছে সেটা সে নিজেও জানে না । তার সাহায্য কাজে লাগবে কিনা সেটাও সে জানে না । তবে একবার চেষ্টা তো করতেই হবে ।

জহির শেখ ভয়ে একেবারে রাফার সামনে গিয়ে দাড়ালো । তার থেকেও আরও ভয়ে ভয়ে সে একটা এঞ্জেলিক রোপের উপর হাত রাখলো। তার চোখ তীব্র বিস্ময় । কারণ আলোর মত দেখতে এই লম্বা দড়িটা সে অনুভব করতে পারছে । হাতে মৃদ্যু উষ্ণতা সে অনুভব করতে পারছে । জহির শেখ এবার নিজের দুই হাত দিয়ে দড়িটা টানতে শুরু করলো । জহির শেখ নিজে যতখানি শক্তি প্রয়োগ করলো ঠিক তার ষোল গুণ শক্ত যুক্ত হলে এঞ্জেলিক রোপে ।

রাফা তক্ষন লক্ষ্য করলে কেবল সেই বাস ড্রাইভারই নয়, বাস থেকে যত মানুষ নেমেছিল, সবাই এতো সময় ধরে ভয়ে ভয়ে দেখছিল ওকে তারা এগিয়ে এল এবং এঞ্জেলিক রোপে হাত লাগালো । সবাই মিলে টেনে ধরে রাখলো ট্রেনটাকে । কিছুতে নিচে পরে যেতে দিবে না । কিছুতেই না ।

এদিকে ট্রেন ম্যানেজার এবং তার এসিস্ট্যান্ট অবশেষে পৌছাতে পেরেছে শেষ বগিতে । মুল ট্রেন থেকে বগিটাকে আলাদা করতে একটু বেগ পেতে হল বটে তবে তারা মুক্ত করতে পারলো। এবং সাথে সাথে হুড়মুড় করে সেটা নিচে পড়ে গেলে । এতো ভাড়ি জিনিসটা থেকে আলাদা হয়ে ট্রেনটা একটু সামনে চলে গেল । এবং থেমে গেল । জোড়ে একটা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললো ট্রেন ম্যানেজার লতিফুর রহমান। যাক অবশেষে সবাইকে রক্ষা করা গেছে ।

কিছু মনে হতেই সে দ্রুত ট্রেনের দরজা দিয়ে তাকালো বাইরে । সেই ছেলেটা কোথায় ?

দেখতে পেল সেই ছেলেটা এখনো ট্রেনটাকে ধরে রেখেছে । তার চারিপাশে ঐ অদ্ভুত লম্বা চার আলো মানুষ গুলো এখনও আছে । নিজ চোখে না দেখলে সে হয়তো কোন দিন বিশ্বাস করতো না । এটাও কি কোন দিন সম্ভব? ট্রেনটাকে এখনও আলোর এই দড়ি গুলো ধরে রেখেছে। এইটা না হলে আজকে ট্রেনটা আজকে কোন ভাবেই রক্ষা করা যেত না । লতিফুর রহমান দেখলো ছেলেটাকে এবং সেঈ চার লম্বা আলোর মানুষকে ঘিরে বেশ কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে । সবার চোখে কৌতুহল । কিন্তু কেউ সামনে এগোতে সাহস পাচ্ছে না।

হঠাই চারজন আলোর মানুষ একই এক সাথেই আকাশে উড়ে চলে গেল ! সবাই সেদিকে তাকিয়ে রইলো । তখন সবাই মাঝে কেবল সেই ছেলেটা । ছেলেটা এক ভাবে ট্রেনের দিকেই তাকিয়ে আছে । তবে ললতিফুর রহমান দেখলে তার দিকে নয় । ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের দিকে একভাবে তাকিয়ে রয়েছে । কেউ কি আছে ওখানে ?

জহির শেখ সব থেকে কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে । সে একটু আগেই দেখেছে আলোর লম্বা মানুষ গুলো কেমন করে উড়ে চলে গেল । এখনও সেই ছেলেটা দাড়িয়েই আছে । একভাবে তাকিয়ে আছে ট্রেনের দিকে । জহির শেখ ভয়ে ভয়ে আরও একটু এগিয়ে গেল ছেলেটার দিকে । তারপর বলল, বাবা তুমি কে?

ছেলেটা জহির শেখের দিকে তাকালো । তারপর একটু হেসে বলল, আমাকে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই । আমি আপনাদের কারো ক্ষতি করবো না । আপনারা যে সাহায্য করলে সেই জন্য ধন্যবাদ !

ছেলেটা আবারও মুখ ফিরিয়ে ট্রেনটার একটা নির্দিষ্ট বগির দিকে তাকিয়েছে । সেই বগির দরজায় একটা সন্তান সম্ভবা মেয়ে এসে দাড়িয়েছে। ছেলেটার দিকে তাকিয়ে সে হাত নাড়ল । ছেলেটাও হাত নাড়লো একবার । এবং সাথে সাথেই পুরো সেতুর উপর অন্ধকার নেমে এল । সব আলো কোন কারণে নিভে গেছে ।

আলো ফিরে এল দশ সেকেন্ড পরেই । কিন্তু সেই ছেলেটাকে আর কেউ দেখতে পেল না । ছেলেটা যেন হাওয়াতে ঊবে গিয়েছে ।

পরিশিষ্টঃ

ট্রেনের দরজাতে দাঁড়িয়ে নিকিতা এক ভাবে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে । একটু আগে আলো চলে গিয়েছিল । সেতু এবং ট্রেনের সব আলো । সব অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল । সেই সময়ই সে অনুভব করতে পারলো কেউ তার খুব কাছে চলে এসেছে । কয়েক মুহুর্তের জন্য যে কেউ তার গালে গালে হাত দিল । এতো বছর পরে এই স্পর্শ পেল সে তবুও চিনতে মোটেই কষ্ট হল না । অনুভব করলো বুকের ভেতরে একটা তীব্র অনুভূতি কাজ করছে । রাফার জন্য যে ভালোবাসা সে লুকিয়ে রেখেছিল সেটা সে আবারও অনুভব করতে পারলো সে !

আলো ফিরে এল । নিকিতা রাফাকে আর দেখতে পেল না । তবুও ওর মনে একটা আনন্দের অনুভূতি হচ্ছে । সে খুব ভাল করেই জানে রাফা কেবল তাকে রক্ষা করতেই এসেছিল । সামনে আবারও যদি কোণ বিপদে পড়ে ঐ মানুষটা ঠিকই আসবে ! সে জানে আসবে । নিকিতা মনে মনে বলল, ভালো থেকে মাই ডার্ক প্রিন্স । তুমি সারা জীবন আমার মনের ভেতরেই থাকবে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.8 / 5. Vote count: 33

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

2 thoughts on “দ্য ইন্সিডেন্ট

  1. ২০১৬ থেকে আজ পর্যন্ত নট আউট আছি অপু তানভীর আর রাফায়েলের সাথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *