4.6
(32)

তাহিরা যে কিভাবে আমার গার্লফ্রেন্ড হয়ে উঠলো সেটা আমি কোন নিশ্চিত ভাবি বলতেই পারি না । ক্লাস শেষ করে একদিন বের হচ্ছি এমন সময় তাহিরা আমার সামনে এসে বলল, এদিকে আয়।

আমি বললাম, কোথায় যাবো?

আমার প্রশ্নের জবাব সে দিলো না । আমার হাত ধরে সে এক প্রকার টেনেই নিয়ে গেল তিন তলার দিকে । ক্লাস শেষের দিকে । পুরো ইউনিভার্সিটি ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে । তিনতলা একে বারে ফাঁকা । এক কোনার দিকে আমাকে টেনে নিয়ে গেল । তারপর বলল, শুনলাম তুই নাকি রুমুকে প্রোপোজ করবি?

আমি বললাম, কি ?

-রুমুকে পছন্দ করিস?

আমি কি বলব বুঝলাম না । এই মেয়ে আমাকে এই প্রশ্ন কেন করছে? তাও আবার এইভাবে?

আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই ঘটলো ঘটনা । তাহিরা আমার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরলো। এমন শক্ত ভাবে আমাকে চুমু খাবে যে আমি কল্পনাই করতে পারি নি। যখন চুমু খেয়ে আমাকে ছাড়ল আমি কেবল অবাক হয়ে ওর দিকে কিছু সময় তাকিয়ে রইলাম । কি হল সেটা আমি বুঝতেই পারলাম কিছু সময় । তাহিরা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, এখন থেকে অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাবি না । এখন থেকে তুই আমার !

আমি অবাক হতে গিয়ে হেসে ফেললাম । এখন থেকে তুই আমার কথাটা তাহিরা এতো জোর দিয়ে বলল যে আমার কেন জানি ভাল লাগলো বেশ । মেয়েটা আমাকে এভাবে পছন্দ করে আমার ধারণা ছিল না । আমিও ওকে পছন্দ করি । তবে ওকে এভাবে কোন ভালোবাসি নি । কিন্তু এখন থেকে মনে হচ্ছে সেটা হবে না ।

তাহিরা আমাকে যেভাবে হাত ধরে নিয়ে এসেছিল ঠিক সেই ভাবে আমাকে নিচে নিয়ে এল । চুপচাপ হাটতে লাগলাম ওর পেছন পেছনই । ক্যাম্পাসের গেটের মুখে এসে দেখলাম রুমু কার সাথে যেন দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমি ওর দিকে তাকাতে যাবো তার আগেই তাহিরা আমার মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিল । আমার দিকে তাকিয়ে চোখ গরম করে বলল খবরদার অন্য দিকে তাকাবি না । নয়তো চোখ তুলে নিব।

এখনও ওকে ভালোবাসি পর্যন্ত বলি নি এর ভেতরেই এই মেয়ে দেখি আমার উপর জোর খাটানো শুরু করে দিয়েছে । একটা চুমু খেয়ে যেন আমাকে কিনে নিয়েছে । অবশ্য আমি কিছু বললাম না । তাহিরা এমনিতেও সব সময় আমার উপরে জোড় খাটাতো । এখন তো মনে হচ্ছে আরও বেশি করে জোর খাটাবে । 

এরপর থেকে তাহিরা আমার প্রেমিকা হয়ে গেল । আমার উপর যেভাবে পারে নিজের জোর খাটাতে শুরু করলো আরও বেশি করে । তবে দিন দিন এটা ঠিকই অনুভব করছিলাম যে মেয়েটা আমাকে পছন্দ করতে শুরু করছে । আমিও ওর প্রতি দিন দিন যেন আরও দূর্বল হতে শুরু করলাম । অবশ্য আরও একটা কারণ ছিল । তাহিরা আমাকে নিয়মিত ভাল চুমু খেতে দিতো । একটা দুইটা যত গুলো ইচ্ছে । ওর নরম ঠোঁটে আমি যতই চুমু খেতাম আমার চাহিদা যেন আরও বেড়ে যেত । দিন দিন এমন একটা অবস্থা হয়ে দাড়ালো যে এক বেলা ভাত না খেয়ে থাকতে পারতাম তবে ওকে চুমু না খেয়ে কোন ভাবেই থাকতে পারতাম না । 

দিন দিন আমার চাহিদা বাড়তেই থাকলো । কেবল ঠোঁট নয় ওর শরীরের অন্য দিকেও আমি আস্তে আস্তে এগোতে শুরু করলাম । তাহিরা আমাকে বাঁধা দিতো না । আমার মনে হত যেন ওর ব্যাপারটা ভাল লাগতো । আমি যেন আরও সাহস পেয়ে গেলাম ।

একদিন সুযোগ পেয়ে ওকে বাসায় নিয়ে এলাম । যেদিন বাবা মা একটা বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়েছিল । 

ওকে সোজা নিয়ের ঘরে নিয়ে হাজির হলাম । আমার যেন মোটেই দেরি সহ্য হচ্ছিলো না । বলা যায় বিছানাতে ওকে কোলে করে নিয়ে চুমু খেতে শুরু করলাম । তবে আজকে কেন জানি মনে হল ও একটু অস্বস্তিবোধ করছে । এবার যখন আমি আমি একটু নিচে নামতে গেলেই তাহিরা কেমন চিৎকার করে উঠলো । ওর চিৎকার শুনে আম নিজে খানিকটা অবাক হয়ে গেলাম । এমন একটা ভাব যেন আমি ওর উপর জোর জবর্দস্তি করছি। 

আমি ওকে ছেড়ে দিয়ে একটু দূরে সরে গেলাম । বললাম, কি হল? তাহি? 

-আমি বাসায় যাবো!

-তাহি আই এম সরি ! আই …

-আমি বাসায় যাবো।

-আচ্ছা । চল তোমাকে বাসায় দিয়ে আসছি ।

তাহিরাকে বাসায় পৌছিয়ে দিলাম । ওর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বললাম, তাহি ।

তাহি ফিরে তাকাল । আমি বললাম, আমি ভেবেছিলাম তুমিও চাও । বিশ্বাস কর জোর করে কিছু করার কোন ইচ্ছে ছিল না, এখনও নেই । তুম্মি প্লিজ ভুল বুঝো না ।

তাহিরা কিছু না বলে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল । আমি মন খারাপ নিয়ে বাসায় ফিরে এলাম । মনে হল ব্রেক আপ বুঝি এবার হয়েই গেল । কিন্তু তার থেকেও বড় কথা যে তাহিরা আমাকে কি ভাবলো ! ছিঃ 

ও এখন আমাকে কি জঘন্যই না ভাবলো । কিন্তু আমি তো কিছুই বুঝতে পারলাম না । ওর এতো দিনের আচরন দেখে আমার মনে হয়েছে ওর নিজেরও ইচ্ছে রয়েছে । কিন্তু এখন তো দেখছি ওর মত ছিল না । আমার বুঝতে ভুল হয়েছিল । 

পরের দুইদিন তাহিরার সাথে দেখাই হল না । ওর ফোন বন্ধ ছিল । ক্লাসেও এল না । তিন দিন পর তাহিরাকে দেখতে পেলাম । মুখ গম্ভীর ভাবে সে পুরো ক্লাস করলো । আমার দিকে ফিরে তাকালো না একবারও । তবে ক্লাস শেষ করে সে নিজেই আমাকে সেই তিন তলাতে ডেকে নিয়ে গেল । একটা বেঞ্চে আমার মুখোমুখী বসলো । 

আমি বলতে গেলাম, তাহি……

আমার মুখে সে হাত দিয়ে আমাকে থামিয়ে দিল । তারপর বলল, সরি বলতে হবে না । তুমি এমন কোন অপরাধ কর নি ।

-কিন্তু ঐদিন…।

-আসলে আমারই ঐ রকম রিএক্ত করা উচিৎ হয় নি । আমি ভেবেছিলাম যে আমি হয়তো ঐ ভয়টা কাটিয়ে উঠতে পারবো কিন্তু পারি নি । আই এম সরি ।

-মানে ! কিসের ভয় !

তাহিরা কিছু সময় চুপ করে থেকে বলল, আমি যা বলব তার পর হয়তো আর আমাকে তোমার ভালবাসতে ইচ্ছে করবে না । তবুও তোমার জানার অধিকার রয়েছে। 

তাহিরা একটা লম্বা দম ছেড়ে বলল, আমি যখন এইটে পড়ি তখন আমাদের বাসায় বাবার এক  বন্ধু আসতো বাসায় । আমাকে আদর করতো । কিন্তু কদিন পরেই আমি বুঝতে পারলাম যে সে আদরের মাঝে অন্য কিছু আছে । অন্য কিছু বলতে কি বুঝতেই পারছো। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে থাকতাম সে বাসায় এলে । তবে একদিন সে সুযোগ পেয়ে গেল । আমার বাবা মা কেউ বাসায় ছিল না । কেবল দাদী বাসায় ছিল । এই সময় সে বাসায় আসে । দাদী তখন ঘুমাচ্ছিল । আমাকে বাসায় একা পেয়ে সে আমারই রুমের ভেতরে চেপে ধরে ! আমি চিৎকার করতে…

আমি ওকে থামিয়ে দিলাম । দেখি ওর চোখ দিয়ে পানি পরতে শুরু করেছে । আমি বললাম বলতে হবে না । আমি বুঝতে পারছি । 

-না বলতে দাও আমাকে । জানো সব থেকে বেশি কষ্ট কখন পেয়েছি আমি? এই কথা যখন আমি দাদীকে বললাম, মা কে বললাম তারা উল্টো আমাকে দোষ দিতে শুরু করলো । যেন আমিই দায়ী । কাউকে বলতে মানা করলো । এক সময় মনে হল বুঝি সত্যিই আমি দায়ী । 

আমার মনে হল যে তাহিরাকে আমার জড়িয়ে ধরা উচিৎ । আমি তাই করলাম । তাহিরা বলল, আমি ভেবেছিলাম যে এই স্মৃতি বুঝি আমি ভুলে গেছি । কিন্তু গতদিন তুমি যখন আমাকে ওভাবে চেপে ধরেছিলাম হঠাৎ করে আমার কি যে হল আমি নিজেই জানি না । 

আমি ওকে জড়িয়ে ধরেই রাখলাম । তারপর বললাম, আমি বুঝতে পারছি । সরি বলতে হবে না মোটেই ।

তাহিরা আমাকে আরও কিছু সময় জড়িয়ে ধরে রাখলো । তারপর বলল, আরেকবার ট্রাই করতে করতে পারো তুমি। 

আমি হাসলাম । বললাম, পরে কোন এক সময় । 

এরপরে আমার আর তাহিরার ভেতরকার সম্পর্কটা আরও যেন গভীর হয়েছে । ঠিক আগের মতই ওর সাথে দিন রাত কথা বার্তা হতে থাকে, চুমু খাওয়া তো আছেই । তবে ঐ কাজ আমি আর করি নি, করবো না আপাতত । যদি কিছু হয় তাহলে তাহিরা দিক থেকে সেটা আসতে হবে । সেটাই নিরাপদ হবে ওর জন্য । 

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.6 / 5. Vote count: 32

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *