সুপ্তির গল্প

2.4
(14)

সুপ্তি সুইসাইড করার চেষ্টা করেছে। এই সংবাদটা শোনার পর থেকে মনের ভেতরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। যে মেয়েটার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে সেই মেয়েটা ঘুমের ঔষুধ খেয়েছে রাতের বেলা। এই সংবাদটা আমার এসে হাজির হল সকালে। আমি তখন অফিস যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। বাবার কাছে সংবাদটা এসে পৌছালো। তারপর আমার কাছে। সুপ্তির এই কাজের প্রধান কারণ ছিল সে আমাকে বিয়ে করতে রাজি ছিল না। কিন্তু ওর পরিবার অনেকটা জোর করেই এই বিয়ে দিতে যাচ্ছিল বলে শেষ উপায় হিসাবে সে এই পথ বেঁছে নিয়েছে।
আমি শান্ত মুখে সব কথা শুনলাম। কী বলব সেটা খুজে পেলাম না। আসলে এখানে আমার কোন কথা বলার ছিলও না। আমি নাস্তা শেষ করে অফিসের পথে রওয়ানা দিলাম। সারাটা দিন আমার অদ্ভুত বিষন্নতায় কাটল। আমি সুপ্তিকে বেশ পছন্দই করেছিলাম, মনে মনে ওকে আমার বউ হিসাবে ভেবেই নিয়েছিলাম। ভেবে নিয়েছিলাম যে মেয়েটার সাথে একটা সুন্দর জীবন আমার শুরু হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন শুরু হওয়ার আগেই ভেঙ্গে গেল।
বিকেলে একটু আগে আগেই অফিস থেকে বের হয়ে এলাম। আমার মস্তিস্ক যদিও আমাকে বারবার বলছিল যেন আমি সুপ্তিকে দেখতে না যাই তবে কেন জানি নিজেকে দুরে রাখতে পারলাম না। এটা আমি কেন করছিলাম সেটাও আমি জানি না। যে মেয়েটা আমাকে বিয়ে না করার জন্য আত্মহননের পথ বেঁছে নিতে পারে, আমাকে দেখলে যে সে খুশি হবে না সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তারপরেও আমি হাসপাতালে গিয়ে হাজির হলাম।
হাসপাতালে হাজির হতেই আমার মনে হল যে এখানে আসাটা ভুল হয়েছে। আমার এখনই চলে যাওয়া উচিৎ। আমি আবার ফিরে হাটা দিতে যাবো তখনই সুপ্তির বাবার সাথে আমার দেখা হয়ে গেল। তিনি কোনো কাজে বাইরে গিয়েছিলেন ফেরত আসার সময় আমার সামনে পড়ে গেলেন। আমার আর পালিয়ে যাওয়া হল না। তিনি আমার দিকে কিছুটা লজ্জিত চোখে তাকিয়ে রইলেন। যেন কোনো কারণে আমার কাছে তিনি অপরাধী। অথচ তিনি কোন দোষ করেন নি। অথবা দোষ করেছেন। মেয়ের অমতেই আমার সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছেন।
আমিই প্রথম মুখ খুললাম। বললাম, সুপ্তির অবস্থা এখন কেমন?
সুপ্তির বাবা বললেন, সময় মত আমরা টের পেয়ে গিয়েছিলাম। তাই রক্ষা পেয়েছে।
আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। তিনি নিজেই বললেন, তুমি কি ওকে একবার দেখতে চাও?
আমি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলাম। তারপর মাথা নাড়লাম।
কেবিনের দরজা ঠেলে ঢুকতেই ওষুধের গন্ধ নাকে এসে লাগল। ছোট কেবিন, জানালা দিয়ে বিকেলের হলুদ আলো এসে পড়েছে বিছানার এককোণে। সুপ্তি শুয়ে আছে। চোখ বন্ধ। হাতে স্যালাইনের নল। আমি কিছু সময় তাকিয়ে রইলাম সেদিকে। সুপ্তির বাবা ভেতরে ঢুকে গেল। সেখানে সুপ্তির মাও ছিল। আমার দিকে তার চোখ পড়তেই দেখতে পেলাম সেখানে যেন একটা অস্বস্তি কাজ করছে। আমি সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলাম কেবল। আমার মনে হল যে এখানে প্রবেশের কোন অধিকার নেই।
আমি এবার চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে যাবো তখনই সুপ্তির বাবা সুপ্তিকে ডাক দিলেন। আমার নাম করেই বললেন যে আমি এসেছি। আমি দেখতে পেলাম যে সুপ্তি সাথে সাথে চোখ মেলে তাকাল। আমার দিকেই চোখ পড়ল তার সরাসরি। আমি যেমন অস্বস্তিতে পড়লাম, ঠিক একই ভাবেই সুপ্তির চোখেও একটা অস্বস্তির ছায়া আমি দেখতে পেলাম।
আমি এখানে আসতে পারি সম্ভবত সেটা সে ভাবতেও পারে নি। আমার হাত থেকে রক্ষা পেতেই তো সে এই কাজ করেছে আর আমিই কিনা এখানে এসে হাজির হলাম।
আমি চলে যেতে চাইলেও কেন জানি চলে যেতে পারলাম না। কেন যে পারলাম না সেটা আমি নিজেও জানি না।
অনেকক্ষণ কেউ কথা বলল না। জানালা দিয়ে বাইরে একটা কাক ডাকল। হাসপাতালের করিডর থেকে জুতোর শব্দ ভেসে এলো। মানুষজন আস্তে ধীরে কথা বলছে। তাদের কথা বলার ধরণটা দেখে মনে হল যে জোরে কথা বললে স্যার বকা দিবে।
তারপর সুপ্তি বলল, বিয়েতে আমার কোনো মত নেওয়া হয়নি।
আমি এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবি নি। মেয়ে রাজি কিনা কিংবা মেয়ের মতামত নেওয়া হয়েছে কিনা এটা নিয়ে আমার মনে কেন জানি প্রশ্ন জাগেনি। যেদিন আমি আর আমার পরিবার সুপ্তিকে দেখতে গিয়েছিলাম সেদিন সুপ্তির মুখের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হওয়া দরকার ছিল যে মেয়েটার মুখে হাসি নেই কেন?
সে বলল, আপনি জানতেন যে আমি রাজি ছিলাম না?
আমি একটু থেমে বললাম, না। আমাকে বলা হয়নি।
যদিও আমার উত্তর হওয়া উচিৎ ছিল যে আমার মনে এই প্রশ্নটা আসেই নি যে তুমি রাজি হবে না। আমি সেটা বলতে পারলাম না যদিও।
সুপ্তি চুপ করে রইল।
আমি বললাম, তুমি যদি আমাকে আগে থেকে জানাতে তাহলে আমি নিজেই সরে যেতাম। এমন কাজ কেউ করে? যদি সত্যিই কিছু হয়ে যেত তবে?
-তবে কী?
-আমার সারা জীবন এই মনে হত যে আমি তোমাকে মেরে ফেলেছি। আমার কারণে তুমি মারা গেছ!
সুপ্তি বলল, এই কারণে দেখতে এসেছেন যে আমি মরেছি নাকি বেঁচে আছি?
ওর কথায় কিছুটা বিদ্রোপ ছিল।
বলাই বাহুল্য বিয়েটা ভেঙ্গে গেল।

গল্পটা অসম্পূর্ণ। হারিয়ে যাওয়ার আগে এখানে তাই পোস্ট করে রাখলাম। যদি শেষ করি তবে এখানেই বাকিটুকু শেষ করব।

ফেসবুকের অর্গানিক রিচ কমে যাওয়ার কারনে অনেক পোস্ট সবার হোম পেইজে যাচ্ছে না। সরাসরি গল্পের লিংক পেতে আমার হোয়াটসএপ বা টেলিগ্রামে যুক্ত হতে পারেন। এছাড়া যাদের এসব নেই তারা ফেসবুক ব্রডকাস্ট চ্যানেলেও জয়েন হতে পারেন।

অপু তানভীরের দুটি অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে

বইটি সংগ্রহ করতে পারেন ওয়েবসাইট বা রকমারী বা ফেসবুকে থেকে।

এছাড়া সকল গল্পের লিস্ট পাবেন সূচিপত্রে। পুরানো আগের গল্প পড়তে পারবেন সামহোয়্যারইন ব্লগ ও ওয়াটপ্যাড থেকে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 2.4 / 5. Vote count: 14

No votes so far! Be the first to rate this post.


Discover more from অপু তানভীর

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

About অপু তানভীর

আমি অতি ভাল একজন ছেলে।

View all posts by অপু তানভীর →