নাইরার স্ক্যান্ডেল

oputanvir
4.7
(55)

ঘুন কুয়াশার কারণে নাইরা বিশাল পুকুরের অশপাশটা ঠিক মত দেখতে পাচ্ছে না। তবুও কিছু সময় সেদিকেই তাকিয়ে রইলো। অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা রয়েছে এখানে। একেবারে অপরিচিত মনে হচ্ছে সব কিছু। নাইরার কেবল মনে হচ্ছে সে এই জগতে নয় বরং কোন অপরিচিত জগতে চলে এসেছে যার কোন কিছুই তার ঠিক পরিচিত নয়। সত্যিই এমন কোন জায়গা যে থাকতে পারে সেটা নাইরার ধারনার বাইরে ছিল।
নাইরা পাশের বিচ চেয়ারে বসল। এমন চেয়ার কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে দেখতে পাওয়া যায়। পুকুরের এপাশ টা কাঠের পাটাতন দিয়ে বাঁধানো। তার উপরের তিনটা চেয়ার রাখা। সূর্য উঠলে এখানে সানবাথ করে নিশ্চয়ই বাড়ির মালিক।

নাইরা সময় দেখার জন্য নিজের হাতের দিকে তাকালো। হাতটা খালি। তারপরেই মনে পড়লো ঘড়িটা গতকাল রাতে বিছানার পাশে খুলে রেখেছিল। মোবাইলটা গত দুইদিন ধরে বন্ধ। একটা বারের জন্যও অন করে নি। নাইরা খুব ভাল করে জানে যে ওটা অন করার সাথে সাথে হাজারটা ফোন এসে হাজির হবে। নিজের ম্যানেজার থেকে শুরু করে কত সাংবাদিক যে ফোন দিবে তার ঠিক নেই। বারবার কেবল ঐ একই কথা জানতে চাইবে। একই প্রশ্ন করবে। নাইরা জানে এখন পুরো দেশের মানুষ এই ব্যাপার নিয়েই আলোচনা করছে। দি নাইরা স্ক্যান্ডেল।

-আরে বাহ! আপনি এতো সকালে ঘুম থেকে উঠেন!
চিন্তায় ছেদ পড়লো। তাকিয়ে দেখলো বাড়ির মালিক দরজায় এসে দাড়িয়েছে। তার শরীরে একটা শাল জড়ানো। আর হাতে একটা সাদা চাদর। চাদরটার দিকে তাকিয়েই নাইরা শীতটা আর একটু অনুভব করলো। ঢাকা থেকে যখন বের হয়েছিল তখন এতো শীত ছিল না। কিন্তু ঢাকার বাইরে এসে বেশ ভাল শীত টের পাচ্ছে।

নাইরা হাসল। তারপর বলল, রাতে আর ঘুম এল কই। কেবল গড়াগড়ি করেছি।
-নতুন স্থানে ঘুম আসে না অনেকের। আমার অবশ্য তেমন কোন ব্যাপার নেই। যেখানেই রাত সেখানেই কাত বলতে পারেন। এই চাদরটা নিন। আপনার শীত লাগছে বেশ।
এই বলে নাইরার কাছে এগিয়ে এল মানুষটা। কাল রাতে খুব ভাল করে দেখতে পারে নি। আজকে এতো কাছ থেকে দেখলো মানুষটাকে। কন্ঠে যতটা গাম্ভীর্য আছে চেহারায় ততখানি নেই। বরং এখন তাকে বেশ কম বয়স্ক মনে হচ্ছে।

চাদরটা জড়িয়ে নিতে নিতে নাইরা বলল, আপনাকে কষ্ট দিচ্ছি। আপনার শান্তি নষ্ট করতে এসেছি।
সামনের মানুষটা এবার হাসল। বলল, সুন্দরীদের সকল অপরাধ মার্জনীয় আর আপনার মত কেউ যখন সেটা করে তখন তো বলার অপেক্ষাই রাখে না।
নাইরা মুখ বেঁকিয়ে বলল, সুন্দরী না ছাই। সব মেকাপের কারসাজি।

মানুষটা এবার শব্দ করে হেসে ফেলল। তারপর হাসি থামিয়ে বলল, নিজের মুখে কোন নায়িকাকে এই প্রথম এমন কথা বলতে শুনলাম।

-আপনার নাম আমি এখনও জানি না। কাল রাতে কেমন করে আপনার বাসায় এসে হাজির হলাম। মাঝে যে কী ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। চারিদিকে ঘুরঘুটে অন্ধকারের ভেতরে আমি ছাড়া আর কোন গাড়ি নেই। কত গুলো বাক নিয়েছিলাম নিজেই জানি না। আসলে মাথা কাজ করে নি তখন। আপনার বাসার আলো দেখে জানে পানি এসেছিল। ভাগ্য ভাল যে আপনি দরজা খুলে বের হয়ে এসেছিলেন। আপনার কুকুরটা এমন ভাবে ডাকছিল। আমি কুকুর খুব ভয় পাই।

-আমার নাম আরমান।
-তো আরমান সাহেব আপনি এই জন বিবর্জিত স্থানে একা কিভাবে থাকেন?
-সব সময় তো থাকি না। মাসের ভেতরে দুই একদিন এখানে এসে থাকি।
-আর বাকি সময়? এখানে কে থাকে?
-কেউ থাকে না। ঘর বন্ধ থাকে।
-বাহ রে এতো নির্জম জায়গা। কেউ যদি চুরি করে নিয়ে যায়।

চুরির কথা শুনে আরমান যেন খুব মজা পেল। তারপর বলল, চিন্তা এ বাসায় কেউ চুরি করবে না। আর একজন লোক রয়েছে আমি না থাকলে সে এসে সব পরিস্কার পরিছন্ন করে রাখে। আর যতখানি জনবিবর্জিত ভাবছেন ততখানি জনবিবর্জিত নয়। আশে পাশে গ্রাম আছে।

নাইরা আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল তখনই বিশাল সাইজের কুকুরটাকে দেখতে পেল। হেলতে দুলতে এগিয়ে আসছে ওদের দিকে। নাইরা একটু ভয় পেয়ে উঠে আরমানের আড়ালে চলে গেল। সেটা দেখে আরমান খুব যেন মজা পেল।
কুকুরটা ততক্ষণে আরমানের কাছে চলে এসেছে। আরমান সেটাকে আদর করতে করতে বলল, আরে ভয় পাবেন না। অলু খুবই ফ্রেন্ডলি। আমার সাথে যাদের বন্ধুত্ব তাদের কিছু বলবে না। চিন্তা করবেন না একদম। এই দেখুন। একটু আদর করুন। নিন।
অলু এমন ভাবে নাইরার দিকের তাকালো যেন বলছে একটু এসো আদর করে দাও । নাইরা একটু হেসে বলল, ধন্যবাদ । আমি সব সময় কুকুর খুব ভয় পাই । জানি ওরা কিছু করবে না তবুও!

আরমান নাইরার দিকে কিছু তাকিয়ে থেকে বলল, কেন ? কোন বিশেষ কারণ কি আছে?
-আসলে !!
কিছু সময় নাইরা ইস্ততঃ করলো । তারপর বলল, আসলে খুব ছোট বেলায় একবার আমাকে কুকুর কামড়ে দিয়েছিল । তখন আসলে এতো আধুনিক চিকিৎসা ছিল না । নাভিতে ১৪টা ইঞ্জেকশন দিতে হয়েছিলো ।
আরমান হাসলো । তারপর বলল, আচ্ছা বুঝতে পারছি ।
-আপনি কী করেন? মানে ঐ যে বললেন যে মাসের ভেতরে কিছু দিন এখানে থাকেন । তাহলে অন্য সময় গুলো কোথায় থাকেন?
-তেমন কিছুই না । অল্প কিছু ব্যবসা বানিজ্য আছে । সেগুলো সামলাই । তারপর কাজ করতে করতে যখন বিরক্ত হয়ে যাই তখন এখানে আসি ।
নাইরা বলল, ইস আপনার মত করতে পারলে ভাল হত । আমার তো এমন হয় যে ছুটি ব্যাপারটা কি সেটা আমি ভুলেই গিয়েছি।
-এখন ছুটি নিন । এখন কয়েকটা দিন একেবারে সকল কাজ থেকে দুরে থাকুন । যেমন আমি থাকি । এই যে এখানে যে দুই তিন থাকে এই পুরোটা সময় কিন্তু আমি একেবারে সব কাজ নিজে করি । কোন কাজের লোকটা থাকে না । ঘর পরিস্কার থেকে শুরু করে রান্না বান্না পর্যন্ত সব কিছুই নিজে করি । এর মাঝে একটা আলাদা মজা আছে । বুঝেছেন ! শেষ বার আপনি কবে নিজের সব কাজ নিজে করেছেন ?
নাইরা মনে করার চেষ্টা করলো । কিন্তু ঠিক মনে করতে পারলো না । তার সকল কাজ করার জন্য কত রকম মানুষ যে রয়েছে সেটার কোন ঠিক নেই ।

নাইরার মুখটা মলিন হয়ে গেল । কারণ এতো সময় পরে নাইরার আবারও আগের কথা মনে পড়ে গেল । মনে পড়লো যে জীবন আর কখনই আগের মত হবে না । হয়তো ওর জীবনের ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে ।

নাইরাকে চুপ থাকতে দেখে আরমান বলল, চলুন সকালের নাস্তা তৈরি করা যাক । সকালে কী খাবেন বলেন।
-একটা কিছু হলেই হল।
-পরোটা আর ডিম ভাজি । আপাতত এর থেকে সহজ জিনিস আর নেই ।

পরের ঘন্টা খানেক ওদের কাটলো নাস্তা বানানোর কাজে । সত্যিই নাইরা ভুলে গিয়েছিলো যে এমন ভাবে সহজ স্বাভবিক কাজ গুলো সে কত দিন ধরে করে নি । এমন কী সামান্য এক কাপ চা কিংবা কফিও সে নিজে বানিয়ে খায় না । তার জন্য আলাদা লোক রাখা রয়েছে । কেবল বললেই হয় । সাথে সাথে চলে আসে ।

সকালের নাস্তা শেষ করে কফি নিয়ে আবারো সেই বড় পুকুরের পাড়ে চলে । ততক্ষনে কুয়াশা সরে গেছে । পুকুরের ওপাশটা দেখা যা্ছে খুব ভাল ভাবেই । তবে সেদিকে কেবলই গাছ গাছালি । এই বাড়িটার চারিদিকেও গাছে ভর্তি । একেবারে যেন কোন বনের ভেতরে বাড়িটা । নাইরা খেয়াল করেছে যে বাইরে থেকে কোন ইলেক্ট্রিক তার এসে বাসায় পৌছায় নি । তবে ঘরের ভেতরে আলো আছে । সম্ভবত বেশ শক্তিশালি কোন জেনারেটর চালু থাকে । সেখান থেকেই বিদ্যুতের শক্তি পাওয়া যায় । বুঝতে মোটেও কষ্ট হয় না যে আরমান সাহেব বেশ বড়লোক একজন মানুষ । কেননা কেবল শখের জন্য এমন একটা বাড়ি মেইনটেইন করা মুখের কথা না । নাইরার মনে হল যে যদি আরও কয়েকটা দিন এখানে থাকা যেত তাহলে কতই না ভাল হত । একেবারে নিজের মত করে এখানে থাকতে পারলে একটু শান্তিতে থাকতে পারতো । কিন্তু সেটা করা যাবে না । কাল সে বিপদে পরে রাস্তা হারিয়ে এই বাড়িটে এসে পৌছিয়েছিলো কিন্তু আর এখানে থাকা যাবে না ।

আরমান আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলো তখনই ভেতরের ঘর থেকে টেলিফোন বাজার আওয়াজ এল । আরমান ওকে রেখেই ঘরের ভেতরের দিকে রওয়ানা দিল । কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে নাইরা পানির দিকে তাকিয়ে রইলো একভাবে । এতো শান্তি সে অনেক দিন অনুভব করে নি ।

একটু পরেও আরমান চলে এল । নাইরার দিকে তাকিয়ে বলল, আসলে ছোট একটা সমস্যা হয়েছে ।
-কী?
-আমাকে এখনই আসলে ঢাকাতে যেতে হবে । একটু দরকারে । আমি এখানে তিন ধরে রয়েছি । যাওয়ার সময় হয়ে গেছে আমার !
-আচ্ছা আচ্ছা আমিও তৈরি হয়ে নিই । এক সাথেই যাওয়া যাক !
-না না । সেটার দরকার নেই । আপনি বরং এখানে আরও কয়েকটা দিন । আমি আসলে বুঝতে পারছি যে কোন কারণে আপনি সব কিছু থেকে দুরে থাকতে চাচ্ছেন কয়েকটা দিন ।
নাইরার খুব করে ইচ্ছে করলো যে বলে কোন দরকার নেই সে এখনই চলে যাবে কিন্তু সেই সাথে সাথে এখানে সব কিছুর থেকে দুরে থাকতে চাচ্ছে । এমন একটা সুযোগ হাত ছাড়া করতে তার ইচ্ছে করছে না । তবুও একটু দুর্বল ভাবে বলল, না না । কী বলছেন ! এমনিতেও আপনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি ।
-আরে কোন কষ্ট না । আর আমি তো চলেই যাচ্ছি আমার কোন কষ্ট হবে না ।
নাইরা কী বলবে খুজে পেল না । একটু যে লজ্জা লাগছে না রাজি হয়ে যেতে সেটা বলবে না । কিন্তু রাজি হতে চাচ্ছে খুব করে । আরমান বলল, শুনুন আপনার কোন কষ্ট হবে না । আমি বাহাদুরকে বলে যাবো । সে চলে আসবে তার বউকে নিয়ে । সে আপনার রান্না বান্না করে দিবে । কোন ঝামেলা হবে না ।

নাইরা এবার একটু হাসলো । তারপর বলল, আপনাকে কী বলে যে ধন্যবাদ দিবো বুঝতে পারছি না ।
-আরে কী যে বলেন ! আপনার মত একজন বিখ্যাত মানুষ আমার বাসায় থাকবেন এটাতে আবার ধন্যবাদ দেওয়ার কী আছে !

আরমানকে চলে যেতে দেখলো । নাইরার তখনও ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না যে ও একটা অপরিচিত মানুষের বাসায় এসে উঠেছে । সামনের কয়েকটা দিন এখানেই থাকবে । আরমান সম্ভবত তার ব্যাপারটা ঠিক মত জানে না । আরমান বলেছিলো যে তিনদিন ধরে সে এখানেই আছে আর এখানে ঠিক ইন্টারনেট কাজ করে না । তাই সম্ভবত তার খবর গুলো এখনও আরমানের কানে যায় নি । যখন যাবে তখন আরমান নিশ্চয়ই তাকে ঘৃণা করবে । ঠিক যেমন ভাবে অন্য সবাই করছে এখন ।

আচ্ছা সায়েম এখন কী ভাবছে !
নিশ্চিত ভাবেই ও বিয়ে ভেঙ্গে দিবে । কোন সন্দেহ নেই । যে মেয়ের সেক্স ভিডিও বের হয়ে সেই মেয়েকে তো কোন ভাবেই বিয়ে করা যায় না । নাইরার সব সময় একটা ভয় ছিল যে রায়হান এমন কোন কাজ করবে । হয়তো ওদের আগেকার সম্পর্কের কথা বলে দিবে সে সবাইকে । কিন্তু কোন দিন ভাবেও নি যে রায়হানের কাছে এই ভিডিওটা থাকতে পারে । রায়হান যে কখন যে ওদের এই ভিডিওটা করেছে সেটা নাইরা জানেও না । নাইরা যখন রায়হানের সাথে সকল সম্পর্ক শেষ করে দিয়ে সায়েমের দিকে গেছে সেটার কারণেই রায়হান প্রতিশোধ নিয়েছে । হয়তো তখনই নিতে পারতো কিন্তু একেবারে মোক্ষম সুযোগ দেখে প্রতিশোধ নিয়েছে ।

নাইরা আর কিছু ভাবতে চাচ্ছে না । এখন আর কারোই কিছু করার নেই । যা হওয়ার হয়ে গেছে । ওর মুভি জগতের ক্যারিয়ার একদম শেষ হয়ে গেছে ।

একদিন দুইদিন করে একেবারে সাত দিন নাইরা থেকে গেল আরমানের বাসায় । এই সাতদিন নাইরা খুব শান্ততে ছিল । কিন্তু এক সময়ে মনে হল এবার বাইরে যেতেই হবে । এভাবে আর কত সব কিছুর থেকে লুকিয়ে থাকবে সে ।

দুই

বাসায় ফিরে নাইরা সবার আগে নিজের মোবাইল ফোনটা চালু করলো । ভেবেছিলো ওকে নিয়ে মানুষজনের কুৎসিত কিছু মন্তব্য আর স্টাটাস দেখতে পাবেন কেবল । মোবাইলটা চালু করতেই কয়েক নোটিফিকেশন এসে হাজির হল । সব কিছু চেক করার ইচ্ছে জাগলো না । তবে কয়েকটা নটিফিকেশন চেক করেই খানিকটা অবাক হয়ে গেল সে । সেখানে মানুষজন ওকে আসলে ওর পক্ষে কথা বলছে । এবং এই পক্ষে কথা বলাটা সবার আগে শুরু করেছে সায়েম । তীব্র একটা বিস্ময় কাজ করলো নাইরার ভেতরে । সায়েমের স্টাটাসটা ওর চোখ পড়লো । সেখানে ও লিখেছে যে নাইরার আগে একটা সম্পর্ক ছিল সেটা সে জানতো । এবং সে মানুষ সম্পর্ক থাকা কালীন গোপন ও ব্যক্তিগত ব্যাপার গুলো এভাবে প্রকাশ করে দিতে পারে সে একজন নিন্ম মানসিকতার মানুষ ছাড়া আর কিছু নয় । এমন একটা মানুষের জন্য সে নিজের ভালোবাসার মানুষের অসম্মান করতে পারে না ।

মোটামুটি এর পরপরই সবাই নাইরার পক্ষ নেওয়া শুরু করেছে । যদিও এখনও অনেকেই নাইরার ভিডিওটাকে নিয়ে কথা বলছে তবে তার থেকে বেশি পরিমান মানুষ এই নিয়ে কথা বলছে একজনের ব্যক্তিগত ব্যাপর কোন ভাবেই এভাবে বাইরে নিয়ে আসা ঠিক নয় । নাইরা যখন আরও কিছু ভাবছিলো তখনই সায়েমের ফোন এসে হাজির । ফোন ধরে কিছু সময় বকাবকি করলো ওকে এভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার জন্য । তারপর জানালো যে সে এখনই আসছে ওর কাছে । সায়েম এও জানালো যে রায়হান নামের ঐ বদমাইশটাকে পুলিশ খুজছে । ধরা পড়লে খবর আছে !

পরের কয়েকটা দিন নাইরার দ্রুত কেটে গেল । প্রতিটি সময় সায়েম ওর পাশে পাশে ছিল । এমন কি যখন যে এই দিনের ভেতরে প্রথমবার স্যুটিংয়ে গিয়ে গেল সেখানেো সায়েম সাথেই ছিল নিজের স্যুটিং বাদ দিয়ে । মাস খানেকের ভেতরে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে গেল । তবে সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে পুরো অনলাই্ন থেকে নাইরার ভিডিওটা একেবারে গায়েব হয়ে গেল । সম্ভবত পুলিশের সাইবের সেল এই কাজটা করেছে ।

নাইরার এরই মাঝে প্রায়ই আরমান সাহেবের কথা মনে হয়েছে । কয়েকবার মনে হয়েছে আরমান সাহেবের ওখানে সে ফেরৎ যায় । গিয়ে একবার দেখা করে আসে কিন্তু কাজের চাপে আর সুযোগ হয় নি । ঐ সাতটা দিন নাইরা বেশ ভাল ভাবেই মিস করছে । আবারও খুব ইচ্ছে করলো ওখানে হারিয়ে যেতে কয়েকটা দিনের জন্য ।

কিন্তু তার আগেই আরমান আবারও তার জীবনে এসে হাজির হল । স্যুটিং শেষ করে নাইরা নিজের বাসার দিকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো তখনই ওর পিএ এসে জানালো যে দুইজন পুলিশ অফিসার এসেছে। নাইরার তখনই মনে হল সম্ভবত ওরা রায়হানের খবর পেয়েছে । সেই বিষয়েই খোজ নিতে যাচ্ছে ।

-বলুন অফিসার?
-আসলে আমরা আপনার সাথে একটা ব্যাপার জানতে চাচ্ছি । সেই কারণেই এসেছি ।
এই বলে দুইজন পুলিশ অফিসারের একজন একটা ছবি নাইরার দিকে এগিয়ে দিল । তারপর বলল, ইনাকে চিনেন আপনি?
ছবিটার দিকে তাকিয়ে নাইরা একটু অবাক হয়ে গেল । কারণ ছবিটা আরমান আহমেদের ।
নাইরার চেহারার ভাব দেখেই অফিসাররা বুঝলো যে নাইরা আরমানকে চিনে । নাইরা বলল, চিনি বলতে নাম জানি । পরিচয় হয়েছে ।
-কিভাবে পরিচয় হল?
-আমি আসলে কয়েকদিন আগে নিজে নিজে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলাম । আমার ঐ ঘটনার পরে সব কিছু থেকে একা পালিয়ে থাকতে চাচ্ছিলাম । ঢাকা চট্টগ্রামে রুমে মেইণ রাস্তার একটা রাস্তায় আমি গাড়ি ঢুকিয়ে দিই । তারপর সেখান থেকে এদিক ওদিক চলতে চলতে পথ হারিয়ে ফেলি । ঘন্টা দুইতিন এভাবে চলতে চলতে যখন মনে হচ্ছিলো যে আর আমি লোকালয়ে ফিরে পারবো না তখনই আমি একটা বাড়ি দেখতে পাই । ঐ বাড়িটাই আরমান সাহেবের ছিল । তিনি সেখানে ছিলেন । সেখানে থাকতে দিলেন ।
-আপনি কি জানেন সে কে কিংবা কী করে?
-নাম ছাড়া আর কিছুই জানি না । আমাকে বলল যে ব্যবসা করে । এর বেশি কিছু আমি জানি না ।

নাইরার কেন জানি মনে হল যে অফিসার দুজন ওর কথা ঠিক বিশ্বাস করলো না । একজ অফিসার বলল, এই লোকটাকে পুরো দেশের পুলিশ খুজছে আজ প্রায় ৫ বছর । বর্তমান আন্ডারওয়ার্লের সবটুকু সে একা সামলায় !

চোখ বড় বড় করে তাকালো নাইরা । কথাটা সে হজম করতে পারছে না কোন ভাবেই ।
একজন বলল, গত একমাস ধরে আমাদের কাছে একটা খবর আছে সে সে আপনার ব্যাপার বেশ খবর করছে। আপনার যে ভিডিওটা অনলাইনে ছিল সেটা নিজের উদ্ধোগে রিমুভ করেছে । বুঝতে পেরেছেন কি ? আপনার ব্যাপারে সে আগ্রহ দেখাচ্ছে খুব ।
নাইরা কী বলবে বুঝতে পারলো না । নাইরার ভিডিওটা তাহলে ঐ লোক সরিয়েছে ।
-আপনি কি আমাদের ঐ বাসাটায় নিয়ে যেতে পারবেন?
-সম্ভবত না । ঐদিন রাতে কিভাবে গিয়েছিলাম আমি নিজেও জানি না ।
-আর ফিরে এসেছিলেন কিভাবে ?
-ওখানে একজন কেয়ারটেকার ছিল । সে আমাকে রাস্তা চিনিয়ে নিয়ে এসেছিলো । অনেক গুলো বাক ছিল । আমার পক্ষে মনে রাখা সম্ভব না !
-অন্তত এটা তো বলতে পারবেন যে মেইন রাস্তার কোন স্থানে উঠেছিলেন?
-হ্যা এটা পারবো ।
-ওকে আপনি আরো কিছু মনে করার চেষ্টা করুন । আমরা পরে আবারও আপনার সাথে যোগাযোগ করবো । ঠিক আছে?
নাইরা মাথা ঝাকালো কেবল ।

নাইরা একটু যেন ভয় পেল । তবে সেটা মুখে প্রকাশ করলো না । পুলিশ অফিসার দুজন ওকে সাবধানে থাকতে বলে চলে গেল ।
নাইরা অদ্ভুত চিন্তায় পড়ে গেল । সে সেদিন কিভাবে ঐ স্থানে চলে গিয়েছিলো সেটা ভাবলে এখনও অবাক হচ্ছে । তবে আরমানকে তার মোটেই খারাপ মনে হয় নি । বরং কী ভদ্র ভাবে সে ওর সাথে আচরণ করেছে ! এমন মানুষটা কিনা আন্ডার ওয়ার্ল্ডের ডন !
যাক ওর সাথে আর দেখা না হলেই হল ! তবে ঐ বাসাটা সে মিস করবে ঠিকই । ভেবেছিল আরও একবার খুজতে খুজতে সে চলে যাবে সেখানে ! কয়েকটা দিন সেখানেই থাকবে ! সেটা সম্ভবত আর হল না । কিন্তু নাইরা কী জানতো যে সেই ইচ্ছেটা খুব জলদি পূরণ হয়ে যাবে !!

পরদিন রাতে স্যুটিং শেষ করতে করতে বেশ রাত হয়েগিয়েছিলো । ওর ড্রাইভারকে সে আগেই ছুটি দিয়ে দিয়েছিলো । রাত হলে এই কাজটা সে প্রায়ই করে । নিজেই গাড়ি চালিয়ে বাসায় ফেরে । কিন্তু আজকে অন্য রকম ঘটনা ঘটলো । মাঝ রাস্তায় আসতেই দেখলো রাস্তার মাঝে কিছু পড়ে আছে । আরও একটু কাছে যেতেই দেখলো একটা বাইক উল্টে পড়ে আছে । নাইরার একবার মনে হল পাশ কাটিয়ে চলে যায় কিন্তু কাজটা করতে পারলো না । একটা এম্বুলেন্সে তো ফোন করা দরকার ।

গাড়ি থেকে সে বাইকটার কাছে যেতেই নিজের ভুল বুঝতে পারলো । বাইক পড়ে আছে তবে সেখানে কোন মানুষ নেই । ওর মনে হল এখানে কিছু যেন ঠিক নেই । এখনই ওর নিজের গাড়ির কাছে ফেরৎ যাওয়া দরজার । তবে সেটা করতে পারলো না । ওর পেছনে নিঃশব্দে কেউ চলে এসেছে । কিছু বুঝে ওঠার আগেই লোকটা নাইরার মুখে একটা রুমাল চেয়ে ধরলো । ব্যাস নাইরার আর কিছু মনে নেই ।

তিন
নাইরার যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন বেশ সকাল হয়ে গেছে । ঘুম ভাঙ্গার কয়েক মুহুর্ত ও মনে করার চেষ্টা করলো সে কোথায় রয়েছে । সাথে সাথে ওর মনে পড়লো গতরাতের কথা । ওকে কেউ ধরে নিয়ে এসেছে । চট করে উঠে পড়লো বিছানা থেকে । তবে তখনই বুঝতে পারলো যে ঘরটা ওর পরিচিত । মাস খানেক আগে এখানে সপ্তাহ খানেক ছিল সে !

আরমান !

নামটা মনে পড়লো সাথে সাথেই । সেই সাথে আরও মনে পড়লো যে আরমান হচ্ছে একজন ডন !
ভয়ের একটা রেখা ওর মনের মাঝ দিয়ে বয়ে গেল !

ভয়ে ভয়ে সে দরজা দিয়ে বের হয়ে এল । তখনই দেখতে পেল আরমানকে । রান্না ঘর থেকে পরোটার প্লেট নিয়ে ডাইনিংয়ে আনছে । ওর দিকে চোখ পড়তেই হেসে বলল, আরে ঘুম ভেঙ্গেছে দেখছি । আসুন নাস্তা করা যাক ।
নাস্তার কথা মনে হতেই নাইরা অনুভব করলো যে ওর খুব ক্ষুধা লেগেছে । কাল রাতে কিছু খঅয়া হয় নি । আর এখন নাইরার আসলে কিছু করার নেই । ও এখন ডনের হাতে বন্দী ।

নাইরা খেতে বসলো । ঐদিনের মত করেই আরমান খুব স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলছে গল্প করছে । একটু পরে নাইরার মন থেকে ভয়টা কমে এল । নাস্তা শেষ করে একই ভাবে সেই পুকুর পাড়ে কফি নিয়ে বসলো ওরা ।
আরমান বলল, আমি আসলে এভাবে আপনাকে নিয়ে আসার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি । তবে এটা ছাড়া আপনার সাথে যোগাযোগের আর কোন উপায় ছিল না । সম্ভবত পুলিশ ইতি মধ্যে আমার পরিচয় আপনার কাছে দিয়েছে !
-জ্বী !
-তবে প্লিজ এটা কোন ভাবেই ভাববেন না যে আপনি এখানে বন্দী । যখন ইচ্ছে আপনি চলে যেতে পারেন এখান থেকে । এবং আজকের পরে কখনই আপনার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিংবা আপনাকে না জানিয়ে এভাবে কোথাও আমি নিয়ে যাবো না ! এই বারের মত আমি ক্ষমা চাচ্ছি ।

নাইরা কোন কথা বলল না । আরমান বলল, আসলে আমি আপনাকে নিয়ে এসেছি কয়েকটা কথা বলার জন্য । ওটা শেষ হয়ে গেলেই আপনি যখন ইচ্ছে চলে যেতে পারেন ।
নাইরা আরমানের কথা বলার ভঙ্গি টা খেয়াল করছে খুব ভাল ভাবেই । ওর এখনও ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না যে এই মানুষটা ডন হতে পারে ।

নাইরা বলল, আমি শুনছি । বলুন ।

কফির কাপে একটা চুমুক দিয়ে নাইরা তাকালো আরমানের দিকে । আরমান বলল, আপনার প্রাক্তন প্রেমিক রায়হান এখন আমার কাছে !
নাইরা চমকে গেল । তারপর বুঝতে পারলো যে কেন পুলিশ এখনও তাকে ধরতে পারে নি । আরমান বলল, আমি তাকে জেরা করেছি । সে আপনার ভিডিওটা ছাড়ে নি ।
-কী বলছেন ?
-হ্যা । তবে এটা সত্য যে ভিডিওটা সে করেছিলো । আপনি যখন সায়েম চৌধুরীর সাথে নতুন করে সম্পর্কে জড়ালেন তখন সে ভিডিওটা সায়েমকে পাঠিয়েছিল । আর কিছু সে করে নি । এখন নি তার কাছে ভিডিওটা এখন আর নেই ও ! ভেবেছিলো ভিডিওটা দেখে সায়েম বুঝি আপানর সাথে ব্রেক আপ করবে । তবে যখন সেটা হল না তখন সে পিছিয়ে এল। আর কিছু করে নি ।
-তাহলে কে ছেড়েছে !

আরমান তাকালো নাইরার দিকে । তারপর বলল, ভেবে দেখুন !
নাইরা কিছু সময় অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো । তারপর বলল, না এটা হটে পারে না । সায়েম এটা করতে পারে না !
আরমান বলল, রায়হান যে ভিভিওটা আপলোড করে নি সেটা নিশ্চিত ! আমি একটা আইপি এড্রেস আপনার ফোনে পাঠাবো আপনি সেটা মিলিয়ে দেখবেন । যদিও খুব চতুরটার সাথে সেটা হাউড করার চেষ্টা করা হয়েছে তবে পুরোপুরি পারে নি ।
-সায়েম এটা কেন করবে?
-বুঝতে পারেন নি?
নাইরা মাথা ঝাকালো । তারপর বলল, একবার একটু ভাবুন । স্বাভাবিক ভাবে হলে আপনার ঘটনায় যে কেউ হলেই আপনাকে ছেড়ে চলে যেত । এটাই যাওয়া স্বাভাবিক । আমাদের বাঙালী পুরুষেরা অন্তত এই ব্যাপারে এখনও এতো মহন হতে পারে নি । কিন্তু দেখেন সায়েম সেটা না করে কত মহনুভবতার পরিচয় দিয়েছে । আর সায়েম আপনার মত অভিনয় জগতের মানুষ হলেও কয়েকটা বছর তার খারাপ যাচ্ছে । কিন্তু হঠাৎ করেই তার জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। যায় নি ?

নাইরার মস্তিস্ক বলছে যে আরমান যা বলছে ঠিক বলছে কিন্তু মন সাই দিচ্ছে না । আরমান বলল, আপনি চাইলে আমি তাকে ধরে নিয়ে এসে এই কথাই স্বীকার করাতে পারি । কিন্তু এমনটা আমি কিছুই করবো না । আমার দায়িত্ব ছিল কেবল আপনাকে জানানো । যে মানুষটার উপর আপনি ভরশা করবেন সেই ব্যাপারে সাবধান করা । আর কিছু না । আমি কোন ভাবেই আপনার কোন সিদ্ধান্তে ইন্টারফিয়ার করবো না ।

কিছু সময় কোন কথা বলল না কেউ । নাইরা চুপচাপ নিজের কফি শেষ করলো ।
আরমান বলল, আপনি কি এখন ঢাকাতে ফিরে যাবেন?
-না । কিছু সময় থাকি । সন্ধ্যার দিকে যাবো । কোন সমস্যা যদি না হয় আপনার !
-আরে কী যে বলেন ! আমার কোন সমস্যা কেন হবে ! আমি বরং আপনার দুপুরের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করি ।
-আমার কাছে পুলিশ এসেছিল । আপনার ব্যাপারে খোজ করতে ।
-আমি জানি ! সেটা নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না ।

চার

নাইরা যখন সায়েমের সামনে কথাটা বলল সায়েমের মুখ থেকে রক্ত সরে গিয়েছিলো কয়েক মুহুর্তের জন্য । নিজেকে সে সাথে সাথেই সামলে নিলো । বারবার অস্বীকার করতে চাইলো কিন্তু যখন নাইরা ওর ওয়াইফাইয়ের আইপি এড্রেস মিলিয়ে দেখালো তারপর ইমেলের স্ক্রিন সট দেখালো তখন সায়েম একেবারে চুপ করে গেল ।
নাইরা বলল, তোমাকে আমি কতখানি বিশ্বাস করেছিলাম সায়েম কিন্তু নিজের জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনার জন্য এমন একটা কাজ করতে পারলে তুমি ?
-না দেখো বিশ্বাস কর!
-কোন আর বিশ্বাস নেই । তুমি এখনই আমার চোখের সামনে থেকে চলে যাবে । আমার জীবন থেকেও । এরপর যদি আমি তোমাকে দেখি তোমার কিন্তু খবর আছে!

সায়েম আরও কিছু সময় অনুনয় বিনয় করলো কিন্তু এক সময় বলল, তুমি কি ভাবছো তোমাকে ছাড়া আমার চলবে না? তোামাকে কে বিয়ে করবে শুনি?
-কেউ না করুক । তবে তোমাকে করতে হবে না । আগেই বলেছি আমার জীবন থেকে আজকেই বের হয়ে যাবে নয়তো খবর আছে তোমার ?
-কী করবে তুমি? পুলিশে খবর দিবে?
-না । আমি পুলিশের কাছে যবোও না । তুমি কী ভাবছো যে তোমার এই কুকীর্তির কথা আমি কিভাবে জানলাম?
-মানে?
-মানে হচ্ছে আরমান আহমেদের নাম শুনেছো তো?
-আরমান ! কোন আরমা…..

কথাটা শেষ করলো না সায়েম । আরমান আহমেদের নাম সে শুনেছে । নাইরা বলল, শুনেছো বুঝতে পারছি । রায়হানকে সে নিয়ে গিয়েছিলো । তার কাছেই সে স্বীকার করেছে সে তোমার কাছে রায়হান ভিভিওটা পাঠিয়েছিলো । সেই তোমার ইনবক্স হ্যাক করিয়েছে । সেই ঐ আপলোড আইপি বের করেছে ! সে তোমাকেও ধরে নিয়ে যেতে চাইছিলো । আমি কেবল মানা করেছি । কেবল ফোন করে তাকে বলবো তোমার কথা । তারপর কোথায় গায়েব হয়ে যাবে কেউ কোন দিন জানবেও না । বুঝেছো?

সায়েম সরু চোখে তাকিয়ে রইলো কেবল । নাইরা আবার বলল, আজ থেকে একদম আমার জীবন থেকে দুর হয়ে যাবে । দেখতে চাও । বল দেখতে চাও !
এই বলে নাইরা নিজের ফোন বের করলো । যদিও নাইরার কাছে আরমানের ফোন নম্বর নেই । আরমানই বলেছে যে ফোন নম্বর থাকাটা নাইরার জন্য বিপদজনক হবে । তবে সেটা তো আর সায়েম জানে না । সায়েম আর দাড়ালো না । দ্রুত ঘর ছেড়ে বের হয়ে গেল !

নাইরা নিজের ফেসবুকটা অন করলো । সেখানে সে কেবল একটা শব্দের স্টাটাস লিখলো । নাইরে জানে যে এই স্টাটাস ঠিক ঠিক আরমানের চোখে পড়বে । এবং সে ঠিকই তার কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে !

নাইরা নিজেও জানে না যে সে কেন আরমানের সেই বাসায় যেতে চাচ্ছে । কেবল সব কিছু ওর কাছে দম বন্ধ হয়ে আসছে । আরমানের বাসা থেকে এসেছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে । এই পুরো সপ্তাহ ধরে সে কেবল ভেবেছে । বারবার কেবল সায়েমকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা ভেবেছে কিন্তু পারে নি । শেষে কৌশলে যখন সায়েমের পিসিতে এক্সেস নিয়েছে । সেখান থেকে সব প্রমান পেয়েছে ।
প্রমান পাওয়ার পর থেকে ওর কাছে সব কিছু কেমন যেন মূল্যহীন মনে হচ্ছে । মনে হচ্ছে যেন সব কিছু ছেড়ে সে সত্যিই কোথাও চলে যায় । একেবারে হারিয়ে যায় একেবারে !
আরমান নিশ্চিত ভাবেই সেই ব্যবস্থা করতে পারবে !

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.7 / 5. Vote count: 55

No votes so far! Be the first to rate this post.

About অপু তানভীর

আমি অতি ভাল একজন ছেলে।

View all posts by অপু তানভীর →

3 Comments on “নাইরার স্ক্যান্ডেল”

  1. গল্প এখানেই শেষ নাকি পর্ব বাড়াবে.

Comments are closed.