টিকটক প্রেমিকা

oputanvir
4.7
(48)

আমি এখনও ঠিক বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি মেয়েটির সাথে দেখা করতে চলে এসেছি । এখনও জানি না মেয়েটা আসবে কিনা ! গতকালকের পরে আর আজকে মেয়েটা আমার সাথ কোন প্রকার যোগাযোগ করে নি । এমনটা হতে পারে যে মেয়েটা হয়তো আমাকে আবেগের বসে মেসেজটা পাঠিয়েছিলো রাতেরবেলা । রাতের বেলা আমাদের অনেকের অনেক রকম কাজ করতে ইচ্ছে করে, আমরা যখন একা থাকি কিংবা আমাদের রাতের বেলা যখন ক্ষুদা লাগে তখন আমাদের মাথা ঠিক মত কাজ করে না । তখন নানান আউলফাউল চিন্তা আসে !

আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম । নওরিন আমাকে বেলা এগারোটায় সময় দিয়েছিলো । আমিও নাচতে নাচতে চলে এসেছি । অবশ্য তাবাক কফিটা আামর বাসা থেকে খুব বেশি দুরে না । আর আজকে আমার ক্লাস নেই । বিকেল বেলা টিউশনি। সুতরাং এখানে সকালে আসার ব্যাপারটা খুব বেশি সমস্যা না ।

ঘটনা তেমন কিছু না । আমি অনেক দিন ধরেই একটা মেয়েকে টিকটক আর তার ইনস্টাগ্রামে ফলো করি । যদিও আমাদের ভেতরে অনেকে টিকটকারদের পছন্দ করে না, তাদের নিয়ে ট্রোল করে তবে আমি ওদের ভিডিও দেখি । আমার বেশ ভালই লাগে । আর একটা হচ্ছে হচ্ছে আমি চাইলেই আমার রূচি অনুযায়ী ভিডিও আসবে আমার ফিডে । আমি এমন সব মানুষকে ফলো করি যাদের কনটেন্ট বেশ ভাল । বেশ কিছু লার্নিং আইডিকে ফলো করি । হ্যা নাচানাচিও দেখি । আমার তো অবসর সময় ভালই লাগে । তেমনই একজন টিকটকার নওরিন আহসান ।

মেয়েটাকে দেখতে আমার খুব ভাল লাগে না । বিশেষ করে তার আসল চেহারারার ভেতরে একটা মায়ামায় ভাব আছে । মেয়েটা কখনই উগ্র মেকাপ বা পোশাক পরে না । সেলোয়ার কামিজ শাড়ি পরেই বেশির ভাগ ভিডিও করে । এছাড়া নানান রকম ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করে । ওদের পোশাকের এড করে । খুবই বিখ্যাত । প্রতিটা ভিডিও মিলিয়নের উপরে ভিউ হয় ।

এই মেয়েটার ইনস্টাগ্রামে আমি গতকাল রাতে একটা স্টোরীর রিপ্লাই দিয়েছিলাম । কেন দিয়েছিলাম আমি জানি না । আমি সাধারণত সেলিব্রেটিদের স্টোরীটে কখনও রিপ্লাই করি না । করে লাভও নেই জানি । আমি বন্ধুদের স্টোরীতেই রিপ্লাই করি না । কিন্তু কাল কী মনে কল রিপ্লাইটা করলাম । রাত তখন দুইটার মত বাজে । আমি ঘরের আলো বন্ধ করে ইনস্টাগ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছি । তখনই স্টোরিটা চোখের সামনে এল । মেয়েটা সম্ভবত ঘুমানোর আগে একটা ছবি দিয়েছে । একটা টিশার্ট পরা । কোন প্রকার মেকাপ নেই মুখে । একেবারে আসল চেহারা !

মেকাপ দেওয়া একেবারে পরিস্কার দাগহীন কোন চেহারা না ! মুখে একটু দাগও রয়েছে যেটা সবার স্বাভাবিক ভাবেই সাথে । ঠোঁটে কোন লিপস্টিক দেওয়া নেই । আমি কিছু সময় ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলাম । তারপর কী যে মনে হল মেয়েটার সেই স্টোরীতে একটা রিপ্লাই দিলাম ।

আমি ছবিটার একটা স্ক্রিনশট নিয়ে সেটা নিজের ওয়ালপেপারে সেট করলাম । কাল সকালে ঘুম ভাঙ্গলে প্রথম যখন মোবাইল খুলবো তখন এই ছবিটাই আমার চোখে পড়বে । দিনের শুরুটা ভাল হবে ।

আমি মোবাইল রেখে ঘুমাতেই যাবো তখনই দেখলাম একটা মেসেজ এল । আমি অন করতেই চোখ কপালে উঠলো । নওরিন আমার মেসেজের রিপ্লাই দিয়েছে ! আমি নিজের চোখকে যেন ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । এমনটা হতে পারে না । কোন ভাবেই হতে পারে না । তবে হয়েছে ।

নওরিন লিখেছে, সবার সাথেই কি এভাবেই ফ্লার্ট করেন?
আমি বিস্ময়ের ইমোজি দিলাম । তারপর বললাম, সত্যি কথা বলেছি । ফ্লার্ট পেলেন কোথায়?
নওরিন লিখলো, সত্যিই না ছাই । এই দাগওয়ালা চেহারা কেউ পছন্দ করে ? সবাই পোলিশ করা চেহারাই পছন্দ করি ।
-আমি তো এমনই পছন্দ করি । এই দেখি আমার ওয়ালপেপারেও এই ছবি !

এই বলে আমি আমি মোবাইলের হোম পেইজের একটা স্ক্রিনশট নিয়ে ওকে পাঠিয়ে দিলাম সাথে সাথে !

দেখলাম কিছু সময় কোন মেসেজ এল না । তারপর দেখলাম ও লিখল, এটা কেন সেট করেছেন ওয়্যাল পেপারে ?
আমি একটু চিন্তা করলাম । তারপর লিখলাম, সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি সবার আগে মোবাইল দেখি । চোখ খুলে এই নমনীয় চেহারা দেখলে দিন ভাল যাবে !

আমি জানি না মেয়েটা কী ভাবছে তবে কেন জানি মনে হল নওরিনের আমার এই কথা পছন্দ হল । দেখলাম আসতে আসতে নওরিন আমার সাথে অন্য কথা বলা শুরু করলাম । মানে আমার সম্পর্কে জানতে শুরু করলো । কোথায় থাকি কী করি এই সব । এই কথা বলার পরে নওরিন আমাকে অবাক করে দিয়ে সকালে দেখা করতে বলল । ওর একটা স্যুট আছে দুপুরের দিকে । তার আগে যদি সম্ভব হয় এককাপ কফি খাওয়া যাবে । আমি একবাক্যে রাজি হয়ে গেলাম । এবং এই যে আমি তার জন্য অপেক্ষা করছি ! যদিও এখনও আমি নিশ্চিত না যে মেয়েটা আসবে কিনা !

হ্যালো !
আমি চোখ তুলে তাকালাম । এতো সময়ে নিজের মোবাইলের দিকে তাকিয়ে ফেসবুক স্ক্রল করছিলাম । নওরিনের চলে আসা এই কারণে দেখতে পাই নি । আমার চোখের সামনে সে দাড়িয়ে । বাস্তবে মেয়েটা যেন আরো একটু বেশি সুন্দর মনে হল । সুন্দর বলতে আরো একটু বেশি আসল । এই মেয়েটার মাঝে অন্য কিছু রয়েছে । নওরিনের মাঝে এই আসল ভাবটাই ওর নিজের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ।

নওরিনকে আজকে একটা কলাপাতা রংয়ের কামিজ পরেছে । সেই সাথে একই রংয়ের একটা লেগিংস । মেয়েটাকে আমি খুব কমই লেগিংস পরতে দেখেছি ভিডিওতে । এই ড্রেসটা যেন আরো সুন্দর করে তুলেছে । আমি তাকিয়ে রইলাম কিছু সময় । আজকে অবশ্য সে মেকাপ ছাড়া আসে নি । তবে মোটেও উগ্র নয় ।

নওরিন আমার সামনে বসলো । আমি বললাম, আমি আসলে সত্যিই ভাবি নি যে আপনি আসবেন!
-কেন আসবো না ? কথা দিলাম না ? কথা দিলে কথা রাখি !
-গুড ! এটা ভাল কোয়ালিটি ! আমিও সব সময় কথা দিয়ে তা রাখি । যে কথা আমি রাখতে পারবো না সেই কথা আমি দেবোই না কোন দিন।
নওরিন একটু যেন হাসলো আমার কথা শুনে । তারপর বলল, গুড । এটাই ভাল । মানুষকে মিথ্যা আসা দেওয়ার থেকে এটা অনেক ভাল । কফি চলবে?
-হ্যা । আমি আপনার জন্যই অপেক্ষা করছি । কফির সাথে আর কি খাবেন?
-জ্বী না । আজকে ট্রিট আমার পক্ষ থেকে । আমি খাওয়াবো !
-আরে কী যে বলেন !
-জ্বী এটাই । কাল আপনি আমার একটা উপকার করেছেন । এই কারণে আপনাকে ট্রিট !
-আমি ? কী উপকার ?
-সেটা পরে শুনবেন ! আগে অর্ডার হোক ।

অর্ডার দেওয়া হল । খেতে খেতে গল্প চলল আমাদের মাঝে । দেখলাম কখন যে সময় পার হয়ে গেল দুজনের কেউ টের পেলাম না । ভিডিও গুলোতে নওরিনকে যেমন মনে হয়েছে আামর বাস্তবে তার থেকেও আরও বেশি প্রাণবন্ত মনে হল ওকে । তবে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হল যেন কোথাও একটা বিষাদের ছায়া রয়েছে । সেটা সে লুকিয়ে রাখতে হাসির আড়ালে !

দুপুর দেড়টার দিকে আমরা বের হলাম তাবাক থেকে । তখন নওরিন আমাকে বলল, আপনার কি কাজ আছে এখন?
-কাজ আর কি ! সন্ধ্যার সময় টিউশনি রয়েছে। আর কিছু নেই । তবে সেখানে একদিন না গেলে কিছু হবে না ।
আমি বুঝতে পারছিলাম ও আমাকে ওর সাথে হয়তো কোথাও যেতে বলবে ! কেন মনে হল সেটা জানি না । ও বলেছিলো ওর একটা স্যুট রয়েছে । সম্ভবত সেখানে যেতে বলবে !
নওরিন বলল, আমার একটা স্যুট রয়েছে ১৫ নম্বরে । যাবেন আমার সাথে !
-অবশ্যই । রিক্সা নিই ?
নওরিন খুশি হল । আমরা রিক্সাতে উঠলাম । সত্যি সত্যি এভাবে রিক্সা ভ্রমনের সুযোগ আসবে ওর সাথে সেটাও আমি ভাবি নি । একটা আনন্দ মনের ভেতরে কাজ করছিলো । ওর সাথে এখানে কয়েকটা ছবি তুলতে পারলে ভাল লাগতো । এমন কথা যখন মনে এসেছে তখন আমাকে অবাক করে দিয়ে দেখলাম নওরিন নিজেই বেশ কয়েকটা সেলফি তুলল ।

একটা ফ্যাশন হাউজে স্যুটিং ছিল । ওদের বেশ কিছু ড্রেশ পরে নওরিনকে ছবি আর ভিডিও করতে হল । নিজের টিকটক ইনস্টাগ্রাম এবং সেফবুক প্রোফাইলেও নওরিন এই ছবি, ভিডিও গুলো শেয়ার দিবে । এবং এই ফ্যাশন হাউজের নাম মেনশন করে দিবে । এটা এখন এক ধরণের মার্কেটিং এবং এটা বেশ কাজেও দেয় ।

স্যুটিং চলল প্রায় তিন ঘন্টা । আমার অবশ্য খুব একটা বিরক্ত লাগছিল না । বিশেষ করে চোখের সামনে নওরিনকে দেখতে পাচ্ছিলাম এই কারণে । স্যুটিং শেষ করে আমরা আবারও বের হলাম । বেশ কিছুস সময় রিক্সা করে ঘুরলাম । সত্যিই নওরিনের আচরণ দেখে আমার মোটেই মনে হচ্ছিলো না যে আমার সাথে আজকে ওর প্রথম দেখা হয়েছে । বরং মনে হচ্ছে যে কতদিন ধরেই না আমাদের পরিচয় রয়েছে । একেবারে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা এক সাথেই রইলাম। তারপর ওকে আমি উবারে তুলে দিলাম। যাওয়ার সময় নওরিন বলল, আমার সময় খুব ভাল কেটেছে আজকে । আপনাকে ধন্যবাদ !
-আমার কি দেখা হবে !
-জানি না । হতেও পারে আবার হয়তো নাও পারে !

বাসায় যখন পৌছেছি তখন দেখলাম নওরিন আমাকে লম্বা একটা মেসেজ পাঠিয়েছে । মেসেজটা পড়তে পড়তে হঠাৎ মনটা একটু খারাপ হয়ে এল । নওরিন লিখেছে, অপু আপনার সাথে আজকের পুরোটা দিন খুব ভাল কেটেছে । আমার মন গতকাল খুব বিক্ষিপ্ত ছিল । আমিকাল আসলে সুইসাইড করার কথা ভাবছিলাম । সেই সময়ে যখন আপনার মেসেজটা আমি না দেখলাম তাহলে হয়তো সেটা করেও ফেলতে পারতাম । আপনার মেসেজটা মেয়ে কী হবে সব কিছু ভুলে গেলাম । মনে হল আপনার সাথে দেখা করে আপনাকে ধন্যবাদ দিই । আসলে সত্যিই আপনার একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য । আমাকে রক্ষা করার জন্য ।
তবে আজকের পরে আমাদের আর দেখা হবে না । আমি একবার মানুষকে ভালোবেসে খুব কষ্ট পেয়েছি । আর পেতে চাই না । জীবন থেকে আমি কেবল শিখেছি যে মানুষ আসলে আপনাকে হতাশ করবেই । আমরা সব সময় কাছের মানুষদের কাছে খুব বেশি আশা করি এবং ফলে পরে হতাশ হই । কারো কারো ক্ষেত্রে সেই হতাশার পরিমান এতো বেশি থাকে যে তা থেকে অনেকে বের হতে পারে না ।

আপনাকে আবারও ধন্যবাদ । আমাদের এই চমৎকার দেখা হওয়ার ঘটনা টুকু আমার মনে থাকবে সব সময় !

আমি দেখলাম নওরিন ইনস্টাগ্রাম থেকে আমাকে ব্লক করে দিয়েছে । সে আমার সাথে আর যোগাযোগ রাখতে চায় না । আমার কেন জানি সত্যিই মন খারাপ হল । তবে সপ্তাহ খানেক পরে খেয়াল করে দেখলাম যে ওর টিকটক একাউন্টটা ভিএকটিভেট করা । আমি কৌতুহল নিয়ে অন্য একটা ফেইক আইডি দিয়ে খোজ করলাম ওর । কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম ওর সব একাউন্ট গুলো বন্ধ । হঠাৎ করেই নওরিন একেবারে গায়ে হয়ে গেছে । ঐদিনের ঐ স্যুটের ভিডিও গুলো সে টিকটকে দিয়েছিলো । তারপরে আর কোন ভিডিও নেই । ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম সব বন্ধ ।

ব্যাপারটা দেখলাম কেবল আমিই না আরো অনেকেই খেয়াল করেছে। নওরিনকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না । আমার সেদিনের সেই কথা আবারও মনে পড়লো । নওরিন সেদিন আমাকে বলেছিলো যে আমি যদি সেদিন ওকে মেসেজ না পাঠাতাম তাহলে ও হয়তো আত্মহত্যা করতো ! এমন কিছু করে ফেলল মেয়েটা?
নয়তো এভাবে কেন গায়েব হয়ে যাবে ?

আমার মনের ভেতরে কেমন যেন কু ডেকে উঠলো । আমি নওরিনের খোজ খবর করতে লাগলো । ওর আসল ভিডিও একাউন্ট গুলো বন্ধ থাকলেও আরও অনেক পেইজ আর ফেইক একাউন্ট চালু ছিল । সেখানে ওর অনেক ভিডিও ছিল । আমি সেই ভিডিও গুলো দেখতে শুরু করলাম । বিশেষ করে মেয়েটাকে খুজে বের করার কোন উপায় আছে কিনা সেটাই দেখতে শুরু করলাম ।

এবং কয়েকদিনের ভিডিও দেখার পরে মনে হল যে ও কয়েকটা ভিডিও তৈরি করেছে ওর গ্রামের বাড়িতে । সেখানে একটা বড় ঈদগায়ের সামনে একটা ভিডিও দিয়েছিলো । আমার মনে হল যে এটা দিয়ে ওর গ্রামের বাড়িতে যাওয়া সম্ভব। কোন কারণ নেই তবুও আমার মনে হল একবার ওর সাথে দেখা করাটা জরূরি । সুস্থ আছে এই টুকু জানতে পারলেই চলবে ।

মাগুরা চলে গেলাম এক শুক্রবার । সেই বড় ঈদগাটা খুজে পেতেও খুব একটা সমস্যা হল না । এখন নওরিনকে খুজে বের করতে হবে । আমি কিছু সময় এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ালাম । কোন লাভ হল না বটে । কাউকে না কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে । নওরিনের ছবি রয়েছে আমার কাছে । সেটা এখন দেখাতে হবে । যদি কেউ ওকে চিনতে পারে । নওরিনরা এখানে থাকে না। গ্রামে হয়তো মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসে । এখানে ওকে হয়তো সেই ভাবে কেউ নাও চিনতে পারে।

প্রথম ঘন্টা খানেক আসলে কোন লাভ হল না । তবে অবশেষে কপাল খুলল । একটা ছেলে নওরিনকে চিনতে পারল । সেই আমাকে নিয়ে গেল ওদের বাসায় । আমিও যদিও তখনও জানি না যে ওর বাসার লোকজন যখন জিজ্ঞেস করবে আমি কে আর কী জন্য এসেছি তখন আমি কোন যুতসই জবাব আমি দিতে পারবো না । তবে কেবল যদি এটা জানতে পারি যে ও সুস্থ আছে তাহলেই চলবে !

আমি ছেলেটাকে ওদের বাড়ির ভেতরে পাঠিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলাম । বাড়ির কোন পুরুষ আসবে হয়তো এখনই । এমন আশাই আমি করেছিলাম । তবে আমাকে অবাক করে দিয়ে স্বয়ং নওরিন বের হয়ে এল ! আমাকে দেখে সে নিজেও যে অবাক হয়েছে সেটা ওর চেহারা দেখেই আমি বুঝতে পারছিলাম । তবে ও যে ঠিক আছে আর সু্থ আছে এটা দেখে আমি মনে শান্তি পেলাম !

-অপু ! তুমি?

আমি একটু বোকার মত হাসলাম । তারপর বললাম, হাই !
-তুমি এখানে?
-আসলে তুমি এভাবে ডুব মারবে ভাবি নি । তোমার জন্য চিন্তা হচ্ছিলো । দেখতে চাচ্ছিলাম যে তুমি ঠিক আছো কিনা ! আর কিছু না !
-এর জন্য এতো দুর চলে এসেছো !

আমি আবারও হাসলাম। নওরিন আমার দিকে অবাক হয়ে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো । এখনও যেন ও বিশ্বাসই করতে পারছে না যে আমি এমন করে এতোদুর চলে আসবো । নওরিন আমার কাছে এগিয়ে এল । তারপর আমাকে অবাক করে দিয়েই আমাকে জড়িয়ে ধরলো । আমি এতোটা আশা করি নি মোটেও ।
আমাকে জড়িয়ে ধরেই সে বলল, আমি আসলে সেদিনই বুঝেছিলাম যে তোমার সাথে আমার আবারও দেখা হবে । এতো সহজে তুমি আমার পিছু ছাড়বে না ।

পরিশিষ্টঃ নওরিন আবারও ওর সব একাউন্ট গুলো চালু করেছে । আগের থেকেও আরো সক্রিয় ভাবে ভিডিও ছবি আপলোড করা করা শুরু করেছে । তবে এখন ওর ভিডিও আর ছবিতে মাঝে মাঝে আমাকেও দেখা যায় ! যদিও সে এখনও বলে নি যে আমাদের মাঝে কী সম্পর্ক তবে তবে মানুষজন বুঝে নিয়েছে যা বোঝার ।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.7 / 5. Vote count: 48

No votes so far! Be the first to rate this post.

About অপু তানভীর

আমি অতি ভাল একজন ছেলে।

View all posts by অপু তানভীর →

3 Comments on “টিকটক প্রেমিকা”

      1. ami kono somossar kotha boli nai,,, sobai notun notun plot a likhteche apnio likhlen somossa ki ??

Comments are closed.