4
(5)

আমি এতো বড় হয়ে গেছি কিন্তু এখনও আমি এনিমেশন মুভি দেখতেই বেশি পছন্দ করি । হাতের কাছে ভাল কোন এনিমেশন মুভি পেলে সেটা না দেখে ছাড়ি না । বিশেষ করে এসভ্যাঞ্চার একশান কিংবা হরর এনিমেশন হলে তো কথাই নেই । এমন একটা এনিমেশন মুভি গতদিন দেখে শেষ করেছি । মুভিটার নাম উইকেট সিটি । মুভিটা ১৯৮৭তে মুক্তি পেয়েছে । হিসাব করে দেখলে এটা আমারও জন্মের আগের মুভি ।

মুভির কাহিনী প্লট হচ্ছে দুইটা বিশ্বকে নিয়ে । একটা হচ্ছে হিউম্যান ওয়ার্ল্ড অন্যটা ব্লাক ওয়ার্ল্ড বা বিস্ট এন্ড ডেনব ওয়ার্ল্ড । এই দুই বিশ্বকে একে অন্যের উপরে আধিপত্য কিংবা আক্রমন ঠেকাতে একটা শান্তি চুক্তি বিরাজ করছে যেটা কিনা আরও হাজার বছর আগে সাক্ষরিত হয়েছিলো । আরও একটা নতুন শান্তি চুক্তি হতে যাচ্ছে সামনে এবং সেটা সাক্ষরিত হলে আরও ৫০০ বছর দুই ওয়ার্ল্ডের মাঝে শান্তি বজায় থাকবে । দুই বিশ্বের বেশির ভাগ বাসিন্দাই শান্তি চায় না ।

কিন্তু ডার্ক ওয়ার্ল্ডের কিছু এক্সট্রিমেস্ট রয়েছে যারা মনে করে যে হিউম্যান, মানুষেরা দুর্বল এবং ডার্কওয়ার্ল্ডের উচিৎ হিউম্যান ওয়ার্ল্ড দখল করে নেওয়া । তারা যে কোন উপায়েই চায় যেন এই সামনের শান্তি চুক্তি না হোক ।

টাকি হচ্ছে একজন ব্লাক গার্ড । সে মানুষ এবং ব্লাকগার্ডদের ভেতরে সব থেকে যোগ্য । ব্লাক গার্ডদের কাজ হচ্ছে ডার্কওয়াল্ডের যে সব ডিমেন এই ওয়ার্ল্ডে চলে আসে এবং ক্যায়োস সৃষ্টি করে তাদের থেকে হিউম্যান ওয়ার্ল্ড কে রক্ষা করা । টাকিকে একটা স্পেশাল কাজ দেওা হয় । মাইয়ার্ট নামে এক বৃদ্ধকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয় । এই ২০০ বছরের বৃদ্ধই আগামী কাল হওয়ার শান্তি চুক্তির মুখ্য ভূমিকা পালন করবে । সে ছাড়া কোন ভাবেই চুক্তি হবে না । তাকে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে । এই কাজে টাকিকে একজন সাহায্য করবে । সে এই ডার্ক ওয়ার্ল্ডের একজন বাসিন্দা কিন্তু সেও ব্লাক গার্ডদের হয়ে কাজ করে । মেয়েটির নাম মাকি । মেয়েটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দরী কিন্তু ভয়ানক খুনী । টাকি আর মাকি মিলে মিস্টার মাইয়ার্টকে রক্ষা করার কাজ করে যায় । বারবার ব্লাক ওয়ার্ল্ডের ডিমনরা তাদের হামলা করে । এক পর্যায়ে মাকি নিজে ধরা দিয়ে টাকি আর মিস্টার মাইয়ার্টকে পালিয়ে যেতে দেয় । এবং নিজে ব্লাক এক্সট্রিমিস্টদের হাতে ধরা পরে । এক্সট্রিমিস্টরা মাকিকে নিয়ে টর্চার করে এবং সেই সিন টাকির কাছে পাঠায় টাকিকে বলে যে চাইলে সে তার পার্টনার কে বাঁচাতে পারে । কিন্তু তাকে তাদের কাছে আসতে হবে ।
কিন্তু টাকির কাজই হচ্ছে মিস্টার মাইয়ার্টকে রক্ষা করা । অন্য দিকে টাকির কিছুতেই ভুলতে পারে না যে মাকি নিজে ধরা দিয়ে ওদেরকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে । তাই সে তার ডিউটি ফেলে মাকিকে রক্ষা করতে এগিয়ে যায় । এবং ফিরিয়ে নিয়েও আসে । এদিকে টাকির বস এতে টাকির উপরে রেগে যায় । তাকে বলে তার দায়িত্ব ছিল যে মিস্টার মাইয়ার্টকে রক্ষা করা । সে কিভাবে নিজের ডিউটি ফেলে চলে গেল । এবং টাকিকে কাজ থেকে বরখাস্ত করে । এমনটা আগেই হবে ওরা দুজনেই জানতো । ওরা এবার নিজেদের পথে বের হয়ে যায় । তখনই দেখতে পায় তাদের গাড়িতে মিস্টার মাইয়ার্ট । কখন সে বসেছে ওরা খেয়াল করে নি । ওরা দুজনেই কিছু বুঝতে পারে না ।

তারপর আবারও তাদের উপরে হামলা হয় । এবং তখন একটা টুইস্ট সামনে আসে । কাহিনী আর বেশি বলা যাবে না । তাহলে মুভিটা দেখার আগ্রহ একদম চলে যাবে । এইবার মুভি সম্পর্কে বলি । যেহেতু মুভিটা ৩৩ বছর আগে মুক্তি রিলিজ হয়েছে সেহেতু সেই সময়ে হাই কোয়ালিটির এনিমেশন আশা করাটা বোকামি হবে । তবে সময় হিসাব করলে গ্রাফিক্স ঠিকঠাক ছিল । মুভিতে প্রচুর সেক্সচুয়াল কন্টেন্ট বিদ্যমান । এনিমেশন হলেও এটা কোন ভাবেই বাচ্চাদের মুভি না । মুভির কাহিনী ফাইটিং সিন গল্পের এগিয়ে যাওয়া সব মিলিয়ে মুভিটা দেখার মত একটা মুভি । সময় ভাল কাটানোর মত । ইউটিউবেই মুভিটা পাওয়া যাবে । দেখতে পারেন । তবে পরামর্শ থাকবে যেন হেড ফোন কানে দিয়ে দেখার । কারণ কিছু সেক্সচুয়াল সিনে ভলগার আওয়াজ বিদ্যবান যা আপনার আশে পাশের মানুষ শুনলে অস্বস্তিতে পরতে পারে ।
হ্যাপি ওয়াচিং !

ইউটিউবে দেখতে ক্লিক করুন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4 / 5. Vote count: 5

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *