করোনার দিন গুলোতে প্রেম

4.7
(29)

ফোনের আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে গেল আমার । যদিও ঘুমিয়েছি কিনা নিজও জানি না । খানিকটা তন্দ্রার মত এসেছে কেবল । বসে বসে কি আর ঘুমানো যায় ! ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখি তানিন ফোন দিয়েছে ।
স্ক্রিনে ওর নাম দেখে খানিকটা চিন্তিত হয়ে উঠলাম । কোন কি সমস্যা হল? এতো রাতে আবার ফোন কেন করেছে ?

-হ্যালো?
-অপু । তুমি বাসায় যাও নি?
আমি কিছু সময় চুপ করে রইলাম । তারপর বললাম, না।
-কোথায় রয়েছো ?
-এই তো ওয়ার্ডের সামনে যে ফাঁকা জায়গাটা রয়েছে । ওখানে বসার কিছু চেয়ার রয়েছে । ওখানেই রয়েছি ।
ওপাশ থেকে কিছু সময় কোন কথা শোনা গেল না । কেন শোনা গেল না বুঝতে পারলাম একটু পরেই । দেখি ওয়ার্ডের দরজার কাছে তানিন এসে দাড়িয়েছে । হাতে স্যালাইনের সুই ফোটানো । সন্ধ্যার দিকে ডাক্তার স্যালাইন দিয়েছিলো । সেটা সম্ভবত শেষ হয়ে গেছে । আমি এগিয়ে গেলাম । তারপর বললাম, কিছু দরকার ছিল?
তানিন মাথা নাড়ালো । আমার দিকে এক ভাবে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো কেবল । মনে যেন তানিন চোখ ভর্তি জল এসেছে । তবে সেটা সে সামলানোর চেষ্টা করছে । তারপর বলল, তুমি বাসায় যাও নি কেন?
-এমনি । আমার সমস্যা হচ্ছে না । কদিন আগে আব্বাকে নিয়ে এসেছিলাম তো । তখন ছিলাম । আর তোমার সাথে তো কেউ নেই । আমি আছি !

এবার দেখলাম তানিনের চোখ গড়িয়ে জল বেরিয়ে এল । আমার দিকে তাকিয়ে বলল, থ্যাঙ্কিউ ।
-মেনশন নট । এখন কেমন লাগছে ? শ্বাস কষ্ট আছে?
-একটু আছে তবে আগের থেকে কম ।
-ভাল লক্ষ্মন । এবার থেকে ভালর দিকে যাবে আশা করি । তুমি আর দাড়িয়ে থেকো না । বেডে গিয়ে শুয়ে পড় আর কিছু দরকার হলেই আমাকে ডাকবে । মনে থাকবে তো ?
-থাকবে।

এই বলে তানিন আবারও ওয়ার্ডের ভেতরে চলে গেল । তবে যাওয়ার সময় দেখলাম বারবার কেবল আমার দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলো । ওর ফিরে ফিরে তাকানোটা আমার দেখতে ভাল লাগছিল। মনের ভেতরে একটা আনন্দ দিচ্ছিলো ।

তানিনকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। ওর করোনা পজেটিভ এসেছে । সেই সাথে অবস্থা একটু খারাপই হয়েছে । শ্বাস কষ্টটা বিশেষ করে । সমস্যা হচ্ছে এই মেয়েটার ঢাকাতে কেউ নেই । আর নিজে থাকে একটা বাসায় সাবলেট থাকে একটা রুম নিয়ে । ওর করোনা হয়েছে শুনেই তারাও তানিনকে আর বাসায় রাখতে চাচ্ছে না । তাদের বাসায় বৃদ্ধ বাবা মা রয়েছে । খুব একটা দোষ দেওয়া যায়ও না তাদের । শেষ উপায় না দেখে ও হাসপাতালে চলে এসেছে । কিন্তু হাসপাতাল এমন একটা জায়গা যে কারো মন দুর্বল করে দিবে । নিজে মনের কাছে মানুষ যতই শক্ত হোক না কেন অসুস্থ হয়ে যখন কেউ হাসপাতালে পড়ে থাকে তখন ইচ্ছে করে তাকে দেখা শুনার করার জন্য কেউ থাকুক ।

তাই আমি খবরটা শোনার সাথে সাথেই আমি চলে এসেছি হাসপতালে । এই সময়ে একজন মানুষ থাকা জরুরী তার পাশে । আমার বাবাকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়ার পরে আমার নিজেরও করোনা হয়েছিলো । যদিও আমার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে নি তবে শরীর খারাপ হয়েছিলো । তার ভেতরেও আমাকে নিজের কাজ নিজেই করতে হয়েছিলো । তখন আমি আসলে বুঝতে পেরেছিলাম যে একজন কাছের মানুষ থাকাটা কত জরুরী ।

হাসপাতালে কেটে গেল দুইটা দিন । এই দুইটা দিন সত্যিই বলতে আম হাসপাতাল থেকে নড়ি নি খুব একটা । সব সময়ই থেকেছি হাসপাতালে । একদিন তানিন আমাকে একটা ফোন ধরিয়ে দিয়ে বলল, একটু কথা বল তো ।
আমি বললাম, কে?
-আমার বাবা । কিছুতেই শুনতে চাচ্ছে না । বারবার আসতে চাচ্ছে । এই করোনার ভেতরে বাবা আসলে উপায় আছে ! প্লিজ একটু বুঝিয়ে বল ।

আমি ফোন ধরলাম । তারপর সালাম দিলাম । বললাম আঙ্কেল আপনি চিন্তা করবে না । আমি আছি ।
-তুমি বাবা ….
ফোনের ওপাশে কিছু একটা জিজ্ঞেস করতে গিয়েও যেন থেমে গেল । আমি বললাম, আঙ্কেল আপনি কোন চিন্তা করবেন না । আমি সব সময়ই হাসপাতালে রয়েছি । ওর যেটা যখন দরকার ব্যবস্থা করছি । আপনি মোটেও ভাববেন না যে তানিন একা একা পরে আছে এখানে । আর আপনার শুনেছি এজমা রয়েছে । দয়া করে এখন আসবেন না এখানে । আমি কথা দিচ্ছি তানিনের কিছু হবে না ।

যখন ফোনটা আমি ফেরৎ দিলাম দেখলাম তানিন আমার দিকে কেমন চোখে আবার তাকিয়ে রয়েছে । মেয়েটার চোখে একটা তীব্র কৃতজ্ঞতাবোধ লক্ষ্য করছি । সেই সাথে অন্য কিছু । এই অন্য কিছু আমি আগে ওর চোখে দেখি নি ।

তানিনের সাথে আমার পরিচয় আমাদের অফিসে । আমার সাথেই কাজ করে সে । টুকটাক কথা বার্তা থেকে পরিচয় । তবে আগে কোন ভাবেই ওর সাথে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল না । কিন্তু তারপরেও ওর জন্য হাসপাতালে এসেছি । ঐ যে বললাম অসুস্থ অবস্থায় কারোই একা থাকাটা উচিৎ নয় ।

আমার স্থানে সায়েমের থাকার কথা হাসপাতালে । সায়েমও আমাদের সাথেই চাকরি করে । এবং আমি যতদুর জানি সায়েমের সাথে তানিনের কিছু একটা চলছে । প্রেমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক না হলেও প্রেম প্রেম ভাব । আমি যদিও নিশ্চিত করে বলতে পারবো না তবে সম্ভবত তানিন সায়েমকে আসতে বলেছিলো কিন্তু করোনার ভয়ের কারণে সায়েম আসে নি । এখন এমন অবস্থা যে করোনা শুনলে স্বামী তার বউ কে ফেলে চলে যাচ্ছে । এমনই ভয় পেয়েছে সবাই । তবে আমার যেহেতু একবার এই রোগ হয়ে গেছে তাই খুব একটা ভয় আর নেই ।

এর মাঝে ওর বাবা ঢাকাতে চলেই এলেন । কোন ভাবেই শুনলেন না । তবে তানিন কোন ভাবেই তাকে ওয়ার্ডের ভেতরে ঢুকতে দিলো না । আমি নিজের তানিনের বাবাকে বাইরে থেকে মাস্ক গ্লোভস পরিয়ে উপরে নিয়ে গেলাম । তিনি সাথে করে খাবার সহ অনেক কিছু নিয়ে এসেছিলেন । সেগুলো আমি নিয়ে এলাম উপরে । ওয়ার্ডের বাইরে তানিন এল । কথা বার্তা চলল কিছু সময় ।
উনি রাতেই আবার ফিরে গেল । আমি এবার নিজে তাকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে এলাম । বাস ছাড়ার সময় আমি তাকে নিশ্চিত করে বললাম যে কোন প্রকার চিন্তা করার দরকর নেই । আমি আছি ওর কাছে । আমাকে দেখে এবং আমার কথা শুনে সম্ভবত তিনি মানসিক ভাবে একটু শান্তি পেলেন । তানিনকে যেন ঠিকঠাক মত দেখে রাখি সেই কথা বলে গেলেন । আর নিয়মিত আমার সাথে যোগাযোগ রাখবেন তিনি । যে কোন দরকারেই যেন আমি তাকে সব কিছু জানাই । যাওয়ার আগে আমার হাতে দুই হাজার টাকার দুটো নোট গুজে দিলেন । আমি কিছুতেই নিবো না । কিন্তু সে দিবেই । শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে নিতে হল ।

পুরো এক সপ্তাহ পরে তানিনকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দিলো । তবে তখনও করোনা ওর ভেতর থেকে ঠিক ঠাক মত যায় নি । হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশ বেশি । তাই সিরিয়াস রোগী ছাড়া এরা রাখছে না । একটু স্টেবল হয়ে গেলেই বসলে বাসায় চলে যেতে ।

আমি ওকে বললাম, বাসায় যাওয়া কি ঠিক হবে ? আমার তো মনে হয় না । কারণ এখনও তোমার কাছ থেকে অন্য কারো ছড়াতে পারে !
তানিন বলল, তাহলে কি করবো? ঢাকার বাসায় যাওয়া যাবো না । গ্রামে তো যাওয়ার প্রশ্নই আসে না । কোন হোটেলে উঠবো?
-উহু ! যদি কিছু না মনে কর তাহলে আমার বাসায় যেতে পারো ।
-তোমার বাসা !
-হ্যা । একটু ছোট যদিও । তবে আশা করি সমস্যা হবে না । আর সপ্তাহ খানেক থাকলেই সুস্থ হয়ে যাবে !

তানিন আমার দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার সমস্যা হবে না?
-আরে না । তোমার কোন সমস্যা না হলেই হল ! আসলে আমার বাসাটা হচ্ছে ছাদের উপরে । চিলোকোঠা টাইপ । চলবে ?

তানিনকে নিজের বাসায় নিয়ে এলাম । আসলে আমি ওর জন্য এতো কিছু কেন করছি সেটা আমি নিজেও জানি না । কোন কারণ নেই আবার হয়তো আছে ! পরের একটা সপ্তাহ সত্যিই বলতে সময় খুব চমৎকার কাটলো । সারাদিন টুকটাক গল্প করতাম আমরা । আমি যদি রান্না পারি ভাল তবে তানিনের রান্নার কাছে সেটা চুনোপুটি । আমাদের দিন কাটতো এমন ভাবে যে সকালে নাস্তা নিয়ে আসতাম বাইরে থেকে । দুপুরের আগে তানিন রান্না ঘরে যেত রান্না করতে । আমি হতাম তর এসিস্ট্যান্ট । এরপর দুপুরে এক সাথে খাওয়া বিকালে কফি । সন্ধ্যায় ছাদে এক সাথে বসে গল্প । রাতে খাওয়া এক সাথে । এই সময়ের ভেতরে আমি যেন ওকে আরও ভাল করে চিনতে আর জানতে পারলাম । ঠিক একই ভাবে ওকে নিজের কথা গুলো বেশ ভাল ভাবে বলতে পারছিলাম । এতো কথা যে আমি বলতে পারি সেটা জানতামই না ।
ফিরে যাওয়ার দিন তানিন বলল, আমার শরীর কবে খারাপ হবে ভাবছি ।
আমি খানিকটা অবাক হয়ে বললাম, মানে কি?
-না মানে তাহলে এতো চমৎকার ভাবে সময় কাটতো !
এই কথাটার অর্থ প্রথমে আমি ঠিক বুঝতে পারি নি । কিন্তু বুঝতে পারলাম একটু পরেই । এবং বুঝতে পারার সাথে সাথে মনের ভেতরে একটা আনন্দ অনুভব করলাম ।

দুই
করোনার পরে আবার যখন অফিসে যোগ দিলাম আমরা দুইজন তখন দুইটা ঘটনা ঘটলো । যেহেতু আমাদের দুইজনেরই কারোনা হয়ে গেছে, সামনের দুই চার মাস আর আমাদের করোনার হওয়ার সম্ভবনা কম তাই বাইরের সব কাজ সামলানোর দায়িত্ব পড়লো আমাদের । বাইরের যত কাজ কর্ম ছিল তাতে আমাদের দুইজনকে পাঠানো শুরু হল । ব্যাপারটা শুনতে খারাপ লাগলেও আসলে অতটা খারাপ লাগছিলো না মোটেও । ঢাকায় বাইরে বের হওয়াটা প্রধানত ঝামেলার কারন ঢাকাতে জ্যাম প্রচুর । কিন্তু করোনার কারণে বলতে গেলে মানুষ শহরে নেইই । রাস্তাঘাটা ফাঁকা । যাওয়া আসায় কোন সমস্যা নেই । তারপর আমরা যাওয়া আসা শুরু করলাম অফিসের গাড়িতে । চাইলেও কাজ শেষ করে আমরা এদিক ওদিক ঘুরে আসতাম । সময়টা বলতে গেলে খারাপ যাচ্ছিলো না মোটেও ।
আর দ্বিতীয় ঘটনাটা হল তানিনের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা দিনদিন বাড়তে লাগলো । এবং সেটা অফিসের সবার চোখে পড়তে লাগলো খুব প্রকট ভাবেই । যদিও এটা নিয়ে আমাদের কারোই খুব একটা সমস্যা ছিল না । এমন কি অফিসেরও কারো সমস্যা ছিল না । কেবল মাত্র একজন বাদে। সেই একজনটা হচ্ছে সায়েম । আমি কয়েকদিন লক্ষ্য করেছি সায়েম তানিনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছে । তানিন ওকে এড়িয়ে গেছে । কথা বললেও অফিসের কথা বার্তা বাদ দিয়ে অন্য কিছু বলে নি ।

তানিনের সাথে কিছু করতে না পেরে সায়েম এবার এল আমার কাছে । ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জানার চেষ্টা করলো আমার সাথে তানিনের কিছু চলছে কি না । আমি মনে মনে হাসলাম কেবল । আর এমন ভাবে উত্তরটা দিলাম যেন সায়েম একেবারে নিশ্চিত হয়ে যায় যে আমার সাথে কিছু যেন চলছেই । আমি ওকে নিজে কি বলবো আমি এখন নিজেই জানি না কিছু চলছে কিনা !

অবশ্য সেটার জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হল না । দুইদিন পর শুক্রবার ছিল । ছুটির দিনে আমি বেলা করেই ঘুমাই । ঘুমিয়েই ছিলাম । এমন সময় সকালে কলিং বেল বেজে উঠলো । ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলেই খানিকটা অবাক হয়ে গেলাম । তাকিয়ে দেখি হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে তানিন দাড়িয়ে রয়েছে । আমি চোখ বড় বড় করার সময় পেলাম না তানিন ঘরের ভেতরে ঢুকে গেল । নিজেই রান্না ঘরের দিকে হাটা দিল । এমন একটা ব্যাপার যেন এটা আসলে ওরই বাড়ি । ও থাকে এখানে । সকালে গিয়েছিলো বাজার করতে । বাজার নিয়ে এসেছে ।

বাজারের ব্যাগের পাশে দেখলাম অন্য আরেকটা প্যাকেট রয়েছে । সেটা আলাদা করে ডাইনিং টেবিলে রেখে ব্যাগটা রান্না ঘরের দিকে নিয়ে গেল । আমি প্যাকেট খুলে দেখলাম সেখানে সকালের নাস্তা রয়েছে । রান্না ঘর থেকে বের হতে হতে তানিন বলল, যাও মুক ধুয়ে আসো । আগে নাস্তা করি । আজকে অনেক রান্নাবান্না রয়েছে ।

আমি মুখ ধুয়ে ফিরে আসতে আসতে দেখলাম তানিন প্লেটে নাস্তা রেডি করে ফেলেছে । আমি আসলে কিছু বুঝতে পারছিলাম না । তবে খুব বেশি কিছু বুঝতেও চাচ্ছিলাম না । যা হচ্ছে সব ভালই হচ্ছে ।

নাস্তা খেতে খেতে তানিন বলল, আমি বাড়িওয়ালাকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়ে দিয়েছি ।
-তাই নাকি? কোন দিকে বাসা নিবে ?
-তোমার এলাকাতে ।
-গ্রেইট ।
-আসলে আমি অন্য কিছু ভাবছিলাম ।
-কি ভাবছিলে?
-তারপর আগে তোমার কিছু জানা দরকার ।
-বল।
-গতদিন দেখলাম সায়েম তোমার সাথে কথা বলছিলো !
-হুম ।
-আমার ব্যাপারে কি!
-খানিকটা । বলছিলো যে আমার তোমার ভেতরে কিছু চলছে কি না । তার সাথে তোমার একটা ভাল গুড রিলেশন আছে এই সব !

তানিন কিছু সময় আমার দিকে তাকিয়ে রইলো । তারপর বলল, আসলে সায়েমের প্রতি এক সময়ে ইন্টারেস্টেড ছিলাম । তোমাকে আমি মিথ্যা বলব না । আমি ভেবেছিলাম যে ওকে হয়তো বিয়ে করা যায় ।
-তারপর?
-তারপর সেই সিদ্ধান্ত পাল্টেছি । কারণটা তুমি হয়তো গেস করতে পারো ।
-খানিকটা ।
-হ্যা এই পর্যন্তই সব কিছু । ওর সাথে মিশতাম । অন্য সবার সাথে যেমন মিশতাম এর বেশি কিছু না ।
-ওকে । এসব আমার বলার দরকার নেই । তুমি কার সাথে মিশবে এটা একান্তই তোমার ব্যাপার ।
-না । দরকার রয়েছে । আমি চাই তুমি এখন থেকে এসব ব্যাপারেও ইন্টারফিয়ার কর !
-মানে ?
তানিন একটু থাকলো । তারপর বলল, আমি ঠিক করেছি সামনের মাসে আমি তোমার এখানে মুভ ইন করবো ।
-কি?

আী পরোটা খাচ্ছিলাম । কিছু যেন গলায় আটকে গেল । তানিনই পানি এগিয়ে দিল । আমি সত্যিই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম । তানিন বলল, আমি বাবাকে তোমার কথা বলেছি এবং সে তোমাকে পছন্দ করেছে । আমি চাই আগে ছোট করে আমাদের বিয়ে হোক । তারপর আমাদের দুজনের চাকরিটা আরও ভাল পর্যায়ে গেলে অনুষ্ঠান করা যাবে ! কি বল তুমি?

আমি তখনও তাকিয়েি রয়েছে তানিনের দিকে । কি বলবো খুজে পাচ্ছি না । তানিন বলল, কিছু তো বল !
আমি বললাম, বিয়ে করতে পারি তবে একটা শর্ত আছে ।
-কী শর্ত?
-বাজার তুমি করবে । কেমন !
-ইস ! ঢং । বাজার ফাজার করতে পারবো না । আজকে করেছি বলে বিয়ের পরেও করবো নাকি !

দুই সপ্তাহ পরেই বিয়ে করে ফেলি আমরা । বাসায় অবশ্য বলছিলো একেবারে অনুষ্ঠান করতে । আমরা দুজনেই বলেছি যে আগে সময় হোক । তারপর অবশ্য তারা আর আপত্তি করে নি ।

করোনার দিন গুলোতে প্রেম শেষ পর্যন্ত পরিসমাপ্তির দিকে এগিয়েই গেল ।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.7 / 5. Vote count: 29

No votes so far! Be the first to rate this post.

Related Posts

One thought on “করোনার দিন গুলোতে প্রেম

  1. খুব খুব খুব পছন্দ হইছে। এত্তত্তত্তত্তত্তত্তত্তগুলা থ্যাংকিউ💛💛💛💛💛💛

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *