ঘুমের ঔষধ

oputanvir
4.7
(75)

শোবার ঘরে এসে মিতুর একটু মেজাজ খারাপ হল । বিছানাটা একেবারে এলোমেলো হয়ে আছে । দুদিন সে বাসায় ছিল না । অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে গিয়েছিলো আজকে সকালে ফিরে এসেছে । অপু ততক্ষনে অফিস চলে গেছে । এই দুইদিনে বাড়ি ঘর কেমন হয়েছে সেটা এখনও দেখার সুযোগ পায় নি । অবশ্য অপু খুব বেশি অগোছালো না । তারপরও পুরুষ মানুষ বলে কথা । এই যেমন অপু ঘুম থেকে উঠেছে বটে কিন্তু বিছানাটা একই রকম রেখে গেছে । পাতলা কম্বলটা একটু ভাজ করে রাখা আর বিছানাটা একটু গুছিয়ে রাখলে কী এমন সমস্যা হত !

মিতু পাতলা কম্বলটা টা তুলতেই তার নিচ থেকে আরও কিছু বের হয়ে এল । কম্বলটা একপাশে সরিয়ে রেখে মিতু বিছানাতে বসে পড়লো । হাত দিয়ে কিছু সময় সেটা স্পর্শ করলো । একভাবে তাকিয়ে রইলো সেদিকে । ব্যাপারটা বুঝতে একটু সময় লাগলো বটে কিন্তু যখন বুঝতে পারলো তখন মনের ভেতরে একটা অসম্ভব ভালো লাগার অনুভূতি অনুভূত হল। চোখের কোনে একটু জল এসে জমা হল অপুর জন্য ।
পাগল একটা !

দেওয়ালের ঘড়ির দিকে তাকালো । হাতে এখনও মোটামুটি ঘন্টা চারেক সময় আছে । আজকে আর অফিস যাওয়ার দরকার নেই । অফিস থেকে আজকে ছুটি দিয়েছে । ভেবেছিলো আজকে আর কোন কাজ করবে না । সারা দিন বিশ্রাম নিয়ে কাটিয়ে দিবে । তবে সেই পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দিল । যদিও ওর শরীর এখন ক্লান্ত নয় । আসার সময় ট্রেনের এসি বাথেই এসেছে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে । ঘুমের কোন দরকার নেই ।

ফ্রিজ খুলে দেখলো দরকারী সব কিছু আছে কিনা । নয়তো এখন আবার বাজারে যেতে হবে । মিতু দেখলো যা যা রান্না করতে চাইছে সব কিছুই আছে । দ্রুত কাজ শুরু করে ছিল । অপুর লাঞ্চ আওয়ারের আগে ওর অফিসে গিয়ে হাজির হতে হবে ।

মিতুর সাথে অপুর বিয়ে হয়েছে খুব বেশি দিন হয় নি । মাস ছয়েক হয়েছে কেবল । দুজনেই ঢাকাতে চাকরি করে । বিয়েতে খুব বেশি ধুমধাম করাও হয় নি । একদিন বিয়ে তার আগের দিন গায়ে হলুদ । বিয়ের তিনদিন পরে আবার দুজনে ঢাকাতে ফিরে এসে অফিসে যোগদান করে । দিন পনের পরে তারা এক সাথে থাকতে শুরু করে । এভাবেই ওদের জীবন এগিয়ে চলছে ।

অপুর লাঞ্চ আওয়ারে যখন ক্যান্টিনের দিকে হাটা দিবে তখনই মিতুর ফোন এসে হাজির।
-লাঞ্চ করবে না?
-হ্যা । যাচ্ছি । তুমি খেয়েছো?
-হ্যা খাবো । তোমার অফিসের ক্যান্টিনে বসে আছি । আসো।
-মানে ? কখন এলে?
-এই তো মাত্রই ঢুকলাম । এসো জলদি !
-আসছি !

অপু দ্রুত গিয়ে হাজির হল ক্যান্টিনে । সেখানে এই সময়ে বেশ ভীড় থাকে । তবে লাঞ্চ আওয়ার মাত্র শুরু হয়েছে । এই জন্য এখনও লোকজন এখনও বেশি আসে নি । তবে কিছু সময়ের ভেতরেই লোকজন চলে আসবে । অপু ক্যান্টিনে ঢুকেই মিতুকে দেখতে পেল । ক্যান্টিনের একপাশে ওকে বসে থাকতে দেখলো । টেবিলে বসতে বসতে অপু বলল, কী ব্যাপার এরকম হঠাৎ করে ?
মিতু একটু হেসে বলল, না মানে ভাবলাম দুইদিন মাই ডিয়ার হাসব্যান্ড খাওয়া দাওয়া করতে পারে নি তাই একটু যত্ন করে খাওয়াই ।
অপু হাসলো । দেখলো মিতু একটা টিফিন ক্যারিয়ার বের করছে ।

খাবার গুলোর দিকে তাকিয়ে অপুর মন বেশ ভাল করে হয়ে গেল । ইলিশ মাছ আর চিংড়ি মাছ দোপেয়াজো করা । সাথে লেবু আর লাল শাক । দুজন মিলে বেশ আরাম করেই খাওয়া দাওয়া করলো । লাঞ্চ আওয়ার শেষ হওয়ার পরে আস্তে আস্তে ক্যান্টিন ফাঁকা হতে শুরু করলে মিতু বলল, তাহলে যাও । কাজ কর । আমি আসি ।
-আর একটু থাকো ।
-কেন?
-আরে বাবা দুইদিন দুরে ছিলে ! আরও একটু থাকো ।

মিতু কিছু সময় একভাবে তাকিয়ে রইলো অপুর দিকে । তারপর বলল, এই দুইদিন রাতে ঘুম আসে নি ভাল ভাবে । তাই না ?
অপু কোন কথা বলল না । মিতু বলল, এই জন্য ঢাকার বাইরে যেতে দিতে চাইছিলে না ?
-না মানে ….
-আর আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়তো স্বামী হিসাবে আমার উপর খবরদারী করছো ! বাসায় এসে টের পেলাম যে আমি কতটা ভুল ছিলাম ।
মিতু কিছু সময় চুপ রইলো । তারপর আমার বলতে শুরু করলো, বিছানা গোছাতে গিয়ে দেখলাম কম্বলের নিচে আমার সেলোয়ার কামিজ । তুমি রাতে ঘুমানোর সময় ওটা পাশে নিয়ে ঘুমিয়েছে । আমার শরীরের গন্ধ নেওয়ার জন্য। তাই না?

অপু নিরবে মাথা ঝাকালো । মিতু বলল, এই কথাটা তখন বলা যায় নি? বলা যায় নি যে তুমি চলে গেলে আমার ঘুম আসবে না রাতে ? বলা যায় নি তোমাকে জড়িয়ে না ধরলে আমার ঘুম আসে না?
অপু মৃদু স্বরে বলল, সরি ।
মিতু হাসলো । বলল, তুমি আসলে বোকা । বুঝেছো ? এখন যাও অফিসে । কাজ কর্ম শেষ করে দ্রুত বাসায় আসবে । মনে থাকবে?
-থাকবে ।

মিতু যখন বাসায় ফিরে এল তখনও ওর মনে সেই ভালো লাগাটা কাজ করছে । আজকে অপু বাসায় এলে ওকে স্পেশাল উপহার দিবে ঠিক করলো । সেই সাথে এও ঠিক করে নিল যে এমন ভাবে ওকে একা রেখে আর কখনও যাবে না । অফিসের কাজে যদি বাইরে যেতেই হয় তাহলে অবশ্যই ওকে সাথে করে নিয়ে যাবে !

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.7 / 5. Vote count: 75

No votes so far! Be the first to rate this post.

About অপু তানভীর

আমি অতি ভাল একজন ছেলে।

View all posts by অপু তানভীর →

One Comment on “ঘুমের ঔষধ”

  1. নিজস্ব বউ না থাকায় এমন গল্প বয়কট করা এখন সময়ের দাবী

Comments are closed.