সেমন্তীর বিয়ে

4.6
(30)

সেমন্তী কবির আমার থেকে চার বছরের ছোট। আমার বয়স এখন পঁয়ত্রিশ। সেই হিসাবে সেমন্তীর বয়স এখন একত্রিশ হওয়ার কথা। বাংলাদেশের পরিপেক্ষিতে একটা মেয়ে একত্রিশ বয়স পর্যন্ত অবিবাহিত থাকার ব্যাপারটা স্বাভাবিক হিসাবে ধরা হয় না। সবাই ধরেই নেয় যে মেয়ের ভেতরে কোনো না কোনো সমস্যা আছে। এই জন্যই মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না। তবে অনেকেই এটা বুঝতে চায় না সব মেয়ে জীবনে আসলে বিয়ে করতে চায় না, বিয়ে তাদের জীবনের আল্টিমেট লক্ষ্য নয়। যেমন সেমন্তী?
সেমন্তীর জীবনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে রাজনীতি! একটা মেয়ে যে এভাবে রাজনীতির সাথে জুড়ে থাকতে পারে সেটা আমি ওকে না দেখলে হয়তো বিশ্বাস করতাম না। অনেকে বলবে হয়তো রাজনীতির জন্য নিজের জীবন নষ্ট করে দিল মেয়েটা। আমিও এক সময়ে হয়তো এটাই বলতাম তবে এখন আমি বলি যে রাজনীতির জন্য, দেশের জন্য সেমন্তী নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করে দিল!
সেটা দিক তবে বিয়ে শাদী করেও যে দেশের জন্য অনেক কিছু করা যায় এটা সেমন্তী বুঝতে চায় না। আমি ওকে অন্তত একশবার বিয়ের কথা বলেছি, প্রতিবারই সে আমাকে মানা করে দিয়েছে। এমন কি যখন বললাম যে বাসা থেকে আমার বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে সেমন্তী হাসি মুখে আমাকে বিয়ে করে নিতে বলেছে।
সত্যি বলতে কি এতোদিন সেমন্তীর দল ক্ষমতায় ছিল না। আমি ভেবেছিলাম যে ওদের পার্টি ক্ষমতায় আসলে হয়তো তখন সে আমাকে বিয়ে করতে রাজী হবে। তবে যখন ওর পার্টি ক্ষমতায় এসে হাজির হল তখনও সেমন্তী আমাকে বিয়ে করতে চাইলো না। এখন নাকি তার দায়িত্ব আরো বেড়ে গিয়েছে। এখন দেশের জন্য কাজ করার আসল সময়।
একটা সময়ে আমি বুঝতে পারলাম যে সেমন্তী আসলে আমাকে বিয়ে করতে রাজী হবে না। একবার মনেও হল যে আর এই মেয়ের পেছনে ঘুরে লাভ নেই। অবশ্য সেমন্তী ঠিক আমার প্রেমিকা না। আমি কোনদিন সেমন্তীকে ভালোবাসি বলি নি। সেও কোন দিন আমাকে ভালোবাসি বলে নি। প্রেমিক-প্রেমিকারা যেমন ভাবে ডেট করে আমরা কোন দিন সেভাবে ডেট করি নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়ই আমি সেমন্তীর সাথে বসে গল্প করেছি এটা সত্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে আমি বরাবরই ছাপোষা টাইপের ছাত্রছিলাম। আমি ক্যাম্পাসে যেতামই কেবল ক্লাস করার জন্যই। সেমন্তী আমার জুনিয়র ছিল। আমাদের ডিপার্টমেন্ট একই ছিল। তার সেমন্তীকে দেখতে পেতাম প্রায়ই। এক বছরের মাথায় সেমন্তী কেমন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির একেবারে ফ্রন্ট লাইনে চলে এল। জুনিয়র হয়েও তার দাপটের শেষ নেই। তাও বিরোধী দলের নেতা সে। সকল মিটিং মিছিলে একবারে সবার সামনে থাকত সে। একবার মারামারিতে হাত ভাঙ্গল। তারপর থেকে তার দাম যেন বেড়ে গেল আরো বেশি। আর সত্যি বলতে সেমন্তীর চেহারাও বেশ ছিল। একেবারে বিশ্বসুন্দরী টাইপ আমি বলব না তবে চেহারার ভেতরে একটা নমনীয়তা ছিল যা যে কোন পুরুষকেই ঘায়েল করবে।
আমার সাথে সেমন্তীর পরিচয়ের ঘটনা অন্য রকম ছিল। আমার সাথে সেমন্তীর পরিচয়টা হয়েছিল ভায়োয়েন্সের মধ্য দিয়ে। সেদিন আমি ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। তবে দুপুরের দিকে ক্যাম্পাসে দারুন মারামারি লেগে গেল। আমরা সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা পরিমরি করে সবাই পালাতে লাগলাম। আমি সম্ভবত একটু দেরিই করে ফেলেছিলাম। আমি যখন ক্যাম্পাসের পেছনের দিকে গলির ভেতর দিয়ে যাচ্ছি তখনই আমি সেমন্তীকে দেখতে পেলাম। সে মাটিতে পড়ে আছে। তার মাথা দিয়ে রক্ত পড়ছে। আমার মনে হল তখনই সেখান থেকে পালিয়ে চলে যাই। আমি একটু আগিয়ে যেতেই সেমন্তীকে চিনতে পারলাম। নিশ্চিত ভাবেই আহত হয়েছে হামলায়। আমার এক মনে বলছিল এসব নিয়ে ভাবনার দরকার নেই। এখানে দাঁড়িয়ে থাকার কোন মানে নেই। আমি সাধারণ ছাত্র এসব ঝামেলা থেকে দুরে থাকাই আমার জন্য ভাল। আমার এখন এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেতে পারলাম না। বিশেষ করে যখন আমি পেছন থেকে চিৎকারের আওয়াজ শুনলাম তখন বুঝতে পারলাম যে সরকারি দলে পাঙ্গপাঙ্গরা এদিকে আসছে। নিশ্চিত ওরা সেমন্তীকে খুজছে। ওকে পেলে কী করবে কে জানে! আমি সেমন্তীকে কোলে তুলে নিলাম। যতটা ভারী হবে ভেবেছিলাম সেমন্তী ততটা ভারী না। আমি সেদিন আসলে কিভাবে সেমন্তীকে নিয়ে দৌড়েছিলাম আমি আজও জানি না। কেমন মনে হচ্ছিলো যে পেছন থেকে লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে আমাকে মারতে আসছে। আমি জানি ওরা যদি আমাকে সেদিন ধরতে পারত আমাকেও মেরে ফেলত।
আমি একেবারে ঢাকা মেডিকেলে গিয়েই থামলাম। ওকে ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করে তারপর চুপচাপ চলে এলাম।
তারপর কয়েকদিন ক্যাম্পাস বন্ধ ছিল কিছুদিন পরে আবার ক্লাস শুরু হল। আমিও আগের মত ক্লাস শুরু করে দিলাম। আমি ভেবেছিলাম সেমন্তীকে ঐদিন বাঁচানোর ব্যাপারটা আসলে সামনে আসবে না। আমিও চাচ্ছিলাম না ব্যাপারটা সামনে আসুক। সামনে আসলেই বরং ঝামেলায় পড়তাম আমি। তবে সামনে এল ঠিকই। একদিন ক্লাস শেষ করে আমি হলের দিকে যাচ্ছিলাম তখনই দেখলাম সেমন্তী আমার সামনে এসে হাজির। আমি একটু থতমত খেয়ে গেলাম। হিসাব মত সে আমার জুনিয়র হলেও আমি অতি সাধারণ একজন ছাত্র। সেমন্তীর মত পলিটিক্যাল ফিগার না। সেমন্তী আমার দিকে কিছু সময় তাকিয়ে রইল। তারপর কোন কথা না বলে মোবাইল বের করে একটা ভিডিও বের করল। ভিডিওটা দেখেই আমার চোখ কলাপে উঠল। ওরা ঢাকা মেডিকেলের করিডোরের একটা ভিডিও। আমি সেমন্তীকে কোলে করে নিয়ে যাচ্ছি সেটার। সেমন্তী নিশ্চিত ভাবেই আমাকে খুজে বের করেছে। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, কী মহান হতে চান খুব?
আমি বললাম, মহান বলতে?
-এই যে উপকার করে গায়েব হয়ে যাওয়া। ধন্যবাদ দেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত না দেওয়া!
আমি একটু হাসার চেষ্টা করলাম। তারপর বলল, আরে কী যে বল! ওটা আমি ছাড়া অন্য কেউ হলেও করত। আমি এমন কিছুই করি নি।
সেমন্তী আমার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছু সময়। তারপর বলল, সেদিন আপনার আগে অন্তত চারজন আমাকে জিঙ্গিয়ে গেছে। আমার দিকে কেউ ফিরেও তাকায় নি। আমি পড়ে ছিলাম তার মানে কিন্তু এই না যে আমার হুস ছিল না। আমি সব বুঝতে পারছিলাম।
তারপর দুজনেই চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। দেখলাম সেমন্তী আমার জন্য পকেট থেকে একটা কিটক্যাট চকলেট বের করে দিল। তারপর বলল, আসলে কিভাবে ধন্যবাদ জানাতে হয় আমার ঠিক জানা নেই। আপাতত এই চকলেটটা নিন। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ।
আমি হাত বাড়িতে নিলাম। সেমন্তী বলল, আবার কথা হবে! কেমন, যাই এখন!
তারপর থেকে প্রায়ই আমাদের কথা বার্তা হল। ফোনে যোগাযোগ হত। ওর আশে পাশের বন্ধুরা আমাকে নিয়ে সেমন্তীকে টিজ করত। আমি দেখতাম সেমন্তী রাগ করত না। হাসত।
এক সময়ে আমার পড়াশোনা শেষ হল। চাকরিতে ঢোকার পরেও সেমন্তীর সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হত। ততদিনে সেমন্তী আমাকে তুমি বলা শুরু করে দিয়েছে।
চাকরি পাওয়ার পরে ওকে প্রথম বিয়ের কথা বললাম। সেমন্তু পরিষ্কার মানা করে দিল। সে জানাল যে সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত কোন বিয়ে শাসী না।
তারপর যখন সত্যিই সরকার পতন হল তার দল ক্ষমতায় এল তখনও সেমন্তী আমাকে বিয়ে করতে রাজি হল না। সে জানাল তার জীবনের সাথে আমি যেন আমার জীবন না জড়াই।

এক সময়ে আমি হতাশ হলাম। সত্যিই মনে হল যে সেমন্তী আসলে কোন দিন বিয়ে করবে না। রাজনীতি রাজনীতি করেই জীবন পার করে দিবে। আর কোন পথ না দেখে আমি একদিন প্রধান মন্ত্রীর মেইলে একটা চিঠি লিখে পাঠালাম। সেমন্তী আর আমার ব্যাপারে লিখলাম, সে কেন বিয়ে করতে চায় না সেটা লিখলাম। আমি জানতাম যে এই চিঠি আসলে কোন দিন প্রধানমন্ত্রী খুলেও দেখবেন না। এই রকম কত শত মেইল প্রতিদিন আসে তার কাছে। তবে আমার ধারণ ভুল প্রমাণিত হল।
প্রায় দুই সপ্তাহ পরে ঘটল ঘটনা। সেদিন আমি অফিস থেকে বের হয়ে নিজের বাসার দিকে যাওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছি রিক্সার জন্য। কয়েক মিনিট পরেই একটা কালো এসইউভি এসে থামল আমার সামনে। সেখান থেকে দুজন লোক নামল তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, মিস্টার ফয়সাল হাসান।
আমি চমকে উঠলাম। বললাম, জ্বী।
-আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে।
-কেন? কে আপনারা?
আমি বুঝতেই পারলাম যে তারা কে। গাড়ির সামনে লোগো লাগানো রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোগো। আমি মনের ভেতরে ধুরুপধারুপ শুরু হয়ে গেছে। আগের সরকার এভাবে কত মানুষকে গুম করে ফেলেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার তো এসবের দিকে যায় নি। তাহলে?
লোকদুজনের একজন আবার বলল, চলুন এখনই। আমাদের হাতে সময় কম।
লোকটার কন্ঠে আদেশের সুর। আমি ভাল মানুষের মত গাড়িতে উঠে পড়লাম। গাড়িতে উঠেই মনে হল যে এভাবে গাড়িতে ওঠা মোটেই উচিত হয় নি। যদি চিৎকার করে পালিয়ে যেতাম তখন নিশ্চয়ই ওরা আমাকে এতো সহজে তুলে নিয়ে যেতে পারত না। আমার এখন কী করা উচিত? আমি আসলেই জানি না।
কিন্তু যখন গাড়িটা থামল আর আমি গাড়ি থেকে বের হলাম তখন আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। আমি হাজির হয়েছি প্রাইমিনিস্টার রেসিডেন্সে। এবং আমি যখন গাড়ি থেকে নামলাম দেখতে পেলাম বাড়ির লনের একটা চেয়ারে স্বয়ং পিএম বসে রয়েছে। তার হাতে একটা কাপ, চা কিংবা কফি। আমাকে নামতে দেখে তিনি হাসলেন তারপর আমাকে হাতের ইশারায় ডাকলেন কাছে। আমি কাঁপা কাঁপা পায়ে তার দিকে এগিয়ে গেলাম। আমার তখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি যখন তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম তিনি আমাকে চেয়ার দেখিয়ে বসতে বললেন। আমি বিমুঢ় হয়ে সেখানে বসলাম। তিনি বললেন, অফিস কেমন ছিল?
-জ্বী ভাল স্যার।
-গুড।
আমার চেহারায় বিস্ময়ের ভাব দেখে তিনি বললেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানুষের কত কিছুই না বলার থাকে কিন্তু তোমাকেই দেখলাম প্রথম যেকিনা বিয়ে জন্য চিঠি লিখেছো!
আমি লজ্জায় মরে গেলাম। আমি আসলে কোনদিন ভাবতেই পারি নি যে এই মেইল পড়া হবে এবং আমাকে এখানে স্বয়ং পিএম ডাকবেন তার বাসায়। আমি কী বলব খুজে পেলাম না। তবে পেছন থেকে একজন নারী কন্ঠ শুনতে পেলাম। তিনি বললেন, আহ বেচারাকে লজ্জা দিচ্ছো কেন! এভাবে ভালোবাসার কথা কে বলতে পারে!
আমি তাকিয়ে দেখি ফার্স্ট লেডি আসছেন এগিয়ে। আমি উঠে দাঁড়াতে গেলাম তিনি বললেন আরে, দাড়াতে হবে না। বস, বস!

আমার কাছে সব কিছু কেমন যেন স্বপ্নের মত মনে হচ্ছিল। আমার মনে হচ্ছিল যেন আমি স্বপ্ন দেখছি। তবে তখনও সারপ্রাইজের বাকি ছিল। পনের মিনিট পরে আরেকটা গাড়ি এসে থামল বাড়ির সামনে। আমি সেদিকে তাকালাম। গাড়ি থেকে যে নামল তার দিকে তাকিয়ে আমার চোখ কপালে উঠল।
সেমন্তী! এবং ওকে একেবারে বউ সাজে এসেছে। আমি বুঝতে পারলাম আমাকে এখানে নিয়ে আসার আগে সেমন্তীকে এখানে আনা হয়েছে। তারপর তাকে পাঠান হয়েছে বউ সাজতে। সেমন্তীকে নামতেই দেখেই ফার্স্ট লেডি উঠে গেলেন। যাওয়ার আগে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি বসে আছো কেন? তোমার জন্য শেরওয়ানী রাখা আছে। যাও জলদি গোসল করে তৈরি হয়ে নাও! এই নূর ফয়সালকে নিয়ে যাও গেস্ট রুমে।
আমার সত্যিই তারপর যেন একটা ঘোরের ভেতরে চলে গেলাম। আমি কিভাবে গোসল শেষ করে, তৈরি হয়ে শেরওয়ানী পরলাম সেটা ঠিক মত মনে নেই।

আমাদের বিয়ে হল পিএম হাউজের হলরুমে। ঘরোয়া ভাবে বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ে আগ পর্যন্ত সেমন্তীর সাথে আমার কথাই হল না। কেবল কয়েকবার চোখাচোখি হল। সে আসলে কিভাবে বিয়েতে রাজি হল আমি জানি না। তবে পিএম সম্ভবত সব ব্যবস্থা করেছেন।
কবুল বলার আগে পিএন আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ফয়সাল সেমন্তী কেবল আমার কথায় তোমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। আমি আশা করব যে আমার এই সিদ্ধন্তের ওর জন্য যে খারাপ না হয়!
আমি বললাম, অবশ্যই হবে না স্যার!
তারপর সেমন্তীর দিকে তাকিয়ে বললেন, জীবনে রাজনীতি করতে হবে, দেশের জন্য কাজ করতে হবে, তার মানে এই তো নিজের জীবন বলে কিছু থাকবে না। তাই না?
সেমন্তী মাথা ঝাকাল।
আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ের পরে আমাদের বাসরের ববস্থা হল পিএম রেসিডেন্সের গেস্ট রুমেই। বাসর ঘরে ঢুকে দেখলাম সেমন্তী খাটের উপরে বসে আছে। আমি ঢুকতেই আমার দিকে তাকাল। গম্ভির চোখে একটু ভয়ই পেলাম। আমি খাটের উপর বসতে বসতে বললাম, আসলে আমি কোনদিন ভাবতেও পারি নি এমন কিছু হবে! সত্যিই বলছি।
সেমন্তী আমার দিকে তাকিয়ে বলল, বিয়ে করার এতো শখ! দেশের পিএমের কাছে আবেদন করতে হল! দাড়াও তোমার বিয়ের শখ আমি মেটাচ্ছি!
-আরে বাবা রাগ করছো কেন! বিয়ে তো হয়েই গেছে, তাই না? আর দেখো কত নাটকীয় ভাবে হল। একদম যেন অপু তানভীরের গল্প।
সেমন্তী আমার দিকে আবারও রাগত চোখে তাকিয়ে বলল, তাই ঐ বদ লেখকের কাছ থেকেই তুমি এই বুদ্ধি পেয়েছিলে তাই না? যত সব উদ্ভট বুদ্ধি বের করে বিয়ের জন্য । বদমাইশটা নিজে তো বিয়ে করবে না কিন্তু অন্যদের ঠিকই বিয়ে দিয়ে দেয়!
আমি একটু হাসলাম। তারপর সেমন্তী আরো একটু কাছে এগিয়ে গিয়ে বললাম, বিয়ে তো হয়েই গেছে, এখন আর অন্য কাউকে দোষ দিয়ে লাভ কী!
-এই খবরদার কাছে আসবে না!
-আরে বিয়ে করা বউ তুমি!
-খবরদার বললাম!
অবশ্য সেমন্তী খুব বেশি সময় রাগ ধরে রাখতে পারল না। বাসর রাতে কি কেউ রাগ ধরে রাখতে পারে বলুন? তারপর? তারপর কী হল সেটা না হয় নাই শুনলেন। অন্যের বাসর ঘরের গল্প শুনতে হয় না।

ফেসবুকের অর্গানিক রিচ কমে যাওয়ার কারনে অনেক পোস্ট সবার হোম পেইজে যাচ্ছে না। সরাসরি গল্পের লিংক পেতে আমার হোয়াটসএপ বা টেলিগ্রামে যুক্ত হতে পারেন। এছাড়া যাদের এসব নেই তারা ফেসবুক ব্রডকাস্ট চ্যানেলেও জয়েন হতে পারেন।

অপু তানভীরের নতুন অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে

বইটি সংগ্রহ করতে পারেন ওয়েবসাইট বা ফেসবুকে থেকে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.6 / 5. Vote count: 30

No votes so far! Be the first to rate this post.

About অপু তানভীর

আমি অতি ভাল একজন ছেলে।

View all posts by অপু তানভীর →

4 Comments on “সেমন্তীর বিয়ে”

  1. গল্পটা পড়তে পড়তে শেষের দিকে এসে হাসি চলে এল। বিশেষ করে বাসর ঘরের দৃশ্যটা- সেমন্তীর রাগ আর ফয়সালের আকাঙ্খা পূর্ণ হওয়া নির্বিকার ভাব, এই দুটো মিলিয়ে একটা দারুণ মুহূর্ত তৈরি হয়েছে।

    তবে যেটা সবচেয়ে মনে লেগে রইল সেটা হলো পিএম-এর সেই কথাটা- “রাজনীতি করলেই যে নিজের জীবন থাকবে না, এমন কোনো কথা নেই।”
    এই একটা লাইনেই গল্পের অনেকটা বলে দেওয়া হয়ে গেছে।

    ধন্যবাদ সুন্দর এমন একটা গল্পের জন্য।

  2. গল্পটা এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করলাম। ফয়সালের পাগলামি আর সেমন্তীর একরোখা জেদের এমন একটা মিষ্টি পরিণতি হবে, সেটা ভাবতেই পারিনি। পুরো গল্পজুড়ে একটা মৃদু উত্তেজনা কাজ করছিল, কিন্তু শেষটা মনটাকে একেবারে শান্ত আর তৃপ্ত করে দিল। বিশেষ করে বাসর রাতের খুনসুটিটুকু মুখে একটা চওড়া হাসি এনে দিয়েছে।

    এমন সুন্দর আর মন ভালো করে দেওয়া একটা গল্প আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
    এমন আরও নতুন নতুন গল্প পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

    1. আমি আসলে অন্য একটা গল্প লিখছিলাম। হঠাৎ আমার মাথায় এই গল্পটা এল। সেটা বাদ দিয়ে এটা এক বসায় লিখে শেষ করলাম। লেখার সময় আগের মত একটা অনুভূতি হল।

Comments are closed.