সাদেক জামিল কিছু সময় তাকিয়ে রইলেন সামনের রাস্তার দিকে। ঘড়িতে বিকেল চারটা বেজে আট মিনিট। এখন তার বাসায় যাওয়ার সময়। তবে এখন বাসায় যেতে পারছে না। একটু আগে সম্ভব্য এক ক্লায়েন্টের কাছ থেকে ফোন এসেছে। সে সাদেকের সাথে তার কেস নিয়ে নিয়ে কিছু কথা বলতে চায়। এবং তার সময়ের জন্য সে ঘন্টা প্রতি দশ হাজার টাকা দিতে প্রস্তুত। টাকার পরিমানটা শুনে সাদেক একটু চমকে উঠেছিল। বাইরের দেশে এমন ঘন্টা হিসাবে পেমেন্ট দেওয়ার একটা সিস্টেম রয়েছে। তবে এই দেশে এমনটা খুব একটা হয় না। কোন মতে যদি ঘন্টা দুয়েক আলাপ করা যায় তবে বিশ হাজার টাকা।
সাদেক জামিল এবার নিজের ফোনের দিকে তাকাল। গতকাল প্রথম তার সাথে কথা হয়। নামটা বলেছিল আরিয়ান রহমান। সে আজকে আসছে। আজকে একটু আগেই আরিয়ান রহমানের ফোন এসেছিল। সে জানিয়েছে যে আর অল্প কিছু সময়ের ভেতরেই সে তার অফিসের সামনে পৌছে যাবে। আরিয়ান তাকে অনুরোধ জানিয়েছে আলাপটা যেন তার ফার্ম হাউজেই হয়। সে একটু প্রাইভেসী চাচ্ছে। সাদেক জামিল বুঝতে পারল যে খুবই গোপনীয় কোনো ব্যাপার নিয়ে সে আলাপ করতে চায়। এমন যে অন্য কারো অফিসেও ভরশা করতে পারছে না। তাই নিজের মত করে আলাপ করতে চাচ্ছে। সাদেকের মনের ভেতরে একটা আশার আলো দেখা দিল। যদি ঠিকঠাক মত সে এই ক্লায়েন্টটাকে ধরতে পারে তবে টাকার অভাব হবে না আশা করা যাচ্ছে। এক ঘন্টার জন্য যে মানুষ দশ হাজার টাকা দিতে পারে না জানি তার কাছে কত টাকা আছে। এই রকম একটা ক্লায়েন্ট থাকলে কি আর অন্য কিছু চিন্তা করতে হয়!
সাদেক জামিলের মনের কথা মনেই রয়ে গেল, এমন সময়ে একটা কালো রংয়ের প্রাডো গাড়ি এসে হাজির হল ঠিক তার সামনে। তারপর দরজাটা খুলে গেল। সাদেক জামিল দেখতে পেল সেখানে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী এক লোক বসে রয়েছে। লোক না বলে তাকে যুবক বলাই ভাল। বয়স ৩০ বা ৩২ এর বেশি কোন ভাবেই হবে না। তার থেকে কয়েক বছরের ছোটই হবে।
সে সাদেক জামিলের দিকে তাকিয়ে একটু হাসল। তারপর বলল, মিস্টার জামিল উঠে আসুন।
সাদেক জামিল কোন চিন্তা না করেই গাড়িতে উঠে বসল।
উঠে বসতেই গাড়িটা চলতে শুরু করল। সাদেক জামিলের মনের ভেতরে একটা অস্বস্তির দানা বাধল বটে তবে সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করল না। এমন গাড়িতে সে এর আগে কোন দিন উঠে নি। সম্ভবত এই কারণেই এমন একটু অস্বস্তি লাগছে। আরিয়ান বলল, আজকে আর কোন এপোয়েন্টমেন্ট নেই তো আপনার?
সাদেক বলল, না আজকের সব কাজ শেষ। আপনার সাথে আলাপ করেই বাসায় যাবো!
-ভেরি গুড। কোন চিন্তা করবেন না। আমিই সব ব্যবস্থা করব। তা আপনি ড্রিংক করেন তো?
ড্রিংকস এর নাম শুনেই সাদেক জামিলের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল। তার নিয়মিত ড্রিংক করার অভ্যাস নেই। তবে সুযোগ পেলে সে হাত ছাড়া করে না। একটু তেলতেলা হাসি দিয়ে সে বলল, হ্যা হ্যা একটু করি।
আরিয়ান বলল, তাহলে আজকে একটু করুন।
-কাজের কথা শুনে নিয়ে তারপর করলে হত না?
-আরে কাজের কথা তো শুনবেনই। আর একটু হুইস্কি পেটে পরলে আমার মনে হয় আপনার ব্রেন একটু খুলবে বেশি ভাল। তখন আরও ভাল পরামর্শ দিতে পারবেন।
সাদেক জামিল আবার একটা হাসি দিল। সে দেখল আরিয়ান একটা বোতল বের করে সেটা মুখ খুলল। তারপর একটা কাচের গ্লাসের প্রায় অর্ধেকটা পুর্ণ করে সাদেকের দিকে বাড়িয়ে দিল। নিজেও নিল একটা গ্লাস। সাদেক জামিল প্রায় এক ঢোকেই সেটা গিলে ফেলল। সাথে সাথে সেটা পুর্ণ হয়ে গেল। এভাবে কয়েক গ্লাস গেলার পরেই সাদেক জামিলের মাথার ভেতরটা একটু যেন ঝিমঝিম করে উঠল। আরিয়ান তখন বলল, এবার সাথে আলাপ করা যাক।
সাদেক জামিল নিজেকে একটু সুস্থির করার চেষ্টা করতে করতে বলল, আচ্ছা শুরু করুন।
জামিলের মনের ভেতরে একটা সুখকর আনন্দের অনুভূতি হচ্ছে। অল্প সময়ের ভেতরে এতো পরিমান এলকোহল পেটে পড়ার কারণে এমনটা হচ্ছে। তবে তার চিন্তা ভাবনা এখনও পরিষ্কার রয়েছে। সে পরিষ্কার চিন্তা করতে পারছে।
আরিয়ান বলল, আমি একটা খুন করেছি।
খুন করার শব্দটা এমন ভাবে সে বলল যে সাদেক জামিলের মনের ভেতরে একটা ধাক্কা যেন লাগল। তবে সেই অনুভূতিটার স্থাইয়ী হল না খুব একটা। সাদেক জামিলের কাছে বরং মনে হল যে মানুষ খুন করতেই পারে। এটা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। আর সে আছে কিসের জন্য। তার পেশাই তো এটা যে সে অন্যায় করা মানুষগুলোকে মুক্ত করতে পারে। এটাই হচ্ছে তার কাজ।
আরিয়ান বলল, আসলে আমি একটা খুন করেছি এবং আরও একটা খুন করব। মোট দুইটা খুন।
সাদেক জামিল বলল, খুন যে করেছে সেটার কোন প্রমাণ নেই তো?
-কী যে বলেন। এতো কাঁচা কাজ আমি করি না। কোন প্রমান নেই। কেউ জানে না।
-এই যে আমাকে বলে ফেললেন!
-আরে আপনি উকিল! কথায় আছে ডাক্তার আর উকিলের কাছে কোন কিছু লুকাতে নেই।
-একদম ঠিক বলেছেন। আমরা সত্যটা জানলে কেস সাজাতে পারে ভাল। অনেকে আমাদের কাছে থেকে আসল সত্য লুকায়, তখন তাদের রক্ষা করা আমাদের পক্ষে কষ্টের হয়ে যায়!
-এই জন্যই তো আপনাকে আগে থেকে বলে দিলাম। যাই হোক কিভাবে খুনটা করলাম সেটা আগে বলি।
সাদেক জামিল তাকাল আরিয়ানের দিকে। আরিয়ান লম্বা কথা বলার প্রস্তুতি নিল।
-বেটাকে আগে ইচ্ছে মত মদ খাইয়েছি। যেন কোন প্রতিরোধই না করতে পারে। যখন একেবারে মাতাল হয়ে বেহুশ কয়ে গেল তখন বেটাকে নিয়ে গেলাম আমার বাসায়।
-আপনি একা?
