টিকটক প্রেমিকা

oputanvir
4.6
(52)

আমি এখনও ঠিক বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি মেয়েটির সাথে দেখা করতে চলে এসেছি । এখনও জানি না মেয়েটা আসবে কিনা ! গতকালকের পরে আর আজকে মেয়েটা আমার সাথ কোন প্রকার যোগাযোগ করে নি । এমনটা হতে পারে যে মেয়েটা হয়তো আমাকে আবেগের বসে মেসেজটা পাঠিয়েছিলো রাতেরবেলা । রাতের বেলা আমাদের অনেকের অনেক রকম কাজ করতে ইচ্ছে করে, আমরা যখন একা থাকি কিংবা আমাদের রাতের বেলা যখন ক্ষুদা লাগে তখন আমাদের মাথা ঠিক মত কাজ করে না । তখন নানান আউলফাউল চিন্তা আসে !

আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম । নওরিন আমাকে বেলা এগারোটায় সময় দিয়েছিলো । আমিও নাচতে নাচতে চলে এসেছি । অবশ্য তাবাক কফিটা আামর বাসা থেকে খুব বেশি দুরে না । আর আজকে আমার ক্লাস নেই । বিকেল বেলা টিউশনি। সুতরাং এখানে সকালে আসার ব্যাপারটা খুব বেশি সমস্যা না ।

ঘটনা তেমন কিছু না । আমি অনেক দিন ধরেই একটা মেয়েকে টিকটক আর তার ইনস্টাগ্রামে ফলো করি । যদিও আমাদের ভেতরে অনেকে টিকটকারদের পছন্দ করে না, তাদের নিয়ে ট্রোল করে তবে আমি ওদের ভিডিও দেখি । আমার বেশ ভালই লাগে । আর একটা হচ্ছে হচ্ছে আমি চাইলেই আমার রূচি অনুযায়ী ভিডিও আসবে আমার ফিডে । আমি এমন সব মানুষকে ফলো করি যাদের কনটেন্ট বেশ ভাল । বেশ কিছু লার্নিং আইডিকে ফলো করি । হ্যা নাচানাচিও দেখি । আমার তো অবসর সময় ভালই লাগে । তেমনই একজন টিকটকার নওরিন আহসান ।

মেয়েটাকে দেখতে আমার খুব ভাল লাগে না । বিশেষ করে তার আসল চেহারারার ভেতরে একটা মায়ামায় ভাব আছে । মেয়েটা কখনই উগ্র মেকাপ বা পোশাক পরে না । সেলোয়ার কামিজ শাড়ি পরেই বেশির ভাগ ভিডিও করে । এছাড়া নানান রকম ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করে । ওদের পোশাকের এড করে । খুবই বিখ্যাত । প্রতিটা ভিডিও মিলিয়নের উপরে ভিউ হয় ।

এই মেয়েটার ইনস্টাগ্রামে আমি গতকাল রাতে একটা স্টোরীর রিপ্লাই দিয়েছিলাম । কেন দিয়েছিলাম আমি জানি না । আমি সাধারণত সেলিব্রেটিদের স্টোরীটে কখনও রিপ্লাই করি না । করে লাভও নেই জানি । আমি বন্ধুদের স্টোরীতেই রিপ্লাই করি না । কিন্তু কাল কী মনে কল রিপ্লাইটা করলাম । রাত তখন দুইটার মত বাজে । আমি ঘরের আলো বন্ধ করে ইনস্টাগ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছি । তখনই স্টোরিটা চোখের সামনে এল । মেয়েটা সম্ভবত ঘুমানোর আগে একটা ছবি দিয়েছে । একটা টিশার্ট পরা । কোন প্রকার মেকাপ নেই মুখে । একেবারে আসল চেহারা !

মেকাপ দেওয়া একেবারে পরিস্কার দাগহীন কোন চেহারা না ! মুখে একটু দাগও রয়েছে যেটা সবার স্বাভাবিক ভাবেই সাথে । ঠোঁটে কোন লিপস্টিক দেওয়া নেই । আমি কিছু সময় ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলাম । তারপর কী যে মনে হল মেয়েটার সেই স্টোরীতে একটা রিপ্লাই দিলাম ।

আমি ছবিটার একটা স্ক্রিনশট নিয়ে সেটা নিজের ওয়ালপেপারে সেট করলাম । কাল সকালে ঘুম ভাঙ্গলে প্রথম যখন মোবাইল খুলবো তখন এই ছবিটাই আমার চোখে পড়বে । দিনের শুরুটা ভাল হবে ।

আমি মোবাইল রেখে ঘুমাতেই যাবো তখনই দেখলাম একটা মেসেজ এল । আমি অন করতেই চোখ কপালে উঠলো । নওরিন আমার মেসেজের রিপ্লাই দিয়েছে ! আমি নিজের চোখকে যেন ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । এমনটা হতে পারে না । কোন ভাবেই হতে পারে না । তবে হয়েছে ।

নওরিন লিখেছে, সবার সাথেই কি এভাবেই ফ্লার্ট করেন?
আমি বিস্ময়ের ইমোজি দিলাম । তারপর বললাম, সত্যি কথা বলেছি । ফ্লার্ট পেলেন কোথায়?
নওরিন লিখলো, সত্যিই না ছাই । এই দাগওয়ালা চেহারা কেউ পছন্দ করে ? সবাই পোলিশ করা চেহারাই পছন্দ করি ।
-আমি তো এমনই পছন্দ করি । এই দেখি আমার ওয়ালপেপারেও এই ছবি !

এই বলে আমি আমি মোবাইলের হোম পেইজের একটা স্ক্রিনশট নিয়ে ওকে পাঠিয়ে দিলাম সাথে সাথে !

দেখলাম কিছু সময় কোন মেসেজ এল না । তারপর দেখলাম ও লিখল, এটা কেন সেট করেছেন ওয়্যাল পেপারে ?
আমি একটু চিন্তা করলাম । তারপর লিখলাম, সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি সবার আগে মোবাইল দেখি । চোখ খুলে এই নমনীয় চেহারা দেখলে দিন ভাল যাবে !

আমি জানি না মেয়েটা কী ভাবছে তবে কেন জানি মনে হল নওরিনের আমার এই কথা পছন্দ হল । দেখলাম আসতে আসতে নওরিন আমার সাথে অন্য কথা বলা শুরু করলাম । মানে আমার সম্পর্কে জানতে শুরু করলো । কোথায় থাকি কী করি এই সব । এই কথা বলার পরে নওরিন আমাকে অবাক করে দিয়ে সকালে দেখা করতে বলল । ওর একটা স্যুট আছে দুপুরের দিকে । তার আগে যদি সম্ভব হয় এককাপ কফি খাওয়া যাবে । আমি একবাক্যে রাজি হয়ে গেলাম । এবং এই যে আমি তার জন্য অপেক্ষা করছি ! যদিও এখনও আমি নিশ্চিত না যে মেয়েটা আসবে কিনা !

হ্যালো !
আমি চোখ তুলে তাকালাম । এতো সময়ে নিজের মোবাইলের দিকে তাকিয়ে ফেসবুক স্ক্রল করছিলাম । নওরিনের চলে আসা এই কারণে দেখতে পাই নি । আমার চোখের সামনে সে দাড়িয়ে । বাস্তবে মেয়েটা যেন আরো একটু বেশি সুন্দর মনে হল । সুন্দর বলতে আরো একটু বেশি আসল । এই মেয়েটার মাঝে অন্য কিছু রয়েছে । নওরিনের মাঝে এই আসল ভাবটাই ওর নিজের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ।

নওরিনকে আজকে একটা কলাপাতা রংয়ের কামিজ পরেছে । সেই সাথে একই রংয়ের একটা লেগিংস । মেয়েটাকে আমি খুব কমই লেগিংস পরতে দেখেছি ভিডিওতে । এই ড্রেসটা যেন আরো সুন্দর করে তুলেছে । আমি তাকিয়ে রইলাম কিছু সময় । আজকে অবশ্য সে মেকাপ ছাড়া আসে নি । তবে মোটেও উগ্র নয় ।

নওরিন আমার সামনে বসলো । আমি বললাম, আমি আসলে সত্যিই ভাবি নি যে আপনি আসবেন!
-কেন আসবো না ? কথা দিলাম না ? কথা দিলে কথা রাখি !
-গুড ! এটা ভাল কোয়ালিটি ! আমিও সব সময় কথা দিয়ে তা রাখি । যে কথা আমি রাখতে পারবো না সেই কথা আমি দেবোই না কোন দিন।
নওরিন একটু যেন হাসলো আমার কথা শুনে । তারপর বলল, গুড । এটাই ভাল । মানুষকে মিথ্যা আসা দেওয়ার থেকে এটা অনেক ভাল । কফি চলবে?
-হ্যা । আমি আপনার জন্যই অপেক্ষা করছি । কফির সাথে আর কি খাবেন?
-জ্বী না । আজকে ট্রিট আমার পক্ষ থেকে । আমি খাওয়াবো !
-আরে কী যে বলেন !
-জ্বী এটাই । কাল আপনি আমার একটা উপকার করেছেন । এই কারণে আপনাকে ট্রিট !
-আমি ? কী উপকার ?
-সেটা পরে শুনবেন ! আগে অর্ডার হোক ।

অর্ডার দেওয়া হল । খেতে খেতে গল্প চলল আমাদের মাঝে । দেখলাম কখন যে সময় পার হয়ে গেল দুজনের কেউ টের পেলাম না । ভিডিও গুলোতে নওরিনকে যেমন মনে হয়েছে আামর বাস্তবে তার থেকেও আরও বেশি প্রাণবন্ত মনে হল ওকে । তবে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হল যেন কোথাও একটা বিষাদের ছায়া রয়েছে । সেটা সে লুকিয়ে রাখতে হাসির আড়ালে !

দুপুর দেড়টার দিকে আমরা বের হলাম তাবাক থেকে । তখন নওরিন আমাকে বলল, আপনার কি কাজ আছে এখন?
-কাজ আর কি ! সন্ধ্যার সময় টিউশনি রয়েছে। আর কিছু নেই । তবে সেখানে একদিন না গেলে কিছু হবে না ।
আমি বুঝতে পারছিলাম ও আমাকে ওর সাথে হয়তো কোথাও যেতে বলবে ! কেন মনে হল সেটা জানি না । ও বলেছিলো ওর একটা স্যুট রয়েছে । সম্ভবত সেখানে যেতে বলবে !
নওরিন বলল, আমার একটা স্যুট রয়েছে ১৫ নম্বরে । যাবেন আমার সাথে !
-অবশ্যই । রিক্সা নিই ?
নওরিন খুশি হল । আমরা রিক্সাতে উঠলাম । সত্যি সত্যি এভাবে রিক্সা ভ্রমনের সুযোগ আসবে ওর সাথে সেটাও আমি ভাবি নি । একটা আনন্দ মনের ভেতরে কাজ করছিলো । ওর সাথে এখানে কয়েকটা ছবি তুলতে পারলে ভাল লাগতো । এমন কথা যখন মনে এসেছে তখন আমাকে অবাক করে দিয়ে দেখলাম নওরিন নিজেই বেশ কয়েকটা সেলফি তুলল ।

একটা ফ্যাশন হাউজে স্যুটিং ছিল । ওদের বেশ কিছু ড্রেশ পরে নওরিনকে ছবি আর ভিডিও করতে হল । নিজের টিকটক ইনস্টাগ্রাম এবং সেফবুক প্রোফাইলেও নওরিন এই ছবি, ভিডিও গুলো শেয়ার দিবে । এবং এই ফ্যাশন হাউজের নাম মেনশন করে দিবে । এটা এখন এক ধরণের মার্কেটিং এবং এটা বেশ কাজেও দেয় ।

স্যুটিং চলল প্রায় তিন ঘন্টা । আমার অবশ্য খুব একটা বিরক্ত লাগছিল না । বিশেষ করে চোখের সামনে নওরিনকে দেখতে পাচ্ছিলাম এই কারণে । স্যুটিং শেষ করে আমরা আবারও বের হলাম । বেশ কিছুস সময় রিক্সা করে ঘুরলাম । সত্যিই নওরিনের আচরণ দেখে আমার মোটেই মনে হচ্ছিলো না যে আমার সাথে আজকে ওর প্রথম দেখা হয়েছে । বরং মনে হচ্ছে যে কতদিন ধরেই না আমাদের পরিচয় রয়েছে । একেবারে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা এক সাথেই রইলাম। তারপর ওকে আমি উবারে তুলে দিলাম। যাওয়ার সময় নওরিন বলল, আমার সময় খুব ভাল কেটেছে আজকে । আপনাকে ধন্যবাদ !
-আমার কি দেখা হবে !
-জানি না । হতেও পারে আবার হয়তো নাও পারে !

বাসায় যখন পৌছেছি তখন দেখলাম নওরিন আমাকে লম্বা একটা মেসেজ পাঠিয়েছে । মেসেজটা পড়তে পড়তে হঠাৎ মনটা একটু খারাপ হয়ে এল । নওরিন লিখেছে, অপু আপনার সাথে আজকের পুরোটা দিন খুব ভাল কেটেছে । আমার মন গতকাল খুব বিক্ষিপ্ত ছিল । আমিকাল আসলে সুইসাইড করার কথা ভাবছিলাম । সেই সময়ে যখন আপনার মেসেজটা আমি না দেখলাম তাহলে হয়তো সেটা করেও ফেলতে পারতাম । আপনার মেসেজটা মেয়ে কী হবে সব কিছু ভুলে গেলাম । মনে হল আপনার সাথে দেখা করে আপনাকে ধন্যবাদ দিই । আসলে সত্যিই আপনার একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য । আমাকে রক্ষা করার জন্য ।
তবে আজকের পরে আমাদের আর দেখা হবে না । আমি একবার মানুষকে ভালোবেসে খুব কষ্ট পেয়েছি । আর পেতে চাই না । জীবন থেকে আমি কেবল শিখেছি যে মানুষ আসলে আপনাকে হতাশ করবেই । আমরা সব সময় কাছের মানুষদের কাছে খুব বেশি আশা করি এবং ফলে পরে হতাশ হই । কারো কারো ক্ষেত্রে সেই হতাশার পরিমান এতো বেশি থাকে যে তা থেকে অনেকে বের হতে পারে না ।

আপনাকে আবারও ধন্যবাদ । আমাদের এই চমৎকার দেখা হওয়ার ঘটনা টুকু আমার মনে থাকবে সব সময় !

আমি দেখলাম নওরিন ইনস্টাগ্রাম থেকে আমাকে ব্লক করে দিয়েছে । সে আমার সাথে আর যোগাযোগ রাখতে চায় না । আমার কেন জানি সত্যিই মন খারাপ হল । তবে সপ্তাহ খানেক পরে খেয়াল করে দেখলাম যে ওর টিকটক একাউন্টটা ভিএকটিভেট করা । আমি কৌতুহল নিয়ে অন্য একটা ফেইক আইডি দিয়ে খোজ করলাম ওর । কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম ওর সব একাউন্ট গুলো বন্ধ । হঠাৎ করেই নওরিন একেবারে গায়ে হয়ে গেছে । ঐদিনের ঐ স্যুটের ভিডিও গুলো সে টিকটকে দিয়েছিলো । তারপরে আর কোন ভিডিও নেই । ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম সব বন্ধ ।

ব্যাপারটা দেখলাম কেবল আমিই না আরো অনেকেই খেয়াল করেছে। নওরিনকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না । আমার সেদিনের সেই কথা আবারও মনে পড়লো । নওরিন সেদিন আমাকে বলেছিলো যে আমি যদি সেদিন ওকে মেসেজ না পাঠাতাম তাহলে ও হয়তো আত্মহত্যা করতো ! এমন কিছু করে ফেলল মেয়েটা?
নয়তো এভাবে কেন গায়েব হয়ে যাবে ?

আমার মনের ভেতরে কেমন যেন কু ডেকে উঠলো । আমি নওরিনের খোজ খবর করতে লাগলো । ওর আসল ভিডিও একাউন্ট গুলো বন্ধ থাকলেও আরও অনেক পেইজ আর ফেইক একাউন্ট চালু ছিল । সেখানে ওর অনেক ভিডিও ছিল । আমি সেই ভিডিও গুলো দেখতে শুরু করলাম । বিশেষ করে মেয়েটাকে খুজে বের করার কোন উপায় আছে কিনা সেটাই দেখতে শুরু করলাম ।

এবং কয়েকদিনের ভিডিও দেখার পরে মনে হল যে ও কয়েকটা ভিডিও তৈরি করেছে ওর গ্রামের বাড়িতে । সেখানে একটা বড় ঈদগায়ের সামনে একটা ভিডিও দিয়েছিলো । আমার মনে হল যে এটা দিয়ে ওর গ্রামের বাড়িতে যাওয়া সম্ভব। কোন কারণ নেই তবুও আমার মনে হল একবার ওর সাথে দেখা করাটা জরূরি । সুস্থ আছে এই টুকু জানতে পারলেই চলবে ।

মাগুরা চলে গেলাম এক শুক্রবার । সেই বড় ঈদগাটা খুজে পেতেও খুব একটা সমস্যা হল না । এখন নওরিনকে খুজে বের করতে হবে । আমি কিছু সময় এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ালাম । কোন লাভ হল না বটে । কাউকে না কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে । নওরিনের ছবি রয়েছে আমার কাছে । সেটা এখন দেখাতে হবে । যদি কেউ ওকে চিনতে পারে । নওরিনরা এখানে থাকে না। গ্রামে হয়তো মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসে । এখানে ওকে হয়তো সেই ভাবে কেউ নাও চিনতে পারে।

প্রথম ঘন্টা খানেক আসলে কোন লাভ হল না । তবে অবশেষে কপাল খুলল । একটা ছেলে নওরিনকে চিনতে পারল । সেই আমাকে নিয়ে গেল ওদের বাসায় । আমিও যদিও তখনও জানি না যে ওর বাসার লোকজন যখন জিজ্ঞেস করবে আমি কে আর কী জন্য এসেছি তখন আমি কোন যুতসই জবাব আমি দিতে পারবো না । তবে কেবল যদি এটা জানতে পারি যে ও সুস্থ আছে তাহলেই চলবে !

আমি ছেলেটাকে ওদের বাড়ির ভেতরে পাঠিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলাম । বাড়ির কোন পুরুষ আসবে হয়তো এখনই । এমন আশাই আমি করেছিলাম । তবে আমাকে অবাক করে দিয়ে স্বয়ং নওরিন বের হয়ে এল ! আমাকে দেখে সে নিজেও যে অবাক হয়েছে সেটা ওর চেহারা দেখেই আমি বুঝতে পারছিলাম । তবে ও যে ঠিক আছে আর সু্থ আছে এটা দেখে আমি মনে শান্তি পেলাম !

-অপু ! তুমি?

আমি একটু বোকার মত হাসলাম । তারপর বললাম, হাই !
-তুমি এখানে?
-আসলে তুমি এভাবে ডুব মারবে ভাবি নি । তোমার জন্য চিন্তা হচ্ছিলো । দেখতে চাচ্ছিলাম যে তুমি ঠিক আছো কিনা ! আর কিছু না !
-এর জন্য এতো দুর চলে এসেছো !

আমি আবারও হাসলাম। নওরিন আমার দিকে অবাক হয়ে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো । এখনও যেন ও বিশ্বাসই করতে পারছে না যে আমি এমন করে এতোদুর চলে আসবো । নওরিন আমার কাছে এগিয়ে এল । তারপর আমাকে অবাক করে দিয়েই আমাকে জড়িয়ে ধরলো । আমি এতোটা আশা করি নি মোটেও ।
আমাকে জড়িয়ে ধরেই সে বলল, আমি আসলে সেদিনই বুঝেছিলাম যে তোমার সাথে আমার আবারও দেখা হবে । এতো সহজে তুমি আমার পিছু ছাড়বে না ।

পরিশিষ্টঃ নওরিন আবারও ওর সব একাউন্ট গুলো চালু করেছে । আগের থেকেও আরো সক্রিয় ভাবে ভিডিও ছবি আপলোড করা করা শুরু করেছে । তবে এখন ওর ভিডিও আর ছবিতে মাঝে মাঝে আমাকেও দেখা যায় ! যদিও সে এখনও বলে নি যে আমাদের মাঝে কী সম্পর্ক তবে তবে মানুষজন বুঝে নিয়েছে যা বোঝার ।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.6 / 5. Vote count: 52

No votes so far! Be the first to rate this post.


Discover more from অপু তানভীর

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

About অপু তানভীর

আমি অতি ভাল একজন ছেলে।

View all posts by অপু তানভীর →

3 Comments on “টিকটক প্রেমিকা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *