পাহাড়ে প্রেম

4.5
(17)

জীবনে এমন একটা পরিস্থিতিতে আমি পড়ব সেটা সত্যি আমি আগে ভাবি নি। অন্তত সেফার সাথে যে আমার এখানে দেখা হয়ে যাবে সেটা আমি সত্যিই কোনোদিন কল্পনাতেও ভাবি নি। ও আমাকে বলেছিল যে পাহাড় পছন্দ করে, বন্ধুদের সাথে সে পাহাড়ে ঘুরতে যায়। তবে আমি তখন মনে করেছিলাম ওর পাহাড় বলতে বড়জোর সাজেক নয়তো নীলগীরি। অথবা এখন হয়তো জীপে করে কেউক্রাডংয়ের চুড়ায় ওঠা কিন্তু আমি যে ওকে এই যোগী যোতলিং সামিটে পাবো সেটা আমি সত্যিই ভাবি নি। বাস আলীকদম নামার আগে আমি টেরই পাই নি যে সেফা এই ট্রিপে যাচ্ছে। হাতিরপুলে এবার আমি একটু দেরি করে ফেলেছিলাম আসতে। বাস ছাড়ার একেবারে আগ মুহুর্তে এসে হাজির হয়েছি। বাসে উঠে বসে পরেছি নিজের সিটে। সীটটা একেবারে সামনের দিকে ছিল তাই ভেতরে যাওয়ার দরকারও পড়ে নি। তাই টিম মেম্বাররা কে কে সেটা টের পাই নি। অবশ্য প্রতিবারই এমনই হয়। ট্যুর শুরুর দিকে কে যে কোন টিমে সেটা আমরা কেউই খেয়াল করি না। যখন থানচি বা রুমা থেকে আমরা একে একে আলাদা হতে থাকি তখন ভাল করে একে অন্যকে চেনা যায়। আমাদের বাস যখন আলীকদমে এসে থামল তখনো আমি সেফাকে খেয়াল করি নি। খেয়াল করলাম সকালের নাস্তা খেয়ে গিয়ে। ফ্রেশ হয়ে যখন নাস্তা খেতে বসেছি তখনই খেয়াল করলাম যে শেফা আমার টেবিলেই বসেছে। আমাদের টিম লিডার সামি ভাই সবার সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। আমি সেফার দিকে তাকিয়ে একেবারে থ হয়ে গেলাম। তবে ওর চোখে আমি কোন বিস্ময় দেখতে পেলাম না। এর মানে হচ্ছে আমাকে সে আগেই দেখতে পেয়েছে। চাপা একটা অস্বস্তি আমার ভেতরে কাজ করতে লাগল। একবার মনে হল যে এখনও ঠিক দেরি হয়ে যায় নি। আমি এখান থেকে ঢাকায় ফিরে যেতে পারি অথবা এখান থেকে কক্সবাজারের দিকে যাওয়া যায়। তারপরেই মনে হল যে সামি ভাইকে আমি এর ভেতরেই টাকা দিয়ে দিয়েছি। এতোগুলো টাকা জলে চলে যাবে?
তারপরই আবার মনে হল যে কেন আমি অন্যের জন্য এই ট্যুর বাদ দিব? দুইদিনের ছুটি নিয়ে এই ট্যুরের জন্য। একেবারে সব নষ্ট হবে যদি আমি এখন চলে যাই। আমি যাবো না। কেন যাবো? যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
রেমাক্রি পর্যন্ত আমাদের মাঝে কোনো কথাই হল না। একটা ব্যাপার যা বুঝলাম যে সেফা ঠিক একা আসে নি। ওর সাথে ওর আর দুই বন্ধু এসেছে। একজন ছেলে একজন মেয়ে। সেফা ওদের মেতে রইলো। আমিও রইলাম নিজের ভেতরে। রেমাক্রি থেকে যখন হাটা শুরু হল তখন আমার সাথে সেফার প্রথম কথা হল। সে নিজ থেকেই আমার দিকে এগিয়ে এল। সবাই যখন সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন সে সেফা একটু পিছিয়ে এসে আমার পাশাপাশি এসে হাটতে লাগল। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, আমি ভাবি নি আপনাকে এখানে দেখতে পাব।
আমি বললাম, আমিও আশা করি নি।
-কই আপনি তো বলেন নি যে আপনার পাহাড় পছন্দ! আপনি না বলেছিলেন আপনার বিছানাতে শুয়ে থাকতেই ভাল লাগে!
আমি একটু হেসে বললাম, অবশ্যই আমার বিছানাতে শুয়ে থাকতে সব থেকে বেশি পছন্দ লাগে। কিন্তু তার মানে এই না যে সব সময়ই পছন্দের কাজই করে যাবো। আমরা যদি সব সময় কেবল মিষ্টিই খেয়ে যাই তবে মিষ্টির আসল স্বাদ ভুলে যাবো। মিষ্টির সাথে সাথে তাই তেতো ঝাল বা টকও খেয়ে হয়। তবেই না মিষ্টির আসল স্বাদ টের পাব। এই ধর এখন তিন দিন অমানুষিক পরিশ্রম হবে। তারপর যখন ঢাকা য় গিয়ে বিছানায় পিঠ ঠেকাবো তখন মনে হবে যে জীবনে শুয়ে থাকার মত আনন্দের কাজ আর নেই।
সেফাকে হাসতে দেখলাম। সেফার হাসি সুন্দর। প্রথম যেদিন আমাদের দেখা হয়েছিল সেদিনই সেফার এই হাসি আমার পছন্দ হয়েছিল। ওকে এই কথা আমি যখন বলেছিলাম সেফা কথাটা শুনে খুশি হয়েছিল। সেদিনই আমার কেন জানি মনে হয়েছিল যে এই মেয়েটার সাথে সামনে আমার একটা ভবিষ্যত গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা হয় নি।
আমার জন্য সেফার বিয়ে সমন্ধ এনেছিল বাবার এক বন্ধু। বিয়ের কথা বার্তা মোটামুটি পাকাই হয়ে গেল। আমার যেমন সেফাকে পছন্দ হয়েছিল সেফারও তাই। আমাদের ভেতরে কয়েকবার দেখা হল। পারিবারিক ভাবেই দেখা সাক্ষাত হল। এমন কি বিয়ের জন্য তারিখ পর্যন্ত ঠিক হয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই ঝামেলাটা শুরু হল। সেফার বাবার কাছ থেকে বিয়ের দেন মোহর ঠিক করতে বলা হল ৫০ লক্ষ টাকা। এতো টাকা কাবিন করতে আমি রাজি ছিলাম না। সামান্য চাকরি করি যদিও সেটা সরকারি তার পরেও ৫০ লক্ষ টাকা অনেক বেশি। ওরা চল্লিশের নিচে নামল না কিছুতেই আর আমরা পাঁচ লাখের বেশি উঠলাম না। তারপরই সব থেমে গেল। আমার সেফা আমাকে শেষ মেসেজে সরি বলল। সে জানাল যে ও নিজেও জানে যে টাকার পরিমানটা একটু বেশি তবে বাবার কথার উপরে কথা বলার সাহস তার নেই। ওর বাবা যা বলবে তাই। আমিও আর কথা বাড়ালাম না। এটা প্রায় মাস ছয়েক আগের ঘটনা। এরপর সেফার সাথে আমার আর যোগাযোগ হয় নি। আজকে এখানে এভাবে আবার সেফার সাথে আবারও আমার দেখা হয়ে গেল।
দলিয়ান পাড়াতে আসতে আসতে আমাদের বিকেল হয়ে গেল। সেফার হাটার গতি দেখে আমি এটা বুঝতে পারলাম যে এই পাহাড় চড়ায় তার অভ্যাস আছে বেশ। মনের ভেতরে সুক্ষ আপসোস বোধ এসে জড় হল। নিশ্চিত ভাবে আমাদের যদি বিয়ে হত তাহলে আমরা এক সাথে এই ভাবে পাহাড়ে আসতে পারতাম। আমার মনে আছে যখন ছাত্র অবস্থায় আমি পাহাড়ে আসতাম তখন প্রায়ই দেখতাম স্বামী স্ত্রী এক সাথে পাহাড়ে ট্রেকিং করছে। দুজন একে অন্যকে নানান ভাবে সাহায্য করছে আবার ঝগড়াও করছে। ব্যাপারটা আমার কাছে ভাল লাগত। আমারও মনে হত যে বউ না হোক অন্তত এমন করে যদি প্রেমিকার সাথে পাহাড়ে আসা যেত তাহলে মন্দ হত না। তবে সেই সময়ে আমার কোনো প্রেমিকা ছিল না।

দালিয়ান পাড়াটা হচ্ছে আমাদের এই ট্রেকিং জন্য একটা বেজক্যাম্প। আমরা মূলত এই পাড়াতেই বাকি দুইদিন থাকব। এখান থেকে দুটো পাড়াতে যাবো আবার ফিরে আসব। কাল একবারে সকালে আমি রওয়ানা দিবো রাতে ফিরে আসব আবার পরদিন ভোরে রওয়ানা দিব তারপর আবার ফিরে আসব। এভাবেই এই দুটো দিন এখানে থাকব। এর আগে আমি একবার এই ট্রেকিংয়ে এসেছি।
রাতের খাওয়া দাওয়ার পরে আমাদের গাইড সবাইকে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে বলল কারণ কাল খুব ভোরে আমাদের রওয়ানা দিতে হবে। সবাই শুয়ে পড়লেও আমার ঘুম এল না। কিছু সময় মোবাইল টিপে আমি ঘর ছেড়ে বাইরে বের হয়ে বারান্দায় এসে বসলাম। এই সব পাহাড়ি পাড়াগুলোতে আমি সেখানেই বসে রইলাম। পাহাড়ে রাতের আকাশটা আমার কাছে অদ্ভুত সুন্দর লাগে। শহরে এই নির্জনতা পাওয়া যায় না। এমন কি গ্রামেও না। এটা কেবল পাহাড়েই পাওয়া যায়। আমি এক মনে সেদিকেই তাকিয়ে আছি এমন সময় আমি কারো বাইরে আসার আওয়াজ পেলাম। পেছনে তাকিয়ে দেখি সেফা বের হয়ে আসছে। বুঝতে পারলাম যে সে ওয়াশরুমে যাবে। আমার দিকে তাকিয়ে আবারও সে নিচে নামতে লাগল কাঠের সিড়ি দিয়ে। আমি বলল, একা যেও না। দাঁড়াও।
এই বলে আমি নিজে উঠে গেলাম। যদিও এটা দরকার ছিল না। তারপরেও গেলাম। দেখলাম সেফা মানা করল না। অবশ্য এই পাড়ার ওয়াশরুমটা খুব বেশি দুরে না। পানিও থাকে। তাই খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। তারপর এই পাহাড়ি পাড়াতে সেফা অর্থ্যাত একটা মেয়ে একা একা ওয়াশরুমে যাবে এটা আমার পছন্দ হল না।
সেফা কাজ শেষ করে বের হলে আমি আবার ওকে নিয়ে হাটা দিলাম। তখনই সেফা কথাটা বলল, ওদিকটায় একটু ফাঁকা জায়গা আছে, তাই না?
-হ্যা।
-আসুন ওইদিকটায় যাই!
সেফার কাছ থেকে এই কথা শুনে আমি একটু অবাক হলাম বটে। তবে আমার ওর সাথে যেতে আপত্তি ছিল না। আমরা পাড়ার সামনের দিকে খোলা জায়গায় গিয়ে হাজির হলাম। এখানে বসায় মাচা রয়েছে। সেখানেই বসে দুজন দুরের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছু সময়। হঠাৎ সেফা নিরবতা ভেঙ্গে বলল, আপনি কি এখনো আমাদের উপর রাগ করে আছেন খুব?
আমি বললাম, রাগ কেন?
-না মানে হয়তো আমাকে আর আমার বাবাকে খুব গ্রিডি ভাবছেন!
-গ্রিডি কেন ভাব্বো?
-ঐ যে এতো টাকা চাওয়ার জন্য!
আমি একটু হাসলাম। তারপর বললাম, এটা তো এখন একটা ট্রেন্ডই। সবাই এমন ডিমান্ড করে। এটা স্টাটাসার ব্যাপারই বটে। আমার এক বন্ধু ৪০ লাখ টাকা কাবিন করে বিয়ে করেছিল!
-করেছিল?
আমি হাসলাম। হ্যা। বছর না যেতেই বিয়ে এখন ডিভোর্সের পথে! এখন ও ৪০ লাখ টাকা এখন দিতে হবে।
-এই জন্য আপনি এতো টাকা কাবিন করতে চান নি যদি এমন কিছু হয়!
আমি অস্বীকার করলাম না। বললাম এটা একটা কারণ বটে। তবে আমি সব সময় আমার সামর্থ অনুযায়ীই কাবিন করতে চেয়েছিলাম যেটা আমি মূলত শোধ করতে পারব নিজে। আমার আব্বার জায়গা জমি বিক্রি করে সেটা শোধ করতে হবে না এমনটাই চেয়েছিলাম।
সেফা বলল, আসলে আমার বড় চাচার মেয়ের ডিভোর্স হয়েছে কয়েক বছর আগে। আমাদের পরিবারের মানুষগুলো একটু সেকেলে। মেয়ের ডিভোর্স হবে, স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে মেয়ে বাপের বাড়িতে পড়ে থাকবে এটা তারা ভাবতেই পারে না। এই কারণে তারা চায় এমন কিছু করতে যেন ডিভোর্সই না হয়!
আমি বললাম, কাবিনের পরিমান বড় হয়ে স্বামী ডিভোর্স দিতে ভয় পাবে, এটাই তো কারণ!
-হ্যা।
-কিন্তু মন উঠে গেলে কি সেখানে ঘর করা যায়? না করা উচিৎ?
-আমি বুঝতে পারছি আপনি কী বলতে চাচ্ছেন। কিন্তু ঐ যে বললাম আমার পরিবারের লোকজনের মনভাবই এমন!
তারপর কিছু নিরবতা। আমি বললাম, আচ্ছা বাদ দাও ঐসব আলোচনা। আর ঘরে চলো, কাল অনেক হাটতে হবে! শরীরের বিশ্রাম দরকার এখন!
সেফা বলল, আরেকটু থাকি। এখানে ভালো লাগছে!
আমারু বসে থাকতে ভাল লাগছিল।
আরও প্রায় ঘন্টা খানেক আমরা সেখানে বসেই রইলাম! আমার সত্যিই আবারও সেই আফসোসটা আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। সত্যি যদি সেফার সাথে আমার বিয়ে হত তাহলে এই সময়টা একেবারে অন্য রকম হত!

পরের ভোরে আমরা রওয়ানা দিলাম। যখন চুড়ায় পৌছিয়েছ তখন দুপুর সাড়ে বারোটা। আমাদের শরীরের সর্বোচ্চ পরিশ্রম দিয়ে আমরা সেখানে পৌছালাম। কয়েকজনের অবস্থা বেশ কাহিল হয়ে গেল বটে তবে আমরা সবাই শেষ পর্যন্ত পৌছাতে পারলাম বটে। ফিরে আসার সময় অবশ্য একটা ছোট দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল, নিচে নামার সময়ে বাঁশ থেকে ওর হাত ছুটে গেল। একেবারে সে পড়েই যাচ্ছিল কিন্তু শেষ মুহুর্তে আমি ওকে ধরে ফেললাম। কোন মতে আবারও টেনে তুললাম। বুঝতে পারলাম ও ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমার সাথে এই রকম একবার হয়েছিল তাই আমি ব্যাপারটা জানি। আমি তাই একটু বেশিই সতর্ক ছিলাম। এই কারণেই ঠিক সময়ে সেফাকে ধরতে পেরেছিলাম।
পাড়ায় পৌছাতে পৌছাতে পৌছাতে বেশ রাত হল। গোসল শেষ করে খেয়ে আবারও সবাই শুয়ে পড়লাম পরের দিনের ট্রেকিং করার জন্য। তবে একই ভাবে আবারও আমি আর সেফা হাজির হলাম সেই আগের জায়গাতে।
সেফা বলল, আজকে আপনি না থাকলে কী যে হত!
-আরে কেমন কিছু না। তুমি নিজেই কিছু না কিছু ধরে ফেলতে। এমন একবার আমার সাথেও হয়েছিল?
-হ্যা। আমারও এই রকম বাঁশ ছুটে দিয়েছিল ।
-তারপর?
-আর আর পর কী? আমিও একই ভাবে নিচে পড়ছিলাম। তবে এক সময়ে আমি আরেকটা বাঁশ ধরে ফেলেছিলাম বটে।
-তারপরেও! আমি সত্যিই ভয় পেয়েছিলাম।
-এই সকম আসলে হয়েই থাকে।
এভাবে আমাদের কথা চলতে থাকে। পরের দিন আবারও আমরা পরের পাহাড়ে সামিট করলাম। এবার একটু আগে আগেই ফিরে আসতে পারলাম। বিকেল বেলাটা বেশ কাটল আমাদের।
প্রতিটা ট্যুর শুরুর আগে থেকে আমরা সবাই একেবারে অপরিচিত থাকি। প্রত্যেকেই একটু ভাব নিয়ে থাকি, কিন্তু ট্যুর যখন শেষ পর্যায়ে তখন একে অন্যের সাথে একেবারে ফ্রি হয়ে যাই।
বিকেলের দিকে আমরা যখন গল্প করছিলাম একে অন্যের সাথে তখনই সেফার সেই বন্ধুটি আমার কাছে এগিয়ে এল। ছেলেটার নাম রাফান। আমাকে এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে রাফান বলল, ভাইয়া আপনাকে একটা কথা বলার ছিল। কিন্তু কথা দিন যে সেফা যেন না জানে!
আমি তাকিয়ে দেখি সেফা অন্যদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে।
আমার সাথে যে সেফার বিয়ের কথা বার্তা একেবারে পাকা হয়ে গিয়েছিল সেতা ওর বন্ধুরা জানতো। আমি রাফানের দিকে তাকিয়ে বললাম, কী ব্যাপার বল তো!
-সেফা কিন্তু আপনাকে অসম্ভব পছন্দ করেছিল। যখন বিয়েটা হল ও তখন খুব মন খারাপ করেছিল। আই গেস, আপনিও ওকে বেশ পছন্দ করেছিলেন, তাই না?
আমি বললাম, হ্যা। আমি মিথ্যা বলব না। আমার ওকে বেশ পছন্দ হয়েছিল।
রাফান কিছু সময় চুপ করে থেকে বলল, আমাদের এই ট্যুরে আসার কোনো প্লান ছিল না। এই মাসের শেষে আমরা সাকায় যাওয়ার প্লান করেছিলাম। সব কিছু ঠিক হয়েছিল। কিন্তু গতপুরশুদিন সেফা এসে জানালো যে ও এই ট্যুরে আসবে। আমি প্রথমে বুঝতে পারি নি কিছু। কিন্তু যখন আপনাকে দেখলাম তখন বুঝতে পারলাম!
আমি একটু চমকে গেলাম। বললাম, মানে?
-আপনি নিশ্চয়ই ট্যুর ইভেন্টে গোয়িং দিয়েছিলেন ফেসবুকে?
-হ্যা।
আমার মনে একটা তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। মনের ভেতরে একটা তীব্র অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
-সেফা আপনার এই যাওয়া দেখেই এখানে এসেছে। যেন আপনার সাথে এই ট্যুরে তার দেখা হয়! বুঝতেই পারছেন!
আমি বিস্ময় নিয়েই রাফানের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হল না। রাফান বলল, পারিবারিক অনেক বাধা থাকবে আমি জানি তবে যদি সম্ভব হয় আরেকবার কি চেষ্টা করে দেখবেন? আমার মনে হয় না যে সেফা আপনাকে এতো সহজে মন থেকে বের করতে পারবে।

এরপরের ঘটনা বেশ সংক্ষিপ্ত। সামি ভাইকে আমি সব বুঝিয়ে বলে দিলাম। তিনি বিস্মিত বোধ করলেন এবং সাথে সাথেই রাজি হয়ে গেলেন সাহায্য করতে। পরের দিন আমাদের দুপুরের দিকে দালিয়ান পাড়া থেকে বের হওয়ার কথা থাকলেও আমরা একটু আগে আগেই বের হয়ে পড়লাম। বান্দরবান শহরে যখন পৌছালাম তখন দুপুর তিনটা। এতো আগে সাধারণত ট্যুর গ্রুপ গুলো আসে না। এমন সময় তারা শহরে ফিরে আসে যেন রাতের খাবার খেয়ে তার বাস ধরতে পারে। আগে আসলে কারোরই কিছু করার থাকে না।
যখন সেফাকে নিয়ে আমরা কাজী অফিসে গিয়ে হাজির হলাম সেফা তীব্র বিস্ময় নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমার মনে একটা ভয় ছিল যে ও হয়তো রাজি হবে না তবে দেখলাম চুপাচাপ আমার পাশেই বসে পড়ল সে। কাজীর খাতায় সই করার সময় ওর হাত একটু একটু কাঁপছিল। আমি ওর বাঁ হাতটা ধরলাম তারপর বললাম, এই যে হাত ধরছি এই হাত ছেড়ে দিবো না কথা দিলাম!
দেখতে পেলাম সেফার চোখ দিয়ে চুপ কর এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তারপর সে সই করে দিল।

পরিশিষ্ট
এরপর আরও সপ্তাহ তিনেক পার হয়ে গেল। এবার সেফাদের প্লান করা সেই সাকায় যাওয়ার জন্য আমি রেডি হচ্ছিলাম। বাসা থেকে মা খানিকটা বিরক্তি নিয়ে বলতে লাগল যে এতো ঘন ঘন পাহাড় দেখার কী আছে। সব সেই বন জঙ্গল। মাকে তো আর বলতে পারলাম না যে এই ট্রিপে আমার সাথে আর কে কে যাচ্ছে! দেখা যাক এইবারের ট্রেকিংটা কেমন হয়! অনেক দিনের দেখা সেই স্বপ্ন এবার সত্যিই সত্যিই বাস্তবে রূপান্তিত হতে চলেছে।

ফেসবুকের অর্গানিক রিচ কমে যাওয়ার কারনে অনেক পোস্ট সবার হোম পেইজে যাচ্ছে না। সরাসরি গল্পের লিংক পেতে আমার হোয়াটসএপ বা টেলিগ্রামে যুক্ত হতে পারেন। এছাড়া যাদের এসব নেই তারা ফেসবুক ব্রডকাস্ট চ্যানেলেও জয়েন হতে পারেন।

অপু তানভীরের দুটি অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

বইটি সংগ্রহ করতে পারেন ওয়েবসাইট বা রকমারী বা ফেসবুকে থেকে।

এছাড়া সকল গল্পের লিস্ট পাবেন সূচিপত্রে। পুরানো আগের গল্প পড়তে পারবেন সামহোয়্যারইন ব্লগ ও ওয়াটপ্যাড থেকে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.5 / 5. Vote count: 17

No votes so far! Be the first to rate this post.


Discover more from অপু তানভীর

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

About অপু তানভীর

আমি অতি ভাল একজন ছেলে।

View all posts by অপু তানভীর →