-আরে না? আমি একা পারি নাকি। আমার ড্রাইভার দেখছেন না? ও আমাকে সাহায্য করল। আমার সব কাজেই সে আমাকে সাহায্য করে। বেটাকে নিয়ে গেলাম আমার বাসায়। আমার বাগান বাসাটা বুঝলেন একেবারে নির্জন এক জায়গায়। বেটার কোন হুসই নাই। দুজন মিলে নিয়ে গেলাম আমার বেজমেন্টে। ওখানেই বেটাকে শক্ত করে বেধে ফেললাম। তারপর একেবারে শরীর থেকে সব জামা কাপড় খুলে ফেললাম। এরপর কী করলাম জানেন?
-কী করলেন?
-বেটার টুনটুনিতে চিনির শিরা ঢেলে দিলাম!
সাদেক জামিল ঠিক বুঝল না। সে খানিকটা বিভ্রান্ত চোখে তাকাল। আরিয়ান বলল, কী বুঝলেন না?
সাদেক জামিল মাথা নাড়ল। সে আসলেই বুঝতে পারল না। আরিয়ান একটু হেসে বলল, আরে বিষ পিপড়ে ছেড়ে দেওয়ার জন্য।
সাদেক জামিল কিছু সময় অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। সে যেন ব্যাপারটা এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না।
আরিয়ান একটু হেসে বলল, হ্যা ওটাই । আপনি যা ভাবছেন। পিপড়েগুলো কামড় শুরুর কিছু সময়ের ভেতরেই মদের নেশা কেটে গেল। তার যে চিৎকার শুরু করল, বেটা। শুনতে বেশ ভালই লাগছিল।
সাদেক জামিল শিউড়ে উঠল। সে আসলে পুরো ব্যাপারটা কল্পনা করতে পারছে। বারবার ব্যাপারটা মনে হচ্ছে আর মনের ভেতরে সুক্ষ অস্বস্তি করা শুরু করল। সে বলল, এরপর?
-এরপর আরকি ! এটা যখন শেষ হল তখনই বেটা আধমরা হয়ে গেছে। এরপ পিপড়েগুলো দূর করতে ওটার উপর এবার পেট্রোল ঢেলে দিলাম।
সাদেক জামিল এবার হা হয়ে গেল। সে কেন জানি বুঝতে পারছে যে এরপর কী হতে চলেছে। আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে একটু হাসল। এই হাসিটা সাদেক জামিলের কাছে খুব ভয়ংকর মনে হল। আরিয়ান যেন তার মনের কথা ধরেই ফেলেছে। সে বলল, হ্যা ঠিকই ধরেছেন। এরপর সেখানে আগুন ধরিয়ে দিলাম।
সাদেক জামিল বেশ কিছুটা সময় চুপ করে রইল। সে বুঝতে পারল যে তার মনের ভেতরে সুখকর অনুভূতিটা কেটে যাচ্ছে। তার কেন জানি মনে হচ্ছে এখানে কিছু একটা সমস্যা রয়েছে। এই দামী আরামদায়ক গাড়িটা তার কাছে ভাল লাগছে না। সেই শুরুর অনুভূতিটা এবার তীব্র হয়ে এল। সামনে বসা মানুষটাকে তার কাছে রহস্যময় আর ভয়ংকর মনে হল। যে মানুষ এই ভাবে কষ্ট দিয়ে কাউকে মেরে ফেলতে পারে, সেই মানুষ কি স্বাভাবিক হতে পারে?
সাদেক জামিল আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল, কেন করলেন কাজটা? মানে তাকে হত্যার পেছনে কারণ কী?
আরিয়ান চোখ করে কিছু সময় যেন কী ভাবল। তারপর বলল, বেটা রেপ করেছিল! তাও আবার মাত্র ১১ বছরের এক মেয়েকে।
আরিয়ান চুপ করল। নিজের হাতের গ্লাসে একটা চুমুক দিল। তারপর আবার বলল, কিন্তু তার শাস্তি পর্যন্ত হয় নি। উকিলের সাহায্য নিয়ে পার পেয়ে গেছে।
সাদেক জামিল কী বলবে সে বুঝল না। আবারও সেই অস্বস্তিটা মনের ভেতরে জেগে উঠল। আরিয়ান বলল, জানেন কালপ্রিটটার নাম কী?
সাদেক জামিল না বলতে চাইলেও মুখ দিয়ে শব্দটা বের হয়ে গেল।
-কী?
-মিলন মিয়া!
নামটা শুনতেই সাদেক জামিলের মুখের ভাবটা কেমন যেন হয়ে গেল। সে এবার সত্যিই বুঝতে পারল যে কোথাও একটা সমস্যা হয়েছে। তার এখানে আর থাকাটা মোটেই ঠিক হবে না। সে যখন একটু নড়ে চড়ে বসল তখনই গাড়িটা থেমে গেল। সাদেক জামিল এতো সময় বুঝতে পারে নি যে গাড়িটা কতদুর এসেছে। গাড়ির দরজা যখন খুলল তখন সাদেক জামিল বুঝতে পারল যে ওরা নির্জন কোন বাড়ির ভেতরে চলে এসেছে। গাড়িটা কিভাবে কতদুর এসেছে সেটা সাদেক জামিলের খেয়াল ছিল না। সে বুঝতে পারল তার সামনে বিপদ। সে বলল, আমি আপনার কেস নিতে পারব না। আমাকে বাসায় যেতে দিন।
যেন সাদেক জামিল খুব মজার কথা বলেছে এমন করে হেসে উঠল আরিয়ান। তার হাতে একটা পিস্তল দেখতেপেল সাদেক জামিল। সেটা কখন যে তার হাতে উঠে এসেছে সেটা সাদেক জামিল এদকমই খেয়াল করে নি। আরিয়ান বলল, চুপচাপ নিচে নামুন।
সাদেক বুঝল যে তার আসলে কোন উপায় নেই। সে যখন গাড়ির দরজা খুলে নামল সেখতে পেল তার আগেই গাড়ির ড্রাইভার তার সামনে এসে হাজির হয়েছে। তার পালানোর কোন উপায় নেই। আরিয়ান নামল তার পেছনে। তারপর হাতের ইশারায় তাকে সামনে এগোতে বলল। সাদেক জামিল হাটতে লাগল। সে হাটতেই লাগল। তার পেছনে রয়েছে দুইজন।
সাদেক জামিল পা টেনে টেনে হাঁটছিল, পেছনে আরিয়ান আর ড্রাইভার। বাগানের সরু পথ শেষ হয়ে লোহার দরজাটা এসে গেল। ভেতর থেকে স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডা হাওয়া বেরিয়ে আসছে। দরজা খোলাই ছিল।
আরিয়ান বলল, আপনি নিশ্চয়ই মনে করছেন এটা অন্যায়। কিন্তু ঐ ১১ বছরের মেয়েটার কথা একবার ভাবুন।
সাদেকের গলা শুকিয়ে কাঠ। সে ফিসফিস করে বলল, আমি… আমি তো শুধু আমার কাজ করেছি।
-সব কাজ কি করা উচিত?
আরিয়ান একটু হাসল, কিন্তু হাসিতে কোনো আনন্দ নেই।
-আইন তো আপনার মুখ থেকেই বের হয়েছিল সেদিন কোর্টে। প্রমাণের অভাব, সাক্ষীদের অসঙ্গতি, যৌন হয়রানির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত… মনে আছে?
সাদেকের মাথা ঝিমঝিম করছে। মদের নেশাটা এখনো কাটেনি, কিন্তু ভয়টা এখন সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। সে চোখ বুজে ফেলল।
-আমি জানতাম না… মানে, পুরোটা জানতাম না। আমি শুধু—
-শুধু টাকা নিয়েছিলেন।
আরিয়ান কথাটা শেষ করে দিল।
-আর মিলন মিয়াকে বাঁচিয়ে দিলেন। যাতে সে আবার কারো মেয়ের জীবন নষ্ট করতে পারে।
তারা বেজমেন্টে নামল। ঘরের মাঝখানে একটা চেয়ার। মেঝেতে কালো পলিথিন। পাশের টেবিলে পেট্রোলের ক্যান, লাইটার।
ড্রাইভার সাদেককে চেয়ারে বসাল। হাত পেছনে বেঁধে দিল। সাদেক আর কোনো প্রতিরোধ করার চেষ্টাও করল না। সে জানে তার আসলে চেষ্টা করে লাভ নেই।
সাদেকের গলা থেকে একটা কান্নার আওয়াজ বের হল। সে কাঁদতে কাঁতে বলল, আমি জানতাম না… আমি সত্যি জানতাম না…
-আপনি সব জানতেন! সব।
আরিয়ান কিছু সময় চুপ করে রইলো। তারপর বলল, আপনার বুদ্ধিতেই তো লকল সাক্ষী তৈরি করা হয়েছিল। মেয়েটার একটা ভুয়া প্রেমিক তৈরি করেছিল। তাই না?
সাদেক চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু গলা দিয়ে শুধু ফোঁপানি বের হচ্ছে।
-দয়া করে… আমার বাচ্চা আছে… আমি আর কখনো—
আরিয়ান থামল। তার চোখে একটা অদ্ভুত শান্ত ভাব।
-নিজের বাচ্চার কথা কেন ভাবলে না জামিল? কেন?
সে পেট্রোলের ক্যানটা সাদেক জামিলের শরীরে ঢেলে দিল। দিল। সাদেক ছটফট করতে শুরু করল, চেয়ারটা নড়ে উঠল।
আরিয়ান পেছনে সরে গেল। পকেট থেকে লাইটার বের করল।
-আপনি জানেন—
লাইটার জ্বালাল। ছোট্ট নীল আগুনের শিখা।
সাদেকের চোখে শুধু আতঙ্ক। সে আর কথা বলতে পারছে না। শুধু মাথা নাড়ছে—না, না, না…
আরিয়ান শিখাটা নামিয়ে আনল।
পলিথিনের ওপর প্রথম আগুনের ছোঁয়া লাগতেই ঘরের ভেতরটা আলো হয়ে উঠল। তারপর চিৎকার। একটা ভয়ংকর, গলা ফাটানো চিৎকার।
বাইরে বাগানে রাতের হাওয়া বইছে। পাতা খসছে। কিন্তু ভেতরের আওয়াজ বাইরে পৌঁছাচ্ছে না।
আর কিছুক্ষণ পর সব চুপ হয়ে গেল।


গল্পটা পড়ে একটা অদ্ভুত ভারী অনুভূতি ঘিরে ধরেছে। সমাজে অনেক সময় এমন ঘটনা ঘটে, যেখানে আইনের ফাঁক গলে অপরাধীরা বের হয়ে যায়, আর সেই অন্যায়ের যন্ত্রণা অন্য মানুষের মনে ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তখন ন্যায়বিচার আর প্রতিশোধের মাঝের সীমারেখাটা যেন ঝাপসা হয়ে যায়। গল্পটা সেই কঠিন বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দিল।
অন্যায়, ক্ষমতা, টাকা আর ভুক্তভোগীর অসহায়তার অন্ধকার দিকটা গল্পে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। শেষটা খুব রুক্ষ ও কঠিন ছিল, কিন্তু গল্পের মূল কথাটা মনে গেঁথে রইল।
এমন একটি গল্প উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
বাংলাদেশে রেপ ভিক্টিমদের বিচার হয় না বললেই চলে। এই যে বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি এটাই এই অন্যায়ের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয় আরও বহুগুনে। কয়েক বছর আগে হারকিলিস নামে এক অজ্ঞাত সন্ত্রাসীর কথা হয়তো আপনার মনে থাকার কথা যে কিনা বেশ কয়েকটা রেপিস্টদের খুন করেছিল। এই নিয়ে আমার অন্য একটা গল্পও আছে। কদিন সংবাদে এই অপরাধগুলো এতো পরিমানে বেড়ে গেছে যে কী বলব! এদের আসলে এইভাবে কঠিন ভাবে শাস্তিই প্রাপ্য!
রোজার মাসে একের পর এক যেরকম নারকীয় ঘটনা শুরু হয়েছে তাতে গল্পের মতো কোনো পানিশার সত্যি সত্যি আসলে খুবই ভালো হতো।
খুব সুন্দর গল্পটা।
এই রকম কিছু ঘটনা কিন্তু আমাদের দেশেই ঘটেছিল কয়েক বছর আগে। হারকিউলিস নামে সেই ধর্ষকদের নরকে পাঠাত।