কিংকর্তব্যবিমূঢ়

oputanvir
4.4
(28)

আমি মেয়েটির ছবি তুলে দিতে চাইলাম তখন মেয়েটি বেশ অবাক হয়ে তাকাল। অবাক হওয়ার অবশ্য কারণ ছিল। বিদেশের মাটিতে নিজেদের দেশের ভাষা শুনলে একটু অবাক হতেই হয়। মেয়েটিও সেই কারণে অবাক হয়েছে। অবশ্য এখন বাংলাদেশ থেকে নেপালে প্রচুর মানুষ আসছে। আগে যেখানে ভারত ছিল প্রধান গন্তব্য এখন সেটা নেপাল। তারপরেও এখানে নিজের ভাষা শুনলে একটু অবাক হওয়ার কথা। মেয়েটা একটু হাসল আমার দিকে তাকিয়ে। তারপর বলল, আপনি তো দেশী মানুষ দেখছি।
আমিও হাসলাম।
মেয়েটি একটু এগিয়ে এসে নিজের ফোনটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিল। তারপর আবারও মন্দিরটার সামনে গিয়ে দাঁড়ল। বেশ কয়েকটা পোজ দিল। আমি বেশ কয়েকটা ছবিও তুলে দিলাম।
এতো সময় মেয়েটাকে দেখছিলাম একটা মোবাইল স্ট্যান্ডের সাহায্যে অটো টাইমার দিয়ে ছবি তুলছিল। আমি ছবি তুলে দিতে চাওয়ায় বেশ ভাল কয়েকটা পোজ দিল। আমিও ছবি তুলে দিলাম।

ছবি তুলে দেওয়ার সময়ই আমি মেয়েটার দিকে আরও ভাল করে তাকালাম। মেয়েটার পরনে একটা জিন্সের সর্টস। পুরো ফর্সা পা উন্মুক্ত। সাথে ঢোলা ফতুয়া পরেছে। চুল গুলো খোলা। চুলে একটু রং করা। আমাদের দেশের রাস্তায় এই রকম পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানোর কথা চিন্তা করা যায় না তবে এখানে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। নানান দেশ থেকে এখানে পর্যটক আসে।

ছবি তোলা শেষ করে মেয়েটা নিজ থেকে এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, আমি সূচি। আপনি?
আমি নিজের নাম বললাম। তারপর মেয়েটির হাত ধরলাম। অনেকদিন পরে কোন মেয়ের নরম হাত ধরলাম আমি। সূচিকে বললাম, আপনার গ্রুপের লোকজন কোথায়?
সূচি বলল, আমার গ্রুপে কেউ নেই। আমি একা এসেছি।
মেয়েটার বয়স আমার কাছে খুব বেশি মনে হল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মনে হল। এই বয়সে মেয়েটা একলা একলা নেপাল চলে এসেছে। অথবা এমন হতে পারে যে মেয়েটা আসলে একটু বড়ই। মেয়েটাকে দেখতে বাচ্চা বাচ্চা মনে হয়।
আমি বেশি আগ্রহ দেখালাম না সূচির দিকে। তাহলে মেয়েটা আবার অন্য কিছু ভেবে বসতে পারে। তাহলে আমার কাজটা হবে না। আমি ছবি তুলে দিয়ে আবার নিজের কাজের দিকে মনযোগ দিলাম। এখানে আমি যে কাজে এসেছি সেটাই করতে হবে। তবে সূচির সাথে আমার আবারও দেখা হয়ে গেল।

পরদিন ভোর বেলা আমি আমার হোটেলের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছি। রাতে আমার ভাল ঘুম হয় নি। নিজের বিছানা ছাড়া আমার ঘুম একদমই হয় না। তাই আমি ভোর থাকতেই উঠে পড়ি। এখানেই তাই। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুরের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছি কিছু সময়। এমন সময় পাশ থেকে নিজের নাম শুনতে পেলাম। ডান দিকে তাকিয়ে দেখি সূচি। সেও আমার মত সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় দাঁড়িয়েছে। আমার দিকে স্বাভাবিক ভাবেই তাকিয়েছে। সে বলল, আরে আপনিও দেখছি এই হোটেলে, একেবারে আমার পাশের রুমেই উঠেছেন!
আমি একটু হাসার চেষ্টা করলাম। তারপর বললাম, কাল তো টেরই পাই নি যে আপনিও এই হোটেলে উঠেছেন! তো আজকের প্লান কী?
সূচি বলল, এমন কোন প্লান নেই। আমি এর আগে নেপাল এসেছি কয়েকবার। ফ্যামিলির সাথে এসেছি, বন্ধুদের সাথে এসেছি। এবার এলাম একা। আমার চেহারায় একটা ভাব ফুটে উঠতে দেখে সূচি বলল, কেন? আপনি এটা মেনে নিতে পারছেন না? একটা মেয়ে একা একা ঘুরতে পারে না?
আমি দ্রুত বললাম, না, আমি সেটা মিন করি নি। এখানে অনেক মেয়েই আসে একা। মেয়েদের এবিলিটি নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের সমাজ কেমন তা তো আপনি জানেনই। আপনার পরিবার মেনে নিল?
সূচি একটু হাসল। তারপর বলল, হ্যা। আপনি ঠিক বলেছেন। বাবা যদিও কিছু বলে নি কিন্তু আম্মু খুব মানা করছিল। সে কিছুতেই রাজি হবে না এমন একটা ব্যাপার। শেষে রীতিমত ঝগড়া করে আসছি। আচ্ছা, আপনিই বলেন তো এখন কি আর সেই আগের যুগ আছে? আগের মত আমরা মেয়েরা কি ঘরের ভেতরে বন্দি থাকি?
আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। অবশ্যই এখন কি আর মেয়েরা আগের মত আছে? আমি বললাম, আপনার কথা ঠিক আছে তবে আপনার আম্মু নিশ্চিত এই যুগের মেয়ে নন। তিনি আসলে আপনার স্বাধীনতা হরণ করতে চান না। তিনি আসলে আপনার সেফটি নিয়ে চিন্তিত। নেপাল দেশ হিসাবে বেশ নিরাপদ টুরিস্টদের জন্য। কিন্তু তারপরেও একজন বাংলাদেশী মা হয়ে নিজের মেয়েকে একা একা ছেড়ে দেওয়া কঠিন একটা ব্যাপার। মায়ের কথা বলেছেন?
সূচি আমার দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বলল, না। তার সাথে ঝগড়া করেছি। কথা বলব না।
আমি হাসলাম। বললাম, আপনি তো ছেলে মানুষ নন। একটা অনুরোধ করি। মাকে একটা ফোন দিন। তিনি নিশ্চিত খুব চিন্তায় আছেন।
সূচি বলল, আপনি আমার মায়ের জন্য এতো চিন্তা কেন করছেন শুনি?
আমি আবারও মুখে হাসি নিয়ে বললাম, আমি আসলে আপনার মায়ের জন্য না, একজন মায়ের জন্য চিন্তা করছি। মায়েরা সব সময় নিজের সন্তানের জন্য চিন্তা করে। আমাদের সেই চিন্তাকে আরও বাড়ানো উচিত না।
সূচির কেন জানি আমার কথা পছন্দ হল মনে হল। সে বলল, বাবার সাথে কথা বলেছি। বাবা নিশ্চয়ই বলেছে মাকে। সে চিন্তা করবে না।
-যতই বলুন বাবার সাথে। মায়ের সাথে আলাদা ভাবে বলুন। প্লিজ!

আমার কথা শুনেই সম্ভবত সে ঘরের ভেতরে চলে গেল। আমি সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলাম। ফিরে এল কিছু সময় পরে। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, মাকে ফোন করেছি। সে নামাজের জন্য উঠেছিল।
আমি বললাম, থ্যাঙ্কিউ। আজকে আপনার আম্মুর দিনের শুরুটা কিছুটা হলেও চিন্তা মুক্ত হবে।
আমাদের কথা এবারে আরও কিছু সময় চলল। তারপর দুইজনের চোখই গেল আকাশের দিকে। আমাদের হোটেলটা পূর্বমুখী। তার সূর্যোদয়টা ভাল ভাবে দেখা যাবে। আমরা মুগ্ধ হয়েই সেই সূর্যোদয় দেখতে লাগলাম।

এক সময় সূচি জানতে চাইল, আপনার আজকের প্লান কী?
আমি একটু চিন্তা করে বললাম, তেমন প্লান নেই। কয়েকটা শহরের কয়েকটা স্পটে যাব।
তারপর আমি কোথায় কোথায় যাব সেটার নাম বললাম। সূচিত বলল, আমারও আজকে এগুলোতেই যাওয়ার ইচ্ছে। আপনার সাথে যদি যাই আপত্তি আছে। মানে দুজন ট্যাক্সিতে শেয়ারে গেলে খরচ কমে যাবে!
আমি একটু হেসে বললাম, না আপত্তি থাকবে কেন! চলুন এক সাথেই যাওয়া যাক!

এরপরের দুটো দিন আমরা এক সাথে নানান জায়গাতে ঘুরতে লাগলাম। তারপরই সূচির কাছ থেকে একটা অবদার পেলাম। আমরা তখন গান্ধ্রুক গ্রামে গিয়ে হাজির হয়েছি। সূচির এখানে আসার কোন পরিকল্পনা ছিল না। আমি এখানে আসছি শুনে সেও এখানে আসতে চাইল। আমরা শেয়ার্ড জিপে করে লম্বা সময় জার্নি করে গান্ধ্রুক গ্রামে এসে হাজির হলাম। এবারও আমার হোম স্টে পাশপাশি রুমে হল। রাতের খাবারের পর আমরা দুজন বারান্দায় বসেছিলাম কফির কাপ হাতে নিতে। এমন সময় সূচি আমাকে তার এখানে আসার কথা জানাল।
-আমি আসলে এখানে এসেছি মাথা ফ্রেশ করতে!
-পড়াশোনার কি খুব চাপ?
-না, পড়াশোনা না। আসলে……
সুচি একটু থামল। সম্ভবত মনে মনে একটু চিন্তা করল যে আমাকে কথাগুলো বলা যায় কিনা! তারপর বলল, আসলে গতমাসে আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ব্রেকআপ হয়েছে। আমি মানসিক ভাবে কিছুটা ভেঙ্গে পড়েছিলাম। সেটা থেকে মুক্তি পেতেই আমি এখানে এসেছি। প্রথমে ভেবেছিলাম সমুদ্রে যাব কিন্তু কক্সবাজারে যেতে ইচ্ছে করে নি। কাছে পিঠে এই নেপাল ছাড়া আর ভাল কোথাও যাওয়ার নেই। ইন্ডিয়াতে এখন ভিসা বন্ধ।
-তারপর? মাথা ফ্রেশ হয়েছে?
সুচি কিছু সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর কফির কাপে একটা চুমুক দিয়ে বলল, ইট উইল পাস!
আমি বললাম, যদি কিছু মনে না করেন তবে কেন ব্রেকআপ হল বলা যাবে?
সূচি হাসল। বলল, সেই কমন কারণ। চিটিং!
আমি গলায় একটু বিস্ময় ফুটিয়ে বললাম, আপনাকে অন্য মেয়ের সাথে চিটিং করেছে। সেই মেয়েকি মিসওয়ার্ল্ড নাকি?
সূচি একটু মুখ ভ্যাংঞ্চি করল। তারপর বলল, মিসওয়ার্ল্ড মাই ফুট! চিটিংটা আমার থেকে ভাল কারো সাথে করলেও মেনে নিতে পারতাম। এমন একজনের সাথে কাজটা করেছে, মেজাজতা খারাপ হয়ে আছে!
আমি বললাম, মাফ চায় নি?
-ধরা পরার পরে চেয়েছে অনেকবার।
-তারপর? মাফ করেন নি বা করবেন না?
সূচি আমার দিকে তাকিয়ে এমন একটা লুক দিল যেন এমন কথা সে আর কোনো দিন শোনে নি। সে বলল, আমি জীবনে সব ক্ষমা করে দিতে পারে কিন্তু চিটিং না।
-আচ্ছা বুঝলাম। তাহলে এখন কী করবেন?
-জানি না কী করব। তবে রেহানের কাছে আর না। এটাই ফাইলাম। কিন্তু মনের ভেতরে একটা রাগ কিরমিড় করছে। মনে হচ্ছে কিছু করতে পারলে, এমন কিছু করতে পারলে রেহানকে জ্বালানো যেত ভাল হত!
আমি একটু চুপ করে থেকে বললাম, এক কাজ করেন। একটা ফেইক প্রেম করেন। কয়েকটা ছবি তোলেন সেই ফেইক প্রেমিকের সাথে। তারপর সেই ছবি ফেসবুকে আপলোড দেন। যদি আপনার বয়ফ্রেন্ডকে ফেসবুকে ব্লক করে থাকেন, সেই ব্লক তুলে দিন। আপনার সাথে অন্য ছেলের ছবি যখন সে দেখবে জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়ে হবে। পুরুষ মানুষ নিজে যতই অন্য মেয়ের সাথে চিটিং করুক না কেন, নিজের বউ কিংবা প্রেমিকাকে যদি অন্য কোনো পুরুষের সাথে দেখে তবে সেটা সে সহ্য করতে পারে না। এই জিনিস পুরুষ ক্ষমতার বাইরে!
-তাই নাকি?
-শত ভাগ। এমন কি ১০ বছর আগে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া প্রেমিকার সাথে অন্য পুরুষ মানুষ দেখলে তারা সেটা সহ্য করতে পারে না। ঢাকায় ফিরে এমন কিছু করবেন। দেখবেন কাজ হবে খুব!

সূচি আমার দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবল। আমি বুঝতে পারলাম যে আমার আইডিয়াটা তার মনে ধরেছে। তবে তারপর সে যা বলল সেটা শুনে আমার চোখ কপালে উঠল। সে বলল, আচ্ছা আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে?
-মানে?
-মানে জানতে চাচ্ছি যে আপনার গার্লফ্রেন্ড প্রেমিকা আছে?
-না।
-বউ?
-না এখনও বিয়ে করি নি।
-গ্রেট। তাহলে একটা কাজ করি। আপনি আপনি আমার সেই ফেইক বয়ফ্রেন্ড হয়ে যান।
-সেকি কি বলছেন এসব!
-কেন সমস্যা কী! আমার বয়ফ্রেন্ড হতে প্রবলেম কী ! আর সত্যি সত্যি তো বলছি না।
-আরে সেটা না। আপনি আমার থেকে কম করেই হলেও ১০/১২ বছরের ছোট হবেন । আমাদের জুটি মোটেই মানাবে না। আপনি বরং আরও ছোট কাউকে খুজে বের করুন। আপনার পরিচিত অনেকেই তো থাকবে! তাই না?
-আরে না। আমার পরিচিত সবাইকে রেহান চেনে। কাজ হবে না। আপনাকে সে চেনে না। আপনি পার্ফেক্ট হবেন। আর আপনাকে দেখতে মোটেই আমার থেকে ১০/১২ বছর বেশি মনে হচ্ছে না।
আমি আসলে কী বলব খুজে পেলাম না। শেষ পর্যন্ত রাজি হতেই হল।
পরের দুটোদিন সূচি আমার সাথে অন্তত দুইশ ছবি তুলল। ছবিগুলো এমন সূচি তুলল যেকেউ যখন সেগুলো দেখবে নিশ্চিত ভাবেই বুঝে নিবে যে সূচি আমার গার্লফ্রের্ন্ড। এবং নেপালে থাকতে থাকতেই সূচি একটা ছবি তার ফেসবুক প্রোফাইলে দিয়ে দিল। আমি তীব্র একটা অস্বস্তিবোধ করলাম। কিন্তু মনের ভেতরে একটা আনন্দও কাজ করছিল। কেন সেই আনন্দবোধ হচ্ছিল সেটা আমার জানা ছিল না।

আরও দুইটা দিন পার করার পরে আমি আর সূচি একই সাথে ঢাকা ফিরে এলাম। সূচিকে নিয়ে আসতে গাড়ি এসেছে। আমাকে সে গাড়িতে করে লিফট দিয়ে চাইল। আমার বাড়ি মোহাম্মাদপুর অন্য দিকে সূচির বাসা ধানমণ্ডি। আমাকে সে সহজেই গাড়িতে করে পৌছে দিতে পারে। গাড়িটা যখন মোহাম্মাদপুরের বাসস্ট্যান্ডে এসে থামল, আমি নেমে পড়লাম। দেখলাম সূচিও নেমে এল গাড়ি থেকে আমাকে বিদায় জানাতে।
সূচি হেসে বলল, আপনার সাথে সময়টা ভাল কেটেছে। সত্যিই ভাল কেটেছে। আপনার সাথে দেখা না হলে হয়তো এবারের নেপাল ট্যুরটা এতো চমৎকার হত না।
আমি একটু হেসে বললাম, আমারও সময় ভাল কেটেছে।
-আপনার বুদ্ধিটা আসলেই কাজ করেছে। কয়েকজন আমাকে নক কয়েছে। রেহান নাকি ওদের কাছে আপনার ব্যাপারে জানতে চেয়েছে। আপনাকে চেনে কিনা!
আমি একটু হাসলাম কেবল। কিন্তু তারপরই সূচি যা বলল সেটা শুনে আমার চোখ কপালে উঠল। সূচি বলল, আমার বাবাও জানতে চাইছিল আপনার কথা। আপনাকে বাবা ফোন করে নি?
আমি তীব্র বিস্ময় চোখে তাকিয়ে রইলাম সূচির দিকে। সূচি আমার দিকে হাসি হাসি মুখ নিয়েই তাকিয়ে আছে। আমার মুখ হা হয়ে হয়েছে দেখে সূচি হারির বিস্তৃতিটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল, আজকালকার মেয়েরা এতো বোকা না, মিস্টার ফয়সাল!
আমি কোনো মতে বললাম, আপনি জানতেন?
-প্রথমে জানতাম না তবে পরে বুঝতে পেরেছি। আমার বাবা কখনই আমাকে একা ছাড়ে না। আমার সেফটির ব্যাপার নিয়ে সে বেশ কনসার্ন। প্রথম প্রথম ব্যাপারটা আমার কাছে বিরক্তিকর লাগত তবে এক সময়ে মনে হল যে আমাদের দেশের যে অবস্থা তাতে বাবার এই চিন্তা হওয়াটা খারাপ না। আমি তাই মেনে নিয়েছিলাম। নেপালে আসার সময় বাবা যখন এক কথাই মেনে নিল তখন তখনই আমার মনে হল যে বাবা ইতিমধ্যেই কাউকে আমার পেছনে পাঠিয়ে দিবে। আপনিই যে সেই জন সেটা প্রথমে বুঝতে পারি নি। তবে যখন আপনাকে প্রথমদিন হোটেলের পাশের রুমে আবিস্কার করলাম তখনই বুঝতে পারলাম যে আপনি সেই জন।
আমি যে কী বলব বা কী বলা উচিত সেটা আমার বোধগম্য হল না। আমি আসলে বুঝতেও পারি নি যে সূচি বুঝে যাবে।
সূচি হাসতে হাসতেই বলল, আপনাকে আরেকটা কথা জানিয়ে রাখি। আমার কোন বয়ফ্রেন্ড নেই বা ছিল না। বুঝেছেন?
আমার বিস্ময় আরেকটু বাড়ল। সূচি বলল, আমি আসলে আপনাকে আর বাবাকে একটু টাইট দেওয়ার জন্য এই গল্প ফেঁদেছিলাম। আপনি যে এতে এভাবে পা দিবেন সেটা বুঝি নি। যদি আপনি আমাকে ফেইক বয়ফ্রেন্ড হওয়ার পরামর্শ না দিতেন আমিই আপনাকে বলতাম ব্যাপার। আপনি বলাতে সেটা সহজ হয়েছে। যাইহোক, এখন বাবাকে বুঝাবেন যে আপনি আমার আসল না ফেইক বয়ফ্রেন্ড !

এই বসে সূচি হাসতে হাসতে আবারও গাড়িতে উঠে বস্ল। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। এই মেয়ে যে আমাকে আসলেই এভাবে ঘোল খাওয়াবে সেটা বুঝতে পারি নি। কিন্তু সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে আমার বস মানে সূচির বাবাকে আমি কিভাবে বোঝাব যে সূচির সাথে এই ছবি তুলেছে সেটা সত্য না। কালকে অফিসে গেলেই তো এটা নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করবে! এখন আমি কী করব?

ফেসবুকের অর্গানিক রিচ কমে যাওয়ার কারনে অনেক পোস্ট সবার হোম পেইজে যাচ্ছে না। সরাসরি গল্পের লিংক পেতে আমার হোয়াটসএপ বা টেলিগ্রামে যুক্ত হতে পারেন। এছাড়া যাদের এসব নেই তারা ফেসবুক ব্রডকাস্ট চ্যানেলেও জয়েন হতে পারেন।

অপু তানভীরের নতুন অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে

বইটি সংগ্রহ করতে পারেন ওয়েবসাইট বা ফেসবুকে থেকে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.4 / 5. Vote count: 28

No votes so far! Be the first to rate this post.

About অপু তানভীর

আমি অতি ভাল একজন ছেলে।

View all posts by অপু তানভীর →

2 Comments on “কিংকর্তব্যবিমূঢ়”

  1. গল্পের শেষে সূচির এমন বুদ্ধিমত্তার টুইস্ট দেখে সত্যি অবাক হলাম।
    ফয়সাল নিজের বুদ্ধিতে যে নিজে ধরা খাবে, তা এভাবে ভাবিনি! আজকের প্রজন্মের মেয়েদের স্মার্টনেস আর আপনার দারুণ রসবোধ মিলিয়ে গল্পটা বেশ প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য হয়েছে।
    বিশেষ করে বসের কাছে ফয়সালের সেই ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ অবস্থা আর জবাবদিহিতার ভয়টা বেশ মজার একটা আমেজ তৈরি করেছে; চমৎকার গল্পের জন্য ধন্যবাদ!

  2. গল্পটা একদম শেষ পর্যন্ত কৌতূহলটা ধরে রাখতে পেরেছে। বিশেষ করে শেষের মোচড়টা সত্যিই দারুণ ছিল। যদিও ফয়সাল এর বারংবার মা-কে ফোন করতে বলার অংশটায় কিছুটা আচ করতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু পরে গল্পের ধারাবাহিকতায় মনে হয়েছে যে, ঘটনা ভিন্ন কিছু হবে।

    সূচির চরিত্রটা বেশ জীবন্ত লেগেছে; তার স্বাধীনতা, আবার বাবার অদৃশ্য সুরক্ষা -এই দ্বৈত বাস্তবতাটা গল্পে খুব স্বাভাবিকভাবে উঠে এসেছে। ফয়সালের সরল ভাবনা আর শেষে তার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাওয়ার দৃশ্যটা পড়ে মজাও লাগল। আপনার গল্প বলার ভঙ্গিটা খুব স্বাভাবিক, তাই পড়তে পড়তে মনে হয় ঘটনাগুলো চোখের সামনে ঘটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *