রমজানের প্রথমদিনই এভাবে দেরি হয়ে যাবে নীরু একদমই ভাবতে পারে নি। রিক্সার উপরে বসে থাকতে থাকতে মেজাজটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অফিস থেকে একটু আগেই বের হওয়ার ইচ্ছে ছিল আজকে। কিন্তু একদম শেষ মুহুর্তে একটা কাজ এসে হাজির হল। সেটা শেষ করতে করতেই দেরি হয়ে গেল। এখন জ্যামের ভেতরে বসে রয়েছে। মনে মনে নিজের চুল ছিড়তে ইচ্ছে করল নীরুর। আজকে বাসায় গিয়ে নিশ্চিত রায়হানের মুখ বেজার হবে। এটাই নীরু চায় না।
নীরু যে পরিবারে বড় হয়েছে সেখানে ওকে শেখানে হয়েছে যে স্বামীদের সব সময় মন যুগিয়ে চলতে হবে। নীরু মা স্কুলের শিক্ষকতা করতেন। এই শিক্ষকতা করা নিয়ে নীরুর দাদী সব সময়ই তাকে কথা শোনাতো। নীরু ছোট থেকেই এই ব্যাপারটা দেখে এসেছে। সব সময় তার স্কুলে যাওয়ার আগেই নীরুর বাবার জন্য নাস্তা বানিয়ে গেছে আবার স্কুল থেকে এসে আবার রান্নায় মনযোগ দিয়েছে। নীরু সব সময় দেখে এসেছে তার বাবার কিছুই চাওয়া লাগে নি। সব সময় তার আগেই হাজির হয়েছে সব সব কিছু।
নীরু তার চাচাতো বোনদেরও এই একই কাজ করতে দেখেছে। স্বামীর জন্য তারা সব কিছু বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। স্বামীরা কিছুই করে না। তারা অফিসে বসে কাজ করে আর বউদের দায়িত্ব হচ্ছে ঘরের কাজ সামলানো, এবং স্বামীদের সকল চাহিদা পূরণ করা। তার নিজের বড় বোনও একই কাজ করে। তার ভাইয়ের বউও ঠিক একই কাজই করে।
নীরুর যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হল তখন তার দাদী প্রবল আপত্তি জানিয়েছিল। তার ভাষ্যমতে মেয়ে মানুষদের এতো পড়াশোনার কোন দরকার নেই। তবে নীরুর মায়ের কারণেই নীরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছিল। নীরুর বাবা প্রথমে তার মায়ের কথায় সায় থাকলেও নীরুর পড়াশোনায় সে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নি।
চাকরিতে যুক্ত হওয়ার কয়েকমাস পরেই নীরুর বিয়ে হয়ে গেল। কোন ভাবেই নীরু সেটা আর আটকাতে পারল না। নীরুর ইচ্ছে ছিল আরও কয়েক মাস পরে বিয়েটা করা কিন্তু সেতা আর সম্ভব হয় নি। বিয়েতে রাজী হয়ে গেল।
স্বামী হিসাবে রায়হান বেশ ভাল মানুষ। শান্ত স্বভাবের, চুপচাপ। সরকারি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সে। বিয়েরপ্রথম কয়েকদিন সে শ্বশুর বাড়িতেই ছিল। শুশুর বাড়ির লোকজনও নীরুর এই চাকরি করাটা পছন্দ করে নি। বিশেষ করে নীরুর শাশুড়ি এটা একদমই পছন্দ করে নি। যদিও সরাসরি কেউ কিছু বলে নি তবে তাদের মনভাব তেমনটাই বলে। মাস খানেক সেখানে থাকার পরেই মাত্র কয়েকদিন আগে নীরুরা নতুন বাসায় উঠেছে। বাসাটা নীরু আর রায়হানের অফিসের মাঝামাঝি অবস্থানে নেওয়া যাতে দুজনের যাওয়া আসায় সুবিধা হয়। কয়েকদিন নীরু যথা সাধ্য চেষ্টা করেছে রায়হানের পছন্দ মত চলতে। আসলে ছোট বেলা থেকে যে ব্যাপারটা দেখে আসছে সেটা আপনা আপনিই চলে এসেছে তার ভেতরে। তার মা যা করেছে, তার চাচাচো বোনরা যা করেছে নীরুও সেই কাজটা করা শুরু করেছে।
আজকে ভেবেছিল যে প্রথম রমজান উপলক্ষে বাসায় একটু আগে আগে আসবে। বাসায় ইফতারি তৈরি করবে। ছোলা সকালে বের হওয়ার সময়েই ভিজিয়ে রেখে এসেছিল। আরও দরকারি জিনিস পত্র কিনে নিয়েছিল গতদিনই। কিন্তু কখন যে বাসায় পৌছাবে সেটা বুঝতে পারছে না। অন্তত ঘন্টাখানেক সময় না পেলে তো ইফতারি তৈরি করা যাবে না ভাল ভাবে। প্রথমদিনই এমন হবে সেটা নীরু ভাবতেও পারে নি। আজকে নিশ্চিত ভাবেই রায়হান তাকে কথা শোনাবে। চাকরি নিয়ে কথাও শোনাতে পারে!
সব জ্যাম ঠেলে যখন নীরু বাসার সামনে এসে হাজির হল তখন ঘড়িতে ৫টা বাজে। এখনও ঘন্টা খানেক সময় আছে ইফতারিতে। মোড়ের মাথায় ইফতারির দোকান বসেছে। সেখান থেকে ডিম চপ আর কাবাব কিনে নিল। বাসায় গিয়ে ছোলাটা বসিয়ে দিবে। সাথে ফল আর শরবত বানানো যাবে।
বাসার গেটে হাত দিতেই বুঝল যে সেটা ভেতর থেকে বন্ধ। তার মানে রায়হান আগেই বাসায় পৌছে গেছে। মনটা একটু খারাপ হল। মনের ভেতরে একটা ক্ষীণ আশা ছিল যে রায়হান হয়তো বাসায় আসবে না। কিন্তু সেই আশাতে গুড়েবালি। রায়হান আগেই বাসায় চলে এসেছে। যখন সে কলিংবেল বাজল মনের ভেতরে একটা সুক্ষ অস্বস্তি কাজ করতে লাগল। বারবার মনে হচ্ছিল যে এখনই দরজা খুলে যাবে আর রায়হানের গম্ভীর মুখটা সে দেখতে পাবে!
ওকে দেখেই হয়তো বলবে, এতো সময়ে আসার সময় হল তোমার !
দরজা খুলে গেল একটু পরেই। রায়হানের চেহারাটা দেখা গেল সামনে। পরনে একটা টিশার্ট আর থ্রি কোয়াটার প্যান্ট। ওর দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বলল, আরে চলে এসেছো!
নীরু একটু বিভ্রান্ত হয়ে গেল। সে আসলে আশাই করে রেখেছিল যে রায়হানের গম্ভীর মুখ দেখবে কিন্তু তার বদলে সে দেখছে হাস্যজ্জ্বল মুখ। নীরু খাবারের প্যাকেটটা নিয়ে ঘরে ঢুকল। রান্না ঘরে কিছু একটা রান্না হচ্ছে সেটা সে বুঝতে পারছে। রায়হান নীরুর দিকে না তাকিয়েই বলল, শোনো রাগ করো না আবার। তোমার ছোলা হয়তো ঠিকমত হয় নি। আমার দোষ নেই কিন্তু।
এই টুকু বলেই সে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
নীরু ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারল না। ব্যাপারটা ওর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হল। রায়হান রান্না ঘরে রান্না করতে গেছে। ছোলা রান্না করছে!
নীরুর সত্যিই বিশ্বাস হল না। সে পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল রান্না ঘরের দিকে। তারপর সত্যিই দেখতে পেল সে চুলায় একটা কড়াইতে ছোলা হচ্ছে। রায়হান সেটা খুন্তি দিয়ে নাড়ছে।
নীরু একবার রান্নার কড়াইয়ের দিকে আরেকবার তাকাচ্ছে রায়হানের দিকে।
রায়হান ওর দিকে তাকিয়ে বলল, দেখো লবন আমি একটু দিয়েছি কিন্তু মনে হচ্ছে যে পরিমান মত হয় নি। আর রোজা রেখে সেটা চেক করতেও পারছি না। তাই আগেই বলছি রাগ করবা বলে দিলাম!
নীরু প্রথমে কী অনুভূতি প্রকাশ করবে সেটা বুঝতেই পারল না। এই দৃশ্যটা তার কাছে একেবারে নতুন। গল্প উপন্যাসে কিংবা নাটকে সে এমন কিছু দেখেছে সত্যি কিন্তু তার বাস্তব জীবনে এমন কিছু সে কোনদিন দেখে নি। তার বাবা কোন দিন রান্না ঘরের দিকে গিয়েছে বলে নীরুর মনে পড়ে না।
নীরু আরেকটু এগিয়ে এসে তাকাল কড়াইয়ের দিকে। তারপর বলল, লবন কত টুকু দিয়েছ?
-এই এক চামচের একটু বেশি।
-আরেকটু দাও।
-শিওর তো? আমাকে কিন্তু পরে দোষ দিতে পারব না।
নীরু হেসে বলল, আচ্ছা দিবো না। চিন্তা কর না।
রায়হান তবুও বোয়াম থেকে লবন নেওয়ার আগে নীরু দিকে তাকিয়ে মিলিয়ে দিল।
রায়হান বলল, তুমি ফ্রেশ হয়ে এস।
নীরু আরও কিছু সময় রান্না ঘরেই দাঁড়িয়ে রইলো। বিশেষ করে রায়হানের রান্না করা দেখতে ওর ভাল লাগছে। একটা আনন্দ হচ্ছে মনের ভেতরে। সেই আনন্দের ব্যাপারটা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। হঠাতই নীরু অনুভব করল যে তার মনের ভেতরটা আনন্দে সিক্ত হয়ে এসেছে। নিজেকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে এল। রায়হানের সামনে চোখে পানি বের হল সেটা লজ্জার ব্যাপার হয়ে যাবে। রান্না ঘর থেকে যখন খাবার টেবিলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন আরেকটা ব্যাপার চোখে পড়ল নীরুর। টেবিলে শসা আর গাজর কাঁটা রয়েছে। পেয়াজ আর মরিচও কাঁটা আলদা ভাবে। একপাশে ট্যাং মেশানো শরবত। সব কিছু তৈরি হয়ে আছে।
নীরু ওয়াশ রুম থেকে যখন বের হল তখন সে পোশাক বদলে ফেলেছে। অফিসের পোশাক বদলে বাসায় পোশাক পরেছে। হাত মুখ ধোয়ার সময় অনুভব করতে পারছিল যে তার চোখ দিয়ে আনন্দের পানি বের হচ্ছে। ব্যাপারটা নীরুর কাছে একেবারে নতুন! এমনটা যে হবে নীরু কোনদিন ভাবতেও পারে নি। না চাইতেও কিছু পেয়ে গেলে যেমন আনন্দ হয় নীরুর মনে তেমন আনন্দ হচ্ছে। বারবার মনে হচ্ছে এটা হয়তো স্বপ্ন। দেখা যাবে সে এখনও রিক্সায় উপরেই বসে আছে। হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে।
রান্না ঘরে যখন নীরু যখন এল তখন ছোলাটা একেবারে হয়ে এসেছে। শেষ সময়ে নীরু একটু হাত লাগাল। রায়হানের দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি যাও আমি দেখছি।
-আরে আমিও সাহায্য করি একটু। বল তোমার আর কী লাগবে?
-কিছু লাগবে না। এমনিতেও অনেক কিছু করেছো। আমি দেখছি বাকিটা।
ইফতারি সময়ে অবশ্য যখন ওরা ছোলা মুখে দিল তখন সেখানে গেল যে সত্যিই লবন একটু কম হয়েছে। রায়হান ওর দিকে তাকিয়ে বলল, আমার কিন্তু দোষ নেই। নীরু হেসে ফেলল। তারপর ছোলাটা মুখে দিতে দিতে বলল, এটা আমার জীবনে খাওয়া সব থেকে স্বাদের ছোলা বুঝেছো?
-তাই নাকি?
-আসলেও তাই। আমি কোন দিন ভাবি নি আমার কপালে এমন একটা দিন আসবে!
রায়হান খানিকটা কৌতুহলী হয়ে তাকাল ওর দিকে। নীরু বলল, আমি যে পরিবারে বড় হয়েছি সেই পরিবারে ছেলেরা কখনই মেয়েদের কাজে হাত লাগায় না। আমরা এসব কল্পনাও করতে পারি না। তুমি যখন রান্না করছিলে আমি সেই দৃশ্য দেখে কিছু সময় থমকে গিয়েছিলাম। সত্যি বলছি এমন দৃশ্য আমি দেখব ভাবি নি কোনোদিন।
-তাই বুঝি?
-হুম।
-এই যে ছোট কাজটুকু করলে আমার জন্য আমি সারাজীবন মনে রাখব। সত্যি, আজকের দিনটা আমার জন্য অন্যরকম আনন্দের দিন। সেরা দিন গুলোর একটা বলতে পারো।
রায়হান অবাক হয়ে খেয়াল করল যে নীরুর চোখে মুখে একটা অন্য রকম আনন্দের আভা দেখা যাচ্ছে। রায়হান আসলে কল্পনাও করে নি যে সামান্য এই রান্নার কাজে নীরু এমন ভাবে আনন্দিত হয়ে উঠবে। এই ব্যাপারটা সে খুব ভাল করেই জানে। আমাদের সমাজের পুরুষ মানুষ রান্না ঘরে যাওয়া কিংবা তার স্ত্রীদের বাসার কাজে সাহায্য করাটা খুব বেশি স্বাভাবিক দৃশ্য না। মেয়েরাও এটা ধরেই নেয় যে এমনটাই হওয়ার কথা। তারাও এটা মেনে নিয়েছে। নীরুও সম্ভবত তার জীবনভর এই দৃশ্যটাই দেখে এসেছে। বাড়ির সব কাজ করেছে বাড়ির মেয়েরা।
রায়হান মনে মনে ঠিক করেই নিল যে সে অন্য পুরুষদের মত হবে না। এবার সে তার স্ত্রীর সব ধরনের কাজে সাহায্য করবে তার পক্ষে যতটা সম্ভব।
নামাজ শেষ করে রায়হান যখন আবার ড্রয়িং রুমে আসল তখন দেখতে পেল নীরু সোফার উপরে বসে টিভি দেখছে। তার সামনে ইফতারিতে বেচে যাওয়া ছোলার বাটি। রায়হান সেদিকে তাকিয়ে বলল, আরে এই লবন কম হওয়া ছোলা আবার খাচ্ছো?
নীরু বলল, তোমাকে বলেছি না এটা আমার জীবনে খাওয়া এখনও পর্যন্ত সেরা ছোলা রান্না।
-তাই বুঝি ম্যাডাম? তা যে এই ছোলা রান্না করল তার কী প্রাপ্য নয়?
নীরু রায়হানের দিকে তাকিয়ে বলল, ইস ঢং। রোজার মাসে দুষ্টামী করব না একদম।
রায়হান যেন আকাশ থেকে পড়ল। তারপর বলল, মানে কী? আমার বিয়ে করা একমাত্র বউ! রোজা মাস মানে কী! আর এখন তো রোজাও নেই!
-তাই না! এসব হবে না।
রায়হান নীরুর দিকে তাকিয়ে বুঝল যে নীরু মুখ যাই বলুক না কেন ওর চোখ বলছে অন্য কথা। রায়হান হাসল কেবল। তারপর নীরুর পাশে বসতে বসতে বলল সে দেখা যাবে। আমার উপহার আমি নিজেই নিয়ে নিব।
-ইস !
এভাবেই ওদের কথা চলতেই থাকে। সামনে আরো ওদের জন্য আনন্দময় দিন অপেক্ষা করছে…


সাংসারিক কাজকর্ম নিজেরা ভাগাভাগি করে করলে কিংবা একসাথে হাত লাগালে সেটা কাজের চেয়েও বেশি সম্পর্ককে মজবুত করে তোলে। রায়হান আর নীরুর মাধ্যমে সেটা গল্পে আরও সুন্দর করে উঠে এসেছে।
রমজানের এই সময়ে আপনার কাছে আরও বেশি বেশি গল্প আশা করছিলাম। খুব শীঘ্রই নতুন গল্প পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম।
আসলে সত্যি বলতে কি আমিও আশা করেছিলাম যে প্রতিদিন রাতের বেলা আমি একটা করে গল্প লিখতে পারব। কিন্তু রমজানের সারা দিন রোজা রেখে ইফতারের পরেও আমাকে আবার বাইরে বের হতে প্রতিদিন। বাসায় আসতে আসতে রাত দশটা বাজে। এসে কেন জানি রাজ্যের এক আলসেমী আমাকে পেয়ে বসে। কিছুতেই কিছু লিখতে ইচ্ছে করে না।
এছাড়া গল্প না লেখার আরেকটা কারণ হচ্ছে একটা গল্প অর্ধেক লিখে রেখেছি। সেই গল্পটার লেখা কিছুতেই এগোচ্ছে না। আর সেটা বাদ দিয়ে অন্য গল্পও লিখতে ইচ্ছে করছে। অদ্ভুত এক ডিলেমাতে পড়েছি। যাক চেষ্টা করছি এই মাসে আরও কয়েকটা গল্প লেখার।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
প্রিয় লেখক,
আপনার পুরাতন গল্পগুলো পড়ার সময় মাঝে মাঝে মনে হয়, লেখাটির প্রতি ভালোলাগা বা অনুভূতির কথা একটু জানিয়ে দিই। সম্ভবত নিরাপত্তার কারণেই মন্তব্যের অপশনটি বন্ধ রাখা হয়েছে -বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারি এবং সম্মান করি। তবুও, যদি প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হয়, তবে মন্তব্যের সুযোগটি মডারেটেড আকারে চালু করে দিলে আমার মত পাঠকরা তাদের ক্ষুদ্র মতামতটুকু শেয়ার করার সুযোগ পেতো। এতে লেখকের সাথে পাঠকের সংযোগ আরও গভীর হতো।
অবশ্যই আপনার সুবিধা ও বিবেচনা অনুযায়ী বিষয়টি দেখবেন। অসুবিধা হলে এই অনুরোধটি উপেক্ষা করলেও কোন সমস্যা নেই।
প্রতিটা গল্প পোস্ট করার পরে দুই দিন পর্যন্ত মন্তব্যের সুযোগ থাকে। আসলে আগে এটা সব সময় খোলা থাকত। কিন্তু সব সময় খোলা থাকলে সমস্যাটা হয় যে প্রচুর স্পার্ম কমেন্ট আসে। প্রচুর মারে প্রচুর। এই যে আপনি মন্তব্য করলেন আপনার আগে অন্তত চারটা স্পার্ম মন্তব্য রিমুভ করলাম। পুরো পোস্টে মন্তব্যের সুযোগ থাকলে সেটা কী পরিমান যে বাড়ে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই জন্য বন্ধ করা রয়েছে। যদি একান্তই কোন গল্পের ব্যাপারে মন্তব্য বা অনুভূতি জানানোর ইচ্ছে থাকে তবে অবশ্যই মেইল ব্যবহার করার অনুরোধ রইলো। গল্পের নাম সহ সেই পোস্টের ব্যাপারে যে কোন কিছু চাইলে বলতে পারেন।