4.9
(31)

নিমুকে স্কুলে নামিয়ে আমি গাড়িটা স্কুলের সামনেই দাড় করিয়ে রেখেছি । কোন দিকে যাবো ভাবছি । আজকে আমার ডিউটি রাতের বেলা । সকাল বেলা নাস্তা করেই বের হয়েছি । তাই এখনই বাসায় যাওয়ার কোন দরকার নেই । কোন দিকে যাবো যখন ভাবছি তখনই গাড়ির পেছনের দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম । তখনই মনে হল নিমু বের হয়ে যাওয়ার পর আমার গাড়িটা লক করতে মনে নেই । এই ভুলটা আমার বারবার হয় । আমি পেছনে তাকিয়ে দেখলাম একটা মেয়ে গাড়ির ভেতরে উঠে বসলো । আমার দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে বলল, এটা নিমুদের গাড়ি না?

আমি কোন কথা না বলে মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম । অনেক দিন পরে নিখুত চেহারার কোন মেয়েকে আমি দেখলাম । চোখের রং ঠিক কালো নয় । বিড়ালী মত চোখ । পাতলা ঠোটে গাঢ় করে লিপস্টিপ দেওয়া । সেই তুলনাতে মুখে মেকআপ নেই বললেই চলে । চুলগুলো স্ট্রেইট করে এক পাশে রাখা । হাতে একটা কালো রংয়ের হ্যান্ডব্যাগ । আমার দিকে মেয়েটা আবার বলল, নিমু হৃদি একই সাথে পড়ে । আমি হৃদির খালা হই । আমাকে একটু বাংলামোটর নামিয়ে দাও দেখি ।

এতো সময়ে পরে আমার মনে হল মেয়েটা আমাকে গাড়ির ড্রাইভার মনে করছে । কিছু বলতে গিয়েও বললাম না । কেন বললাম না সেটা আমি নিজেও জানি না । আমার পরনে একটা পুরানো টিশার্ট । নিচে একটা থ্রিকোয়াটার পরা । যেদিন রাতে আমার নাইট ডিউটি থাকে সেদিন আমি বেলা করেই ঘুমাই । আজও তাই করছিলাম । এমন সময় ভাবী এসে আমাকে ডেকে তুলল । ভাইয়া নাকি সকালেই অফিসে বের হয়ে গেছে। একটু পরে এ লোক আসবে পানির পাইপের কাজ করানোর জন্য । তাই ভাবীর এখন বাসায় থাকাটা জরূরী । নয়তো সে নিজে নিমুকে স্কুলে নিয়ে যেত । আমার যেহেতু কোন কাজ নেই তাই আপাতত আমি যেন একটু নিমুকে স্কুলে নিয়ে যাই । ভাইয়া গাড়ি রেখে গেছে ।

কি আর করা । ভাতিজীকে নিয়ে চলে এলাম স্কুলে । তাকে নামিয়ে দিয়ে ফিরে যাবো ভাবছি তখনই এই মেয়ে গাড়িতে উঠে আমাকে ড্রাইভার ডেকে ফেলল । আমি আয়নাতে নিজের চেহারাটা আরেকবার দেখার চেষ্টা করলাম । আমাকে কি কোন ভাবে এই গাড়ির ড্রাইভারের মত লাগছে? নিজের পুরানো টিশার্টের দিকে আরেকবার চেয়ে রইলাম । ভাবী বলছিলো শার্ট পরে আসতে আমিই বলেছিলাম কোন দরকার নেই । গাড়িতে করে যাবো আর ফিরে আসবো এখানে শার্ট গায়ে দেওয়ার কো দরকার দেখছি না ।

আমি গাড়ি চালু করলাম । মেয়েটা গাড়িতে উঠেই নিজের মোবাইলে ব্যস্ত হয়ে গেছে । আমি লুকিং গ্লাসে মেয়েটাকে বারবার দেখতে লাগলা । সত্যি বলতে কি মেয়েটার চেহারার কারণেই মেয়েটাকে আমি কোন কথা বললাম না । বলতে পারলাম না । চেহারা নিয়ে আমার কোন ফ্যাসিনেশ কোন দিনই ছিল না তাহলে এই মেয়ের চেহারা আমার মনে এমন ভাবে ধাক্কা কেন দিলো ।

বাংলামোটরে মেয়েটা নেমে গেল । নামার সময় আমার দিকে একটা ৫০টাকার নোট বাড়িয়ে দিলো । আমাকে কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মেয়েটা বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রের গলিতে ঢুকে পড়লো । আমি আরও কিছু সময় তাকিয়ে থাকতে চেয়ে ছিলাম মেয়েটার চলে যাওয়া পথের দিকে কিন্তু পেছন থেকে গাড়ির হর্ন শুনে সামনে এগিয়ে যেতে হল । খুব ইচ্ছে হল গাড়িটা এক পাশে রেখে আমিও গলির ভেতরে ঢুকে পড়ি। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের গলি তাই খুব সম্ভবনা রয়েছে মেয়েটা সম্ভবত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে নয়তো বাতিঘরে ঘুরেছে । বাতিঘরে ঢোকার সম্ভবনা বেশি । কিন্তু চিনন্তাটা বাতিল করে দিলাম । আমি কোন টিনএজ ছোকরা না । আমার এই সব হ্যামলামো মানায় না ।

মেয়েটার সাথে আমার দেখা হল আবার । এবার আমার নিজের এড়িয়াতে । সেদিনও আমার নাইট ডিউটি ছিল । রাত এগারোটার দিকে ওয়ার্ডের গেটের কাছে একটু হইচই শুনে এগিয়ে দেখি আমাদের দারোয়ান কাউকে আটকে রেখেছে । ভেতরে ঢুকতে দিবে না কিন্তু সেই মানুষটা ভেতরে আসবেই । এবং সেই মানুষটা আর কেউ নয় হৃদির খালামনি । আমি সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি সমস্যা সারোয়ার?
সরোয়ার ওয়ার্ডের দারোয়ানের নাম । সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, দেখুন তো স্যার আমি বলছি দশটার পরে বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না কিন্তু ইনি শুনছেনই না । আমার দিকে তাকাতেই একটু যেন থমকে দাড়ালো সে । চোখে খানিকটা অবিশ্বাস দেখতে পেলাম । সেদিন আমাকে ড্রাইভার ভেবে ভুল করেছিলো । আজকে সেটা বুঝতে পেরেছে । আমি সরোয়ারকে বললাম, আচ্ছা সমস্যা নেই । উনাকে আসতে দাও । তারপর তার দিকে তাকিয়ে বললাম, বেশি সময় দেওয়া যাবে না । আধা ঘন্টা ! ঠিক আছে?
সে বলল, হ্যা । তাতেই চলবে !

মেয়েটির নাম আমি কৌশলে নিমুর কাছ থেকেই জেনে নিয়েছিলাম । মৌমিতা রহমান । ঢাবি থেকে মাস্টার্স করছে । মৌমিতা হাতের ব্যাগ নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল । আমার সাথে সাথে হাটতে লাগলো । আমার খানিকটা কৌতুহল জাগলো যে মেয়েটা কার সাথে এতো রাতে দেখা করতে এসেছে । পরিবারের কেউ কি ! আমরা পরিবারের একজনকে রাতে রোগীর সাথে থাকতে দেই । কিন্তু আর সবাইকে চলে যেতে হয় রাত দশটা বাজলেই । আমি একটু গলা খাখারি দিয়ে জানতে চাইলাম, কাকে দেখতে এসেছেন?
মৌমিতা বলল, আমার এক বন্ধু । ওর আসলে ঢাকাতে দেখার মত কেউ নেই ।

হঠাৎই মনের ভেতরে একটা অচেনা অনুভূতি হল । আমি বুঝতে পারলাম না এই অনুভুতির উৎস টা কি ! কেন এমন টা মনে হচ্ছে আমার ! এমনটা হওয়ার কোন কারণ আছে কি ?
আমি ওয়ার্ডের দরজা পর্যন্ত গিয়ে থেমে গেমাল । মৌমিতাকে দেখলাম একটা বেডের কাছে গিয়ে দাড়াতে । ছেলেটাকে চিনতে আমার কষ্ট হল না । বাদল নাম । লিউকোমিয়ার পেসেন্ট । এখন অবস্থা বেশ খারাপের দিকে । কতদিন আর বাঁচবে সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না । এবং ছেলেটা যতদুর জানি এতিম । কাউকেই আসতে দেখি নি ভর্তি হওয়া পর্যন্ত ! এতোদিন ছেলেটার প্রতি আমার একটা মায়া জন্মেছিল কিন্তু হঠাৎ করেি বাদলকে কেন জানি আমার অপছন্দ হতে শুরু করলো । কোন কারণ নেই তবুও আমি ছেলেটাকে ঈর্ষা করতে শুরু করলাম ।

আধা ঘন্টা পরে মৌমিতা যখন বের হল তখন ওর চোখ মুখ কেমন বিষণ্ণ দেখলাম । আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ঐদিনের ব্যবহারের জন্য আমি সরি । আমি আসলে চিনতে পারি নি আপনাকে !
-না না ঠিক আছে । কোন সমস্যা নেই । আর তাছাড়া ঐদিন আমি ড্রাইভারই ছিল ।
-আপনি নিমুর ছোট চাচু হন । আপনার কথা শুনেছি ভাবীর মুখে । আমার বোঝা উচিৎ ছিল ।
আমি হাসলাম ! মৌমিতা আবার বলল, আর আজকের জন্য ধন্যবাদ !

কিছু সময় দুজন চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম দরজার কাছে । মৌমিতা কিছু যেন জানতে চেয়েও চাচ্ছিলো না । এক সময় বলেই ফেলল, বাদলের অবস্থা কি খুব খারাপ?
-হ্যা । একটু বেশিই খারাপ । আমার মনে হয় না এ যাত্রায় ও সারভাইভ করবে !
মৌমিতার চোখে একটা অশ্রুর রেখা দেখতে পেলাম আমি । আমার মনের ভেতরে আবারও যেন একটা তীব্র ঈর্ষাবোধ জমে উঠলো । আমি নিজের ভেতরের এই অনুভূতি দেখে নিজেই অবাক হয়ে গেলাম । সত্যি বলতে কি মৌমিতার সাথে ঐদিন দেখা হওয়ার পর থেকেই মনের ভেতরে একটা ছোট স্বপ্ন জেগেছিল যে ওকে বিয়ে করার । আমার বিয়ের জন্য মেয়ে খোজা হচ্ছে । আমার ইচ্ছে ছিল বাসায় বলবো যেন পাত্রী হিসাবে মৌমিতাকেই পছন্দ করা হয় । কিন্তু এখানে যা দেখটে পাচ্ছি বাদল নামের ঐ পেসেন্টের প্রতি মৌমিতার একটা তীব্র অনুভূতি রয়েছে ।
আমার বারবার কেবল মনে হচ্ছে কেন থাকবে !

মৌমিতা চলে যাওয়ার পরে আমি বেশ কয়েকবারই বাদলের বেডের সামনে গিয়ে হাজির হলাম । কয়েকবার সব কিছু চেক করতে থাকলাম । বারবার মনে হতে থাকলো এই বেটা যদি বেঁচে না থাকে তাহলে মৌমিতা আমার হবে । ওকে পাওয়া সহজ হবে । পরক্ষণেই নিজের কাছেই নিজেকে ভৎসনা দিয়ে দিলাম । কি ভাবছি আমি ! আমি একজন ডাক্তার ! একজন ডাক্তার হয়ে আমি এমন কিছু কিভাবে ভাবতে পারি !

কিন্তু বাদল বেশি দিন বাঁচলো না । দুইদিন পরেই বাদলের করোনা ধরা পড়লো । এবং সেটা বুঝে ওঠার আগেই খারাপের দিকে মোড় নিল । বাদলের শারীরিক অবস্থা আগে থেকেই বড় নাজুক ছিল, করোনা তাই খুব দ্রুত এফেক্ট করলো ওর দেহে ! এগারো দিনের মাথায় বাদল মারা গেল । আমি জানতাম যে বাদল বেশিদিন বাঁচবে না কিন্তু এতো দ্রুত যে মারা যাবে সেটা আমি বুঝতে পারি নি । প্রতিটি মৃত্যুতে আমার মন সিক্ত হয় । কিন্তু এই মৃত্যুতে আমার কেন জানি মোটেই মন খারাপ হল না ।

এরপর সব কিছু যেন বেশ দ্রুতই হতে শুরু করলো । মৌমিতাদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হল । পাত্র হিসাবে আমি মোটেই খারাপ নই । আমি জানতাম ভাবী ঠিকই রাজি করিয়ে ফেলবে সবাইকে । তবে মৌমিতার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত ছিলাম না । মনে হচ্ছিলো যেন ও হয়তো নাও রাজি হতে পারে । মানে সদ্যই সে তার প্রিয় একটা মানুষকে হারিয়েছে । এমন সময়ে সে হয়তো রাজি নাও হতে পারে ! কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়েই মৌমিতা রাজি হয়ে গেল । পরের মাসেই আমাদের বিয়ে হয়ে গেল । প্রথম প্রথম একটু বিষন্ন থাকলেও মৌমিতা সব সামলে উঠলো । আমাকে ভালবাসতে শুরু করলো সেও । একটা সময়ে আমি নিজেও সেটা অনুভব করতে পারলাম । মেয়েটা সত্যি আমাকে ভালবাসতে শুরু করেছে ।

তবে আমার মনের মাঝে একটা খচকচানী রয়েই গেল । আমি সেই সময়ে বাদলের মৃত্যু চেয়েছিলাম । এই কাজটা আমার করা মোটেও উচিৎ হয় নি । মোটেই না । বারবারই কেবল মনে হয় যেন বাদলের ঐ মৃত্যুর জন্য বুঝি আমি নিজে দায়ী ! এই অপরাধবোধটা আমাকে কোনদিনই পরিপূর্ণ ভাবে শান্তি দেয় নি । তাই ঠিক করলাম যে এই কথাটা আমি মৌমিতার কাছে স্বীকার করবো । এটা স্বীকার করলে হয়তো আমার শান্তি লাগবে !

অপরাধ স্বীকার

আমি যখন মৌমিতাকে সব টুকু খুলে বললাম তখন মনের ভেতরে একটা সম্ভবনা দেখা দিচ্ছিলো যে মৌমিতা বুঝি আমাকে ঘৃণা করা শুরু করবে । ওকে বলেছিলাম যে আমি যদিও চেয়েছিলাম তবে আমি বাদলের চিকিৎসার কোন ত্রুটি করি নি । একজন প্রেমিক যে ভাবে ঈর্ষা করে আমার ঈর্ষা টুকু ছিল সেই রকম !

মৌমিতা আমার দিকে তাকিয়ে থেকে একটু যেন হাসলো । তারপর বলল, তুমি এই টুকুর জন্য শান্তি পাচ্ছো না? এমন বোকা কেন তুমি !
আমি কিছু না বলে চুপ করে তাকিয়ে রইলাম । মৌমিতা আমার কাছে এসে বসলো । তারপর আমার হাত ধরে বলল, তোমার চোখ দেখেই আমি সেদিন বুঝেছিলাম যে তুমি আমাকে পছন্দ করেছো । আর এটা খুব স্বাভাবিকই যে পছন্দের মানুষকে অন্য কোন পছন্দ থাকলে সেটা ভাল লাগবে না । মনে যেন সে ধ্বংশ হয়ে যাক । এটা নিয়ে মন খারাপ কিংবা অপরাধবোধ ধরে রাখার কোন দরকার নেই । বুঝতে পেরেছো কি !
-হুম !
-এই তো ভাল লক্ষ্যী ছেলে ! এবার আসো তো শুয়ে পড়া যাক ! কাল সকালে তোমার ডিউটি রয়েছে !

আমি ভাবতে পারি নি ব্যাপারটা মৌমিতা এভাবে নেবে । মনটা খুশি হয়ে গেল এক নিমিষেই । সেই সাথে মনের ভেতরে যে অপরাধবোধ ছিল সেটাও দুর হয়ে গেল । আমি মোমিতাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লাম !

পরিশিষ্টঃ

রাত গভীর হয়েছে । মৌমিতা তাকিয়ে দেখলো তার স্বামী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন । ওকে জড়িয়ে শুয়ে ছিল । খুব সাবধানে নিজেকে তার বাহু বন্ধন থেকে মুক্ত করে মৌমিতা বিছানা থেকে উঠে এল । দাড়ালো ঘরের লাগোয়া বারান্দায় গিয়ে । দুরে তাকিয়ে দেখলো । শূন্য অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেল না সে । যদিও কিছু দেখছে না সে । মনের ভেতরে বাদলের চিন্তাটা খেলা করছে । দুর করতে পারছে না কিছুতেই ।
বাদল এমনি এমনি মারা যায় নি । যদিও সব কিছু স্বাভাবিকই মনে হয়েছে তবুও মোমিতা জানে যে বাদলের শরীরে কিভাবে করোনার ভাইরাস ঢুকেছে । সেটা কোন দুর্ঘটনা ছিল না । বরং ইচ্ছাকৃত ছিল । ঐদিন মৌমিতা খুব ভাল করেই জানতো যে সে নিজে করোনা পজেটিভ ।একটু আগেই সে রিপোর্ট পেয়েছিলো । সেই জন্য সে তাড়াহুড়া করে বাদলের সাথে ঐ রাতের বেলা দেখা করতে গিয়েছিলো । ইচ্ছে করেই বাদলের হাত ধরেছিলো, মুখ তুলে খাইয়ে দিয়েছিলো । মৌমিতা খুব ভাল করেই জানতো বাদলের করোনা হলে সে আর টিকতে পারবে না !
মৌমিতা ক্লান্ত হয়ে উঠেছিলো ওদের সম্পর্কের উপরে । বিরক্ত ধরে গিয়েছিলো । না পারছিলো বাদলকে ছেড়ে দিতে না পারছিলো কাছে টেনে নিতে । বুঝে গিয়েছিলো বাদলের মৃত্যু ছাড়া তার মুক্তি নেই । হয়তো কয়েক মাস পরেই বাদল মারা যেট কিন্তু মৌমিতার একটুও সহ্য হচ্ছিলো না।

এসব ভেবে আর লাভ নেই এখন । মৌমিতা আবারও ঘরে ফিরে এল । ঘুমন্ত স্বামীর দিকে তাকিয়ে মনটা ভাল হল ওর । বাদল ওর জীবনে একটা ভুল ছিল । এমন কি বাদল যদি সুস্থ থাকতো, ওর বাবা মা কোনদিন বাদলকে মেনে নিতো না । মেনে নেওয়ার মত ছেলে বাদল ছিল না । মাঝে মাঝে মৌমিতা নিজেই বুঝতে পারে না কি দেখে সে বাদলের প্রেমে পড়েছিলো !
এখনও কি বাদলকে ভালোবাসে ?
না ! দৃঢ় ভাবে নিজের মনকেই শোনালে সে । বাদল একটা ভুল ছিল ওর জীবনে । যেটা সে ঠিক করে নিয়েছে । এখন ওর নতুন জীবন ।এটা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে ।

স্বামীর পাশে শুয়ে পড়লো সে । সকালে উঠে তারও ক্লাসে যেতে হবে !

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.9 / 5. Vote count: 31

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

One thought on “পাপ স্বীকার

  1. এই গল্পটির সূত্র টেনে একটি হরর রাফায়েল সিরিজ করলে খুশি হবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *