গল্পের মত সুন্দর 2.0

oputanvir
4.9
(82)

শশী কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে রয়েছে । পুরো শরীরে ব্যাথা । এতো পরিশ্রম যে হবে সেটা ও ভাবতে পারে নি । আজকে শশী একেবারে মৃত্যুর মুখে পৌছে গিয়েছিলো। সারা জীবনে সে ঘুমিয়েছে শহরের নিরাপদ চার দেওয়ালের মাঝে, চলাচলে করেছে গাড়ি দিয়ে । এই পাহাড়ে এতোটা পথ হাটা কি ওর পক্ষে এতো সহজ? কিন্তু সব থেকে বড় শকটা ও পেয়েছে পাহাড় থেকে পরে গিয়ে ! একেবারে মৃত্যুর কাছে চলে গিয়েছিলো বলতে গেলে ! এটা সামলে নিতে শশীর বেশ কষ্ট হচ্ছে । এক মনে সে সেই মুহুর্তটার কথাই চিন্তা করে যাচ্ছে । কিছুতেই মাথা থেকে বের করতে পারছে না সেটা !

-শশী আপু !

কটেজের একেবারে দেওয়ালের দিকে ঘেষে শুয়ে ছিল ও । শরীরে হাত পড়ায় ফিরে তাকালো । রিনি । মেয়েটা ওর সাথেই এসেছে ট্যুরে!
-কি হল?
-চলুন ভাইয়াদের ঘরে?
-কেন ?
-ওখানে গান হবে । সবাই চলে গেছে । আসুন !

শশীর মনে হল একবার বলে যে যাবে না । কিন্তু তারপরই মনে হল এখানে একা একা শুয়ে থেকেই বা কী করবে ? বরং গান শোনা যাক আড্ডা দেওয়া যাক ! অপুও নিশ্চয়ই ওখানে আছে । ছেলেটাকে একটা ভাল করে ধন্যবাদ দেওয়া হয় নি । সে যদি না থাকতো তাহলে আজকে তার কী অবস্থা হত ?
অন্য কেউ কি তাকে রক্ষা করতে ঐভাবে লাফ দিতে পারতো?
যদি না দিতো তাহলে আজকে ও কোথায় থাকতো? ঐ খাদের ভেতরে আছড়ে পড়তো ! মরে কি যেত?
হয়তো?

শশী উঠে চাদরটা জড়িয়ে নিল। পরনে একটা লেগিংস রয়েছে আর একটা বড় টিশার্ট ! এটা পরেই শুয়েছিলো সে । চাদর জড়িয়েই পাশের ঘরে গিয়ে হাজির হল । সবাই হাজির সেখানে । শশীর চোখ ঘুরতে লাগলো পুরো ঘর জুড়ে । একজন মানুষকে খুজছে । বেশি দুর ঘুরতে হল না । খুজে পেল তাকে । ঐতো । বসে রয়েছে এক পাশে । মোবাইল টিপছে । শশীর খুব ইচ্ছে অপুর পাশেই গিয়ে বসতে । কিন্তু কেন জানি বসতে পারলো না ।

সময়টা বেশ ভালই কাটলো । সবাই গলা মেলাল । শশী আগে কোন দিন এমন সময় কাটায় না । ওর জীবন সব সময়ই নির্দিষ্ট ছিল । ওকে সারা জীবন যা করতে বলা হয়েছে তাই করেছে সে। যা পরতে বলা হয়েছে তাই পরেছে । কোন দিন পরিবারের বিরুদ্দে একটা কথা বলে নি সে । বলা চলে ওর জীবনে এক মাত্র নিজেস্ব সিদ্ধান্ত হচ্ছে একা একা এই ট্যুরে চলে আসা ।

রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে সবাই আবার কটেজে ফিরে গেল । কিন্তু শশীর মনে শান্তি লাগছিলো না । বারবার মনে হচ্ছিলো যে অপুকে কিছু বলা দরকার । কাল আবার সকালে নাস্তার পরে নিচে নামা শুরু হবে । তখন কি বলতে পারবে ?
এখন কি যাবে?
সবার সামনে গেলে কি বলবে সবাই?

শশী একটা জোরে নিঃশ্বাস নিল । তারপর মনে মনে বলল, যা বলার বলুক ! এটা মনে করেই উঠে পড়লো । আবারও সেই চাদরটা জড়িয়ে নিল । তারপর মেয়েদের রুম থেকে বের হয়ে পাশের রুমে দরজার সামনে গিয়ে দাড়ালো । দরজাটা খোলা । ভেতর থেকে কথা বলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে । শশী আবারও একটু থামলো । একটু যেন অস্বস্তি হচ্ছে ।
কী ভাববে ওরা !

ভাবুক যা ইচ্ছে !

দরজাতে উকি দিলো । তারপর একটু গলায় জোর নিয়ে ডাক দিল, অপু ভাইয়া !
ঘরের সব গুলো চোখই শশীর দিকে ফিরে তাকালো । হাসাহাসি আওয়াজ থেমে গেল । সোলার লাইটের আলোতে সব গুলো মুখ দেখতে পাচ্ছে শশী !
সে কোথায় ?
ঐ তো কোনার দিকে । ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে !
-বলুন ।
শশী বলল, একটু আসবেন প্লিজ ! একটু দরকার ছিল !

অপুকে একটু দ্বিধান্বিত দেখলো । তবে সে উঠে দাড়ালো । দরজার সামনে এসে বলল, কিছু দরকার ছিল?
-জি ! একটু আসবেন ?
-কোথায় ?
-ঐ চুড়ায় গিয়ে বসি ।

অপুকে আবারও কেমন যেন দ্বিধান্বিত মনে হল । বলল, চলুন !

অপুকে নিয়ে যখন চুড়ার দিকে হাটা দিচ্ছিলো ওর কানে পেছন থেকে হাসির আওয়াজ এল । শশী কিছু মনে করলো না ।
চুড়াতে বসার কয়েকটা জায়গা রয়েছে । তবে সে গুলো সবই ফাঁকা । বাইরে খুব বাতাস দিচ্ছে । বেশ ঠান্ডা লাগছে । এই জন্য বাইরে কেউ নেই এখন । একটা বেঞ্চে বসে পড়লো দুজন । সামনের অন্ধকারের দিকে শশী তাকিয়ে রয়েছে একভাবে । হঠাৎ কেন জানি ওর মনটা খুব বেশি ভাল হয়ে গেল । এমন পরিবেশে ও কোন দিন আসে নি । কোন দিন আসবে ভাবতেও পারে নি ।

শশী হঠাৎ লক্ষ্য করলো যে অপু একটু একটু কাঁপছে যেন । শীত লাগছে ওর । কেবল মাত্র একটা টিশার্ট পরে রয়েছে সে । শীত লাগবেই । শশী বলল, আপনার শীত লাগছে ?
-একটু লাগছে । যে বাতাস !
-আসুন আমার চাদরের ভেতরে আসুন !
-আরে না না ! ঠিক আছে । কি যেন বলবেন বলছিলেন?

শশী অপুর কথা শুনলো না । অপুর একটু কাছে চলে এল । তারপর চাদরটা জড়িয়ে দিল অপুর শরীরে । অপু বুঝতে পারলো যে মানা করে লাভ নেই । একটু টেনে নিল সে । অপুর কাধটা গিয়ে ঠেকলো শশীর কাধে ।
অপু আবার বলল, কি যেন বলবেন বলছিলেন?
শশী যে কি বলবে সেটা সে নিজেই জানে না । কেবল মনে হল কিছু বলা দরকার !
-আজকে যখন পরে যাচ্ছিলাম, জানেন আমার তখন কী মনে হচ্ছিলো?
-কী ?
-মনে হচ্ছিলো এতো জলদি মরে যাবো ! জীবন কিচ্ছু করতে পারলাম না । একটু নিজের মত করে বাঁচতেও না ।
অপু চুপ করে রইলো । শশী আবার বলল, আমি যখন ঘাস লতাপাতা ধরে ঝুলে ছিলাম তখন একবার কেবল নিচে তাকিয়েছিলাম । যেন আমি আমার অতীতের সব কিছু আমার চোখের সামনে এক নিমিষে চলে এল । তারপর …

শশী কিছু সময় চুপ করলো । অপু বলল, তারপর? তারপর কি হল?
-তারপর আমি কেবল বুঝতে পারলাম যে জীবন ভর যে আমি যে যে বিষয়ে ভয় পেয়েছি, অন্যের জন্য নিজের ইচ্ছের গলা টিপে মেরেছি এসব মূল্যহীন । জীবনটা আমার । আমার কাছে আমি সব থেকে গুরুত্বপূর্ন হওয়া দরকার ছিল আমার নিজের ইচ্ছে গুলো। তাহলে এই আফসোসটা হত না।
-ওয়েল । জীবন কিন্তু শেষ হয়ে যায় নি ।
-জানি । থ্যাংস্ক টু ইউ ।
-আরে বাবা এটা যে কেউ করতো ।
-করতো না । তুমি করেছো।

অপু লক্ষ্য করলো শশী ওকে তুমি করে বলেছে । ভুল করে নাকি ইচ্ছে করে সেটা অবশ্য বুঝতে পারলো না । শশী বলল, দ্বিতীয় সুযোগ যেহেতু আমি পেয়েছি তাই এইবার আর এটা নষ্ট করবো না । নিজের মনে যেটা ইচ্ছে করবে সেটা করবো ।
-তাই করা উচিৎ ! আমি সব সময় তাই করি ।
-তাই করবো। আগে বল দেখি তোমার কি প্রেমিকা আছে?

অপু খানিকটা অবাক হয়ে গেল শশীর এই কথা শুনে । মোটেই ভাবতে পারে নি এমন প্রশ্ন শশীর মুখ থেকে বের হবে । অপু বলল, মানে কি বলছো?
-আরে বাবা বললাম যে কোন প্রেমিকা আছে তোমার? নাকি সিঙ্গেল?
-এখনও সিঙ্গেল ।
-গুড । আজ থেকে আর নেই । আজ থেকে আমি তোমার প্রেমিকা ! গার্লফ্রেন্ড !
অপু যে কি বলবে সেটা খুজেই পেল না । মেয়েটার মাথা নিশ্চিত ভাবে খারাপ হয়ে গেছে । নয়তো এমন ভাবে এমন কথা কি কেউ বলতে পারে!

অপু কি বলবে বুঝতে পারলো না । চুপ করে তাকিয়ে রইলো সামনের দিকে । বাতাসের পরিমান আরও যেন বেড়েছে । অপুর একটু শীত শীত অনুভব হচ্ছে । তবে সেটা মুখ ফুটে বলল না । চাদরের সাথে সাথে শশীর শরীরটা খানিকটা ওর শরীরের সাথে ঘেষে রয়েছে । অপুর একটু অস্বস্তি যে লাগছে না সেটা বলবে না তবে কেন জানি ভালও লাগছে ।

শশী বলল, তুমি জানো আমি কিভাবে এই ট্যুরে এলাম? মানে আমি বলতে চাচ্ছি আমি কোন দিন ভাবি নি এই ট্যুরে আমি আসতে পারবো । এটা আমার জীবনে নেওয়া প্রথম সিদ্ধান্ত যেটা আমি একা একা নিয়েছি ।
-তাই নাকি?
-হুম । আমার এই বয়স পর্যন্ত আমি তাই করেছি যা আমাকে করতে বলা হয়েছে। কোন স্কুলে পড়বো, কি খাবো কি পরবো, কার সাথে মিশবো সব । আমি কোন দিন ডাক্তার হতে চাইনি । আমি হতে চেয়েছিলাম সাহিত্যের ছাত্রী । বাংলা কিংবা ইংরেজি । তারপর কোন কলেজের শিক্ষিকা । এটা আমার স্বপ্ন ছিল । কিন্তু আমাকে হতে হয়েছে ডাক্তার ।
-ডাক্তারও তো ভাল।
-ভাল যাদের প্যাশন থাকে । কিন্তু যাদের প্যাশন থাকে না, ডাক্তারি পড়া তাদের জন্য এটা এক দোজখ । স্রেফ হেল । এই পুরো সময়টা আমি কেবল হেলে ছিলাম । আর কিছু না । আমি এখনও রক্ত দেখতে পারি না ঠিকঠাক মত । আমার সাথে যারা ছিল, সবাই এক বছরের ভেতরেই সামলে নিয়েছে । দুইজন অবশ্য মেডিক্যাল ছেড়ে দিয়েছিলো কিন্তু আমি সামলে উঠতে পারি নি । আমার প্রেফেসর একবার আব্বুর সাথে কথা বলেছিলো । তাকে বলেছিলো যে আমার জন্য আসলে ডাক্তারি না । কিন্তু আবার বাবা সেসব কথা শোনে নি । আমাকে বাধ্য করেছে ।
-এরপর?
-এরপর আর কি? হতে হয়েছে । ডাক্তার হয়েছি বটে কিন্তু কেমন ডাক্তার কে জানে । আমি সম্ভবত এমন ডাক্তার যে এখনও রক্ত দেখলে মাথা ঘুরে ওঠে । মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে যাই । হিহিহিহি !

অপু চুপচাপ শুনছিলো শশীর কথা । ট্যুর শুরু প্রথমেই জেনেছিলো যে শশী মেয়েটা ডাক্তার । ডাক্তার কথা শুনলেই একটা আলাদা অনুভূতি আসে । অপু সারা জীবন ডাক্তারদের পছন্দ করে এসেছে । অপুর কাছে মনে হয় ডাক্তারী পেশাটা একটা চমৎকার পেশা । এদের ভেতরে একটা আলাদা কুলনেস রয়েছে । মেয়ে হলে তো কথাই নেই । একবার এক ডাক্তার মেয়ের সাথে অপুর বেশ কিছুদিন কথা হয়েছিলো । মেয়ের ভাব ভঙ্গিমা এতো হাই ছিল যে অপু ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারে নি । কিন্তু এই মেয়েটাকে একদম অন্য রকম মনে হচ্ছে । একটু আগে সে আবার নিজেকে অপুর গার্লফ্রেন্ড হিসাবে ঘোষণাও দিয়েছে । অবশ্য এটা ঝোকের মাথায় হতে পারে । মেয়েটা আজকে একটা শক পেয়েছে । সত্যি সত্যিই মৃত্যুর কাছে চলে গিয়েছিলো । অপুর কারণে ফিরে এসেছে । সে নিজেও জানে না যে এভাবে সে কেমন করে লাফ দিয়ে মেয়েটার কাছে চলে গেল । হয়তো দুজন এক সাথেই মারা পরতো নিচে গিয়ে পড়ে !

অপু বলল, তারপর কী হল ? কিভাবে এলে এই ট্যুরে?
শশী বলল, বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে । তারই পছন্দের এক ছেলের সাথে । বিয়েটা আজকে হওয়ার কথা ছিল !
অপু খানিকটা অবাক হয়ে বলল, বিয়েটা আজকে হওয়ার কথা ছিল ?
-হুম ! পালিয়ে এসেছি । কোথায় যাবো আসলে ঠিক ছিল না । সারা জীবনে পরিবারের কথা মত চলতে গিয়ে আসলে আমার ভাল কোন বন্ধু ছিল না । কারো সাথে মিশতে শুরু করলে বাসা থেকে বলা হত তার সাথে কম কম মিশতে । তাই কারো সাথে আমার কখনও ভাল কোন সম্পর্ক তৈরি হয় নি কোন দিন । পালিয়ে তাদের কাছে যেই উপায়ও ছিল না । ঘর থেকে সকাল বেলা যখন বের হলাম তখনও আমি ঠিক জানতাম না যে আমি কোথায় যাবো ! সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরে বেরিয়েছি । তারপর ফেসবুকে এই ট্যুরের ইভেন্টটা দেখলাম । কোন কিছু চিন্তা না করেই চলে এলাম ।
-বাসায় অনুষ্ঠান ?
-না ঠিক কোন আয়োজন করা হয় নি এখনও । আজকে কেবল আকদ করার কথা ছিল । হোটেল স্কাই ব্লুতে পারিবারিক ভাবে বিয়েটা হওয়ার কথা ছিল । ছেলে অনেক ব্যস্ত । তার এখন সময় নেই বিয়ের আয়োজন করার ! তাই আপাতত ছোট পরিসরে বিয়ে !
-আচ্ছা ! তো এখন কী হবে? মানে যখন বাসায় যাবে তখন ?
-তখন কী হবে জানি না ! তবে আগের মত আর কিছু হবে না । ঐ যে বললাম যখন আমি একেবারে মৃত্যুর কাছে চলে গিয়েছিলাম তখন চোখের সামনে আমার পুরো জীবনটা চলে এসেছিলো । বারবার কেবল মনে হল এই পুরো জীবনে আমি কেবল অন্যের কথাতেই জীবন কাটিয়েছি । কী যে আফসোস হচ্ছিলো তখন ! সো এরপর যদি এমন পরিস্থিতে পরি, তাহলে যেন অন্তত আমার যেন আর আফসোস না হয় !

আর কিছু সময় ওরা বসেই রইলো চুড়ায় । দুজনেরই কেন জানি এই বসে থাকতে বেশ ভাল লাগছে !

দুই
শশী এমন ভাবে বাসায় ঢুকলো যেন কোন কিছু হয়ই নি । অপু ওকে বাসা পর্যন্ত পৌছে দিয়ে গেল । শশী তখন ইচ্ছে করেই অপুকে সিএনজি থেকে নামতে বলল। কারণ শশীর চোখ পড়েছে যে ও বাবা তখন বারান্দায় বসে ছিলেন । প্রতিদিন সকালে নামাজের পরে সে বারান্দায় বসে থাকে । এটা শশী জানতো !
অপু বাইরে বের হয়ে এল। শশী অপুর হাত ধরে বলল, শোন আমি কিন্তু ফান করি নি ঐ ব্যাপারে !
-কোন ব্যাপা…..
শব্দটা শেষ করলো না অপু । কারণ সে বুঝতে পেরেছে । একটু থেমে বলল, আচ্ছা ! বুঝলাম । বাসায় গিয়ে দেখো কী হয় ! যদি আবার জোর করে না বিয়ে দেয় তাহলে অবশ্য হবে । কিন্তু যদি কালই বিয়ে দিয়ে দেয় !
-কেন তাহলে নিজের প্রেমিকাকে রক্ষা করতে আসবে না ? আই মিন ভাগিয়ে নিয়ে যাবে না ?
অপু শশীর কথা শুনে হেসে ফেলল । তারপর বলল, হ্যা হ্যা আসবো তো । কেবল একটা ফোন দিবে । আমি চলে আসবো !

অপু চলে যাওয়ার পরে গেটের সামনে দাড়িয়েই একটা জোড়ে করে দম নিল । তারপর গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকেগেল । দরজা খুলে দিল তার বাবাই । রাতের নাইট ডিউটি শেষ করে যখন শশী সকালে বাসায় আসতো ওর বাবাই দরজা খুলে দিতো । আজও তেমন ভাবেই খুলে দিল । দরজার দিয়ে শশী খুব স্বাভাবিক ভাবেই ভেতরে ঢুকলো প্রতিদিনের মত । এমন একটা ভাব যেন সব কিছু স্বাভাবিক আছে ।

অবশ্য গতরাতে ওর মায়ের সাথে কথা সময়ই অনেক কিছু বলেছিলো । বান্দরবান থেকে চট্টগ্রামে এসে শশী নিজের ফোন খুলেছিলো । তারপর ট্যুরের বেশ কিছু ছবি সে আপলোড দিল । প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করলো । অপুর সাথে তোলা একটা ছবি আপলোড দিয়েছিলো । প্রায় সাথে সাথেই ওর মায়ের ফোন এসে হাজির হল । প্রথমে কিছু সময় খুব বকাঝকা করলো ওকে । ধৈর্য্য সহকারে শুনলো । তারপর মাকে শান্ত কন্ঠে বলল, তোমরা কি চাও আমি তোমাদের সাথে থাকি, নাকি চাও আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাই ?

শশীর কাছ এমন কোন কথা সম্ভবত ওর মা আশা করে নি । কিছু সময় কোন কথা বলল না সে । তারপর বলল, কী বলছিস এসব ?
-বললাম তোমরা কি চাও আমি বাসায় আসি নাকি না আসি?
ফোনের ওপাশ থেকে কোন কথা শোনা গেল না । তবে শশী পরিস্কার বুঝতে পারছিলো যে ফোনটা স্পিকারে দেওয়া । সে যা বলছে তার বাবাও শুনতে পাচ্ছে । শশী বলল, আজ থেকে আমি কী করবো না করবো সেই ব্যাপারে তোমরা আমাকে অবশ্যই পরামর্শ দিতে পারো ভাল মন্দের ব্যাপারে বলতে পারো অবশ্যই । তবে আমার জীবনের সিদ্ধান্ত একান্তই আমার । তোমরা আজ থেকে আমার উপরে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করবে । আর একবার যদি নিজেদের সিদ্ধান্ত আমার উপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কর তাহলে সেদিনই বাসা ছেড়ে আমি চলে আসবো ।

শশী আর কোন কথা না বলে ফোন রেখে দিয়েছিলো । তবে এটা ঠিক ঠিক বুঝতে পেরেছিলো যে ফোনের ওপাশের দুজন মানুষই তার আচরনে রাগান্বিত হওয়ার চেয়ে বিস্মিত হয়েছে বেশি ।

ট্যুরের ক্লান্তি ছিল শরীরে । দিনের বেশির ভাগ সময় শশী ঘুমিয়েই কাটালো । দুপুরে একবার খাবার খেল তারপর আবারও শুয়ে পড়লো । বিকেলে উঠে তৈরি হল বাইরে যাওয়ার জন্য । ফোনে অপুকে আসতে বলেছে ধানমণ্ডিতে । ওর সাথে আরও একটু সিরিয়াসলি কথা বলা দরকার । ছেলেটাকে এমন হঠাৎ করে ভাল কেন লেগে গেল সেটা শশী মোটেও বলতে পারবে না । এমন হতে পারে জীবনের প্রথম কিছু করতে যাওয়ার কারণেই সম্ভবত এমন কিছু হচ্ছে । তার উপরে অপু ওভাবে লাফ দিয়ে ওকে রক্ষা করলো । এটা অনেক বড় কিছু । কোন মানুষ কি অপরিচিত কোন মানুষের জন্য এমন কিছু করে? গল্প উপন্যাসের নায়কেরা হয়তো করে । বাস্তবের কেউ করে ?

রেডি হয়ে বের হতে যাবে তখনই শশী মা বের হয়ে এল রান্নাঘর থেকে । ওর দিকে তাকিয়ে বলল, কোথায় যাচ্ছিস ?
-আজকে তো ডিউটি নেই তোর । বাইরে কেন যাবি?
শশী শান্ত কন্ঠে বলল, মা ডিউটি ছাড়া আমি বাইরে যেতে পারি না ? আমার জীবন কি কেবল হাসপাতাল আর বাসা ! এই কাজ আমার?

শশীর কন্ঠে একটা ঠান্ডা উত্তাপ ছিল । ওর মা যে অবাক হয়েছে সেটা বুঝতে শশীর মোটেই কষ্ট হল না । সেই সাথে নিজেও খানকিটা অবাক হল নিজের ভেতরের এই দিকটা দেখে । আসলেই সে কোন দিন এমন ভাবে আচরণ করবে সেটা সে জানতোই না । মায়ের দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে বলল, এখন বাইরে গেলে কী সমস্যা শুনি ?
-না মানে মাহিনটা আসছে এখন ?
-মাহিন কে …..

মাহিন কে বলতে গিয়ে থেমে গেল । নামটা মাথার ভেতর থেকে সরে গিয়েছিলো । মাহিন হচ্ছে সেই ছেলে যার সাথে ওর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল । শশী বলল, ওরা কেন আসছে?
-তুই ফিরে এসেছিস শুনে আসতে চাইলো !
-আর তোমরা রাজী হয়ে গেলে? মা আমি তোমাকে বলেছি না তোমাদের সিদ্ধান্ত আমার উপরে চাপিয়ে দিবে না মোটেও ! বলেছিলাম?

শশী মা কিছু বলতে যাচ্ছিলো কিন্তু ঘর থেকে ওর বাবা বের হয়ে এল । শশীর দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার উপরে কোন সিদ্ধান্ত কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না । ওরা কেবল দেখা করতে আসছে । আর কিছু না । তবে তোমার যদি জরূরী কাজ থাকে তাহলে তুমি যেতে পারো । এখন যেহেতু বড় হয়েছো তাই নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই তো নিবে ! আমি ওদের মানা করে দিচ্ছি !

শশী কিছু সময় বাবার দিকে তাকিয়ে রইলো । তার মনের ভাব বুঝতে চেষ্টা করলো । তাররপ বলল, আচ্ছা আসতে বল । আমি দেখা করছি ।

শশী আবার ঘরের ভেতরে চলে গেল । ফোন করে অপুকে একটু দেরীতে বের হতে বলল । আধাঘন্টা অপেক্ষা করার পরেই মাহিন তার বাবা মা সমেত বাসায় এসে হাজাির হল । তার একটু পরে ডাক পড়লো শশীর । বসার ঘরে শান্ত ভাবেই প্রবেশ করলো সে । সাথে সাথে ঘরের সবার চোখ ওর দিকে ঘুরে গেল ! কোর্ট টাই পরা মাহিন রহমানকে সোফার উপরে বসে থাকতে দেখলো ।
শশী শান্ত ভাবেই গিয়ে বসলো ডান দিকের সোফাতে । ওর পাশের সোফাতেই বসে আছে মাহিন । ওর দিকে তাকিয়ে আছে । একেবারে সরাসরি চোখের দিকে তাকালো । দেখতে পেল মাহিন চোখ সরিয়ে নিলো।

এর আগের বার যখন শশীকে ওরা দেখতে এসেছিলো শশী একটা বারের জন্য কারো দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারে নি । কিন্তু আজকে ব্যাপারটা একেবারেই ভিন্ন একটা ব্যাপার । মাহিনের মা হঠাৎ শশীর বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, দেখুন সমাজে আমাদের একটা মান সম্মান আছে । এভাবে এমন একটা কাজ হবে আমরা কোন দিন ভাবতেও পারি নি । আমরা এখানে আসতামও না । কিন্তু মাহিনের আগ্রহে এখানে এসেছি । এর একটা সমাধান চাই আমরা !

শশীর বাবা কিছু বলতে যাচ্ছিলো তার আগেই মাহিন শশীর দিকে তাকিয়ে বলল, অন্য সবার কথা বাদ দিলাম । আমি আপনার কাছে জানতে চাই যে আপনি কেন কাজটা করলেন ? এভাবে আমাকে অপদস্ত্য না করলেই কি হত না ?

শশী কিছু সময় শান্ত চোখে তাকিয়ে রইলো মাহিনের দিকে । তার এখন সত্যিই মনে হল যে যে কাজটা সে করেছে নিজের দিক থেকে সেটা সঠিক থাকলেও তার সিদ্ধান্তের কারণে মাহিন এবং তার পরিবারের উপরে একটা বিরূপ প্রভাব পড়েছে । একটা লম্বা দম নিল সে । তারপর বলল, দেখুন মাহিন সাহেব, আমি দুঃখিত আমার কারণে কারণে আপনাকে অপদস্ত্য হতে হয়েছে । তবে যে সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছি কিংবা যে কাজটা আমি করেছি সেটার জন্য আমি মোটেও দুঃখিত নই । আমি এই বিয়ে করতে চাই নি । আমাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো । এই কথাটা আমি আপনাকে একবার ফোনে বলার চেষ্টা করেছিলাম । আপনি সম্ভবত নিজের কাজে এতো ব্যস্ত ছিলেন যে সেই ব্যাপার কর্ণপাত করার কোন সময় পান নি ।
-কেন আপনি রাজি না ? আমি কি আপনার যোগ্য নই !

শশী হেসে ফেলল । তারপর বলল, এখানে যোগ্যতার প্রশ্ন কেন আসছে ? আপনি নিজ জীবনে খুব সফল আর প্রতিষ্ঠিত একজন মানুষ । তার মানে কি এই যে জগতের সব মেয়ে আপনার সাথে বিয়ে করতে রাজি হবে ? এটাই কি আপনার ভাবনা ?

শশী একে একে সবার মুখের দিকে তাকালো । সবাই কেমন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে শশীর দিকে । বিশেষ করে ওর বাবা যেন নিজের মেয়েকে ঠিক চিনতেই পারছেন না । শশী বলল, দেখুন মাহিন সাহেব, আপনি অনেক যোগ্য একজন মানুষ । কিন্তু আমার তাতে কিছুই যায় না । আমি কেবল আপনাকে বিয়ে করতে চাই না । ব্যস আর কোন কথা নেই । বুঝতে পারলেন কি ? এই সহজ কথাটা আমার বাবা কোন বুঝেন নি । আরও ভাল করে বললে বোঝার চেষ্টাও করেন নি । আপনার মনভাবও ঠিক আমার বাবার মতই । আপনার সাথে আমার বিয়ে হলে জামাই শ্বশুরে খুব মিল হত কিন্তু আমার জীবন হেল হয়ে যেত । এক দোজখে আমি ছিলাম অন্য দোজখে গিয়ে পড়তাম । আশা করি আমার বক্তব্য পরিস্কার হয়েছে ! আর কিছু জানতে চান ?

মাহিন এবার খানিকটা বেপরোয়া হয়ে বলল, আপনার পছন্দের হতে হলে আমাকে কী করতে হবে বলুন ? কী চান আপনি ?

শশী এবার একটু অবাক হল । বিশেষ করে মাহিনের কন্ঠের বেপরোয়া ভাব দেখে বুঝতে অসুবিধা হল না মাহিন কেন এমন আচরণ করছে। শশী বলল, মাহিন সাহেব, আপনি সম্ভবত রিজেশন নিতে পারেন না । অবশ্য আপনি যেমন সফল একজন মানুষ আপনি এতোদিন সবাইকে রিজেক্ট করে এসেছেন , রাইট ? বিশ্বাস করুন আপনার স্থানে সালমান খান হলেও আমি এই কাজই করতাম । আমি জাস্ট এখন বিয়ে করতে চাই না । আশা করি বুঝতে পারছেন আমার অবস্থা !

সবাইকে সেখানে রেখে শশী উঠে গেল । দরজা খুলে বের হয়ে গেল । সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে নিজের মনের ভেতরে একটা অদ্ভুত আনন্দ আর শান্তি অনুভব করছিলো !

আলফ্রেস্কোতে ঢুকেই দেখতে পেল অপু এক কোনে বসে রয়েছে । ওকে দেখতে পেয়ে হাটার গতিটা একটু যেন বাড়িয়ে দিল । ওর সামনে বসতে বসতে বলল, হাই !
অপু খানিকটা অবাকই হল ওর দিকে তাকিয়ে । বলল, কী ব্যাপার এতো উত্তেজিত কেন?
-জানি না । কেবল মনে হল যে আমি যেন নতুন কোন জীবন পেয়েছি ।
-নতুন জীবন ?
-হুম ! একেবারে নতুন জীবন ! ঐদিন পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়ার পরে একেবারে নতুন একটা জীবন । নিজেকে নিজেই চিনতে পারছি না । এমন সব কাজ আজকে আমি করেছি যা করার কল্পনাও করতে পারতাম না আমি ।
-গুড ! ভাল । তোমার উত্তেজনা দেখে আমার নিজেরই ভাল লাগছে ।

শশী কেবল হাসছিলো আপন মনে । তবে সেই হাসিতে একটা উজ্জ্বলতা ছিল । আস্তে আস্তে একটু আগে ওর সাথে ঘটে যাওয়া সব কিছু সে অপুর সাথে শেয়ার করলো । অপু শুনে বেশ অবাকই হল ! তারপর বলল, তুমি সত্যিই একদিনে অনেক বদলে গেছো । এবার থেকে আবার বদলাতে হলে পাহাড়ে গিয়ে আরেকবার ঝাপ দিও । ঠিক আছে !
শশী বলল, তুমি যদি আবার রক্ষা করতে আসো তাহলে লাফ দিতে রাজি আছি ।

তিন

অপুর সাথে গল্প করে বাসায় এসে হাজির হল রাতের দিকে । মনের ভেতরে একটা ক্ষীণ সম্ভবনা ছিল যে এইবার ওর বাবা হয়তো ওর সাথে খুব রাগারাগি করবে । কিন্তু তেমন কিছুই হল না । রাতে খাবেন না বলে নিজের রুমের দিকে চলে গেল । কিছু সময় পরে আলো বন্ধ করে শুয়েও পড়লো । কাল সকালে আবার মর্নিং শিফট আছে । সেখানে যেতে হবে ।

যখন ঘুম চলে এসেছে সেই সময় শশী অনুভব করলো ওর বাবা ওর ঘরে ঢুকেছে । ডিম লাইটের আলোতে তার বাবার আবছায়া অয়বয়টা বেশ ভাল করেই দেখতে পাচ্ছে । ওর বিছানার পাশে চুপ করে দাড়িয়ে রইলো কিছু সময় । তিনি চলে যাবে তখনই শশী বলল, কি বলবে আব্বু !
শশীর কন্ঠ শুনেই তার বাবা যেন একটু যেন চমকে উঠলেন । তবে সামলে নিলেন । তারপর বললেন, ঘুমাস নি?
-এই তো ! আলো জ্বালবো?
-না থাকুক !

এই বলে তিনি বিছানার পাশেই বসলেন । তারপর চুপ করে কিছু সময় বিছানার পাশেই বসে রইলেন । এক সময়ে বললেন, আমার উপরে তোর অনেক রাগ, তাই না মা ?
-এই কথা কেন বলছো আব্বু ?
-না ! আসলে আমি আজকে ঠিক ঠিক বুঝতে পারছি তোর উপরে আমি কতখানি জুলুম করেছি । তোর ভাল চাই, এই অযুহাতে কোন দিন কোন তোকে নিজের মত করে জীবনটাকে দেখতে দেই নি । সব সময় নিজের সিদ্ধান্ত তোর উপর চাপিয়ে দিয়েছি । আমি আসলে কোন দিন বুঝতেও চেষ্টা করি নি । আসলে এমন ভাবেই বড় হয়েছি । আমরা দেখে এসেছি আমাদের বাবা চাচারাও ঠিক এমন আচরণ করেছেন আমাদের সাথে । আমরা ভেবে এসেছি যে এটাই বুঝি সঠিক পথ কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আসলে তোর দিকটা আমার ভেবে দেখা দরকার ছিল । জানতে চাওয়া দরকার ছিল যে তুই কি চাস সেটা শুনতে চাওয়া !

শশী এবার উঠে দাড়ালো । তারপর উঠে গিয়ে ওর বাবাকে জড়িয়ে ধরলো । হালকা ফোপানির মত আওয়াজ বের হয়ে এল আপনা আপনি । শশী বলল, আই এস সরি !
-না আমি সরি মা । তুই যেদিন চলে গিয়েছিলো আমার কি যে মনে হচ্ছিলো তোকে বলে বোঝাতে পারবো না ।

কত সময় বাবা মেয়ে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে কেউ বলতে পারবে না । এক সময়ে শশীর বাবা বলল, তুই ঘুম দে। কাল কি ডিউটি আছে ?
-হুম আছে !
-আচ্ছা । ঘুমা । কাল কথা হবে । আর তোর ঐ বন্ধুকে একদিন বাসায় নিয়ে আসিস । ঠিক আছে !

শশী হাসলো একটু । একটু লজ্জাও পেল। তারপর বলল, আচ্ছা !

শশী যখন আবার নিজের বিছানায় পিঠ ঠেকালো তখন ওর মনে একটা তীব্র আনন্দ কাজ করছে । সত্যিই সত্যিই বুঝতে পারছে যে সামনের জীবন ওর চমৎকার হতে চলেছে !

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.9 / 5. Vote count: 82

No votes so far! Be the first to rate this post.

About অপু তানভীর

আমি অতি ভাল একজন ছেলে।

View all posts by অপু তানভীর →